চাঁদপুর, শুক্রবার ১০ মে ২০১৯, ২৭ বৈশাখ ১৪২৬, ৪ রমজান ১৪৪০
jibon dip
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫০-সূরা কাফ্


৪৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৭। আমি বিস্তৃত করিয়াছি ভূমিকে ও তাহাতে স্থাপন করিয়াছি পর্বতমালা এবং উহাতে উদ্গত করিয়াছি নয়ন প্রীতিকর সর্বপ্রকার উদ্ভিদ,


৮। আল্লাহর অনুরাগী প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য জ্ঞান ও উপদেশ স্বরূপ।


 


 


 


assets/data_files/web

মনের যাতনা দেহের যাতনার চেয়ে বেশি। -উইলিয়াম হ্যাজলিট।


 


ঝগড়াটে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট অধিক ক্রোধের পাত্র।


 


 


ফটো গ্যালারি
ইফতার : গুরুত্ব ও ফজিলত
এসএম আনওয়ারুল করীম
১০ মে, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহ তায়ালা দয়া ও করুণার আধার। তিনি কখনই চান না তাঁর কোনো বান্দাকে শাস্তি দিতে। বরং তিনি সবসময় চান স্বীয় বান্দাদের পাপমুক্ত করে জান্নাতলাভের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে। সেজন্যে তিনি ক্ষমালাভের অবারিত সুযোগ দিয়েছেন। বিশেষত প্রতিবছর রমজানুল মোবারকের মাধ্যমে বান্দা ক্ষমালাভের সীমাহীন সুযোগ লাভ করে থাকে। রোজাদারের সকল দোয়া কবুল হয় বলে হাদিস শরীফে ইরশাদ এসেছে। রোজাদারের দোয়া কবুলের সর্বোত্তম সময় হলো ইফতারপর্ব। তাই ইফতার গ্রহণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নীচে হাদিসের আলোকে ইফতারের গুরুত্ব, মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য সম্পর্কে আলোচনা তুলে ধরা হলো।



নবী করীম (সাঃ) ইরশাদ করেন, কেউ যদি রমজান মাসে কোনো রোজাদারকে ইফতার করায় তাহলে ঐ ইফতার করানোটা তার গুনাহ মাফের ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ হবে এবং সে একটি রোজার সাওয়াব পাবে। অথচ রোজা পালনকারীর নেকি মোটেই কমানো হবে না। সাহাবীরা আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের তো এমন সংস্থান নেই, যা দিয়ে আমরা কাউকে ইফতার করাতে পারি? জবাবে নবী করিম (সাঃ) বললেন, আল্লাহ তায়ালা তাকেও এই সাওয়াব দেবেন, যে ব্যক্তি কোনো রোজা পালনকারীকে এক ঢোক দুধ অথবা একটি শুকনো খেজুর কিংবা এক চুমুক পানি দিয়েও ইফতার করাবে। আর যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে পরিতৃপ্তি সহকারে খাওয়াবে আল্লাহ তায়ালা তাকে আমার হাউজে কাউসার থেকে এমনভাবে নির্মল সুপেয় পানি পান করাবেন, যার ফলে সে জান্নাতে পেঁৗছা পর্যন্ত আর তৃষ্ণার্ত হবে না। (বায়হাকী : শোয়াবুল ঈমান; সূত্র : মিশকাত ১৭৪ পৃ.)।



বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত নবী করীম (সাঃ) আরও ঘোষণা করেন, লোকেরা ততক্ষণ কল্যাণে থাকবে যতক্ষণ তারা ইফতার জলদি করবে। (বুখারী, মুসলিম ১ম খ- ৩২১ পৃ; মিশকাত ১৭৫ পৃ)



হাদিসে কুদসিতে ইরশাদ হয়েছে যে, আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় সেই বান্দা, যে ইফতার সঠিক সময়ে করে। (তিরমিযী ১ম খ-, ৮৮ পৃ)



সমস্ত নবীর স্বভাব ছিলো ইফতারে দেরি না করা। (তাবারানী কাবীর, মাজমাউজ যাওয়ায়িদ ২য় খ- ১০৫ পৃ)



এ হাদীসগুলো প্রমাণ করে যে, ইফতারের নির্দিষ্ট সময় থেকে দেরি করা মোটেই উচিত নয়। যদি কেউ ইচ্ছা করে ইফতারে দেরি করে তাহলে সে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নির্দেশ অনুযায়ী কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হবে এবং আল্লাহর নিকট অপ্রিয় হবে। সুতরাং এ ব্যাপারে আমাদের সচেতন হওয়া উচিত।



হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আবি আওফ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা রমজানে আল্লাহর রাসূল (সাঃ)-এর সাথে সফরে ছিলাম (তখন তিনি রোজা অবস্থায় ছিলেন)। অতঃপর (সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর) তিনি হযরত বেলাল (রাঃ)-কে বললেন, অবতরণ করো এবং আমার জন্য ছাতু গুলে দাও। হযরত বেলাল সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর লালিমা দেখে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ঐ যে সূর্য দেখা যাচ্ছে! তিনি (রাসুল (সাঃ)) আবার বললেন, তুমি অবতরণ করো এবং আমার জন্য ছাতু গুলে দাও। এভাবে তিনবার বললেন। অতঃপর তিনি (বেলাল (রাঃ)) নামলেন এবং ছাতু গুললেন। নবীজি তা পান করলেন। তারপর তিনি পূর্বদিকে ইশারা করে বললেন, যখন তোমরা দেখবে যে, রাত ঐ দিক থেকে আসছে তখন বুঝবে সিয়াম পালনকরীর ইফতারের সময় হয়ে গেছে। (বুখারী ২৬০ পৃ. মুসলিম ১ম খ- ৩৫১ পৃ.)।



নবী করীম (সাঃ) রমজান মাসে মাগরিবের সালাত কখন পড়তেন সে সম্পর্কে বিশিষ্ট সাহাবি রাফে ইবনে খাদীজ (রাঃ) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সাথে মাগরিবের সালাত আদায় করতাম। তারপর আমরা কেউ তীর ছুড়লে সেই তীর পড়ার জায়গাটা দেখতে পেতাম। (বুখারী, মুসলিম; সূত্র : মিশকাত ৬০ পৃ.)



এ হাদীসটি প্রমাণ করে যে, নবী করিম (সাঃ)-এর মাগরিবের সালাত পড়ার পরও আলো থাকত। একটু অন্ধকার হোক বলে তিনি মোটেই দেরি করতেন না।



হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, নবী করিম (সাঃ) মাগরিবের সালাতের আগেই ইফতার করতেন। (তিরমিযী, আবু দাউদ; সুত্র : মিশকাত ১৭৬ পৃ.)।



অন্য বর্ণনায় আছে, নবীজি (সাঃ) ইফতার না করা পর্যন্ত মাগরিবের সালাত পড়তেন না। যদিও তাঁর ইফতার এক ঢোক পানি দিয়েও হতো। (সহীহ ইবনে খুযায়মা, ৩য় খ- ২৭৬ পৃ.)



এ হাদীস দুটি প্রমাণ করে যে, মাগরিবের সালাত আদায় করার আগে ইফতার করতে হবে। রাসূল (সাঃ) বলেন, আমার উম্মত ততক্ষণ আমার সুন্নাত ও নিয়মের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে যতক্ষণ তারা ইফতারের জন্য তারকা উদয়ের অপেক্ষা করবে না। (ইবনে খুযায়মা, ৩য় খ- ২৭৫ পৃ.)।



রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, রমজানের প্রত্যেক রাতে আল্লাহ তায়ালা বহু জাহান্নামীকে মুক্তি দেন। (তিরমিযী ১ম খ- ৮৬ পৃ, আহমাদ, মিশকাত ১৭৩ পৃ)।



অন্য হাদীস দ্বারা জানা যায় যে, জাহান্নাম থেকে মুক্তি বিশেষ করে ইফতারের সময় হয়। (সুনানু ইবনে মাজাহ ১২০ পৃ; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৪র্থ খ- ১৭৬ পৃ.)।



রোজাদারের দোয়া সম্পর্কে নবী করিম (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, সিয়াম পালনকারীর দোয়া ফেরৎ দেয়া হয় না। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা ৩য় খ-, ৭ম পৃ.)



অন্য হাদীসে বলা হয়েছে যে, বিশেষ করে ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া রদ হয় না। নবীজি (সাঃ) ইরশাদ করেন, ইফতারের সময়ে দোয়া খুব তাড়াতাড়ি কবুল হয়। (বায়হাকী)।



উল্লেখিত হাদীসগুলো আমাদের শিক্ষা দেয় যে, ইফতারের সামগ্রী সাজাতে কিংবা আজেবাজে গল্পগুজবে সময় নষ্ট না করে ইফতারের ১০/১৫ মিনিট আগে ইফতারের খাদ্যদ্রব্য নিয়ে বসা এবং দোয়া তাসবীহ পাঠে রত হওয়া দরকার। এ সময় আল্লাহ তায়ালা যেহেতু প্রতিদিন অসংখ্য জাহান্নামীকে মুক্তি দেন। সে কারণে প্রার্থনারত রোজাদারগণ জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে যেতে পারেন।



হাদিসে খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার শুরু করার কথা বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে ইবনে কাইয়েম (রাঃ) চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোকে বলেন, খালি পেট মিষ্টি জিনিস পছন্দ করে এবং এর দ্বারা তা শক্তি সঞ্চয় করে। বিশেষ করে দৃষ্টিশক্তি এর দ্বারা সবল হয়। তাই খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করতে বলা হয়েছে। আর পানির ব্যাপার হলো, রোজা রাখার ফলে পেটের মধ্যে শুষ্কতা সৃষ্টি হয়। পানি দ্বারা তা সতেজ হয়। এজন্য একজন ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত ব্যক্তির উচিত খাওয়া শুরু করার আগে সামান্য পানি পান করা, তারপর খাওয়া শুরু করা। আর তা যদি খেজুর ও পানি দিয়ে হয় তাহলে হূদয়কে সুস্থ করার ব্যাপারে একটা বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে। (যাদুল মায়াদ, ১ম খ- ১৬০ পৃ.)।



লেখক : আলোচক, বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশন; বিভাগীয় প্রধান (হাদীস), আল ফাতাহ পাবলিকেশন্স।



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৮২০৭০
পুরোন সংখ্যা