চাঁদপুর, শুক্রবার ৩১ মে ২০১৯, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৫ রমজান ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫০-সূরা কাফ্

৪৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

১৯। এবং তাহাদের ধন-সম্পদে রহিয়াছে অভাবগ্রস্ত বঞ্চিতের হক।

২০। নিশ্চিত বিশ্বাসীদের জন্য নিদর্শন রহিয়াছে ধরিত্রীতে।

২১। এবং তোমাদের মধ্যেও। তোমরা কি অনুধাবন করিবে না?


assets/data_files/web

যাকে মান্য করা যায় তার কাছে নত হও। -টেনিসন।


 


 


নীরবতাই শ্রেষ্ঠতম এবাদত।


ফটো গ্যালারি
প্রশ্নোত্তরে যাকাতের বিধান
মাওঃ মোঃ মোশাররফ হোসাইন
৩১ মে, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


যাকাত ইসলামের পাঁচটি ভিত্তিসমূহের তৃতীয় ভিত্তি। যা ইসলামের মৌলিক ইবাদতসমূহের মধ্যে অন্যতম ইবাদত। প্রত্যেক মুসলমানকে যেমন যাকাত ফরয হওয়ার বিষয় সম্পর্কে বিশ্বাস করতে হবে, ঠিক তেমনিভাবে যার উপর যাকাত ফরয তাকে তা নিয়মিত পরিশোধও করতে হবে। যারা সোনা, রূপাকে জমা করে রাখে এবং তা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে না, তাদের কপালে, শরীরের পাশর্ে্ব ও পিঠে ছেকা দেয়া হবে। (আর বলা হবে) এটা হচ্ছে ওই সম্পদ, যা তোমরা জমা করে রেখেছিলে নিজেদের জন্যে। আর ওই জিনিস জমা রাখার শাস্তি গ্রহণ করো (তওবাহ, আয়াত : ৩৪-৩৫) যাকাত না দেয়ার কারণে ওই সম্পদ যে মালের সাথে মিশ্রিত হয়ে থাকে তা অবশ্যই বিপর্যয়ের শিকার হবে (মেশকাত, হাদিস ১৭০১/১২)। সম্পদের অধিকারী কোনো ব্যক্তি যদি যাকাত না দেয় তবে কি্বয়ামতের দিন ওই সমস্ত জিনিসকে জাহান্নামের আগুনে গরম করে পাত বানানো হবে, তারপর এর দ্বারা ওই ব্যক্তির পার্শ্ব, কপাল ও অন্যান্য অঙ্গে ছেকা দেয়া চলতে থাকবে যতোক্ষণ পর্যন্ত না আল্লাহ বিচার শেষ করেন। ওইদিন হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। তারপর তার নির্দিষ্ট স্থান হবে হয় জান্নাত না হয় জাহান্নাম (মুসলিম, হাদিস : ২১৬১)।



যে ব্যক্তিকে আল্লাহতা'আলা সম্পদের অধিকারী করেছেন, তিনি যদি যাকাত আদায় না করেন তবে ওই সম্পদকে এক শক্তিশালী টাক মাথা, দু শিংওয়ালা রুপে উঠানো হবে, যা তাকে কি্বয়ামতের দিন আঘাত করতে থাকবে। তারপর তাকে দাঁত দিয়ে কামড়াবে ও বলবে, আমি তোমার মাল, আমি তোমার গুপ্ত সম্পদ (বুখারী, হাদিস ৬৩৭৪)। যাদেরকে উট, গরু বা ছাগলের অধিকারী করা হয়েছিলো, কিন্তু তারা তাদের যাকাত আদায় করেনি, তখন ওই পশুদের কি্বয়ামতের দিন উপস্থিত করা হবে আরো বড় ও মোটা করে। তখন তারা তাদের মালিককে শিং ও পা দ্বারা আঘাত করতে থাকবে। যখন একটি ক্লান্ত হয়ে যাবে তখন অন্যটি শুরু করবে। আর এটা চলতে থাকবে ততোক্ষণ পর্যন্ত যতোক্ষণ পর্যন্ত না বিচার শেষ হবে (মুসলিম, হাদিস ২১৬৮)।



হে ঈমানদারগণ! দানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে ও কষ্ট দিয়ে নিজেদের দান-খয়রাতকে সে ব্যক্তির ন্যায় ব্যর্থ করে দিও না যে নিজের সম্পদ লোক দেখানোর জন্যে ব্যয় করে থাকে, অথচ সে আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী নয়। তার তুলনা সেই মসৃণ পাথরের মতো, যাতে সামান্য কিছু মাটি আছে, অতঃপর প্রবল বৃষ্টিপাত তাকে পরিষ্কার করে ফেলে। তার স্বীয় কৃতকার্যের ফল কিছুই পাবে না; আল্লাহ কাফিরদেরকে পথপ্রদর্শন করেন না (বাকারা, আয়াত ২৬৪)। যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান করো তবে তাও উত্তম, আর যদি তোমরা তা গোপনে দান করো এবং তা অভাবগ্রস্তদেরকে দান করো, তবে তাও তোমাদের জন্যে আরও উত্তম। অধিকন্তু তিনি তোমাদের কিছু গুনাহ মোচন করে দেবেন, বস্তুত যা কিছু তোমরা করছ, আল্লাহ তার খবর রাখেন (বাকারা, আয়াত ২৭১)। মুমিন কৃপণ হয় না; আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, রাসুল (সাঃ) বলেছেন, দুটি স্বভাব কোনো মুমিনের মধ্যে একত্রিত হতে পারে না, কৃপণতা ও দুর্ব্যবহার খারাপ চরিত্র (তিরমিযী, মেশকাত হাদিস ১৭৭৮)।



 



প্রশ্ন ১ : যাকাত ফরয হওয়ার শর্তাবলি কি কি?



উত্তর : যাকাত ফরয হওয়ার শর্তাবলি নিম্নরূপ : মুসলমান, স্বাধীন, নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া ও তা স্থিতিশীল থাকা বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত।



মুসলমান : কাফেরের উপর যাকাত ফরয নয়। যাকাতের নামে সে প্রদান করলেও আল্লাহ তা কবুল করবেন না। আল্লাহ বলেন, তাদের সম্পদ ব্যয় শুধুমাত্র এ কারণে গ্রহণ করা হবে না যে, তারা আল্লাহ ও তার রাসূলের সাথে কুফরী করেছে। অলস ভঙ্গিতে ছাড়া তারা নামাজে আসে না এবং মনের অসন্তুষ্টি নিয়ে খরচ করে। (সূরা তওবা : ৫৪) কাফেরের উপর যাকাত ফরয নয় এবং আদায় করলেও গ্রহণ করা হবে না এ কথার অর্থ এটা নয় যে, পরকালেও তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে; বরং তাকে এজন্যে শাস্তি দেয়া হবে। আল্লাহ বলেন, প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্যে দায়ী; কিন্তু ডান দিকের লোকেরা ছাড়া। তারা থাকবে জান্নাতে এবং পরস্পরে জিজ্ঞাসাবাদ করবে অপরাধীদের সম্পর্কে। বলবে, তোমাদেরকে কিসে জাহান্নামে প্রবেশ করিয়েছে? তারা বলবে, আমরা নামাজ পড়তাম না, অভাবগ্রস্তকে আহার্য দিতাম না। আমরা সমালোচকদের সাথে সমালোচনা করতাম এবং আমরা প্রতিফল দিবসকে অস্বীকার করতাম। এমনকি আমাদের মৃত্যু এসে গেছে। (সূরা মুদ্দাসি্সর : ৩৮-৪৭) এ থেকে বুঝা যায়, ইসলামের বিধি-বিধান না মেনে চলার কারণে কাফেরদেরকে শাস্তি দেয়া হবে।



স্বাধীন : ক্রীতদাসের কোনো সম্পদ নেই। কোনো সম্পদ থাকলেও তা তার মালিকের সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে। কেননা নবী (সাঃ) বলেন, সম্পদের অধিকারী কোনো ক্রীতদাস যদি কেউ বিক্রয় করে, তবে উক্ত সম্পদের মালিকানা বিক্রেতার থাকবে। কিন্তু যদি ক্রেতা উক্ত সম্পদের শর্তারোপ করে থাকে তবে ভিন্ন কথা।



নিসাব : অর্থাৎ তার কাছে এমন পরিমাণ সম্পদ থাকবে, শরীয়ত যা নিসাব হিসেবে নির্ধারণ করেছে। সম্পদের প্রকারভেদ অনুযায়ী এর পরিমাণ বিভিন্ন রূপ হয়ে থাকে। অতএব মানুষের কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকলে বা নিসাবের কম সম্পদ থাকলে তাতে যাকাত দিতে হবে না। কেননা তার সম্পদ কম। আর অল্প সম্পদ দ্বারা অন্যের কল্যাণ করা সম্ভব নয়। চতুষ্পদ জন্তুর নিসাবে শুরু এবং শেষ সংখ্যার খেয়াল রাখতে হবে। কিন্তু অন্যান্য সম্পদে শুধু প্রথমে কত ছিলো তার হিসাব ধর্তব্য। পরে যা অতিরিক্ত হবে তার হিসাব করে যাকাত দিতে হবে।



বছর অতিক্রান্ত হওয়া : কেননা বছর পূর্ণ না হওয়া স্বত্বেও যাকাতের আবশ্যকতা সম্পদশালীর প্রতি কঠোরতা করা হয়। বছরপূর্তি হওয়ার পরও যাকাত বের না করলে যাকাতের হকদারদের প্রতি অবিচার করা হয়; তাদের ক্ষতি করা হয়। এ কারণে প্রজ্ঞাপূর্ণ শরীয়তের জন্যে একটি সীমারেখা নির্ধারণ করেছে এবং এর মধ্যে যাকাতের আবশ্যকতা নির্ধারণ করেছে। আর তা হচ্ছে বছরপূর্তি। অতএব এর মধ্যে সম্পদশালী ও যাকাতের হকদারদের মধ্যে একটি সামঞ্জস্যতা বিধান করা হয়েছে। এ কারণে বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে কোনো মানুষ যদি মৃত্যুবরণ করে বা তার সম্পদ বিনষ্ট হয়ে যায়, তবে যাকাত রহিত হয়ে যাবে। অবশ্য তিনটি জিনিস এ বিধানের ব্যতিক্রম : ১) ব্যবসার লভ্যাংশ ২) চতুষ্পদ জন্তুর বাচ্চা ও ৩) উশর। ব্যবসার লভ্যাংশে ব্যবসার মূল সম্পদের সাথে যোগ করে যাকাত দিতে হবে। আর চতুষ্পদ জন্তুর ভূমিষ্ঠ বাচ্চার যাকাত তার মায়ের সাথে মিলিত করে দিতে হবে। আর উশর অর্থাৎ জমিনে উৎপাদিত ফসল ঘরে উঠালেই যাকাত দিতে হবে।



 



প্রশ্ন ২ : প্রতিমাসে প্রাপ্য বেতনের যাকাত কীভাবে প্রদান করতে হবে?



উত্তর : এক্ষেত্রে সুন্দর পন্থা হচ্ছে, প্রথম বেতনের যদি এক বছরপূর্তি হয়; তবে তার সাথে সংশ্লিষ্ট করে সবগুলোর যাকাত আদায় করে দিবে। যে বেতনে বছর পূর্ণ হয়েছে তার যাকাত সময়ের মধ্যেই আদায় করা হলো। আর যাতে বছর পূর্ণ হয়নি তার যাকাত অগ্রিম আদায় হয়ে গেলো। প্রতি মাসের বেতন আলাদা হিসাব রাখার চাইতে এটাই হচ্ছে সহজ পন্থা। কিন্তু দ্বিতীয় মাসের বেতন আসার আগেই যদি প্রথম মাসের বেতন খরচ হয়ে যায়, তবে তার উপর কোনো যাকাত নেই। কেননা যাকাত ওয়াজিব হওয়ার শর্ত হচ্ছে বছর পূর্ণ হওয়া।



 



প্রশ্ন ৩ : প্রদত্ত ঋণের যাকাত আদায় করার বিধান কি?



উত্তর : সম্পদ যদি ঋণ হিসেবে অন্যের কাছে থাকে, তবে ফিরিয়ে না পাওয়া পর্যন্ত তাতে যাকাত আবশ্যক নয়। কেননা উহা তার হাতে নেই। কিন্তু ঋণগ্রস্থ ব্যক্তি যদি সম্পদশালী লোক হয়, তবে প্রতি বছর তাকে (ঋণ দাতাকে) যাকাত বের করতে হবে। নিজের অন্যান্য সম্পদের সাথে তার যাকাত আদায় করে দিলে জিম্মা থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। অন্যথা উহা ফেরৎ পাওয়ার পর হিসেব করে বিগত প্রত্যেক বছরের যাকাত আদায় করতে হবে। কেননা উহা সম্পদশালী লোকের হাতে ছিলো। আর তা তলব করাও সম্ভব ছিলো। সুতরাং ঋণদাতার ইচ্ছাতেই চাইতে দেরী করা হয়েছে। কিন্তু ঋণ যদি অভাবী লোকের হাতে থাকে। অথবা এমন ধনী লোকের হাতে যার নিকট থেকে উদ্ধার করা কষ্টকর, তবে তার উপর প্রতি বছর যাকাত আবশ্যক হবে না। কেননা উহা হাতে পাওয়া তার জন্যে অসম্ভব। কেননা আল্লাহ বলেন, যদি অভাবী হয় তবে তাকে সচ্ছলতা পর্যন্ত অবকাশ দিবে। (সূরা বাক্বারা : ২৮০)। অতএব তার জন্যে সম্ভব নয় এ সম্পদ পুনরুদ্ধার করা এবং তা দ্বারা উপকৃত হওয়া। কিন্তু পুনরুদ্ধার করতে পারলে বিদ্বানদের মধ্যে কেউ বলেন, তখন থেকে নতুন করে বছর গণনা শুরু করবে। আবার কেউ বলেন, বিগত এক বছরের যাকাত বের করবে এবং পরবর্তী বছর আসলে আবার যাকাত আদায় করবে। এটাই অত্যধিক সতর্ক অভিমত। (আল্লাহই অধিক জ্ঞান রাখেন।



প্রশ্ন ৪ : ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির সদকা করা কি ঠিক হবে? ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি কোন ধরনের শরীয়তের দাবি থেকে মুক্তি পাবে?



উত্তর : শরীয়ত নির্দেশিত একটি খরচ হচ্ছে দান-সদকা। সদকা জায়গা মতো দেয়া হলে তা হবে আল্লাহর বান্দাদের উপর অনুগ্রহ। সাদকাকারী ছওয়াব পাবে, কিয়ামত দিবসে ছদকার ছায়ার নীচে অবস্থান করবে। সদকা কবুল হওয়ার শর্ত পূর্ণ করে যাকেই দান করা হোক তার দান গ্রহণ করা হবে। চাই দানকারী ঋণগ্রস্ত হোক বা না হোক। ইখলাস বা একনিষ্ঠতার সাথে, হালাল উপার্জন থেকে জায়গা মতো দান করলেই শরীয়তের দলিল অনুযায়ী তার দান কবুল হবে। দানকারী ঋণমুক্ত হতে হবে এমন কোনো শর্ত নেই। কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি এমন ঋণে ডুবে থাকে যা পরিশোধ করার জন্যে তার সমস্ত সম্পত্তি দরকার, তবে এটা কোনো যুক্তি সংগত ও বিবেকসম্মত কথা নয় যে, জরুরি ও আবশ্যক ঋণ পরিশোধ না করে সে নফল দান-সদকা করবে! অতএব তার উপর আবশ্যক হচ্ছে, প্রথমে ফরজ কাজ করা তারপর নফল কাজ করা। তারপরও ওই অবস্থায় দান করলে তার ব্যাপারে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। কেউ বলেন, এরূপ করা জায়েজ নয়। কেননা এতে পাওনাদারের ক্ষতি করা হয় এবং নিজের জিম্মায় আবশ্যিক ঋণের বোঝা বহন করে রাখা হয়। আবার কেউ বলেন, দান করা জায়েজ আছে কিন্তু উত্তমতার বিপরীত। মোটকথা, যে ব্যক্তির আপাদমস্তক ঋণে জর্জরিত আর পরিশোধ করার জন্যে নিজের সমস্ত সম্পত্তি দরকার, তার পক্ষে দান সাদকা করা উচিত নয়। কেননা নফল কাজের চাইতে ওয়াজিব কাজের গুরুত্ব বেশি এবং তা অগ্রগণ্য।



 



প্রশ্ন ৫ : স্বর্ণ ও রৌপ্যের যাকাতের নিসাব কি? আর কিলোগ্রাম হিসেবে নবী (সাঃ)-এর অভিমত কী?



উত্তর : স্বর্ণের নিসাব হচ্ছে বিশ মিসকাল তথা ৮৫ (পঁচাশি) গ্রাম। আর রৌপ্যের নিসাব হচ্ছে ১৪০ (একশ' চলি্লশ) মিসকাল তথা সৌদি আরবের রৌপ্যের দিরহাম অনুযায়ী ৫৬ রিয়াল। অর্থাৎ ৫৯৫ গ্রাম। আর কিলোগ্রাম হিসেবে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ছা-এর পরিমাণ হচ্ছে, দু কিলো চলি্লশ গ্রাম (২.৪০ কেজি) পাকা পুষ্ট গম।



 



প্রশ্ন ৬ : মেয়েদেরকে দেয়া স্বর্ণ একত্রিত করলে নিসাব পরিমাণ হয়। একত্রিত না করলে নিসাব হয় না। এ অবস্থায় করণীয় কি?



উত্তর : কোনো মানুষ যদি গয়নাগুলো তার মেয়েদেরকে ধারস্বরূপ শুধুমাত্র পরিধান করার জন্যে দিয়ে থাকে, তবে সেই তার মালিক। সবগুলো একত্রিত করে যদি নিসাব পরিমাণ হয় তবে যাকাত প্রদান করবে। কিন্তু যদি তাদেরকে সেগুলো দানস্বরূপ প্রদান করে থাকে অর্থাৎ মেয়েরাই সেগুলোর মালিক, তবে গয়নাগুলো একত্রিত করা আবশ্যক নয়। কেননা প্রত্যেকেই আলাদাভাবে স্বর্ণগুলোর মালিক। অতএব, তাদের একজনের স্বর্ণ যদি নিসাব পরিমাণ হয়, তবেই যাকাত প্রদান করবে। অন্যথায় নয়।



 



প্রশ্ন ৭ : স্বর্ণের সাথে মূল্যবান ধাতু হীরা প্রভৃতি থাকলে কীভাবে স্বর্ণের যাকাত দিবে?



উত্তর : অভিজ্ঞ ব্যক্তিগণ উহা নির্ধারণ করবে। স্বর্ণ ব্যবসায়ী বা স্বর্ণকারের কাছে গিয়ে পরিমাণ জেনে নিবে। এখানে যে পরিমাণ স্বর্ণ আছে তা নিসাব পরিমাণ হয় কি না? নিসাব পরিমাণ না হলে যাকাত নেই। তবে তার কাছে অন্য স্বর্ণ থাকলে তা দ্বারা নিসাব পূর্ণ করে হীরা প্রভৃতি মিশ্রিত স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করে তা থেকে ২.৫% (আড়াই শতাংশ) হারে যাকাত আদায় করবে।



 



প্রশ্ন ৮ : যাকাতের অর্থ দ্বারা মসজিদ নির্মাণ করার বিধান কি?



উত্তর : যাকাতের জন্যে আল্লাহতাআলা যে আট শ্রেণির কথা কোরআনে উল্লেখ করেছেন, তাছাড়া অন্য কোনো খাতে যাকাত প্রদান করা জায়েজ নয়। কেননা আল্লাহতায়ালা আয়াতে? অব্যয় দ্বারা যাকাত প্রদানের খাতকে আট শ্রেণির মধ্যেই সীমাবদ্ধ করেছেন। তিনি বলেন, যাকাত তো হচ্ছে শুধুমাত্র গরিবদের এবং অভাবগ্রস্তদের আর এই যাকাত আদায়ের জন্যে নিযুক্ত কর্মচারীদের এবং ইসলামের প্রতি তাদের (কাফেরদের) হৃদয় আকৃষ্ট করতে, ঋণ পরিশোধে, আল্লাহর পথে জিহাদে, আর মুসাফিরদের সাহায্যে। এ বিধান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী অতি প্রজ্ঞাময়। (সূরা তওবা : ৬০)। সুতরাং তা মসজিদ নির্মাণের কাজে বা জ্ঞানার্জনের কাজে খরচ করা জায়েজ হবে না। আর নফল সদকাসমূহের ক্ষেত্রে উত্তম হচ্ছে যেখানে বেশি উপকার পাওয়া যাবে সেখানে প্রদান করা।



 



প্রশ্ন ৯ : ভাড়া বা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহৃত গাড়িতে কি যাকাত আবশ্যক?



উত্তর : ভাড়ার কাজে মানুষ যে গাড়ি ব্যবহার করে অথবা নিজের ব্যক্তিগত কাজে যে গাড়ি ব্যবহার করা হয় তার কোনোটাতেই যাকাত নেই। তবে প্রাপ্ত ভাড়া যদি নিসাব পরিমাণ হয় বা তা অন্য অর্থের সাথে মিলিত করে তা নিসাব পরিমাণ পেঁৗছে এবং এক বছর অতিক্রান্ত হয় তবে তাতে যাকাত দিতে হবে। অনুরূপভাবে ভাড়ায় ব্যবহৃত জমি বা ভূমিতে যাকাত নেই। তার প্রাপ্ত ভাড়া থেকে যাকাত দিতে হবে।



 



প্রশ্ন ১০ : ভাড়া দেয়া হয়েছে এমন বাড়ির যাকাত দেয়ার বিধান কি?



উত্তর : ভাড়া দেয়া হয়েছে এমন বাড়ি যদি ভাড়ার জন্যেই নির্মাণ করা হয়ে থাকে তবে বাড়ির মূল্যে কোনো যাকাত নেই। তবে বাড়ি থেকে প্রাপ্ত ভাড়ার যাকাত দিতে হবে, যদি ভাড়া দেয়ার দিন থেকে প্রাপ্ত অর্থের উপর বছর পূর্ণ হয়। ভাড়ার চুক্তিনামা স্বাক্ষর করার দিন থেকে যদি বছর পূর্ণ না হয় তবে তাতে যাকাত নেই। যেমন বছরে ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা প্রদানের চুক্তিতে ঘর ভাড়া দেয়া হল। চুক্তির শুরুতে পাঁচ হাজার টাকা গ্রহণ করে উহা খরচ হয়ে গেলো। অবশিষ্ট পাঁচ হাজার টাকা বছরের মধ্যবর্তী সময়ে গ্রহণ করে উহাও বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই খরচ হয়ে গেলো, তবে এক বছরে প্রাপ্ত দশ হাজার টাকার এই ভাড়ার মধ্যে কোনো যাকাত দিতে হবে না। কেননা এ অর্থে বছর পূর্ণ হয়নি। কিন্তু বাড়িটি যদি ব্যবসার জন্যে নির্মাণ করে মূল্য বৃদ্ধি বা লাভের অপেক্ষায় থাকে এবং বিক্রি হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ভাড়া আদায় করে, তবে উক্ত বাড়ির মূল্যে যাকাত দিতে হবে এবং ভাড়ারও যাকাত দিতে হবে যখন বছর পূর্ণ হবে। কেননা উহা ব্যবসার জন্যে নির্মাণ করা হয়েছে। নিজ মালিকানায় থেকে যাওয়া বা তা থেকে উপকৃত হওয়ার উদ্দেশ্যে নয়। আর এমন প্রত্যেক বস্তু যা ব্যবসা বা উপার্জনের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয় তাতেই যাকাত রয়েছে। কেননা নবী (সাঃ) বলেন, প্রত্যেকটি কর্ম নিয়তের উপর নির্ভরশীল। আর মানুষ যা নিয়ত করে তাই রয়েছে তার জন্য। এই ব্যক্তির নিকট উপার্জনের জন্য যে সম্পদ রয়েছে। তার লক্ষ্য তো বস্তুটির মূল্যের প্রতি-মূল বস্তু নয়। আর উহার মূল্য হচ্ছে দিরহাম বা টাকা বা নগদ অর্থ আর নগদ অর্থে বা টাকা-পয়সায় যাকাত ওয়াজিব।



অতএব যে গৃহ ব্যবসার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বছর শেষে তার মূল্য নির্ধারণ করে তাতে এবং উহা যদি ভাড়ায় থাকে তবে ভাড়ার চুক্তির দিন থেকে বছর পূর্ণ হলে তাতেও যাকাত দিতে হবে। (চলবে)



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৯৬৯১৪
পুরোন সংখ্যা