ঢাকা। শুক্রবার ১১ জানুয়ারি ২০১৯। ২৮ পৌষ ১৪২৫। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৭ আয়াত, ৪ রুকু, ‘মক্কী

২৭। আকাশম-লী ও পৃথিবীর আধিপত্য আল্লাহরই, যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হইবে সেদিন মিথ্যাশ্রয়ীরা হইবে ক্ষতিগ্রস্ত,

 


assets/data_files/web

খ্যাতিমান লোকের ভালোবাসা অনেক ক্ষেত্রে গোপন থাকে। -বেন জনসন।


 


 


যার দ্বারা মানবতা উপকৃত হয়, মানুষের মধ্যে তিনি উত্তম পুরুষ।


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
শীতকাল পুণ্য অর্জনের ভরা মৌসুম
রাশেদুর রহমান
১১ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


শীত অধিকাংশ মানুষের প্রিয় ঋতু। আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের কাছে এ মৌসুম আরও প্রিয়। কেননা অন্যান্য মৌসুমের চেয়ে এ মৌসুমে ইবাদত বেশি করা যায় এবং সহজভাবে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়। বস্তুত শীতকাল মোমিনদের জন্যে ইবাদতের বসন্তকাল। শীত এলে হজরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) একে স্বাগত জানাতেন। বলতেন, 'শীতের সময় বিশেষ বরকত নাজিল হয়। শীতের রাতগুলো বড়, দিনগুলো ছোট। কেনো জানো? যেনো রাতে আমরা তাহাজ্জুদ পড়তে পারি আর দিনের বেলা যেনো রোজা রাখতে পারি।' নবীজি সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শীতকালের রোজাকে 'শীতল গনিমত' বলে আখ্যায়িত করেছেন। কেননা এ সময় অল্প শ্রমে অধিক ইবাদত করা যায় এবং সওয়াবও বেশি পাওয়া যায়। ইবাদতের এ বসন্তকালটিকে অধিক পরিমাণে কাজে লাগানোর জন্যে আমরা কয়েকটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখতে পারি।



অজু : শীতকালে অজু করার সময় সচেতনতা ও সতর্কতা কাম্য। বিশেষত কনুই, গোড়ালি খেয়াল করে ধোয়া উচিত। অজু ধরে রাখার জন্যে চাপাচাপি না করা চাই। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, 'আফসোস ওই গোড়ালিগুলোর জন্যে, যেগুলোর ঠিকানা হবে জাহান্নাম (ভালোভাবে না ধোয়ার কারণে)।' (মুসলিম : ৪৫৯)।



ভীতি প্রদর্শনের পাশাপাশি প্রিয় নবীজি আশা জাগানিয়া কথাও বলেছেন। হজরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'আমি কি তোমাদেরকে এমন (কাজের) কথা বলব না, যা দ্বারা আল্লাহ তায়ালা পাপরাশি দূর করে দেবেন এবং মর্যাদা উঁচু করে দেবেন? সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, হ্যাঁ, অবশ্যই ইয়া রাসুলাল্লাহ! নবীজি বললেন, তা হলো, অসুবিধা ও কষ্ট সত্ত্বেও পরিপূর্ণভাবে অজু করা, মসজিদে আসার জন্যে বেশিপথ হাঁটা এবং এক নামাজের পর অন্য নামাজের জন্যে অপেক্ষা করা। জেনে রাখ, এটাই হলো রিবাত (ইসলামি রাষ্ট্রের সীমান্ত পাহারা তথা নিজেকে দ্বীনি কাজে আটকে রাখা ও শয়তানের মোকাবেলায় প্রস্তুত রাখা)।' (মুসলিম : ৪৮০)।



বস্তুত শীতের এই মৌসুমে কষ্ট করে অজু করার সময় একটু যদি খেয়াল করে কনুই, গোড়ালিসহ সব জায়গায় পানি পেঁৗছাতে পারি, তাহলে আমি পেয়ে যেতে পারি উপরোক্ত হাদিসের ফজিলত। ইনশাআল্লাহ।



চামড়ার মোজায় মাসেহ : শীত মৌসুমে সাধারণত শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে অনেকেই পায়ে চামড়ার মোজা পরি। এতে অজুর সময় মোজা খোলা কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। ফলে অনেকেই অজুর সময় পা ধোয়ার পরিবর্তে মোজা না খুলে মোজার ওপর মাসেহ করে থাকেন। এটি শরিয়তসম্মত একটি বিধান। বস্তুত মোজার ওপর মাসেহর বিধান মহান আল্লাহর একটি বড় অনুগ্রহ। আবু বকর, ওমর ও আলী (রাঃ)সহ বহু সাহাবি বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, 'মুকিম ব্যক্তি একদিন এক রাত এবং মুসাফির তিন দিন তিন রাত বিশেষ ধরনের চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ করবে।' (বোখারি : ১/৫৮)।



নফল রোজা : নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'শীত মৌসুমে রোজা হলো শীতল গনিমত।' (মুসনাদে আহমদ)। শীতকালে দিন থাকে খুবই ছোট এবং ঠা-া। ফলে দীর্ঘ সময় না খেয়ে যেমন থাকতে হয় না, তেমনি তৃষ্ণার্ত হওয়ারও ভয় থাকে না। সুতরাং কারও যদি রমজানের কাজা রোজা বাকি থাকে, তবে এটাই হলো সেগুলো আদায় করে নেয়ার মোক্ষম সুযোগ। তাছাড়া বেশি বেশি নফল রোজা রাখারও এটি সুবর্ণ সময়। রাসুল (সাঃ) বলেন, 'আল্লাহর ওয়াস্তে যে ব্যক্তি একদিন রোজা রাখল, আল্লাহ তায়ালা প্রতিদানস্বরূপ জাহান্নাম এবং ওই ব্যক্তির মাঝখানে ৭০ বছরের দূরত্ব সৃষ্টি করে দেবেন।' (বোখারি : ২৮৪০; মুসলিম : ১১৫৩)।



তাহাজ্জুদের নামাজ : যেহেতু রাত অনেক বড় তাই আট রাকাত কিংবা সময় না থাকলে অন্তত দুই রাকাত হলেও তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়ের চেষ্টা করা উচিত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'আর রাতের কিছু অংশে তুমি তাহাজ্জুদ পড়। আশা করা যায়, তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রশংসিত স্থানে উন্নীত করবেন।' (সূরা বনি ইসরাইল)। তাছাড়া খাঁটি মোমিনদের প্রশংসা করে আল্লাহ বলেন, 'তাদের পার্শ্ব শয্যা থেকে আলাদা থাকে। তারা তাদের পালনকর্তাকে ডাকে ভয়ে ও আশায় এবং আমি তাদের যে রিজিক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে।' (সূরা সাজদা : ১৬)। অন্যত্র আল্লাহ বলেন, 'তারা রাত্রির সামান্য অংশেই নিদ্রা যেতো।' (সূরা জারিয়াত : ১৭)।



তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত শেষরাতে ফজর হওয়ার আগ পর্যন্ত। ফজর ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর সূর্যোদয়ের পর পর্যন্ত ফজরের দুই রাকাত সুন্নত ব্যতীত তাহাজ্জুদ বা অন্য কোনো সুন্নত বা নফল নামাজ জায়েজ নেই। শীতের কারণে নামাজের সময় মুখে এমনভাবে চাদর জড়ানো যাবে না, যাতে পুরো মুখ ডেকে যায়।



শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানো : মহান আল্লাহ বলেন, 'আত্মীয়স্বজনকে তার হক দান কর এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও। এবং কিছুতেই অপব্যয় করো না।' (সূরা বনি ইসরাইল : ২৬)। রাসুল (সাঃ) বলেন, 'যে মোমিন অপর বিবস্ত্র মোমিনকে কাপড় পরিয়ে দিল, আল্লাহ তায়ালা ওই ব্যক্তিকে জান্নাতের সবুজ কাপড় পরিয়ে দেবেন।' (তিরমিজি : ২৪৪৯; আহমাদ : ১১১১৬)। কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে, 'আল্লাহ তাকে জান্নাতি পোশাক পরিয়ে দেবেন।' (আত তারগিব ওয়াত তারহিব : ২/৯২)।



কৃতজ্ঞতা নিবেদন : শীত মৌসুমে আমরা আল্লাহ তায়ালার অসংখ্য নেয়ামত ভোগ করে থাকি। পিঠা, পায়েস, খেজুরের রস, গুড় এবং বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, তরিতরকারি ও শীত নিবারণের বস্ত্রাদি_সবই মহান আল্লাহর দান। আল্লাহ সুবহানাহু তা'য়ালা যাদের এসব নেয়ামত দান করেছেন তাদের উচিত মেহেরবান রবের শোকরিয়া আদায় করা। আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, 'যদি তোমরা শোকরিয়া আদায় করো তাহলে তোমাদের প্রতি আমি আমার নিয়ামত আরও বাড়িয়ে দেবো।' (সূরা ইব্রাহিম)। 'আর আল্লাহ তোমাদের জন্যে সৃজিত বস্তু দ্বারা ছায়া করে দিয়েছেন এবং পাহাড়গুলোতে তোমাদের জন্যে আত্মগোপনের জায়গা করেছেন এবং তোমাদের জন্যে পোশাক তৈরি করে দিয়েছেন, যা তোমাদের গ্রীষ্ম এবং বিপদের সময় রক্ষা করে। এমনিভাবে তিনি তোমাদের প্রতি স্বীয় অনুগ্রহের পূর্ণতা দান করেন, যাতে তোমরা আত্মসমর্পণ কর।' (সূরা নাহল : ৮১)। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সময় কাজে লাগানোর এবং শীত মৌসুম থেকে বেশি বেশি উপকৃত হওয়ার তৌফিক দান করুন।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩২৮৭৮১
পুরোন সংখ্যা