চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ১৮ অক্টোবর ২০১৮। ৩ কার্তিক ১৪২৫। ৭ সফর ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪২-সূরা শূরা

৫৪ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৫০। অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা তাকে করে দেন বন্ধ্যা, তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।

৫১। মানুষের জন্য অসম্ভব যে, আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন ওহীর মাধ্যম ছাড়া, অথবা পর্দার অন্তরাল ব্যতিরেকে অথবা এমন দূত প্রেরণ ছাড়া, যে দূত তাঁর অনুমতিক্রমে তিনি যা চান তা ব্যক্ত করে, তিনি সমুন্নত, প্রজ্ঞাবান।

৫২। আর এভাবেই আমি তোমার প্রতি ওহী করেছি রূহ (কুরআন) আমার নির্দেশে; তুমি তো জানতে না কিতাব কি ও ঈমান কি পক্ষান্তরে আমি একে করেছি আলো যা দ্বারা আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা পথ-নির্দেশ করি; তুমি অবশ্যই প্রদর্শন কর সরল পথ-

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


প্রতিভাবানদের আবিষ্কৃত জিনিস কখনো মৃল্যহীন হয় না।                           


-কুপ।


যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ^াস করে (অর্থাৎ মুসলমান বলে দাবি করে) সে ব্যক্তি যেন তার প্রতিবেশীর কোন প্রকার অনিষ্ট না করে।



 


ফটো গ্যালারি
হিংসা নেক আমল ধ্বংস করে
কাজী সুলতানুল আরেফিন
১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা অপরের ভালো কিছু সহ্য করতে পারেন না। অপরের ভালো দেখলে মনে মনে খারাপ লাগে। এই খারাপ লাগাটাই হচ্ছে হিংসা। কেউ কেউ আবার তার নিজের চেয়ে অন্য কারও ভালো থাকা বা সুখে থাকা মেনে নিতে পারেন না। মনে মনে হিংসা করেন। কিন্তু এমন হিংসা করা মূলত এক ধরনের পাপ ও ভয়ানক ব্যাধি। হিংসা মানুষকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়। এই হিংসার বিরুদ্ধে পবিত্র কোরআনের শক্ত অবস্থান সুরা 'ফালাক-'আর হিংসুকের অনিষ্ট থেকে পানাহ চাই, যখন সে হিংসা করে।' (সুরা ফালাক : ৫)

হিংসুকের হাত থেকে পরিত্রাণ চাওয়া হয়েছে এই সুরার মাধ্যমে। সন্দেহহীনভাবে বলা যায়, যে হিংসা করে সে নিকৃষ্ট কেউ এবং আল্লাহ তাকে পছন্দ করেন না। হিংসা মানুষের একটি জঘন্য দোষ। এই হিংসা মানুষের প্রতি মানুষের মায়া-মমতা কমিয়ে দেয়। কারণ মানুষ যখন অপরকে হিংসা করা শুরু করে, তখন সে আর মন থেকে তার ভালো চায় না। একসময় মনে মনে তার অমঙ্গল বা ক্ষতি কামনা করে। তাই ইসলামে হিংসা বা বিদ্বেষ পোষণকারীকে খুবই নিকৃষ্ট চোখে দেখা হয়েছে। হিংসা মানুষকে শুধু নীচু করে না, বরং হিংসুকের জীবন কখনোই সুখের হয় না। কেননা, সে সবসময় সব ভালো কিছু শুধু নিজের করে পেতে চায়। তার সর্বদা এই চেষ্টাই থাকে, অন্যের কাছে যা আছে তার চেয়ে তার জিনিসটা ভালো হওয়া চাই। সে আরও আশা করে, অন্য কেউ যেন তার চেয়ে ভালো না থাকে বা ভালো কিছুর অধিকারী হতে না পারে। সে যখন বুঝতে পারে অপর কেউ তার চেয়ে ভালো কিছু পেয়ে গেছে, তখন সে ভেতরে ভেতরে হিংসার আগুনে জ্বলতে থাকে।

অসংখ্য হাদিসে এ ব্যাপারে উম্মতকে সতর্ক করা হয়েছে। যেমন আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে মহানবী (সাঃ) বলেন, 'তোমরা পরস্পরের প্রতি হাসাদ করো না, একে অন্যের পেছনে পড়ো না। আর তোমরা পরস্পর ভাই হিসেবে আল্লাহর বান্দা হয়ে যাও।'

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত অপর এক হাদিসে মহানবী (সাঃ) বলেন, 'তোমরা হিংসা করা থেকে বেঁচে থাকো। কেননা, হিংসা নেক আমলকে সেভাবে খেয়ে ফেলে, যেভাবে আগুন কাঠকে খেয়ে ফেলে।'

ওপরের হাদিস থেকে এটা প্রমাণিত হচ্ছে হিংসুকের কোনো নেক আমল থাকলে তা শুধু হিংসা করার কারণে নষ্ট হয়ে যাবে।

হিংসা নিজের ঘর বা সমাজে অশান্তি বয়ে আনে-এতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ হিংসুক মানুষ একসময় সে তার চেয়ে বেশি সম্মানিত আর ভালো অবস্থানে থাকা সমাজের অন্যান্য সম্মানিত ব্যক্তির ব্যক্তিত্বকে হেয় করার চেষ্টা করতে থাকে। তার দৃষ্টিতে সে একাই সমাজে সম্মানিত ব্যক্তি, বাকিরা সবাই তার চেয়ে নগণ্য।

মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সামাজিক শান্তি ও সমপ্রীতি বজায় রাখার উদ্দেশ্যে পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা সতর্ক করে বলেছেন, 'আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে মানুষকে যা দিয়েছেন, সে জন্য কি তারা তাদের ঈর্ষা করে?' (সুরা আন-নিসা, আয়াত : ৫৪) হিংসুকের হিংসা যখন এক সময় প্রকাশ হয়ে পড়ে, তখন আর কেউ তাকে ভালো দৃষ্টিতে দেখে না; সবার মাঝে তার প্রতি একটা খারাপ ধারণা জন্ম নেয়। সমাজে অন্য সবার সঙ্গে বসবাস করলেও মানুষের মনে তার জন্য কোনো স্থান থাকে না। কোরআন ও হাদিসেও হিংসা এবং হিংসুককে কঠিনভাবে নিন্দা করা হয়েছে। হিংসা সম্পর্কিত কিছু রেওয়ায়েত এখানে উল্লেখ করা হলো :

হজরত লোকমান (আঃ) স্বীয় পুত্রকে বললেন :'হিংসুকের তিনটি চিহ্ন রয়েছে- পিঠ-পেছনে গিবত করে, সামনাসামনি তোষামোদ করে এবং অন্যের বিপদে আনন্দিত হয়।' (আল খেসাল, পৃষ্ঠা ১২১, হাদিস নং ১১৩)

ইমাম বাকির (আঃ) বলেছেন :'নিশ্চয়ই যেভাবে আগুন কাঠকে ভক্ষণ করে (জ্বালিয়ে নিঃশেষ করে) 'হিংসাও ইমানকে ভক্ষণ করে।' (আল কাফি, খ- -২, পৃষ্ঠা ৩০৬, হাদিস নং ১)

এই হাদিসগুলো থেকে প্রতীয়মান_হিংসা আমাদের ইমান ধ্বংস করে। আর ইমান চলে যাওয়া মানে কাফের হয়ে যাওয়া। এটি আঁতকে ওঠার মতো একটি বিষয়। আর কাফেরের পরিণতি কখনোই ভালো হতে পারে না।

ইমাম সাদিক (আঃ) বলেছেন : 'একে অপরের সঙ্গে হিংসা করা থেকে বিরত থাকো। কেননা, হিংসা হলো কুফরের ভিত্তিস্বরূপ।'

যে হিংসা সমাজে অশান্তি বয়ে আনে; মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করে; নেক আমল আর ইমান ধ্বংস করে কুফরের দিকে নিয়ে যায়, সেই হিংসা কারও মনেই কাম্য নয়। আসুন, সবাই এই জঘন্য হিংসা করা থেকে বিরত থেকে ভালোবাসা অটুট রাখি।

আজকের পাঠকসংখ্যা
১৪৮২৩৬
পুরোন সংখ্যা