চাঁদপুর, শুক্রবার ১০ মে ২০১৯, ২৭ বৈশাখ ১৪২৬, ৪ রমজান ১৪৪০
jibon dip
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫০-সূরা কাফ্


৪৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৭। আমি বিস্তৃত করিয়াছি ভূমিকে ও তাহাতে স্থাপন করিয়াছি পর্বতমালা এবং উহাতে উদ্গত করিয়াছি নয়ন প্রীতিকর সর্বপ্রকার উদ্ভিদ,


৮। আল্লাহর অনুরাগী প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য জ্ঞান ও উপদেশ স্বরূপ।


 


 


 


assets/data_files/web

মনের যাতনা দেহের যাতনার চেয়ে বেশি। -উইলিয়াম হ্যাজলিট।


 


ঝগড়াটে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট অধিক ক্রোধের পাত্র।


 


 


ফটো গ্যালারি
তারাবীহ নামাজের রাকাআত সংখ্যা; খোলাফায়ে রাশেদীনের আমল ও উম্মতের ইজমা
ড. মাওঃ একেএম মাহবুবুর রহমান
১০ মে, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাতের পয়গাম নিয়ে আগমন করেছে পবিত্র মাহে রমজান। এ রমজানের সিয়াম সাধনার মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে মহান আল্লাহতা'য়ালা এরশাদ করেন, 'ওহে যারা ঈমান এনেছো! তোমাদের উপর অলংঘনীয় (রেজিস্ট্রার্ড) বিধান হিসেবে সিয়াম সাধনার বিধান দেয়া হয়েছে যেভাবে অলঙ্ঘনীয় বিধান হিসেবে পূর্ববর্তীদের উপরও দেয়া হয়েছিলো। যাতে তোমরা তাকওয়া তথা (শারীরিক, আত্মিক, মানসিক, আর্থিক, চারিত্রিক) সংযমী, খোদাভীতি অর্জন করতে পারো। (সূরা বাকার-১৮৩)।



এ তাকওয়া অর্জনের অন্যতম মাধ্যম কোরআন মাজীদ তেলাওয়াত করা, শোনা, হৃদয়ঙ্গম করা, কোরআনকে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়নের জন্যে নিজেকে প্রস্তুত করা। এ কোরআন তেলাওয়াত ও শোনার অন্যতম মাধ্যম হলো সালাতুত তারাবীহ। লৌহে মাহফুজে সংরক্ষিত এ কোরআন যখন হাফেজ ছাহেব প্রাণ উজাড় করে সুললিত কণ্ঠে তিলাওয়াত করেন, রোজাদার পূত পবিত্র অন্তর নিয়ে ধারাবাহিকভাবে শোনে, তখন আল্লাহর ভাষায়, 'যখন তাদেরকে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে শোনানো হয় তাদের ঈমান বাড়তেই থাকে। (সূরা আনফাল : ২)।



আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে ইমাম ও মুক্তাদী যেনো আল্লাহর সাথে কথা বলে। যদিও দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু আলেম ও হাফেজ তাড়াহুড়া করে এমনভাবে তেলাওয়াত করেন মুসলি্লগণ বুঝাতো দূরের কথা, অন্য আলেমও বুঝতে পারে না। রুকু সিজদায়, দু-সেজদার মধ্যে ধীরগতিতে বসা যে ওয়াজিব তারা তা না মেনে তারাবীহ নামাজ পড়ে নিজের আমল যে বরবাদ করে দিচ্ছে তার খবরও রাখে না। এ যেনো আল্লাহতা'য়ালার সাথে এক ধরনের ঠাট্টা, মশকারী। সারাদিন রোজা রেখে ইফতারে আল্লাহর মেহমান হিসেবে মনের আনন্দে শোকরিয়া জানিয়ে আল্লাহর সাথে কথা বলতে এলে কে আমাদের তাড়া করে যে আমরা কোরআন নিয়ে উপহাস করছি? এটা কোরআন, নামাজ সর্বোপরি আল্লাহর সাথে বেয়াদবীর শামিল। রোজাদার মুসলি্ল ভাইদের বিষয়টি একটু ভাবতে হবে যে আল্লাহতা'য়ালা নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন, আমি এ কুরআনকে তারতিল সহকারে তিলাওয়াতের নির্দেশ দিয়েছি। (সূরা ফুরকান-৩২)। তারতীল অর্থ সহী শুদ্ধ করে থেমে থেমে সুস্পষ্ট করে বুঝার মতো করে তিলাওয়াত করা। মাহে রমজানে পবিত্র কেরাআনের সাথে বান্দার নিবিড় সম্পর্ক সৃষ্টির সুবর্ণ সুযোগ। যার সামান্যতম ঈমান আছে, সে এ সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না। সাহাবায়ে কেরাম বেশিরভাগ সময় এশার নামাজ শুরু করে তারাবীহ শেষ করতেন সাহরীর সময় পর্যন্ত। কোনো কোনো সময় একটু কম-বেশি হতো, তাঁরা ৪ রাকাআত পড়ে দীর্ঘসময় বিশ্রাম নিতেন। আবার প্রাণভরে কোরআন তিলাওয়াত শুনতেন, আবার দীর্ঘ সময় বিশ্রাম নিতেন। এজন্যে এ সালাতের নামই হয়েছে বিশ্রামের নামাজ। আমরা যদিও এতো সময় দিতে অভ্যস্ত নই, অন্তত কোরআনের হক আদায় করার জন্যে তাজবীদ মোতাবেক সহীহ শুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করা ও শোনা অত্যাবশ্যকীয়।



তারাবীহ সালাতের পূর্বে ২ মিনিট কোরআন মাজীদের ১টি করে শব্দের উচ্চারণ ও তরজমা শেখানোর ব্যবস্থা করা গেলে সাধারণ মানুষ ৩০ দিনে ৩০টি শব্দ শিখে ফেলতো। এছাড়া তারাবীহ শুরুর পূর্বে ইমাম সাহেব যদি ১০ মিনিট পঠিতব্য আয়াতসমূহের মূল বক্তব্য তুলে ধরতেন তাহলে মুসলি্লগণ কোরআনের জ্ঞানে সমৃদ্ধ হতো।



 



তারাবীহ অর্থ কী?



শাব্দিক পরিচয় : তারাবীহ অর্থ আরাম, অবসর, বিশ্রাম, বিরতি।



শরীয়তের পরিভাষায় : রমজানুল মোবারক রাতে এশার নামাজের পর যে নামাজ পড়া হয় তাকে তারাবীহর নামাজ বলা হয়।



ইমাম ইবনু নুজাইম আল হানাফী (জন্ম-৯২৬ হিজরী, মৃত্যু-৯৭০) তাঁর বিখ্যাত আল বাহরুর রায়েক শরহু কানযুদ দাকায়েক গ্রন্থে লিখেন, 'তারাবীহ' শব্দটি 'তারবিহাতুন' শব্দের বহুবচন। মূলত শব্দটি মাসদার। যার অর্থ বিশ্রাম নেয়া। প্রতি চার রাকাত নামাজের পর সমপরিমাণ সময় আরাম বা বিশ্রাম নেয়া হয় বলে একে সালাতুত তারাবীহ বলা হয়। এ সময় কিছু সময় বিশ্রাম নেয়া বা বিরতি দিয়ে পড়া সুন্নত। (খ- ২, পৃঃ ৭১)।



 



তারাবীহ সালাত পড়া কি?



তারাবীহর সালাত আদায় করা সুন্নাতে মোয়াক্কাদাহ। কেননা খোলাফায়ে রাশেদীন এ সালাত গুরুত্বের সাথে আদায় করেছেন। এ সালাত পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যে সুন্নাতে মোয়াক্কাদা। এ বিষয় সম্পর্কে সাহাবা ও উম্মতের ইজমা প্রতিষ্ঠিত। যে ইজমার বিরোধীতা করা সম্পূর্ণ অবৈধ। জামাতে আদায় করা সুন্নাতে কেফায়া অর্থাৎ মহল্লায় জামাতের সাথে আদায় করা হলে যে ব্যক্তি কোনো কারণে জামাতে শামিল হতে পারেননি তাদের সুন্নাতও আদায় হয়ে যাবে। আর যদি কোনো জামাত না হয় তাহলে ওই মহল্লার সবাই গুনাহগার হবে। (আদ দুররুল মোখতার)।



ফাতওয়ায়ে শামীতে এর ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনে আবেদীন রাহমাতুল্লাহি আলাইহে লিখেন, তারাবীহ যে সুন্নাতে মোয়াক্কাদাহ তা ইমাম আবু হানিফা রাহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে ফাতওয়ায় বিদ্যামান রয়েছে, ফাতওয়ায়ে আল এখতিয়ার গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে, ইমাম আবু ইউসুফ রাহমতুল্লাহি আলাইহি, ইমাম আবু হানিফা রাহমাতুল্লাহি আলাইহিকে এ তারাবীহ ও হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর এ সংক্রান্ত পদক্ষেপ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন, তার জবাবে ইমাম আবু হানিফা রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, তারাবীহ সুন্নাতে মোয়াক্কাদাহ। হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজ থেকে এ পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এ কাজ কোনো বিদআত বা নবউদ্ভাবিত ছিলো না। তিনি যে হুকুম জারী করেছেন তার ভিত্তি ছিলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে এ তারাবীহ আদায় হয়েছিলো। আর হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর এ হুকুমের কোনো বিরোধীতাকারী কেউ ছিলো না। (রাদ্দুল মোহতার, ফাতওয়ায়ে শামী, খ- : ৫, পৃ : ৪৭২)।



তারাবীহ কি প্রিয় নবীজির সুন্নত?



হ্যাঁ, তারাবীহ প্রিয় নবীজির সুন্নাত। যে সকল নামধারী আলেম তারাবীহকে প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাত নয় বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন, তারা হাদিসখানা অনুধাবন করা প্রয়োজন।



হযরত আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাসে বিশ রাকাআত এবং বিতির পড়তেন।



(১) আল মুসান্নাফ ফিল আহাদীস ওয়াল আসার, ইবনু আবী শাইবা রাহমাতুল্লাহি আলাইহি, খ- ২, পৃঃ ৩৯৪।



(২) আল মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী, খ- ১১, পৃঃ ৩৯৩, হাদীস নং ১২১০২।



(৩) মাজমাউজ যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ- হায়শামী, খ- ৩, পৃঃ ৪০২।



(৪) আস সুনানুল কোবরা লিল বায়হাকী, হাদীস নং ৪৩৯১।



(৫) মুসনাদে ইবনু হোমায়েদ, খ- ১, পৃঃ ২১৮।



হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'রমজান মাসের এক রাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাহিরে তাশরীফ নিয়ে এলেন। আর সাহাবায়ে কেরামকে ২৪ রাকাআত (৪ রাকাআত এশার, আর ২০ রাকাআত তারাবীহের) নামাজ পড়ালেন। আর তিন রাকাআত বিতির পড়ালেন'।



তারীখে জুরজান, আবুল কাশেম হামযা ইবনে ইউসূফ আল যুরযানী, খ- ১, পৃঃ ৩১৬।



তারাবীহ ২০ রাকাআত এ বিষয়ে খোলাফায়ে রাশেদিন ও সাহাবায়ে কেরামের ইজমা প্রতিষ্ঠিত।



এ বিষয়ে একটি মূলনীতি স্মরণ রাখতে হবে, ইসলামী শরীয়তে চরটি মূলনীতি সর্বজন স্বীকৃত (১) কিতাবুল্লাহ (২) সুন্নাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (৩) ইজমা ও (৪) কিয়াস।



প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, তোমাদের জন্যে আমার সুন্নাত ও খোলাফায়ে রাশেদিনের সুন্নাত মেনে চলা অত্যাবশ্যকীয়। সর্বশক্তি নিয়োগ করে এ সুন্নাত পালন করবে।



(১) সুনানে ইবনু মাজা, হাদিস নং ৪২, খ- : ১, পৃ : ৪৯।



(২) জামেউল উসুল ফী আহাদিসির রাসুল, আল্লামা ইবনু আসীর, খ- : ১, পৃ : ১১৭।



(৩) তাহাবী শরীফ, ইমাম তাহাবী, খ- : ৩, পৃ : ১৮৩।



২০ রাকাআত তারাবীহের উপর সকল সাহাবা ইজমা করেছেন, কেউ কোনো আপত্তি তোলেননি। হারামাইন শরীফাইনে দীর্ঘ প্রায় ১৫ শত বছর ২০ রাকাআত তারাবীহ চলছে, দুনিয়ার সর্বত্র ২০ রাকাআত তারাবীহ চলছে। এখন যারা বিশ রাকাআত তারাবীহ মানতে চান না তারা কি আহলে হাদীস দাবি করার কোনো অধিকার রাখেন? হযরত ওমর (রাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামের আমলকে যারা মানেন না তারা কোনোদিন হাদীসের অনুসারী হতে পারেন? এ বিষয়ে মুসলিম উম্মাহকে ভাবতে হবে, এরা কারা? যে মানুষকে ১২ রাকাআত নামাযে ২৪ টি সেজদা ও ১২টি রুকু থেকে বঞ্চিত করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। এদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। তাদের এ ষড়যন্ত্রকে যে কোনো মূল্যে রুখতে হবে।



 



তারাবীহ ২০ রাকাআতের দলীল :



(১) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণনা মতে- প্রিয় নবীজি ২০ রাকাআত তারাবীহ আদায় করছেন।



হযরত আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাসে বিশ রাকাআত এবং বিতির পড়তেন।



(১) আল মুসান্নাফ ফিল আহাদীসে ওয়াল আসার, ইবনু আবী শাইবা রহমাতুল্লাহি আলাইহি, খ- ২, পৃঃ ৩৯৪।



(২) আল মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী, খ- ১১, পৃঃ ৩৯৩, হাদীস নং ১২১০২।



(৩) মাজমাউজ যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ- হায়শামী, খ- ৩, পৃঃ ৪০২।



(৪) আস সুনানুল কোবরা লিল বায়হাকী, হাদীস নং ৪৩৯১।



(৫) মুসনাদে ইবনু হোমায়েদ, খ- ১, পৃঃ ২১৮।



(২) হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর শাসনামল



হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর আদেশ



হযরত ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত, 'নিশ্চয়ই ওমর ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু এক ব্যক্তিকে বিশ রাকাআত পড়ার হুকুম দিলেন'। (আবু বকর আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ আশ শায়বা আল আব্বাসী আল কুফী, মুসান্নাফে ইবন আবী শাইবা, খ- ২, পৃঃ ১৬৩)।



হযরত সায়েব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সময়কালে বিশ রাকাআত তারাবীহ ছিল'। (আবুল ফজল আহমাদ ইবন আলী ইবন হাজার আল আসকালানী আশ-শাফেয়ী, ফাতহুল বারী শারহে সাহীহিল বুখারী, খ- ৪, পৃঃ ২৫৩)।



হযরত সায়েব ইবন ইয়াজিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সময় আমরা রমজান মাসে ২০ রাকাত তারাবীহ পড়তাম'। (আবু বকর আহমাদ ইবন হুসাইন আল বায়হাকী, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, খ- ২, পৃঃ ৪৯৬; আবু আবদুল্লাহ মালিক ইবন আনাস আল আসবাহী, মুয়াত্তা ইমাম মালিক, খ- ১, পৃঃ ৩৫৫; আবুল হাসান আলী ইবন জা'দ ইবন আল জাওহারী আল বাগদাদী, মুসনাদে ইবন জা'দ, খ- ১, পৃঃ ৪১৩; আবু জাকারিয়া মুহিউদ্দিন ইয়াহইয়া ইবন শারফুন নুরী, খুলাসাতুল আহকাম ফী মাহমাত/মুহিম্মাতুস সুনানি ও কাওয়াইদিল ইসলাম, খ- ১, পৃঃ ৫৭৬; বদরুদ্দিন আইনী আল হানাফী, উমদাতুল কারী শারহে সহীহিল বুখারী, খ- ৮, পৃঃ ৪৮৫; হযরত মোল্লা আলী কারী, মিরকাতুল মাফাতীহ শারহে মিশকাতুল মাসাবীহ, খ- ৪, পৃঃ ৪৩৫; জালালুদ্দীন আবদুর রহমান আস সুয়ূতী, আলহাবী লিল ফাতওয়া, খ- ১, পৃঃ ৩৩৬)।



হযরত সায়েব ইবন ইয়াজিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'আমরা হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর শাসনামলে বিশ রাকাআত তারাবীহ ও বিতির পড়তাম'। (আবু বকর আহমদ ইবন আল হুসাইন ইবন আলী ইবন আবদুল্লাহ আল বায়হাকী, আস সুনানে সগীর লিল বায়হাকী, হাদিস নং ৬৪৮, খ- ২, পৃঃ ২৫৮; ম'রেফাতুস সুনান ওয়াল আসার লিল বায়হাকী, হাদিস নং ১৪৪৩, খ- ৪, পৃঃ ২০৭)।



ইমাম নববী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি, সুবকী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি (শরহুল মিনহাজ), মোল্লা আলী কারী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি (শরহুল মুয়াত্তা) ও সুয়ুতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এ বর্ণনাকে সহীহ বলেছেন।



হযরত ইয়াজিদ ইবন রুমান বলেন, 'লোকেরা হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাসনামলে রমজান মাসে বিশ রাকাআত তারাবীহ এবং তিন রাকাআত বিতির আদায় করতেন'। (আবু বকর আহমদ ইবন আল হুসাইন ইবন আলী ইবন আবদুল্লাহ আল বায়হাকী, মা'রেফাতুস সুনান ওয়াল আসার, হাদিস নং ১৪৪৩, খ- ৪, পৃঃ ২০৭; মালেক বিন আনাস, আল মুয়াত্তা (১৪২৫ হি.), হাদিস নং ৩৮০, খ- ২, পৃঃ ১৫৯; আবু বকর আহমদ ইবন আল হুসাইন ইবন আলী ইবন আবদুল্লাহ আল বায়হাকী, আস সুনানে কাবীর লিল বায়হাকী, হাদিস নং ৪৮০২, খ- ২, পৃঃ ৪৯৬)।



ইমাম বায়হাকী, আল্লামা রাজী, কুসতলনী, ইবন কুদামা, ইবন হাজার মক্কী, তাহতাবী, ইবন হুমাম, বাহরুর রায়েক প্রণেতা রহমাতুল্লাহি আলাইহিম প্রমুখ এ ব্যাপারে একমত হয়ে বলেন, হযরত ওমর ফরুক রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাসনামলে বিশ রাকাআত তারাবীহের উপরই সকলের সিদ্ধান্ত স্থির হয় এবং এভাবেই চলতে থাকে। আর সুন্নত হওয়ার জন্যে সেটির নিরবচ্ছিন্ন হওয়া শর্ত। হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে, যদি আমার কোনো নবী হতো তবে ওমর হতো। তিনি আরো বলেছেন, দ্বীনের ব্যাপারে সবচেয়ে মজবুত হলেন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু। যদি বিশ রাকাত তারাবীহ নামাজ বিদআত হয়, তাহলে হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুসহ সে সময়কার সমস্ত আনসার ও মুহাজির সাহাবীগণের বিদআতি হওয়ার আবশ্যক হয়।



ইবন তাইমিয়া বলেন, উবাই ইবন কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু মুহাজির ও আনসার সাহাবীদের মাঝে তারাবীহ এর নামাজ পড়াতেন। কোনো একজনও এ ব্যাপারে আপত্তি উত্থাপন করেনি'। (মাজমুআয়ে ফাতাওয়া ইবন তাইমিয়া, খ- ৩৩, পৃঃ ১১২)। ৮ রাকাআকের মুফতি সাহেবগণ কথায় কথায় ইবনে তাইমিয়ার রেফারেন্স দেন তারা তার এ ফাতওয়া কি চোখে দেখেন না?



(৩) হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহ আনহু এর শাসনামল



হযরত সায়েব ইবন ইয়াজিদ রহমাতুল্লাহি আলাইহ বলেন, হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর শাসনামলে লোকেরা বিশ রাকায়াত তারাবীহ পড়তেন। আর হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু এর শাসনামলে লম্বা কেরাতের কারণে লাঠির উপর ভর দিতেন। (আবু বকর আহমদ ইবন আল হুসাইন ইবন আলী ইবন আবদুল্লাহ আল বায়হাকী, সুনানে বায়হাকী আল কুবরা, খ- ৪, পৃঃ ২৯৬)।



হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাসনামলের একজন ব্যক্তির নামও বলা যাবে না, যে ব্যক্তি আট রাকাআত পড়ে জামাত থেকে বেরিয়ে যেত। কিংবা কেউ বিশ রাকাআত তারাবীহকে বিদআত বলেছে এমন একজন ব্যক্তিও পাওয়া যাবে না।



(৩) হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর শাসনামল



হযরত আবু আব্দুর রহমান আস সালামী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু রমজান মাসে ক্বা'রীদের ডাকতেন। তারপর তাদের মাঝে এক একজনকে বিশ রাকাআত তারাবীহ পড়াতে হুকুম দিতেন। আর বিতিরের জামাত হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজেই পড়াতেন। ( আবু বকর আহমদ ইবন আল হুসাইন ইবন আলী ইবন আবদুল্লাহ আল বায়হাকী, সুনানে বায়হাকী আল কুবরা)।



(৪) জমহুর সাহাবা রাদিয়াল্লাহু আনহুমের মত



হযরত ইমাম আবু হানীফা ইমাম হাম্মাদ থেকে তিনি হযরত ইবরাহীম (মৃ. ৯৬ হি.) থেকে বর্ণনা করেন যে, 'নিশ্চয় লোকেরা (সাহাবী ও তাবেয়ীগণ) রমজান মাসে পাঁচ তারবীহের সাথে বিশ রাকাআত তারাবীহ পড়তেন'। (কিতাবুল আসার লিআবী ইউসুফ)।



হযরত আব্দুল আজীজ ইবন রফী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত উবায় ইবন কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু লোকদেরকে রমজান মাসে মদীনা মুনাওয়ারায় বিশ রাকাআত তারাবীহ এবং তিন রাকাআত বিতির নামাজ পড়াতেন। (আবু বকর আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন আবি শায়বা, মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা, খ- ২, পৃঃ ৩৯৩)।



(৫) তাবেয়ীগণ রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর অভিমত



হযরত সুয়াইদ ইবন গাফালা যিনি বয়সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে মাত্র তিন বছরের ছোট ছিলেন। তিনি ইমামতি করাতেন। হযরত আবুল হাজীব রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন,



হযরত সুইয়াইদ ইবন গাফালা রমজান মাসে আমাদের জামাতের সাথে পাঁচ তারাবীহ বিশ রাকাআত নামাজ পড়াতেন। (আবু বকর আহমদ ইবন আল হুসাইন ইবন আলী ইবন আবদুল্লাহ আল বায়হাকী, আস সুনানে কাবীর লিল বায়হাকী, খ- ২, পৃঃ ৪৯৬)।



হযরত সাঈদ ইবন আবু উবায়েদ থেকে বর্ণিত, হযরত আলী ইবন রাবীয়া পাঁচ তারবীহ তথা বিশ রাকাআত তারাবীহ এবং তিন রাকাআত বিতির জামাতের সাথে পড়তেন। (আবু বকর আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন আবি শায়বা, মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা, খ- ২, পৃঃ ৩৯৩)।



সকল হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যে, বিশ রাকাআতের সাথে তারাবীহ শব্দ এবং বিশ রাকাআত তারাবীহের আমল তাবেয়ীগণের মাঝে বিনা প্রতিবাদে নির্বিঘ্নে প্রচলিত ছিল। আর পুরো খাইরুল কুরুনে কোনো এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা যাবে না, যে ব্যক্তি বিশ রাকাআত তারাবীহকে অস্বীকার করেছেন বা অপছন্দ করেছেন। কিংবা বিশ রাকাআত তারাবীহকে বিদআত বলেছেন বা আট রাকাআত জামাতের সাথে পড়ে মসজিদ থেকে বেরিয়ে গেছেন। পুরো খাইরুল কুরুনের মাঝে আট রাকাআতের সাথে তারাবীহ শব্দ ব্যবহার করেছেন এরকম কোনো প্রমাণ কোথাও বিদ্যমান নেই।



মসজিদে নববীতে বিশ রাকাআত তারাবীহ



মদীনা তায়্যিবায় হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু, হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু, হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর শাসনামলে বিশ রাকাআত তারাবীহই পড়া হতো। আজো মদীনা মুনাওয়ারায় বিশ রাকাআত তারাবীহই পড়া হয়। হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাও মদীনা মুনাওয়ারায় অবস্থান করতেন। তিনিই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এ ফরমান বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার দ্বীনের মাঝে বেদআত বের করবে, তার কাজটি পরিত্যাজ্য। যদি বিশ রাকাআত তারাবীহের নামাজ বিদআত ও নাজায়েজ হতো, তাহলে হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বছরের পর বছর এর উপর চুপ করে বসে থাকতেন না।



হযরত জাবের ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুও মদীনায় অবস্থান করছিলেন। তিনি ঐ হাদীসের রাবী। যাতে বলা হয়েছে যে, প্রত্যেকটি বিদআত গোমরাহী আর প্রত্যেক গোমরাহী জাহান্নামে নিক্ষেপকারী। তারই সামনে অর্ধ শতাব্দী পর্যন্ত মসজিদে নববীতে বিশ রাকাত তারাবীহ জামাতের সাথে পড়া হচ্ছিল, অথচ তিনি এর বিরুদ্ধে কোন কথা বলেন নি। এতে বুঝা যায় সকল সাহাবা এ বিষয়ে একমত ছিলেন।



বাইতুল্লাহ শরীফে বিশ রাকাত তারাবীহ



হযরত আতা ইবন আবী রাবাহ রহমাতুল্লাহ : মক্কা মুকাররমায় হযরত আতা ইবন আবী রাবাহ রহমাতুল্লাহ (মৃ. ১১৪ হি.) বলেন, আমি লোকদের (সাহাবা ও তাবেয়ীগণ) বেতের নামাজসহ ২৩ রাকাআত পড়তে দেখেছি। (আবু বকর আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন আবি শায়বা, মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা, খ- ২, পৃঃ ৩৯৩)।



 



ইমাম শাফেয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি



ইমাম শাফেয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি (মৃ. ২০৪ হি.) বলেন, আমি স্বীয় শহর মক্কায় লোকদের বিশ রাকাআত তারাবীহ পড়া অবস্থায়ই পেয়েছি। (মুহাম্মদ ইবন ঈসা আবু ঈসা আত তিরমিযি, আল জামেউস সহীহ সুনানে তিরমিযি, খ-১, পৃঃ ১৬৬)।



চার ইমাম রাহিমাহুমুল্লাহ এর বক্তব্য



শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দেসে দেহলবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত চার মাযহাবে সীমাবদ্ধ। এ চার ইমামের মাঝে প্রথম ইমাম হলেন ইমাম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি (মৃত্যু ১৫০ হিজরী) ও বিশ রাকাআত তারাবীহের প্রবক্তা।(ফাতাওয়া কাজীখান, খ- ১, পৃঃ ১১২)।



ইমাম মালিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর একটি বক্তব্য বিশ রাকাআতের পক্ষে, দ্বিতীয় বক্তব্য ৩৬ রাকাআতের পক্ষে। (যাতে বিশ তারাবীহ আর ১৬ রাকাআত নফল)। (হেদায়াতুল মুজতাহিদ, খ- ১, পৃঃ ১৬৭)।



ইমাম শাফেয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বিশ রাকাআতের প্রবক্তা। (আলমুগনী, খ- ২, পৃঃ ১৬৭)।



ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর প্রসিদ্ধ বক্তব্যও বিশ রাকাআতের পক্ষে। (আলমুগনী, খ- ২, পৃঃ ১৬৭)।



 



৮ রাকাআত তারবীহের জবাব



৮ রাকাআত তারাবীহের পক্ষে দলিল



হযরত আবু সালমা ইবন আব্দুর রহমান থেকে বর্ণিত তিনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার কাছে জানতে চান নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নামাজ কেমন হতো রামাযান মাসে? তিনি বললেন-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয় সাল্লাম রামাযান ও রামাযান ছাড়া অন্য মাসে ১১ রাকাআত থেকে বাড়াতেন না। তিনি ৪ রাকাআত পড়তেন তুমি এর সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জানতে চেওনা। তারপর পড়তেন ৪ রাকাআত তুমি এর সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা বিষয়ে জানতে চেওনা, তারপর পড়তেন ৩ রাকাআত। হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি বিতর পড়ার পূর্বে শুয়ে যান? তিনি বললেন, হে আয়েশা! নিশ্চয় আমার দু'চোখ ঘুমায় আমার কলব ঘুমায়না। ( মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল আবু আবদুল্লাহ আল বুখারী, আল জামেউস সহিহুল মুখতাসার, খ- ১, পৃঃ ৩৮৫)।



জবাব



১। এই হাদিসে অস্পষ্টতা ও পরস্পর বিরোধিতা থাকায় এ দিয়ে দলিল দেয়া ঠিক নয়। আল্লামা কুরতুবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহর এই বর্ণনাটি অনেক আহলে ইলমদের কাছে জিজ্ঞাসা করেছি অনেকেই এতে অস্পষ্টতা ও পরস্পর বিরোধিতা আছে বলে মত প্রকাশ করেছেন।( ফাতহুল বারী শরহুল বুখারী, খ- ৩, পৃঃ ১৭)।



২। আসল কথা হল এই যে, এই হাদিসটি তাহাজ্জুদ নামাজের সাথে সংশ্লিষ্ট। এতে তারাবীহের কথা বর্ণিত নয়। নিম্নে এ ব্যাপারে কিছু প্রমাণ উপস্থাপন করা হলো।



 



হাদিসটিতে মূলত তাহাজ্জুদের বর্ণনা এসেছে এ কথার দলিল :



১। হাদিসের শব্দ (নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইজি ওয়া সাল্লাম রামাযান ও রামাযান ছাড়া অন্য সময় বাড়ান না) এটাই বুঝাচ্ছে যে, প্রশ্নটি করা হয়েছিল রামাযান ছাড়া অন্য সময়ে যে নামাজ নবীজী পড়তেন তা রামযানে বাড়িয়ে দিতেন কিনা? এই প্রশ্নটি এজন্যে করা হয়েছে যেহেতু বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রামাযানে আগের তুলনায় অনেক নামাজ পড়তেন ও ইবাদত করতেন, তাই এই প্রশ্নটি করাটা ছিল স্বাভাবিক। আর রামযান ছাড়া কি তারাবীহ আছে? যে রামাযানের আগেই তারাবীহ আর বিতর মিলিয়ে ১১ রাকাআত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পড়তেন? নাকি ওটা তাহাজ্জুদ? তাহাজ্জুদ হওয়াটাই কি সঙ্গত নয়? সুতরাং এটাই স্পষ্ট বুঝা যায় তারাবীহ নয় প্রশ্ন করা হয়েছে তাহাজ্জুদ নিয়ে, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাহাজ্জুদের নামাজ রামাযান ছাড়া যে ক'রাকাত পড়তেন তা থেকে রামাযানে বাড়িয়ে পড়তেন কিনা? এর জবাবে হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, ১১ রাকাআত থেকে বাড়াতেন না তাহাজ্জুদ নামাজ।



২। মুহাদ্দিসীনে কিরাম এই হাদিসকে তারাবীহ এর রাকাত সংখ্যার অধ্যায়ের পরিবর্তে তাহাজ্জুদের অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন। যেমন ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তার প্রণিত বুখারী শরীফে এই হাদিসটি নিম্ন বর্ণিত অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন,



(ক) বিতর অধ্যায়



(খ) নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রাতে (নামাজের উদ্দেশ্যে) দ-ায়মানতা রামযানে ও রামযান ছাড়া অধ্যায়ে।



৩। আল্লামা হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন-আর আমার কাছে এটি প্রকাশিত হয়েছে যে, ১১ রাকাআতের থেকে না বাড়ানোর রহস্য এটি যে, নিশ্চয় তাহাজ্জুদ ও বিতরের নামাজ রাতের নামাজের সাথে খাস। আর দিনের ফরয যোহর ৪ রাকাত আর আসর সেটাও ৪ রাকাআত আর মাগরীব হলো ৩ রাকাত যা দিনের বিতর। সুতরাং সমন্বয় হলো, রাতের নামাজ দিনের নামাজের মতই সংখ্যার দিক থেকে সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিতভাবে। আর ১৩ রাকাআতের ক্ষেত্রে সাযুজ্যতা হলো, ফযরের নামাজ মিলানোর মাধ্যমে কেননা এটি দিনের নামাজই তার পরবর্তী নামাজের জন্যে।(ফাতহুল বারী শরহুল বুখারী, খ- ৩, পৃঃ ১৭)।



ইবনে হাজার রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর এই রহস্য বা হিকমত বর্ণনা কি বলছে না এই হাদিস দ্বারা তাহাজ্জুদ উদ্দেশ্য তারাবীহ নামাজ নয়? এই বক্তব্যে তাহাজ্জুদের কথা স্পষ্টই উল্লেখ করলেন ইবনে হাজার রহমাতুল্লাহি আলাইহি।



 



চার মাযহাবের ফিক্বহের ইবারতের মাঝে কোনো একটি ইবারতেও শুধু আট রাকাআত তারাবীহকে সুন্নত আর বিশ রাকাআততে বিদআত বলা হয়নি।



 



সর্বশেষ বলতে চাই, যারা ৮ রাকাআত তারাবীহ বলে বাদবাকী ১২ রাকাআত নামাজ থেকে মুসলি্লদের মাহরূম করছেন তারা আহলে হাদীস নন। তারা প্রিয় নবীজির আমল, সাহাবায়ে কেরামের ইজমা, তাবেয়ীন, তাবে-তাবেয়ীন, আইম্মায়ে মুজতাহিদীন, বিগত ফকীহগণসহ কাউকে মানতে চান না। এরা এক নব মতবাদের প্রবর্তক যা প্রত্যাখ্যাত। কোনো আলেম তো দূরে থাক সাধারণ কোনো বিবেকবান মুসলামানকে পাওয়া যাবে না যারা হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ও হাজার হাজার মুহাজির আনসার সাহাবাকে বেদআতী মনে করেন। আল্লাহ আমাদেরকে চৌদ্দশত বছরের লক্ষ লক্ষ সাহাবা, ফকীহ, মুফতীগণের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ২০ রাকাআত তারাবীহ আদায় করে নিজেদের গুনাহ ক্ষমা পাওয়ার এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের তাওফিক দিন। আমীন।



 



 



লেখক : অধ্যক্ষ, ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসা, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৯৫৩৭৩
পুরোন সংখ্যা