ঢাকা। শুক্রবার ১১ জানুয়ারি ২০১৯। ২৮ পৌষ ১৪২৫। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • ফরিদগঞ্জের মনতলা হাজী বাড়ির মোতাহের হোসেনের ছেলে ফাহিম মাহমুদ (৩) নিজ বাড়ির পুকুরে ডুবে মারা গেছেন। ||  শনিবার সকালে ফাহিমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক। || 
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৭ আয়াত, ৪ রুকু, ‘মক্কী

২৭। আকাশম-লী ও পৃথিবীর আধিপত্য আল্লাহরই, যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হইবে সেদিন মিথ্যাশ্রয়ীরা হইবে ক্ষতিগ্রস্ত,

 


assets/data_files/web

সৌভাগ্যবান হওয়ার চেয়ে জ্ঞানী হওয়া ভালো।        


-ডাবলিউ জি বেনহাম।


স্বভাবে নম্রতা অর্জন কর।



 


ফটো গ্যালারি
সাহাবায়ে কেরাম সত্যের মাপকাঠি
মাওঃ মোঃ মোশাররফ হোসাইন
১১ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্র জন্যে। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছেই ক্ষমা ভিক্ষা করি। আমরা আমাদের আত্মার অনিষ্ট থেকে এবং মন্দকর্ম থেকে আল্লাহ্র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করেন, তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না। পক্ষান্তরে তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করে, তাকে কেউ সঠিক পথ দেখাতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, শরীক বিহীন এক আল্লাহ ছাড়া আর কোনো হক্ব মা'বূদ নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর প্রতি, তাঁর পরিবার-পরিজনের প্রতি এবং তাঁর সকল সাহাবীর প্রতি অসংখ্য দুরূদ ও সালাম বর্ষণ করুন।



সম্মানিত পাঠকের জানা জরুরি যে, সাহাবায়ে কেরামের প্রতি আমাদের কর্তব্য যেনো-তেনো কোনো বিষয় নয়। এটি দ্বীন ইসলামের প্রতি আমাদের কর্তব্যেরই একটি অংশ, যে দ্বীনকে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্যে মনোনীত করেছেন এবং যা ব্যতীত তিনি তাদের নিকট থেকে অন্য কোনো দ্বীন গ্রহণ করেন না। মহান আল্লাহ বলেন, 'নিশ্চয় আল্লাহ্র নিকট মনোনীত দ্বীন হচ্ছে ইসলাম' (আল-ইমরান ১৯)।



তিনি আরো বলেন, 'যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম তালাশ করে, কস্মিণকালেও তা তার পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত (আল-ইমরান ৮৫)। মহান আল্লাহ অন্যত্র বলেন, 'আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসাবে পছন্দ করলাম' (আল-মায়েদাহ ৩)।



অতএব, এই সরলসোজা পথ এবং সত্য দ্বীনই হচ্ছে আল্লাহ্র দ্বীন। এই দ্বীনের প্রচার ও প্রসারের জন্যে আল্লাহ তা'আলা বিশ্বস্ত প্রচারক, বিচক্ষণ উপদেষ্টা এবং সম্মানিত রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নির্বাচন করেন। তিনি এই দ্বীনকে পরিপূর্ণভাবে পেঁৗছে দিতে এবং আল্লাহ নির্দেশিত বিষয়সমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালন করতে কোনো প্রকার ত্রুটি করেননি। মহান আল্লাহ বলেন, 'হে রাসূল! আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তা পেঁৗছে দিন' (আল-মায়েদাহ ৬৭)। আল্লাহ্র এ নির্দেশ মোতাবেক তিনি আমরণ রিসালাতের পূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন, আল্লাহ কর্তৃক আরোপিত আমানত যথাযথভাবে রক্ষা করেছেন, তাঁর উম্মতকে সঠিক নছীহত করে গেছেন এবং আল্লাহ্র রাহে সত্যিকার জিহাদ করেছেন। কল্যাণের এমন কোনো দিক নেই, যা তিনি তাঁর উম্মতকে বলে যাননি। পক্ষান্তরে অকল্যাণের এমন কোনো দিক নেই, যা থেকে তিনি তার উম্মতকে সতর্ক করে যাননি। মহান আল্লাহ স্বীয় বান্দাদেরকে তাঁর কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ করে বলেন, 'তিনিই নিরক্ষরদের নিকট তাঁদের মধ্য থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন। ইতিপূর্বে তারা ছিলো ঘোর পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত' (আল-জুমু'আহ ২)।



আমি আবারও বলছি, আমাদের প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ্র দ্বীনের প্রচার ও প্রসার যথার্থভাবে করে গেছেন। তিনি তাঁর উম্মতকে নছীহত করতে কোনো প্রকার ত্রুটি করেননি; বরং তিনি তাদের জন্যে তাদের লক্ষ্যস্থল স্পষ্টভাবে বাতলে দিয়ে গেছেন। মহান আল্লাহ সম্মানিত এ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্যে সম্মানিত সাহাবায়ে কেরামকে মনোনীত করেন। তাঁরা তাঁকে এবং আল্লাহ্র দ্বীনকে সার্বিক সাহায্য-সহযোগিতা করেন। তাঁরা ছিলেন ভূ-পৃষ্ঠের শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তির শ্রেষ্ঠতম সহচর। তাঁরা ছিলেন তাঁর সৎসঙ্গী, মহৎ সহকর্মী এবং শক্তিশালী সাহায্যকারী। আল্লাহ্র দ্বীনের প্রচার ও প্রসারে তাঁরা সর্বাত্মক সাহায্য-সহযোগিতা করেন। তাঁরা কতই না নিবেদিতপ্রাণ এবং মহৎ ছিলেন! কতই না সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী ছিলেন তাঁরা! আল্লাহ্র দ্বীনের সহযোগিতার জন্যে তাঁরা কি অসাধারণ প্রচেষ্টাই না করেছেন! মহান আল্লাহ বিশেষ তাৎপর্যকে সামনে রেখেই তাঁর প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্যে উত্তম ও ন্যায়পরায়ণ এ সকল সাহাবীকে মনোনীত করেন। স্বয়ং আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাক্ষ্যানুযায়ী নবী ও রাসূলগণ (আলাইহিমুস্ সালাম)-এর পরে তাঁরাই ছিলেন সর্বোত্তম মানুষ। মহান আল্লাহ বলেন, 'তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্যেই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে' (আল-ইমরান ১১০)। অগ্রবর্তিতার ভিত্তিতে এবং শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবীগণই সর্বপ্রথম মহান আল্লাহ্র এ দ্ব্যর্থহীন ঘোষণার আওতাভুক্ত হবেন। সহীহ বুখারী ও মুসলিমে এসেছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'আমার যুগের মানুষই সর্বোত্তম মানুষ। অতঃপর তার পরের যুগের মানুষ, অতঃপর তার পরের যুগের মানুষ'। বুঝা গেলো, সাহাবীগণের শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দিলেন স্বয়ং আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সত্যিই তাঁরা ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ, ন্যায়পরায়ণ, বিশ্বস্ত এবং সুদৃঢ় দিক-নির্দেশক। অতএব, আমাদের ভালোভাবে জানা উচিৎ যে, সাহাবীগণ ও তাঁদের প্রতি আমাদের কর্তব্য শীর্ষক আলোচনা দ্বীন, ইসলামী আক্বীদা এবং ঈমানেরই একটি অংশ। কেননা অতীত ও বর্তমানে সালাফে ছালেহীন কর্তৃক প্রণীত আক্বীদা বিষয়ক এমন কোনো বই আপনি পাবেন না, যাতে সাহাবীগণের প্রতি মুসলিম আক্বীদার বিষদ বিবরণ নেই।



 



সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর ন্যায়পরায়ণতা :



 



সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর প্রত্যেকেই ন্যায়পরায়ণ। স্বয়ং আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদেরকে ন্যায়পরায়ণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। সেজন্যে দেখা গেছে, মুহাদ্দিছগণ হাদীস বর্ণনাকারীগণের ন্যায়পরায়ণতার বিষয়টি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন। সনদের কোন্ বর্ণনাকারী বিশ্বস্ত আর কে যঈফ, তা তাঁরা চুলচেরা বিশ্লেষণ করতেন। কিন্তু সনদের ধারাবাহিকতা যখন সাহাবী পর্যন্ত পেঁৗছতো, তখন তাঁরা আর কোনো বিশ্লেষণই করতেন না। কেননা তাঁরা নিশ্চিত জানতেন যে, সকল সাহাবী ন্যায়পরায়ণ এবং বিশ্বস্ত। সে কারণে আপনি যখন 'রিজাল শাস্ত্র'-এর গ্রন্থসমূহ পড়বেন, তখন সেখানে দেখবেন, গ্রন্থকারগণ তাবেঈন থেকে শুরু করে সকলের অবস্থা বিশ্লেষণ করেছেন। তাঁরা বলেছেন, অমুক বিশ্বস্ত, অমুক হাফেয, অমুক যঈফ, অমুক এমন। কিন্তু সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কি ন্যায়পরায়ণ নাকি ন্যায়পরায়ণ নন, তাঁরা কি বিশ্বস্ত, নাকি বিশ্বস্ত নন ইত্যাদি বিষয়ে তাঁরা কোনো আলোচনাই আনেননি। এর মূল কারণ হলো, সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সবাই ন্যায়পরায়ণ। মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পবিত্র কুরআনের বহু আয়াতে এবং অসংখ্য হাদীছে তাঁদেরকে ন্যায়পরায়ণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।



 



সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এ দ্বীনের ধারক-বাহক :



 



সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছ থেকে এ দ্বীন শ্রবণ করেছেন এবং যেভাবে শুনেছেন, ঠিক সেভাবেই সংরক্ষণকরত আমানতদারিতা ও বিশ্বস্ততার সাথে উম্মতের নিকট তা পেঁৗছে দিয়েছেন। সাহাবায়ে কেরাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকৃত নিম্নোক্ত দো'আটির পূর্ণ হিস্সা লাভে ধন্য হয়েছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহ ওই ব্যক্তির মুখোজ্জ্বল করুন, যে আমাদের কাছ থেকে 'আল্লাহ ওই ব্যক্তির মুখোজ্জ্বল করুন, যে আমাদের কাছ থেকে হাদীস শুনলো এবং তা সংরক্ষণকরত মানুষের নিকট পেঁৗছে দিলো' সাহাবায়ে কেরাম যেমন এই দো'আর পূর্ণ হিস্সা লাভে ধন্য হয়েছেন, উম্মতে মুহাম্মাদীর আর কেউ তেমনটি অর্জন করতে পেরেছেন বলে কি আপনাদের জানা আছে? আমি আবারো বলছি, তাঁরা দ্বীন ইসলামের বাণী ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীসসমূহ শ্রবণ করেছেন এবং পরিচ্ছন্ন ও পরিপূর্ণভাবে আমানতদারিতা, বিশ্বস্ততা ও যত্নসহকারে তা উম্মতের নিকট পেঁৗছে দিয়েছেন। তাঁরা তাঁর সাথে সর্বদা থাকতেন, তাঁর বৈঠকসমূহে নিয়মিত উপস্থিত হয়ে হাদীস শ্রবণের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়তেন। এভাবে তাঁরা হাদীস সংরক্ষণকরত মুসলিম উম্মাহ্র নিকট তা পেঁৗছে দিতেন।



 



সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সম্পর্কে আলোচনাই হলো দ্বীন সম্পর্কে আলোচনা



 



দ্বীন ইসলামের ধারক-বাহক এমন সুমহান মর্যাদার অধিকারী সাহাবীগণ সম্পর্কে আলোচনা কি দ্বীন সম্পর্কে আলোচনার একটি অংশ হিসেবে পরিগণিত হতে পারে না? যেহেতু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত প্রত্যেকটি হাদীছের সূত্রেই কোনো না কোনো সাহাবী রয়েছেন, সেহেতু তাঁদের সম্পর্কে আলোচনা দ্বীন সম্পর্কে আলোচনারই একটি অংশ।



 



সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কে নিন্দা করাই দ্বীনকে নিন্দা করা :



 



পক্ষান্তরে সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কে নিন্দা করাই হলো দ্বীনকে নিন্দা করা। কারণ, আলেমগণ বলছেন, 'কোনো কিছুর বর্ণনাকারীকে নিন্দা করার অর্থই হচ্ছে বর্ণিত বিষয়কে নিন্দা করা'। অতএব, যাঁরা আমাদের নিকট দ্বীন পেঁৗছে দিয়েছেন, তাঁরা যদি হন নিন্দিত, ন্যায়পরায়ণতার ক্ষেত্রে সমালোচিত, বিশ্বস্ততা ও আমানতদারিতার ক্ষেত্রে কলংকিত, তাহলে সেই দ্বীনের অবস্থা কি হতে পারে? নিশ্চয়ই সেই দ্বীনও হবে নিন্দিত এবং প্রশ্নবিদ্ধ। সেজন্যে ইমাম আবু যুর'আহ আর-রাযী (রহঃ) বলেন, 'তোমরা কাউকে সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মর্যাদার হানি করতে দেখলে জানবে যে, সে 'যিনদ্বীক'। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিকট হক্ব, কুরআন আমাদের নিকট হক্ব। আর এই কুরআন এবং হাদীস আমাদের নিকট পেঁৗছে দিয়েছেন সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)। মূলত শত্রুরা কুরআন ও হাদীসকে বাতিল করার হীনউদ্দেশ্যেই আমাদের প্রত্যক্ষদর্শী সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)কে আঘাত করতে চায়। কিন্তু মনে রাখতে হবে, বস্তত তারাই নিন্দার উপযুক্ত এবং তারাই হচ্ছে যিনদীক্ব'।



সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) যদি বিশ্বস্ত ও ন্যায়পরায়ণ না হন, তাহলে যে দ্বীনের মাধ্যমে আমরা আল্লাহর ইবাদত করি, সে দ্বীনের অস্তিত্ব কোথায় যাবে?



একদল লোক পথভ্রষ্টতার অতল গভীরে নিমজ্জিত হয়ে হাতেগোনা কয়েকজন সাহাবী ব্যতীত সকল সাহাবীকে নিন্দা করে থাকে। তাদেরকে জিজ্ঞেস করি, অবস্থা যদি তা-ই হয়, তাহলে দ্বীন কোথায়? আল্লাহর দ্বীনকে কীভাবে জানতে হবে? কীভাবে আল্লাহ্র ইবাদত করা সম্ভব হবে? কীভাবে আল্লাহ্র তরে নামায আদায় করতে হবে এবং সেজদা করতে হবে? কীভাবে আল্লাহ্র ফরজসমূহ আদায় করতে হবে? কীভাবে হজ্জ্ব করতে হবে? কীভাবেই বা আল্লাহ্র আনুগত্য করতে হবে?



সেজন্যে আমাদের খুব ভালোভাবে জানতে হবে, দ্বীনের ধারক-বাহক সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কে নিন্দা করার অর্থই হলো সরাসরি দ্বীনকে নিন্দা করা। আমাদের আরো জানতে হবে, সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যমূলত দ্বীনের প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যেরই একটি অংশ। কেননা তাঁরাই এ দ্বীনের প্রচার ও প্রসার ঘটিয়েছেন। সুতরাং তাঁদেরকে নিন্দা করা হলে দ্বীনও নিন্দিত হবে।



 



সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর প্রতি একজন মুসলিমের কর্তব্য



 



এই যাঁদের অবদান, তাঁদের প্রতি তাঁদের উত্তরসূরীদের কি কর্তব্য হতে পারে? আমাদেরকে এর জবাব অবশ্যই মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। মুহাজির এবং আনছার সাহাবীগণের ক্ষেত্রে একজন মুমিনের ভূমিকা কি হবে, তা আল্লাহ স্পষ্টই বলে দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'আর এই সম্পদ তাদের জন্যে, যারা তাদের পরে আগমন করেছে। তারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদেরকে এবং ঈমানে আমাদের অগ্রবর্তী ভ্রাতাগণকে ক্ষমা করুন। ঈমানদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ আপনি রাখবেন না। হে আমাদের পালনকর্তা! নিশ্চয়ই আপনি অতিশয় দয়ালু, পরম করুণাময়' (আল-হাশর ১০)। এখানে 'তাদের পরে যারা এসেছে' বলতে আনছার ও মুহাজিরগণের পরে যারা এসেছে, তাদেরকে বুঝানো হয়েছে।



সাহাবীগণের ক্ষেত্রে প্রত্যেকটি মুমিনের যে ভূমিকা হওয়া উচিৎ, তা উক্ত আয়াতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। এই দায়িত্ব ও কর্তব্য নিম্নোক্ত দুটি পয়েন্টে সংক্ষিপ্তাকারে উল্লেখ করা যেতে পারে। প্রিয় পাঠক! পয়েন্ট দুটির প্রতি ভালোভাবে খেয়াল করবেন, আল্লাহ আপনাকে এতদুভয়ের বিনিময়ে উপকৃত করবেন।



প্রথমত, সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সম্পর্কে আমাদের অন্তঃকরণকে নিষ্কলুষ রাখতে হবে। তাঁদের প্রতি হৃদয়ে কোনো হিংসা-বিদ্বেষ বা ঘৃণা থাকবে না; থাকবে না কোনো প্রকার শত্রুতা। বরং হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থান পাবে শুধু ভালোবাসা, অনুগ্রহ আর সহানুভূতি। ইরশাদ হচ্ছে, 'আপনি ঈমানদারগণের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না'। অর্থাৎ আমাদের পূর্বে যাঁরা ঈমানের সাথে গত হয়ে গেছেন, আপনি তাঁদের ব্যাপারে আমাদের হৃদয়সমূহকে নিষ্কলুষ করে দিন। তাঁরা আমাদের ভাই শুধু নয়; বরং তাঁরা আমাদের সর্বোত্তম ভাই। সেজন্যে মহান আল্লাহ বলেন, 'আর এই সম্পদ তাদের জন্যে, যারা তাদের পরে আগমন করেছে। তারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদেরকে এবং ঈমানে আমাদের অগ্রবর্তী ভ্রাতাগণকে ক্ষমা করুন'। অতএব, তাঁরা আমাদের ভাই। তাঁদের আরেকটি মহৎ বৈশিষ্ট্য হলো, 'তাঁরা ঈমানে আমাদের অগ্রবর্তী'। অন্যত্র আল্লাহ বলেন, 'মুহাজির ও আনছারগণের মধ্যে অগ্রবর্তী সাহাবীগণ' (আত-তাওবাহ ১০০)। এ বিশেষ মর্যাদায় আল্লাহ তাঁদেরকে মর্যাদাবান করেছেন।



আমরা হিজরী সাল অনুযায়ী বর্তমান চতুর্দশ শতাব্দীতে অবস্থান করছি। তাঁদের মাঝে এবং আমাদের মাঝে অনেকগুলো শতাব্দী গত হয়ে গেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুঅতপ্রাপ্তির পর থেকেই তাঁরা তাঁর সাথে ছিলেন। সর্বদা তাঁরা তাঁকে সঙ্গ দিতেন এবং তাঁকে সার্বিক সাহায্য-সহযোগিতা করতেন। তাহলে, মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষেত্রে তাঁদের সাথে আমাদের কি কোনো তুলনা চলে! তাঁরা ঈমান আনয়ন, দ্বীনের সহযোগিতা ইত্যাদি ক্ষেত্রে আমাদেরকে বহুগুণে ছাড়িয়ে গেছেন। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহচর্য লাভের সুযোগ দিয়ে আল্লাহ্ তাঁদেরকে যে সম্মানিত করেছেন, সেক্ষেত্রেও তাঁরা আমাদেরকে ছাড়িয়ে গেছেন।



অতএব, আপনি তাঁদের জন্যে দোআ করার সময় তাঁদের অগ্রবর্তিতার কথা স্মরণ করবেন। আয়াতে এ বিষয়টির প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এরশাদ হচ্ছে, 'তারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদেরকে এবং ঈমানে আমাদের অগ্রবর্তী ভ্রাতাগণকে ক্ষমা করুন'। এই অগ্রবর্তিতার কারণে আপনার প্রতি তাঁদের অধিকার রয়েছে। তাঁদের সম্মান ও মর্যাদা উপলব্ধির উদ্দেশ্যে আপনি তাঁদের অগ্রবর্তিতার কথা স্মরণ করুন। কারণ এ অগ্রবর্তিতার কারণে আল্লাহ তাঁদের প্রশংসা করেছেন। এরশাদ হচ্ছে, 'যাঁরা ঈমানে আমাদের অগ্রবর্তী হয়েছেন'। যা হোক, সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সম্পর্কে হৃদয়কে নিষ্কলুষ রাখার অপরিহার্যতা হলো প্রথম পয়েন্ট। আল্লাহ বলেন, 'আপনি ঈমানদারগণের প্রতি আমাদের হৃদয়ে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না'।



দ্বিতীয়ত, তাঁদের ক্ষেত্রে জিহ্বাকে মুক্ত রাখতে হবে। গালি-গালাজ, অশ্লীল কথা-বার্তা, অভিশাপ, নিন্দা ইত্যাদি চিরতরে বন্ধ করতে হবে। পক্ষান্তরে তাঁদের জন্যে শুধু প্রাণখোলা দোআ করতে হবে। এরশাদ হচ্ছে, 'তাঁরা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদেরকে এবং ঈমানে আমাদের অগ্রবর্তী ভ্রাতাগণকে ক্ষমা করুন'। মুমিনগণ কি তাঁদেরকে গালি দিবে?! তাঁদেরকে ভর্ৎসনা করবে?! তাঁরা কি তাঁদেরকে নিন্দা করবে?! তাঁদের মান-সম্মানে আঘাত করবে? কখনই না, আদৌ এমনটি কোন মুমিনের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না; বরং পবিত্র কুরআনের বক্তব্য অনুযায়ী তাদের বৈশিষ্ট্য হবে নিম্নরূপ : 'আর এই সম্পদ তাদের জন্যে, যারা তাদের পরে আগমন করেছে। তারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদেরকে এবং ঈমানে আমাদের অগ্রবর্তী ভ্রাতাগণকে ক্ষমা করুন। ঈমানদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ আপনি রাখবেন না। হে আমাদের পালনকর্তা! নিশ্চয়ই আপনি অতিশয় দয়ালু, পরম করুণাময়' (আল-হাশর ১০)।



সেজন্যে সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সম্পর্কে ঈমানদারগণের ভূমিকা আমি আবারও পাঠককে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই : ১. হৃদয়কে কলুষমুক্ত করতে হবে। ২. জিহ্বাকে গালি-গালাজ, নিন্দা ইত্যাদি থেকে মুক্ত করতে হবে। সত্যিই সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর ক্ষেত্রে প্রয়োজন পরিচ্ছন্ন হৃদয় এবং মার্জিত যবান। আমিন। ছুম্মা আমিন।



 



লেখক : মাওঃ মোঃ মোশাররফ হোসাইন, খতিব, কালেক্টরেট জামে মসজিদ ও আরবি প্রভাষক, মান্দারী আলিম মাদ্রাসা, চাঁদপুর।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৮২৪৪৫৭
পুরোন সংখ্যা