চাঁদপুর । শুক্রবার ০৩ অাগস্ট ২০১৮ । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৫ । ২০ জিলকদ ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪০-সূরা আল মু’মিন

৮৫ আয়াত, ৯ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

১৮। আপনি তাদেরকে আসন্ন দিন সম্পর্কে সতর্ক করুন, যখন প্রাণ কণ্ঠাগত হবে, দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে। পাপিষ্ঠদের জন্যে কোন বন্ধু নেই এবং সুপারিশকারীও নেই; যার সুপারিশ গ্রাহ্য হবে।

১৯। চোখের চুরি এবং অন্তরের গোপন বিষয় তিনি জানেন।

২০। আল্লাহ ফয়সালা করেন সঠিকভাবে, আল্লাহর পরিবর্তে তারা যাদেরকে ডাকে, তারা কিছুই ফয়সালা করে না। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু শুনেন, সবকিছু দেখেন।   

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


মনের নির্দেশ মানতে হলে দেহকেও শক্তিশালী করে তুলতে হয়।                   


-রুশো। 


যে ব্যক্তি সবুর করে আল্লাহ তাকে তার শক্তি দেন, সবুরের শক্তির মতো বড় নেয়ামত আর কিছু নেই।


ফটো গ্যালারি
পবিত্র হজ্ব, ওমরাহ ও যিয়ারতে মদিনা
আলহাজ্ব মোঃ আবদুল হক মোল্লা
০৩ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম তথা আল্লাহর কাছে মনোনীত দ্বীন বা ধর্ম হচ্ছে ইসলাম। এ মহোত্তম ধর্মটি পাঁচটি স্তম্ভ বা ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। পবিত্র হজ্ব ইসলাম ধর্মের পঞ্চম স্তম্ভ। নিশ্চয়ই মহীয়ান ও গরীয়ান আল্লাহ স্বীয় বান্দাদের ওপরে তাঁর ঘর কাবা শরীফে হজ্ব ফরজ অর্থাৎ অবশ্য পালনীয় করেছেন এবং এ হজ্বকে ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। মহান আল্লাহ্ এরশাদ করেছেন, 'মানুষের ওপর খোদার এ অধিকার রয়েছে যে, যারা এ ঘর পর্যন্ত পেঁৗছার সামার্থ্য রয়েছে, সে যেন উহার হজ্ব সম্পন্ন করে। আর যে নির্দেশ পালন করতে অস্বীকার করবে, তার জেনে রাখা আবশ্যক যে, আল্লাহতায়ালা দুনিয়াবাসীদের প্রতি কিছুমাত্র মুখাপেক্ষী নয়। (সূরা আল ইমরান-৯৭)।



মুহাদ্দিস সাঈফ ইবনে মনসুর (রহঃ) তদীয় সুনানে হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, আমার ইচ্ছা হয় যে, কিছু সংখ্যক লোককে রাজ্যের শহরগুলোতে প্রেরণ করি এবং তারা খুঁজে দেখুক ওই সমস্ত লোককে যারা হজ্ব করা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ্ব করে, যা তাদের ওপর তারা জিযিয়া কর চাপিয়ে দেয়। কেননা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা হজ্ব পালন করে না, তারা মুসলমান নয়।



হযরত আলী (রা.) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ্ব পরিত্যাগ করলো, সে ইহুদী অবস্থায় মারা যাক তাতে কিছুই যায় আসে না।



যে ব্যক্তির ওপর হজ্ব ফরজ হয়েছে, তার পক্ষে হজ্ব পালনে ত্বরান্বিত করা একান্ত প্রয়োজন। কেননা, সাহাবী ইবনে আব্বাস (র.)-এর উদ্ধৃতিতে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী করীম (সা.) বলেছেন, তোমরা ফরজ হজ্বের জন্যে তাড়াতাড়ি করো। কেননা, তোমাদের কেহই একথা জানে না যে, তার কী ভাগ্যে রয়েছে।



ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রা.) রেওয়ায়েত করেছেন, সুতরাং সফরের সামর্থ্য লাভের ফলে যার ওপর হজ্ব ফরজ হয়েছে, তার কিছুমাত্র কালবিলম্ব না করে, আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক হজ্ব পালন করা অবশ্য কর্তব্য। আল-কোরআনে বিঘোষিত হয়েছে, 'মানুষের ওপর খোদার অধিকার রয়েছে যে, যার এ ঘর পর্যন্ত পেঁৗছার সামর্থ্য আছে, সে যেন উহার হজ্ব সম্পন্ন করে। আর যে এ নির্দেশ পালন করতে অস্বীকার করবে, তার জেনে রাখা আবশ্যক যে, আল্লাহ দুনিয়াবাসীদের প্রতি কিছুমাত্র মুখোপেক্ষী নন।' সূরা আল-ইমরান-৯৭।



নবী করীম (সাঃ) ফরমাইয়াছেন, 'হে মানব সমাজ! আল্লাহ্ তোমাদের ওপর হজ্ব ফরজ করেছেন, যে হজ্ব গুনাহ এবং অন্যান্য ত্রুটি হতে মুক্ত থাকবে, তার পুরস্কার জান্নাত ব্যতীত আর কিছু নয়। এভাবে ওমরা সম্পর্কেও বহু সাওয়াবের ওয়াদা করা হয়েছে। হাদিস শরীফে আছে, 'হজ্ব ও ওমরা উভয়ে গুনাহ সমূহকে এমনভাবে দূর করে দেয়, যেমন অগি্ন লোহার মরিচাকে বিদুরতি করে।' যার ওপর হজ্ব ফরজ হয় অথচ আদায় করে না, তার জন্যে ভীষণ আযাবের সংবাদ দেয়া হয়েছে। হুজুর (সঃ) বলেন, যার নিকট মক্কা শরীফে যাতায়াতের সম্বল থাকা সত্ত্বেও হজ্ব আদায় করলো না, সে ইহুদী অথবা নাসারা হয়ে মরুক, আল্লাহর সঙ্গে তার কোনো সংস্রব নেই। আর এক হাদিসে আছে যে, হজ্ব আদায় না করা ইসলামের রীতি নয়।



আল-কোরআন বর্ণিত আছে, 'তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্ব ও ওমরা পূর্ণ করো। আর বলো, আমি হাজির, হে আল্লাহ! আমি হাজির, কোনো শরীক নেই তোমার, আমি হাজির, নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা ও নেয়ামত তোমারই, আর সকল সাম্রাজ্যও তোমার, কোনো শরীক নেই তোমার।



হজ্বের অর্থ হলো সংকল্প করা। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে শরীয়তের নিয়ম অনুসারে নির্দিষ্ট অর্থাৎ জিলহজ্ব মাসের আট তারিখ থেকে তের তারিখ, কাবা শরীফ ও তৎসংশ্লিষ্ট স্থানসমূহ জিয়ারত করাকে ইসলামের পরিভাষায় হজ্ব বলা হয়। হজ্ব ইসলামের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। যারা আর্থিক ও শারীরিক দিক থেকে সামর্থ্য, তাদের ওপর জীবনে একবার হজ্ব করা ফরজ।



মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব। তার মূল স্বভাবে রয়েছে ভালোবাসা ও সহমর্মিতার গুণ। মানুষের সম্পর্ক দ্বিবিধ: প্রথমটি পরম দয়ালু মহানুভব আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক, দ্বিতীয়টি-অপরাপর সৃষ্টির সঙ্গে সম্পর্ক।



আল্লাহর সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক দাসত্বের। মানুষ আল্লাহর বান্দা। সুতরাং দ্বিধাহীন চিত্তে প্রশ্নাতীতভাবে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বড় ছোট সকল কাজে, প্রতিটি মুহূর্তে সে কেবল তারই আনুগত্য করে, এটাই দাসত্বের দাবি।



সৃষ্টির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে বলা হয় খেলাফত। সে পৃথিবীতে আল্লাহর খলিফা হিসেবে সকল সৃষ্টিকেই একান্ত আপন ভেবে ভালোবাসার। সকল সৃষ্টির প্রয়োজন পূরণে সচেষ্ট হবে। সকলের প্রতিই থাকবে তার সহমর্মিতা, সহানুভূতি। এ হলো খেলাফত সম্পর্কের দাবি।



হজ্বের মধ্যে প্রভু ও খেলাফত, মানুষের এ উভয়বিধ সম্পর্কের চরম প্রকাশ ঘটে। একদিকে যেমন বান্দা হিসেবে সে আল্লাহর প্রেমে উন্মত্ত হয়ে তাঁর আনুগত্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে কোনো প্রশ্ন না তুলে ঘুরে বেড়ায় কাবার চারপাশে, চুম্বন করে হাজারে আসওয়াদ, সাফা ও মারওয়ায় দৌড়াদৌড়ি করে, আরাফা, মুজদালিফা ও মিনার ময়দানে ছুটে যায়, পশু কোরবানির সাথে সাথে কোরবানি দেয় নিজের সকল পাশবিকতা, তেমনি সে খেলাফতের দায়িত্ব উপলব্ধির জন্যে আরাফার ময়দানে শামিল হয় মুসলিম উম্মাহর মহাবিশ্ব সম্মিলনে, সেখানে জাতি-জাতিতে, বর্ণে বর্ণে, ভাষায় ভাষায়, হৃদয়ে-হৃদয়ে ঘটে মহামিলন। সকলেই ইহরামের একই পোশাকে সজ্জিত হয়ে সব ধরনের ভেদাভেদের ঊধর্ে্ব ওঠে যায়। সেখানে একজন আরেকজন থেকে সারা বিশ্ব মুসলিমের খোঁজ নিতে পারে, নিজেদের সমস্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করার সুযোগ পায় এবং সে সবের সমাধানকল্পে ব্যবস্থা নিতে পারে।



 



ওমরা



ওমরাহ্ আরবি শব্দ। এর অর্থ জিয়ারত করা, ভ্রমণ করা। মহান হজ্বের নির্দিষ্ট দিনগুলো অর্থাৎ ৮ই জিলহজ্ব থেকে ১৩ই জিলহজ্ব ব্যতিত অন্য দিনগুলোতে শরীয়ত নির্ধারিত পন্থায় কাবা শরীফ জেয়ারত করাকে ওমরা বলা হয়। সক্ষম হলে সারাজীবনে একবার তা' আদায় করা সুন্নতে মোয়াক্কাদা।



ওমরাহর ফরজ দুটো। ১. ইহরাম, ২.তাওয়াফ। ওয়াজিব দুটো।। ১ সায়ী, ২. মাথা মু-ন বা চুল ছাঁটা। ইহরাম বাঁধার পূর্বে গোঁফ, চুল, নাক, নখ, বগল ও নাভির নিচে যথারীতি ক্ষৌরকর্ম সমাপনের পর গোসল করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন হয়ে ইহরামের জন্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হয়। গোসল সম্ভব না হলে অন্ততঃ ভালোভাবে অজু করে নেয়া দরকার। আতর জাতীয় সুগন্ধি সঙ্গে থাকলে ব্যবহার করা ভালো। সেন্ট ব্যবহার করা অনুচিত।



 



ইহরাম বাঁধার সময়



মীকাত অর্থাৎ ইহরাম বাঁধার নির্ধারিত স্থান হতে ওমরার নিয়্যতে ইহরাম বাঁধা হয়। সেলাইবিহীন কাপড়, চাদর ও লুঙ্গির ন্যায় পড়তে হয়। এ কাপড়ের রং সাদা হওয়াটিই উত্তম। ইহরাম বাঁধার সাথে সাথে সময় থাকলে এবং মাহরুহ না হলে দু'রাকাত নফল নামাজ পড়া উত্তম।



 



ইহরামের পর তালবিয়া অর্থাৎ এ দোয়া পাঠ করতে হয়। 'আমি হাজির, হে আল্লাহ! আমি হাজির, আমি হাজির, কোনো শরীক নেই তোমার, আমি হাজির, নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা ও নেয়ামত



তোমারই, আর সকল সাম্রাজ্যও তোমার, তোমার কোনো শরিক নেই।



পুরুষগণ জোরে জোরে ও মহিলাগণ আস্তে আস্তে তালবিয়া পড়বেন।



বাবুস সালাম দিয়ে মসজিদে হারামে প্রবেশ করা সুন্নত, তবে বাধ্যতামূলক নয়।



কাবা শরীফের তাওয়াফ বা এর চতুর্দিকে সাতবার চক্কর দিতে হবে।



তাওয়াফ হাজরে আসওয়াদ থেকে শুরু করে, আবার হাজরে আসওয়াদের নিকট গিয়ে শেষ করতে হবে। সম্ভব হলে হাজরে আসওয়াদে চুমু খাওয়া ভালো। নতুবা ইশারাতেই যথেষ্ট।



তাওয়াফের কোনো নির্দিষ্ট দোয়া নেই। তবে প্রত্যেক চক্করের শেষে এ দোয়া পড়া যায়। 'হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়া এবং আখেরাতের কল্যাণ দাও। আমাদের জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করো।'



তাওয়াফের পর মাকামে ইব্রাহিমের পেছনে দু'রাকাত নামাজ আদায় করতে হয়।



 



মদীনা মুনাওয়ারা জিয়ারত :



হাজীগণ হজ্ব করার পর মদীনা মুনাওয়ারায় রাসূল (সঃ)-এর রওজা মোবারক জিয়ারত করবেন। হজ্ব পালন করার পূর্বেও রওজা মোবারকের জিয়ারত করা যায়।



জিয়ারতকারী গম্বুজে খাদরা তথা সবুজ গম্বুজ নজরে পড়ামাত্র গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে কাঁদতে কাঁদতে মদীনা শরীফে প্রবেশ করবেন। মদিনা শরীফে পেঁৗছে ওযু-গোসল করে ইহরাম অবস্থায় না থাকলে আতর-খুসবু লাগিয়ে বাবুস-সালাম বা বাবে জিব্রীল দিয়ে মসজিদে নববীতে ডান পায়ে প্রবেশ করবেন।



মসজিদে প্রবেশের পর রওজা মোবারক এবং মিম্বরের মাঝামাঝি অংশে রওযাতুম মিররিয়া যিল জান্নাতে বেহেস্তে টুকরায় দু'রাকাত নামাজের পর কেবলার দিকে পিঠ দিয়ে হযরত (সাঃ-)এর রওজা মোবারকের দিকে মুখ করে মহব্বতের সঙ্গে দরুদ ও সালাম পাঠ করবেন।



এরপর সামান্য উত্তর-পূর্বাংশে হযরত আবু বকর (রা.)-এর কবরের সামনে দাঁড়িয়ে তাকেও সালাম পেশ করবেন।



এরপর সামান্য উত্তর-পূর্বাংশে হযরত ওমর (র.-)এর কবরের সামনে দাঁড়িয়ে তাকেও সালাম পেশ করবেন।



মদীনা শরীফে অবস্থানকালে মসজিদে নববীতে জামাতের সাথে নামাজ এবং জান্নাতুল বাকিসহ অন্যান্য মোবারক স্থানসমূহ জিয়ারত করতে চেষ্টা করবেন।



মদীনাবাসীদের ইহসান ও অনুগ্রহ ভুলবার নয়। সাবধান! মদীনা শরীফে যেন কোনোরূপ বেয়াদবি না হয়। যে মাটিতে আল্লাহর রাসূল (সা.) স্বয়ং শুয়ে আছেন এবং যারা আল্লাহর রাসূলকে সসম্মানে মদীনায় সাদর অভ্যর্থনা করেছেন, তাঁদের সম্মান না করা চরম বেয়াদবি।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৪৫৯২২
পুরোন সংখ্যা