চাঁদপুর। শুক্রবার ০২ নভেম্বর ২০১৮। ১৮ কার্তিক ১৪২৫। ২২ সফর ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৩-সূরা যূখরুফ

৮৯ আয়াত, ৭ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৩৮। অবশেষে যখন সে আমার নিকট উপস্থিত হইবে, তখন সে শয়তানকে বলিবে, ‘হায়! আমার ও তোমার মধ্যে যদি পূর্ব ও পশ্চিমের ব্যবধান থাকিত! কত নিকৃষ্ট সহচর সে!

৩৯। আর আজ তোমাদের এই অনুতাপ তোমাদের কোন কাজেই আসিবে না, যেহেতু তোমরা সীমালংঘন করিয়াছিলে; তোমরা তো সকলেই শাস্তিতে শরীক।

৪০। তুমি কি শুনাইতে পারিবে বধিরকে অথবা যে অন্ধ ও যে ব্যক্তি স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে আছে, তাহাকে কি পারিবে সৎপথে পরিচালিত করিতে?      

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


বোকারা ভাবনা চিন্তা না করেই প্রশ্ন করে।                           

 -জন ওলকট।


নামাজ হৃদয়ের জ্যোতি, সদকা (বদান্যতা) উহার আলো এবং সবুর উহার উজ্জ্বলতা।


ফটো গ্যালারি
মহাকাশে প্রিয়নবীর কতৃত্ব
মাওলানা মুহাম্মদ বখতিয়ার উদ্দীন
০২ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহু হতে বর্ণিত, মক্কাবাসীরা রাসূলেপাক সাল্লাল্লাহু তা'য়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লামার নিকট আবেদন করলেন, আপনি আমাদেরকে একটি মুজিযা দেখান। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে নবীজী আকাশের চন্দ্র দু' টুকরো করে দেখালেন। এমনকি তারা দেখতে পেলো-হেরা পর্বত চন্দ্রের সেই দু' টুকরোর মধ্যখানেই। বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ-৫২৪পৃঃ।



 



প্রাসঙ্গিক আলোচনা :



সৃষ্টিজগতের এক মহাবিস্ময়কর সত্তা হলেন মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। যিনি কেবল আল্লাহর বান্দা নন বরং সকল বান্দার ত্রাণকর্তা, মুক্তিদাতা, অলৌকিকতায় ভরপুর তার বর্ণাঢ্য জীবনের প্রতিটি ক্ষণ। যার কর্ম পরিধি ইহজগৎ ছড়িয়ে সীমান্তের ওপারেও আর সৃষ্টিজগতের প্রতিটি পদার্থে যার করুণার ফল্গুধারা বিকশিত তিনিই নিখিল বিশ্বের প্রেমাস্পদ ত্রিভূবনের প্রিয় মুহাম্মদ, রহমাতুল লিল আলামিন সাল্লাল্লাহু তা'য়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি আছেন বলেই আমরা বেঁচে আছি; বেঁচে আছে আকাশ-বাতাস, বৃক্ষলতা, চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ নক্ষত্র তথা-সমগ্র ভ্রমা-। মহাজগতের সকল কিছু তারই করুণায় ধাবমান চলমান। তাই যখন ইশারা হয়েছে বলে এসেছে তাঁর নূরানী কদমে। বিশ্বের ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ বিস্ময়কর ঘটনা মি'রাজ রাতে তাদের কাছে তিনি বেড়াতে গিয়েছিলেন। তেমনি যখনি ডাক পড়েছে তখন তারাও চলে এসেছে কালবিলম্ব না করে। তাঁর নূরানী সকালে হাজারো দৃষ্টান্তের দু' একটি ঘটনা পবিত্র হাদীসের আলোকে উপস্থাপনের প্রয়াস পাচ্ছি।



মহাকাশের উল্লেখযোগ্য সদস্যদের মধ্যে চন্দ্র-সূর্য অন্যতম। উল্লেখিত হাদীসে চন্দ্র দ্বিখ-িত হওয়ার ঘটনা বর্ণিত। এখন আরো একটি হাদীসের উদ্ধৃতি দেখব। অর্থাৎ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু তা'য়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লামার যুগে চন্দ্র দ্বিখ-িত হয়েছিল। এক খ- পড়েছিল পাহাড়ের উপর অন্য খন্ড পড়েছিল পাহাড়ের নিচে। সূত্র : বুখারী, মুসলিম শরীফ।



হযরত শেখ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী রাহমাতুল্লাহি তা'য়ালা আলাইহি বলেন, চন্দ্র দ্বিখ-িত হওয়ার বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত। অসংখ্য রাওয়ায়াত সাহাবাদের মন্তব্য মুহাদ্দেসীন,



 



মুফাছছেরীন বিষয়টির উপর ইজমা হয়েছে। আশআতুল লুমআত।



অর্থাৎ হযরত আসমা বিনতে ওমাইছ রাদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহুমা হতে বর্ণিত একদা রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু তা'য়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লামার ওপর ওহী নাযিল হচ্ছিল আর তখন নবীজির মাথা মোবারক ছিল হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহুর কোলে। কিন্তু তখনও আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহু আসরের নামাজ পড়েন নিঃশেষ পর্যন্ত সূর্য অস্তমিত হয়ে যায়। পরিশেষে নবীজি তাকে বললেন- হে আলী! তুমি কি নামাজ পড়েছ? বললেন জি-না! অতঃপর নবীজি দোয়া করলেন, হে আল্লাহ! আমার আলী! এতক্ষণ তোমার এবং তোমার রাসূলের আনুগত্যে ছিল (আর এ কারণে সে আসরের নামাজ পড়তে পারে নি) সুতরাং তুমি আলীর জন্য সূর্য ফিরিয়ে দাও। হাদীসের বর্ণনাকারী হযরত আসমা বিনতে উমাইছ রাদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহুমা বলেন, আমি দেখেছি সূর্য ডুবে গেল আবার নবীজির দোয়ার পর পুনরায় উদিত হয়েছে আবার অস্ত যেতে দেখেছি এবং দেখেছি পাহাড়ের প্রান্ত দিয়ে হারিয়ে গেল। এ ঘটনা ঘটেছিল ছাহবা নামক জায়গায়। সূত্র : নসীমুন রিয়জ ৩য় খ- ১০ পৃঃ।



দেখুন শেরে খোদা মাওলা আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহু নবীজির খেদমতে থাকা অবস্থায় আসরের নামাজের সময় চলে যাচ্ছিল। আল্লাহ পাক নিশ্চয় জানেন যে হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহু নামাজ পড়েননি। তাহলে ঐ মুহূর্তে আবার নামাজ পড়তে পারেন নি এমন ব্যক্তির কোলে ওহী নাযিল করলেন? সহজেই অনুধাবন করা যায় আল্লাহ পাক এ ঘটনার অবতারণা করে একদিকে যেমন মাওলা আলীর ঈমান পরীক্ষা করলেন, অপরদিকে নবীজির শান শওকত বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিলেন। আরেকটি বিষয় পরিষ্কার হলো, নবীজি দোয়ায় বলেছিলেন- আল্লাহ! আমার আলী এতক্ষণ তোমার আনুগত্য তথা ইবাদতে ছিল। বুঝা গেল নবীজির খেদমত করাও আল্লাহর ইবাদতের শামিল। এসব রহস্য ঈমানদাররা সহজেই বুঝতে পারেন। যাদের হৃদয়ে শত্রুতা রয়েছে তারা নবীজির সেই কর্তৃত্ব ক্ষমতা মেনে নিতে না পারলেও বাস্তবতায় থাকবে।



ইমামে আহলে সুন্নাত আ'লা হযরত শাহ আহমদ রেযা বেরলভী রাহমাতুল্লাহি আলাইহির ভাষায় বলতে হয়-



অর্থ : সূর্য চলার গতি ফিরিয়ে পুনঃ উদিত হল আর চন্দ্র তার ইঙ্গিতে খ-িত হয়ে গেলো। হে অন্ধ নজদীরা চেয়ে দেখ আমাদের রাসূলের ক্ষমতা। হৃদায়েকে বখশিশ।



হযরত যাবের রাদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহু বর্ণিত, নবী পাক সাল্লাল্লাহু তা'য়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যকে নির্দেশ দিলেন চলার গতি কিছুক্ষণের জন্য স্তিমিত করতে। নির্দেশ পাওয়ার সাথে সাথে সূর্য দাঁড়িয়ে গেল। সূত্র : তাবরানী।



হাদীসে আরো বর্ণিত, নবীজি শিশুকালে দোলনা চড়া অবস্থায় আকাশের দিকে তাকিয়ে হাতের ইশারা করতেন আর তার পবিত্র হাতের ইশারায় আকাশের চন্দ্র হেলা দুলা করত। এভাবে অসংখ্য ঘটনা প্রবাহের মাধ্যমে প্রমাণ পাওয়া যায় নবীজির নূরানী কর্তৃক পৃথিবীর সীমানা পেরিয়ে মহাকাশে। এবার দেখব কয়েকটি নিদর্শন যা ঘটেছিল পৃথিবীর বুকে তবে জড় পদার্থের সাথে।



হযরত যাবের রাদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, নবী পাক সাল্লাল্লাহু তা'য়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাথমিক অবস্থায় মসজিদে নববীতে খেজুর গাছে হেলান দিয়ে খুতবা দিতেন। পরে মিম্বর তৈরি হলে মিম্বরে খুতবা দেয়া শুরু করলে ঐ শুকনা খেজুর গাছের টুকরোতে কান্নার রোল পড়ে গেল। নবীজি মিম্বর থেকে নেমে এসে ঐ উস্তুনে হান্নানাকে হাতে তোলে নিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরলেন ছোট বাচ্চার মত এমনভাবে কান্না করছিল যেন একটু সান্ত্বনা দিলে চুপ হয়ে যাবে। নবীজি তাই করলেন আর সেই খেজুর গাছের টুকরা শান্ত হয়ে গেল। সুবহানাল্লাহ!



হযরত ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বললেন, একদা এক বেদুইন নবীপাক সাল্লাল্লাহু তা'য়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লামার দরবারে এসে বলল আমি কীভাবে বুঝব যে, আপনি সত্য নবী। নবীজি ইরশাদ করলেন, আমি যদি ঐ খেজুর ডালাকে ডাক দেই সে সাক্ষ্য প্রদান করবে- আমি আল্লাহর রাসূল। এই কথা বলে নবীজি একটি খেজুর শাখাকে ডাক দিতে না দিতেই খেজুর শাখা গাছ হতে ছিঁড়ে পড়ে গিয়ে আস্তে আস্তে নবীজির নূরানী কদমে নিকট চলে আসল। অতঃপর নবীজি ঐ খেজুর শাখাকে বললেন- তুমি যেখান থেকে এসেছ সেখানেই চলে যাও।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৮১৮৬৭
পুরোন সংখ্যা