চাঁদপুর। শুক্রবার ৮ জুন ২০১৮। ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫। ২২ রমজান ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস











৩৮-সূরা ছোয়াদ

৮৮ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৪৮। স্মরণ করুন, ইসমাঈল, আল ইয়াসা ও যুলকিফলের কথা। তারা প্রত্যেকেই গুণীজন।

৪৯। এ এক মহৎ আলোচনা। খোদাভীরুদের জন্যে রয়েছে উত্তম ঠিকানা।

৫০। তথা স্থায়ী বসবাসের জান্নাত, তাদের জন্যে তার দ্বার উন্মুক্ত রয়েছে।

৫১। সেখানে তারা হেলান দিয়ে বসবে। তারা সেখানে চাইবে অনেক ফল-মূল ও পানীয়।

৫২। তাদের কাছে থাকবে আনতনয়না সমবয়স্কা রমণীগণ।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন





 


প্রেয়সী কখনো কুৎসিত হয় না।               

-জে-জে-বে।


যিনি বিশ^মানবের কল্যাণ সাধন করেন তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ।   

 


ফটো গ্যালারি
কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে সাদাকাতুল ফিতর
মাওঃ মোঃ মোশাররফ হোসাইন
০৮ জুন, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


সাদাকাতুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। যা রমজানুল মোবারকের শেষে ঈদুল ফিতরের দিন আদায় করতে হয়। এটি জাকাতেরই একটি প্রকার। যার দিকে সূরাতুল আ'লায় (৪-১৫) ইশারা করা হয়েছে। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম হাদীস ও সুন্নাহে তা আদায়ের তাকীদ করেছেন এবং এর নিয়ম-নীতি শিক্ষা দিয়েছেন। এ কারণেই নবীর যুগ থেকে আজ পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহ ইসলামের পাঁচ রোকন ও দ্বীনের অন্যান্য মৌলিক আমল ও ইবাদতের মতো সাদাকাতুল ফিতরও নিয়মিত আদায় করে আসছে। আমাদের এ অঞ্চলে তা পরিচিত ফিতরা নামে।



হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম সাদাকাতুল ফিতরকে অপরিহার্য করেছেন। অর্থহীন, অশালীন কথা ও কাজে রোজার যে ক্ষতি হয় তা পূরণের জন্যে এবং নিঃস্ব লোকের আহার যোগানোর জন্যে। (সুনানে আবু দাউদ ১/২২৭)। তাই সকলের কর্তব্য, খুশিমনে এই ইবাদতটি আদায় করা, যাতে আল্লাহর গরিব বান্দাদের খেদমত হয় এবং নিজের রোজার ত্রুটি-বিচ্যুতির ক্ষতিপূরণ হয়। সর্বোপরি আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে নির্ধারিত একটি ইবাদত আদায়ের সৌভাগ্য অর্জিত হয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম-এর পবিত্র সুন্নাহর আলোকে এই ইবাদতের বিস্তারিত আহকাম ও বিধান ফিকহের কিতাবে সংকলিত হয়েছে। সাদাকাতুল ফিতর কার ওপর ওয়াজিব হয়, কাদের পক্ষ থেকে আদায় করতে হয় এসব বিবরণ হাদীস ও ফিকহের কিতাবে বিস্তারিতভাবে আছে।



এই সাদাকার পরিমাণ সম্পর্কে হাদীস ও সুন্নাহর দুটি মাপকাঠি নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। তা হচ্ছে-নিসফেসা যব, খেজুর, পনির ও কিসমিস দ্বারা আদায় করলে এক সা এবং গম দ্বারা আদায় করলে নিসফে সা প্রযোজ্য হবে। শরীয়তের দলীলে একথাও প্রমাণিত যে, উপরোক্ত খাদ্যবস্তুর পরিবর্তে সেগুলোর মূল্য আদায় করারও অবকাশ আছে। সেক্ষেত্রে উল্লেখিত খাদ্যবস্তুগুলোর মধ্য থেকে কোনো একটিকে মাপকাঠি ধরে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা যাবে। অর্থাৎ ওই খাদ্যবস্তুর জন্যে শরীয়তে যে পরিমাণটি নির্ধারিত সা বা নিসফে সা সে পরিমাণের বাজারমূল্য আদায় করলেও সাদাকাতুল ফিতর আদায় হয়ে যাবে। এখানে একটি বিষয় মনে রাখা উচিত যে, মূল্যের দিক থেকে ওই খাদ্যবস্তুগুলোর মধ্যে তফাৎ আছে। কোনোটির দাম বেশি, কোনোটির কম। সবচেয়ে কমদামের বস্তুকে মাপকাঠি ধরে কেউ যদি সাদাকাতুল ফিতর আদায় করে তাহলেও আদায় হয়ে যাবে। তবে উত্তম হলো নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী বেশি মূল্যের খাদ্যবস্তুকে মাপকাঠি ধরে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা। যেহেতু সহীহ হাদীসে গমকেও একটি মাপকাঠি সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং এর পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে আধা সা তাই আধা সা গম বা তার মূল্য আদায় করলে নিঃসন্দেহে সাদাকাতুল ফিতর আদায় হয়ে যাবে।



বর্তমান বাজার দর হিসেবে যেহেতু গমের দামই সবচেয়ে কম, তাই ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রতি বছর আধা সা গমকে মাপকাঠি ধরে ফিতরার সর্বনিম্ন পরিমাণ ঘোষণা করা হয়। টাকায় অংকটি নির্ধারিত হয় আধা সা গমের ওই সময়ের বাজার-দর হিসেবে। ফিতরার সর্বনিম্ন পরিমাণ তো সেটিই, যা সুন্নাহ এ উল্লেখিত খাদ্যবস্তুগুলোর মধ্যে পরিমাণ ও বাজার-দরের বিচারে সর্বনিম্ন। টাকার অংকে সর্বনিম্ন ফিতরা ঘোষণা করতে হলে এই মানদ-ের ভিত্তিতেই করতে হবে। অন্যথায় সুন্নাহ কর্তৃক নির্ধারিত কোনো একটি পরিমাণকে অকার্যকর সাব্যস্ত করা হবে, যার অধিকার কারো নেই।



আধা সা সম্পর্কে হাদীস, সুন্নাহ ও আছার হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম একজন ঘোষক প্রেরণ করলেন সে যেনো মক্কার পথে পথে এ ঘোষণা করে যে, জেনে রেখো! প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, গোলাম-স্বাধীন, ছোট-বড় প্রত্যেকের উপর সাদকায়ে ফিতর অপরিহার্য। দুই মুদ (আধা সা) গম কিংবা এক সা অন্য খাদ্যবস্তু। (জামে তিরমিযী ১/৮৫)। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি রমজানের শেষ দিকে বসরার মিম্বারের ওপর খুতবা দানকালে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদকাতুল ফিতর অপরিহার্য করেছেন এক সা খেজুর বা যব কিংবা আধা সা গম; গোলাম-স্বাধীন, নারী-পুরুষ ও ছোট-বড় প্রত্যেকের উপর। (সুনানে আবু দাউদ ১/২২৯)। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ছালাবা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের একদিন বা দু'দিন আগে সাহাবীদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিয়েছেন। সে খুতবায় তিনি বলেছেন, তোমরা প্রতি দুজনের পক্ষ থেকে এক সা গম অথবা ছোট-বড় প্রত্যেকের মাথাপিছু এক সা খেজুর বা এক সা যব প্রদান করো। (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৩/৩১৮)।



হযরত আসমা বিনতে আবু বকর (রাঃ) বলেন, যে মুদ (পাত্র) দ্বারা তোমরা খাদ্যবস্তু গ্রহণ করে থাক এমন দুই মুদ (আধা সা) গম আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় সাদকাতুল ফিতর আদায় করতাম। (মুসনাদে আহমদ ৬/৩৪৬)।



হযরত আসমা (রাঃ) জানিয়েছেন যে, নবীযুগে সাহাবায়ে কেরাম সাদকাতুল ফিতর দিতেন আধা সা গম। এতো সম্পূর্ণ অসম্ভব যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ ছাড়া তারা এই কাজ করতেন। কারণ, দ্বীনের বিষয়ে তাঁদের কর্তব্য কী তা জানার একমাত্র সূত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শিক্ষা ও নির্দেশনা। হযরত সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব (রাহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদকাতুল ফিতর নির্ধারণ করেছেন দুই মুদ (আধা সা) গম। ইমাম ইবনে শিহাব যুহরী (রাহঃ) বলেন, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব, আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান ও উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবাহ (রাঃ) প্রমুখকে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদকাতুল ফিতর আদায়ের আদেশ করেছেন এক সা খেজুর বা দুই মুদ (আধা সা) গম। (শরহু মাআনিল আছার ১/৩৫০) ৭. সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব, উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবাহ, কাসেম ও সালেম (রাহঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করেছেন সাদকাতুল ফিতরে এক সা যব বা দুই মুদ (আধা সা) গম আদায় করার। (শরহু মাআনিল আছার ১/৩৫০)।



সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব (রাহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে এবং আবু বকর সিদ্দীক ও ওমর ফারুক (রাঃ)-এর শাসনামলে সাদাকাতুল ফিতর দেয়া হতো আধা সা গম। (শরহু মাআনিল আছার ১/৩৫০)। আল্লামা ইবনে আবদুল বার (রাহঃ) বলেছেন, এটি সায়ীদ ইবনুল মুসাইয়্যিব (রাহঃ) থেকে ছিকা রাবীগণ বর্ণনা করেছেন। শায়খ শুআইব আরনাউত বলেন, হাদীসটির সকল রাবী ছিকা ও নির্ভরযাগ্য। আল্লামা আইনী (রাঃ) বলেন, হাদীসটির সনদ সহীহ।) হযরত আবু উবাইদ কাসেম ইবনে সালাম (রাহঃ) বর্ণনা করেন, আবদুল খালেক ইবনে সালামা আশশাইবানী (রাহঃ) বলেন, আমি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব (রাহঃ)কে সাদকাতুল ফিতর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে তা ছিলো মাথাপিছু এক সা খেজুর বা আধা সা গম।



ইমাম আবু বকর ইবনে আবী শাইবা (রাহঃ)ও বর্ণনা করেছেন যে, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব (রাহঃ)কে সাদকাতুল ফিতর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ছোট-বড়, গোলাম-স্বাধীন প্রত্যেকের মাথাপিছু আধা সা গম বা এক সা খেজুর বা যব। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৬/৫০১)।



 



খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ :



আবু কিলাবা (রাহঃ) বলেন, স্বয়ং ওই ব্যক্তি আমাকে বলেছেন, যিনি হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর নিকট এক সা গম দ্বারা দুই ব্যক্তির সাদকাতুল ফিতর আদায় করেছেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৬/৫০০; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৩/৩১৬)।



অন্য বর্ণনায় আছে, মা'মার (রাহঃ) বলেন, আমার কাছে তথ্য পেঁৗছেছে, হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) দুই মুদ (আধা সা দ্বারা) ফিতরা আদায় করেছেন। (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৩/৩১৬)। নাফে (রাহঃ) বলেন, তিনি হযরত ওমর (রাঃ)কে জিজ্ঞাসা করেছেন, আমি একজন ক্রীতদাস। আমার সম্পদের কি কোনো যাকাত আছে? হযরত ওমর (রাঃ) বলেছেন, তোমার যাকাত তো তোমার মনিবের উপর। সে তোমার পক্ষ থেকে প্রতি ঈদুল ফিতরে এক সা যব বা খেজুর কিংবা আধা সা গম প্রদান করবে। (শরহু মাআনিল আছার ১/৩৫০; শরহু মুশকিলুল আছার ৯/৩৮)।



হযরত ছালাবা ইবনে আবু শুআইব (রাঃ) বলেন, আমরা ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর খেলাফত আমলে সাদকাতুল ফিতর দিতাম আধা সা গম। (শরহু মাআনিল আছার ১/৩৫০; শরহু মুশকিলুল আছার ৯/৩৯)। আবুল আশআছ (রাহঃ) বলেন, খলিফাতুল মুসলিমীন হযরত উসমান (রাঃ) আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিলেন। ওই খুতবায় তিনি বলেছেন, তোমরা যাকাতুল ফিতর আদায় করো দুই মুদ (আধা সা) গম। (শরহু মুশকিলিল আছার ৯/৩৯)।



 



অন্য সাহাবীদের অভিমত :



আলকামা ও আসওয়াদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন, (সাদকাতুল ফিতর হচ্ছে) দুই মুদ (আধা সা) গম কিংবা এক সা খেজুর বা যব। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৬/৫০২; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৩/৩১৪; সুনানে দারাকুতনী ২/১৫২)।



হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, প্রত্যেক গোলাম-স্বাধীন, নারী-পুরুষ, ছোট-বড়, ধনী-গরিবের ওপর সাদকাতুল ফিতর অপরিহার্য। মাথাপিছু এক সা খেজুর বা আধা সা গম। (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৩/৩১১)। আমর ইবনে দীনার (রাহঃ) বলেন, তিনি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাঃ)কে মিম্বারের খুতবায় বলতে শুনেছেন, সাদকাতুল ফিতর হলো দুই মুদ (আধা সা) গম কিংবা এক সা খেজুর বা যব। গোলাম-স্বাধীন এই বিধানে সমান। (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৩/৩১৩)।



 



ইমাম আবদুর রাযযাক (রাহঃ) আমর ইবনে দীনার থেকে বর্ণনা করেছেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, সাদকাতুল ফিতর হলো দুই মুদ (আধা সা) গম অথবা এক সা খেজুর বা যব। (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৩/৩১৩)।



হযরত হাসান বসরী (রাহঃ) বলেন, মারওয়ান ইবনুল হাকাম হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)-এর নিকট দূত পাঠান যে, আপনার গোলামের সদকায়ে ফিতর আমার কাছে পাঠান। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) দূতকে বললেন, মারওয়ানের তো (বিধান) জানা নেই। প্রতি ঈদুল ফিতরে আমাদের প্রদেয় হচ্ছে, মাথাপিছু এক সা খেজুর বা আধা সা গম।(শরহু মাআনিল আছার ১/৩৪৯; শরহু মুশকিলুল আছার ৯/২৬)।



আবু যুবাইর (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ)কে বলতে শুনেছেন, ছোট-বড়, গোলাম-স্বাধীন সকলের পক্ষ থেকে সাদকাতুল ফিতর আদায় করা অপরিহার্য, দুই মুদ (আধা সা) গম অথবা এক সা খেজুর বা যব। (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৩/৩১৫; মুসন্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৬/৫০২; সুনানে দারা কুতনী ২/১৫১)।



 



বিশিষ্ট তাবেয়ীদের অভিমত :



সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব (রাহঃ) বলেন, রোজাদারের অবশ্য কর্তব্য সাদকাতুল ফিতর আদায় করা; দুই মুদ (আধা সা) গম অথবা এক সা খেজুর। (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৩/৩১৮; শরহু মাআনিল আছার ১/৩৫১)। মুজাহিদ (রাহঃ) বলেন, প্রত্যেকের প্রদেয় হচ্ছে গমের ক্ষেত্রে আধা সা। আর গম ছাড়া অন্যান্য খাদ্য যেমন খেজুর, কিসমিস, পনির, যব ইত্যাদিতে পুরা এক সা। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৬/৫০১)। হাসান বসরী (রাহঃ) থেকেও অনুরূপ বক্তব্য বর্ণিত আছে। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৬/৫০১)। হযরত তাউস (রাহঃ) বলেন, আধা সা গম অথবা এক সা খেজুর। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৬/৫০৩; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৩/৩১৪)। আতা (রাহঃ) বলেন, দুই মুদ গম অথবা এক সা খেজুর বা যব। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৬/৫০২; সুনানে দারা কুতনী ২/১৪২)।



ইবরাহীম নাখাঈ (রাহঃ) বলেন, ছোট-বড়, গোলাম-স্বাধীন প্রত্যেকের পক্ষ থেকে প্রদেয় হচ্ছে আধা সা গম। আউফ (রাহঃ) বলেন, আমীরুল মুমিনীন হযরত ওমর ইবনে আবদুল আযীয (রাহঃ) ওমর ইবনে আরতাত (রাহঃ)-এর নিকট পত্র লেখেন, যা বসরার মিম্বরে পঠিত হয়েছে, যাতে তাঁর প্রতি নির্দেশ ছিলো-তুমি তোমার অধীনস্থ মুসলমানদের এক সা খেজুর বা আধা সা গম সাদকাতুল ফিতর আদায়ে আদেশ করো।



 



বিশিষ্ট মুহাদ্দিসগণের মন্তব্য :



ইমাম ত্বাহাবী (রাহঃ) আধা সা গম সম্পর্কে অনেকগুলো হাদীস ও আছার রেওয়ায়েত করার পর বলেন, এ পরিচ্ছেদে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে, তারপর তাঁর সাহাবীগণ থেকে এবং তাঁদের পর তাবেয়ীদের থেকে যেসব রেওয়ায়েত উল্লেখ করেছি, তা প্রমাণ করে যে, সাদকাতুল ফিতরের পরিমাণ হলো গম থেকে আধা সা আর গম ছাড়া অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী থেকে এক সা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো সাহাবী ও কোনো তাবেয়ী থেকে এর বিপরীত কিছু বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নেই। সুতরাং এর বিরোধিতা করার অবকাশ কারো নেই। কারণ তা ছিলো ইজমায়ী ও সর্বসম্মত বিষয়। হযরত আবু বকর সিদ্দীক, হযরত উমর ফারূক, হযরত উসমান ও হযরত আলী (রাঃ)-এর যামানা থেকে উপরোক্ত তাবেয়ীদের যামানা পর্যন্ত। ইমাম আবু উবাইদ কাসেম ইবনে সাল্লাম (রাহঃ) বলেন, গম, যব, খেজুর ও কিসমিস এগুলোর যে কোনোটি দ্বারা সদকায়ে ফিতর আদায় করা যায়। খেজুর, কিসমিস বা যব দ্বারা আদায় করলে এক সা প্রদান করবে। আর গম দ্বারা আদায় করলে আমার মতে উত্তম হলো, এক সা থেকে কম না দেয়া। তবে আধা সা দিলেও ফিতরা আদায় হয়ে যাবে। কারণ, এক জামাত আলিম এই ফতোয়া দিয়েছেন, ইমাম আবু বকর জাসসাস (রাহঃ) বলেন, আধা সা গম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এবং হযরত আবু বকর, উমর, উসমান ও আলী, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, জাবির, আয়েশা, ইবনুয যুবাইর, আবু হুরায়রা, আসমা বিনতে আবু বকর, কাইস ইবনে সাআদ (রাঃ) প্রমুখ সাহাবী ও অধিকাংশ তাবেয়ী থেকে বর্ণিত হয়েছে। কোনো সাহাবী থেকে এ কথা বর্ণিত হয়নি যে, আধা সা গম প্রদান করলে ফিতরা আদায় হবে না। আল্লামা ছালেহ ইবনে মাহদী আলমাকবিলী (রাহঃ) বলেন, এমন অনেক রেওয়ায়েত আছে, যা সম্মিলিতভাবে প্রমাণ করে যে, গমের ক্ষেত্রে ওয়াজিব ফিতরা হচ্ছে দুই মুদ বা আধা সা। (আল মানার ফিল মুখতার ১/৩৩১)।



আল্লামা আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সিদ্দীক আলগুমারী (রাহঃ) বলেন, কেউ যদি বলে যে, আধা সা তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত নয়, যেমনটি ইবনুল মুনযির ও বাইহাকী (রাঃ) বলেছেন তাহলে এর উত্তরে বলবো যে, বরং তা প্রমাণিত। কারণ, তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, খোলাফায়ে রাশেদীন ও সাহাবায়ে কেরাম এবং তাবেয়ীদের থেকে এতো অধিক সনদে বর্ণিত হয়েছে যে, এরপর আর কোনো সংশয় থাকে না।



লেখক : খতীব কালেক্টরেট জামে মসজিদ ও আরবি প্রভাষক, মান্দারী আলিম মাদ্রাসা, চাঁদপুর।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৫৮৮১১
পুরোন সংখ্যা