চাঁদপুর। শুক্রবার ০২ নভেম্বর ২০১৮। ১৮ কার্তিক ১৪২৫। ২২ সফর ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৩-সূরা যূখরুফ

৮৯ আয়াত, ৭ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৩৮। অবশেষে যখন সে আমার নিকট উপস্থিত হইবে, তখন সে শয়তানকে বলিবে, ‘হায়! আমার ও তোমার মধ্যে যদি পূর্ব ও পশ্চিমের ব্যবধান থাকিত! কত নিকৃষ্ট সহচর সে!

৩৯। আর আজ তোমাদের এই অনুতাপ তোমাদের কোন কাজেই আসিবে না, যেহেতু তোমরা সীমালংঘন করিয়াছিলে; তোমরা তো সকলেই শাস্তিতে শরীক।

৪০। তুমি কি শুনাইতে পারিবে বধিরকে অথবা যে অন্ধ ও যে ব্যক্তি স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে আছে, তাহাকে কি পারিবে সৎপথে পরিচালিত করিতে?      

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


বোকারা ভাবনা চিন্তা না করেই প্রশ্ন করে।                           

 -জন ওলকট।


নামাজ হৃদয়ের জ্যোতি, সদকা (বদান্যতা) উহার আলো এবং সবুর উহার উজ্জ্বলতা।


ফটো গ্যালারি
মাহে সফর
০২ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

'সফর' আরবী সনের দ্বিতীয় মাস। ইসলামের ইতিহাসে এ মাসটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময়। মানব ইতিহাসের বহু ঘটনা বিশেষভাবে এ মাসে সংঘটিত হয়েছে এবং হাদীস শরীফে এ মাস সম্পর্কে বহু বর্ণনা পাওয়া যায়।

পৃথিবীতে যত রকমের বিদপ-আপদ ও বালা-মছিবত রয়েছে তার অধিকাংশই এ মাসে হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে এ বিশেষ মাসটিতে। যেমন হাদীস শরীফের এক বর্ণনানুযায়ী বার মাসে যত বালা-মছিবত অবতীর্ণ হয় তার সবই এ মাসের মধ্যে রয়েছে এবং গোটা বছরে আল্লাহ তায়ালা যেভাবে বিপদ-মছিবত দিয়ে থাকেন তন্মধ্যে নয় অংশ সফর মাসের মধ্যে এবং বাকী এক অংশ মাত্র সারা বছরে। এ জন্য এ মাসকে 'মাহে নুযূলে বালা' বা বালা মছিবত অবতীর্ণ হওয়ার মাস হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এ মাসে অনেক সম্মানিত নবী নবুয়তের পরীক্ষামূলক মছিবতের সম্মুখীন হয়েছেন, যা ইতিহাসে খ্যাত। যেমন-হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম'র জান্নাতে থাকাবস্থায় নিষিদ্ধ গাছের ফল ভক্ষণ, হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালামকে অগি্নকুন্ডে নিক্ষেপ, হযরত আইয়ুব আলাইহিস্ সালাম'র কঠিন বালায় পতিত হওয়া, হযরত ইউনুছ আলাইহিস্ সালাম মাছে উদরস্থ হওয়া, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর লোবাইদ ইবনে আছম ও তার পুত্রদের মৃত যাদুর বাহ্যিক প্রভাব থেকে আরোগ্য লাভের মত বহু ঘটনা ঘটেছে এ মাসেই।

বালা-মছিবত মুমিনের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ। এ ধরণের বিপদে-আপদে ধৈর্য্য ধারণ ও আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করার জন্য হাদীস শরীফে শিক্ষা দেয়া হয়েছে। অলি বুযুর্গগণ বিভিন্ন ধরণের দোয়া, নফল নামাজ, অজিফা ইত্যাদি দ্বারা সাধারণ মানুষকে ধন-স্বাস্থ্য ও সম্পদ এবং ঈমানী বালা-মছিবত থেকে রক্ষা করে খোদার নৈকট্যলাভের পথ দেখিয়েছেন। আমাদের উচিৎ এ মাসে আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে বেঁচে থাকার সাধারণ অনুশীলনে ব্রতি হওয়া।

এ মাসের নফল এবাদত: সফর মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার পর দুই রাকাত করে ছয় রাকাত নফল নামাজ পড়া যায়। অতঃপর দরূদ শরীফ পাঠ করে নিলে দোয়া পাঠ করবেন।

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ছল্লে আলা মুহাম্মাদিন আবদিকা ওয়া নাবিয়্যিকা ওয়া আ'লা আলিহী ওয়া বারিক ওয়াছালি্লম। আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন শার্রি হাযাশ শাহ্রি ওয়া মিন কুলি্ল শিদ্দাতিন ওয়া বালাইন ওয়া বালিয়্যাতিন কদ্দরতা ফীহি এয়া দাহ্রু, এয়া দায়াহারু এয়া দায়াহারু ওয়া ইয়া কানা এয়া কায়নুন, এয়া কায়নুন এয়া আজালু এয়া আবাদু এয়া মুবদিউ এয়া মুরীদু, এয়া যালজালালী ওয়াল ইকরামি এয়া যাল আরশিল মাজীদী আন্তা তাফয়ালু মা তুরীদু আল্লাহুম্মাহরুছ বি আইনিকা নফ্সী ওয়া আহলি ওয়া মালি ওয়া ওয়ালাদী ওয়া দ্বীনি ওয়া দুনয়াঈ মিন হাযিহিছ ছানাতি ওয়াকিনা মিন শার্রি মা ক্বদাইতো ফীহা ওয়া কারিমনী ফিচ্ছফরে বি করমিন নজরে ওয়াখতিমহু লী বি ছালামাতিন ওয়া আদাতিন ওয়া আহ্লি ওয়া আউলিয়াই ওয়া কারাবায়ি ওয়া জামিয়ি উন্মাতি সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদিন আলাইহিস্ সালামি এয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরামি ইবতালাইতানী বি ছিহ্হাতিহা বি হুরমাতিল আবরারি ওয়াল আখয়ায়ি ইয়া আজিজু ইয়া গাফ্ফারু ইয়া কারীমু ইয়া ছাত্তারু বি রহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন।

সফর মাসের প্রত্যেক দিন উক্ত দোয়া পাঠ করা যায়।

আখেরী চাহার সম্বাহ : সফর মাসের শেষ বুধবার অতি গুরুত্ব সহকারে পালন করা হয়। হুজুর সাইয়্যিদ আলম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম'র প্রতি ইহুদীগণ যাদু করেছিল এবং এর বাহ্যিক প্রভাব তাঁর দেহ মোবারকের বহির্ভাগে ক্রিয়াশীল হওয়ায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। অতঃপর হযরত জিব্রাঈল আলাহিস্ সালাম আল্লাহর হুকুমে তাঁর হাবীবকে এ সম্পর্কে অবহিত করেন। অতপর প্রভাব নষ্ট করার পর হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সফর মাসের শেষ বুধবার সুস্থতা বোধ করেন এবং গোসল করেন। নিম্নে বর্ণিত কার্য দ্বারা এ দিন উদ্যাপন করা অত্যন্ত উপকারী ও ফলদায়ক। সারা বছরের বালা-মছিবত, রোগ-শোক থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাইতে এ আমল অত্যন্ত ফলপ্রদ বলে সূফী সাধক ও আলেমগণ মত প্রকাশ করেন।

আমল: শেষ বুধবার সূযর্োদয়ের পূর্বে গোছল করা উত্তম। অতঃপর সুযর্োদয়ের পর দোহার নামাজান্তে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া যায়। প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর এগারবার সূরা ইখলাস বা কুল হুয়াল্লাহু আহাদ, সালাম ফিরানোর পর সত্তরবার বা ততোধিক দরূদ শরীফ পাঠ করে নিম্নের দোয়া তিনবার পাঠ করবেন।

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ছার্রিফ আন্নী ছুআ হাযাল ইয়াওমা ওয়া আছিমনী মিন ছূয়িহী ওয়ানাযযিনী আম্মা আছাবা ফীহি মিন নাহ্ ছাতিহী ওয়া কুর্বাতিহী বিফাদ্বলিকা এয়া দাফিয়াশ শুর্রি ওয়া এয়া মালিকান নুশূরি, এয়া আরহামার রাহিমীন: ওয়া ছাল্লাল্লাহু আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলিহিল আমজাদি ওয়া বারাকা ওয়াছাল্লাম।

এ দিন নিম্নের আয়াতে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর পাঠ করে সিনায় ফুঁক দিতে এবং কলা পাতায় বা কাগজের লিখে তা পানীয় জলে দিয়ে তা পান করলে আল্লাহর রহমতে বহু রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

আয়াতে সালাম

এ দিন গোসল করার পর একটি পবিত্র ও পরিষ্কার পাত্রে পানি নিয়ে কলাপাতা বা কাগজে নিম্নের দোয়া ও নঙ্া লিখে পাত্রের পানিতে ডুবিয়ে অতঃপর কোমর পর্যন্ত পানিতে দাঁড়িয়ে মাথার উপর পানি ঢালবেন। আল্লাহর ফজলে রোগ-ব্যাধি থেকে এর দ্বারা নিরাপদ থাকবেন।

আখেরী চাহার সম্বাহ সম্পর্কে ফক্বীহগণের অভিমতঃ জাওয়াহেরুল কুন্জ ৫ম খন্ডের ৬১৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে ছফর মাসের শেষ বুধবার সূর্যোদয়ের পূর্বে গোসল করা উত্তম। সূর্যোদয়ের পর দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া ভাল।

নিয়ম: প্রথম রাকাতে 'কুলিল্লাহুম্মা মালিকাল মুল্ক এবং দ্বিতীয় রাকাতে 'কুল আদয়ুল্লাহা আদয়ুর রহমান' থেকে সূরার শেষ পর্যন্ত পাঠ করবে। সালাম ফিরানোর পর নিম্নোক্ত দোয়া পাঠ করবে-

আল্লাহুম্মাছরাফ আন্নী শার্রা হাযাল ইয়াউমা ওয়াছমনী মিন শাউমিহি ওয়াজতানিবনী আম্মা আখাফু ফীহি মিন নহু ছাতিহী ওয়া কুরবাতিহী বিফাদ্বলিকা ইয়া দাফিয়াশ শুরুরি ইয়া মালিকান্ নুশূরি ইয়া আরহামার রাহিমীন।

অনুরূপভাবে 'জাওয়াহেরে কান্জ, ৫ম খন্ড, ৬১৭ পৃষ্ঠায় আছে, মাহে ছফরের শেষ বুধবার 'সপ্তসালাম' লিখে তা পানিতে ধুয়ে পানিটুকু পান করবে। আবদুল হাই লক্ষ্নৌভী সাহেব তার মজমুয়ায়ে ফতওয়ায়ও একথা উল্লেখ করেছেন। "তাযকিরাতুল আওরাদ" কিতাবে উল্লেখ আছে- যে ব্যক্তি আখেরী ছাহার সম্বার প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজের পর আয়াতে রহমত (সাত সালাম) পাঠ করে নিজের শরীরে ফুঁক দেয় বা তা পানের উপর লিখে ধুয়ে পান করে, আল্লাহ পাক তাকে সবরকম বালা মুছিবত ও রোগব্যাধি হতে নিরাপদ রাখবেন।

"আনওয়ারুল আউলিয়া" কিতাবে বর্ণিত আছে-যে ব্যক্তি আখেরী চাহার সম্বার দিন দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করবে আল্লাহ পাক তাকে হৃদয়ের প্রশস্ততা দান করবেন। প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহার পর এগার বার সূরা ইখলাস নামায শেষে ৭০বার দরূদ শরীফ পড়বে।

(আল্লাহুম্মা ছালি্ল আ'লা সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আলা আলিহি ওয়া আছহাবিহী ওয়াসাল্লাম) অথবা প্রতি রাকাতে ৩ বার সূরা ইখলাস দ্বারা নামাজ শেষ করে ৮০ বার সূরা আলাম নাশরাহলাকা, সূরা নছর, সূরা ত্বীন ও ইখলাস।

এ মাসে যাঁরা ওফাত হয়েছেন:

২৯ সফর হযরত ইমাম হাসান (রাদ্বি.) শাহাদাত ৪৯ হিজরী।

১১ সফর হযরত সালমান ফারসী (রাদ্বি.)।

০৮ সফর দাতা গঞ্জেবখশ্ লাহোরী (রহ.) ওফাত।

২৬ সফর মুজাদ্দিদ আল্ফসানী (রহ.) ওফাত ১০৩৪ হিজরী।

২৫ সফর ইমাম আহমদ রেযা খান বেরলভী (রহ.)।

আল্লাহ আমাদের ব্যক্তিগত, রাষ্ট্রীয়, সামাজিক বালা-মছিবত ও বিপদ-আপদ থেকে পানাহ দিন; বিহুরমাতি সাইয়্যিদিল আম্বিয়া সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৫১০৮৯৫
পুরোন সংখ্যা