চাঁদপুর, শুক্রবার ৫ জুলাই ২০১৯, ২১ আষাঢ় ১৪২৬, ১ জিলকদ ১৪৪০
jibon dip
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৩-সূরা নাজম


৬২ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২৯। অতএব যে আমার স্মরণে বিমুখ তুমি তাহাকে উপক্ষো করিয়া চল; সে তো কেবল পার্থিব জীবনই কামনা করে।


৩০। উহাদের জ্ঞানের দৌড় এই পর্যন্ত। তোমার প্রতিপালকই ভালো জানেন কে তাঁহার পথ হইতে বিচ্যুত, তিনিই ভালো জানেন কে সৎপথপ্রাপ্ত।


 


assets/data_files/web

মনের যাতনা দেহের যাতনার চেয়ে বেশি। -উইলিয়াম হ্যাজলিট।


 


ঝগড়াটে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট অধিক ক্রোধের পাত্র।


 


 


ফটো গ্যালারি
পবিত্র বায়তুল্লাহ জিয়ারতে রাসূল (সাঃ) সুন্নাত
মাওঃ মোঃ মোশাররফ হোসাইন
০৫ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


হজ নামাজ, রোজা ও যাকাতের ন্যায় ইসলামের একটি শ্রেষ্ঠ রোকন এবং ফরজে আইন এবাদত। উহা সারাজীবনে একবার প্রত্যেক এমন ব্যক্তির উপর ফরজ, যাকে আল্লাহতা'য়ালা এ পরিমাণ সম্পদ দান করেছেন যে, নিজ দেশ হতে মক্কা মোকাররম পর্যন্ত যাতায়াত করতে সক্ষম এবং হজ হতে ফিরে আসা পর্যন্ত আপন পরিবারবর্গের আবশ্যকীয় ব্যয় বহন করতে সমর্থ। হজ ফরজ হওয়ার বিষয়টি কোরআন, হাদিস, ইজমা এবং যুক্তি দ্বারা প্রমাণিত।



পবিত্র কোরআনের মাধ্যমে হজ ফরজ হওয়ার প্রমাণ : হজ ফরজ হওয়ার বর্ণনা পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে বিদ্যমান রয়েছে। যেমন : ১. মানুষের উপর আল্লাহর এই অধিকার রয়েছে যে যারা তাঁর ঘর (বাইতুল্লাহ্ শরীফ) পর্যন্ত পেঁৗছার সামর্থ্য রাখে তারা যেনো উহার হজ সমাপন করে। বস্তুত যারা এই নির্দেশ পালন করতে অস্বীকার করবে (তাদের জেনে রাখা উচিত যে) নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সমগ্র সৃষ্টিজগতের কারো মুখাপেক্ষী নহেন। (আয়াত : ৯৭, সূরা আল-ইমরান) ২. তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ ও উমরা পূর্ণ করো। (আয়াত : ১৯৬, সূরা বাকারা) ৩. নিশ্চয় মানবজাতীর জন্য প্রথম যে ঘর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো তা তো বক্কায় (মক্কা); তা বরকতময় ও বিশ্ব জগতের দিশারী। এতে অনেক সুস্পষ্ট নিদর্শন রয়েছে। যেমন মাকামে ইবরাহীম। আর যে ব্যক্তি তাতে প্রবেশ করিবে সে নিরাপদ। (আয়াত : ৯৬-৯৭ সূরা আল-ইমরান) ৪. মানুষের নিকট হজের ঘোষণা করে দাও, তাহারা তোমার নিকট আসবে পদব্রজে ও সকল প্রকার ক্ষীণকায় উষ্ট্রসমূহের পিঠে চড়িয়া তারা আসবে দূর দূরান্তের পথ অতিক্রম করে। (আয়াত : ২৭ সূরা হজ)।



 



পবিত্র হাদীসের বাণী : ১. হযরত আবু সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) আমাদের সম্মুখে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেছেন, আল্লাহ্তা'আলা তোমাদের উপর হজ ফরজ করেছেন। সুতরাং তোমরা অবশ্যই হজ পালন করবে। (মুসলিম শরীফ)। ২. হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে ওমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত। যথা : (১). আল্লাহ্ ব্যতীত কোনো মাবুদ নাই এবং হযরত মুহাম্মদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল_এই সাক্ষ্য প্রদান, (২) নামাজ কায়েম করা, (৩) যাকাত প্রদান করা, (৪) বায়তুল্লাহ্ শরীফের হজ পালন করা এবং (৫) রমযানে রোজা পালন করা। (বোখারী ও মুসলিম শরীফ) ৩. হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ করিয়াছেন, একটি উমরা হজ অপর উমরা হজ পর্যন্ত মধ্যবর্তী সমুদয় গুনাহর জন্যে কাফ্ফারাস্বরূপ। আর হজে মাবরুর বা মকবুল হজের প্রতিদান জান্নাত ব্যতীত আর কিছু নহে। বুখারী ও মুসলিম শরীফ ৪. হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী করিম (সাঃ)কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো, কোনো আমল সবচেয়ে উত্তম? তিনি বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাঃ) প্রতি ঈমান বা বিশ্বাস স্থাপন। আবার জিজ্ঞাস করা হলো : ইহার পর কোন্ কাজটি সবচেয়ে উত্তম? তিনি বলেন, আল্লাহর পথে জিহাদ করা। পুনরায় জিজ্ঞাসা করা হইলো : ইহার পর আর কোন্ কাজটি সবচেয়ে উত্তম? জবাবে তিনি বলিলেন, 'হজে মাবরুর' অর্থাৎ মকবুল হজ। বুখারী ও মুসলিম শরীফ ৫. হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে হজ পালন করবে এবং হজ সমাপনকালে স্ত্রী সহবাস কিংবা তৎসম্পর্কিত আলোচনা এবং কোনোপ্রকার গুনাহর কাজে লিপ্ত হবে না, সে সদ্যজাত শিশুর ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে গৃহে প্রত্যাবর্তন করবে। বুখারী ও মুসলিম শরীফ ৬. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত রয়েছে যে, রাসূলল্লাহ্ (সাঃ) এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি হজ সমাপনের ইচ্ছা রাখে, সে যেন উহা যথাশীঘ্রই আদায় করে নেয়। আবু দাউদ শরীফ।



 



পবিত্র মক্কা ও মদিনায় জিয়ারতের স্থানসমূহ : মক্কা মোকাররমা : ১। জান্নাতুল মুআল্লা : এটি মক্কার কবরস্থান। এ কবরস্থান জিয়ারত করা মোস্তাহাব। এখানে সাহাবী, তাবেয়ী ও বুযুর্গদের কবর রয়েছে। হযরত খাদীজা (রাঃ), হযরত আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের (রাঃ)-এর কবরও এখানে রয়েছে। ২। রাসূল (সাঃ)-এর জন্মস্থান : এটি হারাম শরীফের পূর্বদিকের চত্বরের পূর্বে অবস্থিত। বর্তমানে এটিকে একটি পাঠাগার বানিয়ে রাখা হয়েছে। ৩। জাবালে ছওর : এটি মক্কা শরীফ থেকে তিন মাইল দক্ষিণ পূর্বে অবস্থিত একটি পাহাড়। হিজরতের সময় নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)কেসহ তিনরাত এ পাহাড়ের চূড়ায় একটি গুহায় অবস্থান করছিলেন। যে গুহাকে 'গারে ছওর' বলা হয়। ৪। জাবালে নুর ও গারে হেরা : মক্কা শরীফ থেকে তিন মাইল উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত একটি পাহাড়ের নাম জাবালে নূর। এই পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত একটি গুহাকে বলা হয় 'গারে হেরা' বা হেরা গুহা। নবুওয়াত লাভের পূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই গুহায় ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। এখানেই সর্বপ্রথম ওহী নাযেল হয়েছিল। ৫। মুযদালিফার ময়দান : এটি একটি ময়দান। এর এক প্রান্তে মসজিদে মাশআরুল হারাম রয়েছে। যাকে মুযদালিফার মসজিদ বলা হয়। মুয্দালিফা শব্দের অর্থ নিকটবর্তী বা রাতের অংশ। ৬। আরাফাত ময়দান : এখানে মসজিদে নামিরা রয়েছে। আরাফাত শব্দের অর্থ পরিচিতি। এক বর্ণনা মতে হযরত আদম ও হাওয়া (আঃ)-এর জান্নাত থেকে পৃথিবীতে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে অবতরণের পর এ ময়দানে দুজনের মধ্যে সাক্ষাত ও পরিচিতি ঘটেছিল বলে এ ময়দানকে আরাফার ময়দান বলা হয়। আর এক বর্ণনা মতে হযরত জিব্রাঈল (আঃ) হযরত ইব্রাহীম (আঃ)কে হজের যাবতীয় বিষয় শিক্ষা দেয়ার পর এখানে এসে জিজ্ঞাসা করেছিলেন হজ সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ের পরিচিতি লাভ করেছেন কি? এ থেকেই এখানের নাম হয় আরাফাত। ৭। মিনা : এখানে মসজিদে খায়েফ রয়েছে, যাতে বহু নবী ইবাদত বন্দেগী করেছেন। বর্ণিত আছে এখানে ৭০ জন নবীর কবর রয়েছে। ৮। মসজিদে জিন : এখানে জিনগণ হাজির হয়ে কুরআন তিলাওয়াত শুনেছিলো। আর এক বর্ণনা মতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিনদের প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাত করতে যাওয়ার সময় হযরত ইবনে মাসঊদ (রাঃ) কে এখানে রেখে যান। ৯। মসজিদে তানঈম/মসজিদে আয়েশা : হযরত আয়েশা (রাঃ) এখান থেকে উমরার ইহরাম বেঁধে উমরা করেছিলেন। হাজীগণ সাধারণত : এখানে গিয়ে ইহরাম বেঁধে এসে উমরা করে থাকেন। ১০। মসজিদুর রায়াহ : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা বিজয়ের সময় এখানে ঝা-া স্থাপন করেছিলেন। ১১। মুআবাদা : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদায় হজে মিনা থেকে মক্কায় ফেরার পথে এখানে অবস্থান করেছিলেন। ১২। জাবলে আবী কুবায়ছ : পাহাড়টি মসজিদে হারামের দক্ষিণ পূর্ব পাশে অবস্থিত, যার কিছু অংশ কেটে পূর্বের চত্বরের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, আর অবশিষ্ট অংশের উপর রাজপ্রাসাদ রয়েছে। হযরত নূহ (আঃ) এর তুফানের সময় থেকে হাজরে আসওয়াদ এ পাহাড়ে উপর রাখা ছিল। প্রসিদ্ধ তাবিয়ী 'মুজাহিদ' এর বর্ণনা মতে আল্লাহ তাআলা পৃথিবীতে পাহাড়ের মধ্যে সর্ব প্রথম এ পাহাড়টি সৃষ্টি করেন।



 



মদিনা মুনাওয়ারা



(যাতে সাওয়াব লাভ করা যায় রাসূল (সাঃ)-এর পদ্ধতিতে হলে)। ১। মসজিদে নববী ২। রিয়াযুল জান্নাহ ৩। মসজিদে নববীতে সাতটি উস্তুওয়ানা বা স্তম্ভ-উস্তুওয়ানা হান্নানাহ, উস্তুওয়ানা ছারীর, উস্তুওয়ানা উফূদ, উস্তুওয়ানা হারেচ, উস্তুওয়ানা আয়েশা, উস্তুওয়ানা আবূ লুবাবা (রাঃ), উস্তুওয়ানা জিব্রাঈল (আঃ) ৪। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আবু বকর ও উমর (রাঃ)-এর রওজা। ৫। কুবা মসজিদ-রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতের পর সর্বপ্রথম এই মসজিদটি নির্মাণ করেন যা মাসজিদে নববী হতে ৩ কিঃমিঃ দক্ষিণে অবস্থিত। বাসা (নিজ নিজ অবস্থানস্থল) থেকে ওযু করে এসে এখানে ২ রাক'আত সালাত আদায় করলে একটি উমরা করার সমপরিমাণ সাওয়াব পাওয়া যায়। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) প্রতি শনিবার পাঁয়ে হেঁটে ও আরোহণ করে কুবায় আসতেন এবং দু'রাকআত সালাত আদায় করতেন। ৬। জান্নাতুল বাকী : মদীনা শরীফের কবরস্থানের নাম 'জান্নাতুল বাকী'। মসজিদে নববীর সনি্নকটে পূর্ব দিকে অবস্থিত। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, আহলে বায়ত (নবী [সাঃ]-এর পরিবার), আযওয়াজে মুতাহ্হারাত (নবী সাঃ এর স্ত্রীগণ খাদীজা ও মায়মূনা ব্যতীত), শোহাদা, আইম্মায়ে কেরাম ও আওলিয়ায়ে কেরাম এই কবরস্থানে সমাধিস্থ রয়েছেন। এখানে হযরত উসমান (রাঃ)-এর মাযার থেকে জিয়ারত শুরু করুন। অনেকের মত হলো হযরত আব্বাস (রাঃ)-এর মাযার থেকে জিয়ারত শুরু করা। ৭। উহুদ যুদ্ধে শাহাদাতবরণকারী সাহাবাগণের কবরসমূহ, (৩য় হিজরী সনে উহুদ পাহাড়ে পাদদেশে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয় যাতে রাসূলুল্লাহ (দ:) -এর দন্ত মুবারক ভেঙ্গে যায় ও মাথায় লৌহবর্মের কিয়দংশ ঢুকে যায় এবং ৭০ জন মুসলমান শাহাদাত বরণ করেন। এই পাহাড়টি মাসজিদে নববী হতে ৫ কি:মি: উত্তরে অবস্থিত যার উচ্চতা ১২১ মিটার। পরকালকে স্মরণ, উপদেশ গ্রহণ ও মৃত ব্যক্তির জন্য আল্লাহর নিকট দু'আ করার উদ্দেশ্য কবর জিয়ারত করা সুন্নাত যা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) -হাদীস দ্বারা প্রমানিত)।



মদীনার ঐতিহাসিক মাসজিদ ও স্থানসমূহের কয়েকটি (যা সাওয়াব লাভের জন্য নয় শুধু ঐতিহাসিক জ্ঞানলাভের উদ্দেশ্যে পরিদর্শন করা যায়)।



 



১। মসজিদে ফাত্হ : (খন্দক যুদ্ধের বিজয়ের প্রতি ইঙ্গিতস্বরূপ এর নাম। এখানে সাতটি মাসজিদ ছিল। বর্তমানে সবগুলোকে ভেঙ্গে একটি করা হয়েছে। উক্ত স্থানে রাসূল (সাঃ), সালামান আল ফারেসী (রাঃ)-এর পরামর্শ অনুযায়ী সাহাবায়ে কিরামগণকে নিয়ে বিশাল এক পরিখা খনন করেন। (এ সময় রাসূল (সাঃ) অধিক ক্ষুধার কারণে পেটে পাথর বেঁধে ছিলেন)। এটি ৫০০০ গজ দৈর্ঘ্য, ৯ গজ প্রস্থ আর ৭ গজ গভীর ছিল। ২। মাসজিদে কি্ববলাতাইন। যেখানে সালাত আদায়রত অবস্থায় বাইতুল মুকাদ্দাস হতে কাবা শরীফের দিকে কি্ববলা পরিবর্তন হয়। এজন্য এর নামকরণ করা। এটি মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অতি নিকটে। ৩। মসজিদে মীকাত। এটি মক্কা যাওয়ার পথে মাসজিদে নববী হতে ১৪ কি:মি: দূরে অবস্থিত যা মদীনাবাসী বা এদিক দিয়ে মক্কায় আগমনকারীদের হজ বা উমরা করার জন্য ইহরাম বাঁধার স্থান। ৪। মাসজিদে জুম'আ, ৫। মাসজিদে গামামাহ, ৬। মসজিদে আবু বকর, ৭। মাসজিদে আবু যার, ৮। মসজিদে বেলাল, ৯। মাসজিদে ইজাবাহ, ১০। মদীনা ইসলামী বিশ্ব বিদ্যালয়। এছাড়াও রয়েছে আরও অনেক দর্শনীয় স্থান।



 



ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কার্যসমূহ :



(১) সেলাইযুক্ত কাপড় বা জুতা পরিধান করা যেমন- জামা, পায়জামা, টুপি, গেঞ্জি, মোজা, আচকান, দস্তানা ইত্যাদি। তবে মহিলাগণ সেলাই করা কাপড় পরিধান করিতে পারিবে। (২) ঘুমন্ত কিংবা জাগ্রত অবস্থায়, ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত সকল অবস্থায় মস্তক অথবা চেহারা আবৃত করা। মহিলাগণ মাথায় কাপড় রাখিবে কিন্তু চেহারায় কাপড় রাখিবে না। (৩) এমন জুতা ব্যবহার করা যাহা দ্বারা পায়ের মধ্যবর্তী হাড় ঢাকা পড়িয়া যায়। মহিলাগণ যে কোন ধরণের জুতা ব্যবহার করিতে পারিবে। স্পঞ্জ স্যান্ডেল ব্যবহার করা উত্তম। (৪) চুল কাটা বা ছিড়িয়া ফেলা, ক্ষোরকার্য করা। (৫) নখকাটা, (৬) ঘ্রানযুক্ত তৈল বা কোন প্রকার খুশবু বা সুগন্ধী ব্যবহার করা। (৭) স্ত্রী সহবাস কিংবা যৌন উত্তেজনামূলক কোনরূপ আলোচনা ও কর্ম। (৮) স্থলজ প্রাণী শিকার করা বা এই বিষয়ে কোনরূপ সহযোগিতা করা। উকুন মারা, ছারপোকা মশা মাছিসহ কোন জীবজন্তু হত্যা করা বা মারা। (৯) সঙ্গী-সাথীদের সঙ্গে বা অপর কাহারো সঙ্গে ঝগড়া বিবাদ করা বা যুদ্ধ করা। (১০) চুল দাড়িতে চিরুনী বা আঙ্গুলী চালনা করা যাতে ছিড়ার আশংকা থাকে। (১১) শরীরে সাবান লাগানো। (১২) পাপ কর্ম এমনিতেও হারাম কিন্তু ইহরাম অবস্থায় তাহা আরো জঘন্যতম অপরাধ।



মহিলাদের মাহরাম:মহিলাদের জন্য স্বামী একই সাথে হজে না গেলে শরীয়ত সম্মত মাহরাম অর্থাৎ যাদের সঙ্গে বিবাহ যায়েজ বা বৈধ নয় তাদের তালিকা নিম্নরূপ :১.আপন বাবা, ২.আপন ভাই, ৩.আপন ছেলে, ৪.আপন মামা, ৫.আপন চাচা, ৬.আপন ভাতিজা, ৭.আপন ভাগনে, ৮। আপন শ্বশুর, ৯.আপন মেয়ের জামাই, ১০.আপন নানা, ১১.সৎ ছেলে, ১২.সৎ বাবা, ১৩.আপন নাতী, ১৪.আপন দাদা।



আরাফার ময়দানের পরিচিতি: আরাফার ময়দান। একটি ইতিহাস, একটি মর্যাদাপূর্ণ ময়দান। একটি ফরজ ইবাদতের কেন্দ্রস্থল। হাদিসে বলা হয়েছে, 'আরাফার ময়দানে অবস্থানই হচ্ছে হজ'। ৯ জিলহজ (বাংলাদেশ সময় ৮ জিলহজ)। হাজীরা বাদ ফজর মিনা থেকে আরাফার ময়দানের দিকে রওনা হয়েছেন। হজের ফরজগুলোর মাঝে এ ময়দানে অবস্থান করা অন্যতম। এ ময়দানে নির্ধারিত দিনে হাজীদের অবস্থান না করলে হজই আদায় হবে না। এতেই স্থানটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য ফুটে উঠে। আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এ ময়দানেই দিয়েছেন বিদায় হজের ভাষণ। তিনপাশে পাহাড়ে ঘেরা এ ময়দানটিতে অবস্থান তাৎপর্য কেন এতো বেশি? জেনে নেয়া যাক এর আদ্যোপান্ত।



আরাফার ময়দান কোথায়? পবিত্র নগরী মক্কা থেকে ১৩-৪৪ কিলোমিটার পূর্বে জাবালে রহমতের পাদদেশে আরাফার ময়দান অবস্থিত। এর দৈর্ঘ এবং প্রস্থ যথাক্রমে দুই কিলোমিটার। ঐতিহাসিক এ ময়দানটি তিন দিকে পাহাড় বেষ্টিত। এ ময়দানের দক্ষিণ পাশ ঘেঁষে রয়েছে মক্কা-হাদাহ-তায়েফ রিং রোড। এ রোডের দক্ষিণ পাশেই আবেদি উপত্যকায় মক্কার ঐতিহাসিক 'উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়' অবস্থিত। উত্তরে সাদ পাহাড়। সেখান থেকে আরাফার ময়দানের সীমানাও প্রায় ১ কিলোমিটার। সেখান থেকে দক্ষিণে গিয়ে মসজিদে নামিরায় আরাফার ময়দানের সীমানা শেষ হয়েছে।



 



আরাফা ময়দানের ইতিহাস : আরাফার ময়দানের ইতিহাস হজরত আদম (আঃ) ও বিবি হাওয়া (আঃ) এর সঙ্গে জড়িত। আদম (আঃ) ও হাওয়া (আঃ) মহান আল্লাহর নির্দেশে বেহেশত থেকে বের হওয়ার পর পৃথিবীতে সর্বপ্রথম তাদের পরস্পর সাক্ষাৎ এই আরাফাত ময়দানে হয়। আদম (আঃ) আরাফাত ময়দানে জাবালে রহমতের ওপর বিশ্রাম নেওয়ার উদ্দেশ্যে অবস্থানকালে দেখতে পান, হাওয়া (আঃ) জেদ্দার দিক থেকে আরাফাতের ময়দানের দিকে আসছেন। তখন আদম (আঃ) দেঁৗড়ে যেয়ে তাকে জড়িয়ে ধরেন এবং অঝোরে কাঁদতে থাকেন। এ সময় আদম ও হাওয়া (আঃ) আসমানের দিকে তাকান। অতঃপর মহান আল্লাহতা'য়ালা তাদের দৃষ্টি থেকে পর্দা ওঠিয়ে দিলে তাদের দৃষ্টি আল্লাহর আরশের ওপর গিয়ে পড়ে। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'অত:পর আদমকে তার প্রতিপালক কতিপয় বাক্য শিক্ষা দেন। এতে রব তার প্রতি মনোযোগী হন, নিশ্চয়ই তিনি তওবা কবুলকারী ও দয়ালু। ' (সূরা বাকারা : ৩৭)। এছাড়াও আমাদের নবী (সাঃ) বিদায় হজের ভাষণ এ ময়দান সংলগ্ন জাবালে রহমত পাহাড়ে দাঁড়িয়ে দিয়েছিলেন। একারণেও স্থানটি উম্মতে মুহাম্মদির কাছে স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান।



আরাফার ময়দানে অবস্থানের বিধান : হাজীদের জন্য আরাফার ময়দানে অবস্থান করা ফরজ। ৯ জিলহজ সূর্য ঢলা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফার ময়দানে হজের নিয়তে কিছুক্ষণ অবস্থান করলেই এ ফরজ আদায় হয়ে যাবে। তবে সূর্যাস্তের আগে কোনোভাবেই আরাফার ময়দানের সীমানা ত্যাগ করা যাবে না। না হয় দম আদায় ওয়াজিব হবে। নির্ধারিত সময়ের আগে ও পরে আরাফার ময়দানে অবস্থান করলে হজের বিধান পালন হবে না। তবে আরাফাহ দিবসের রাতে আরাফার ময়দানে অবস্থান করা সুন্নত।



 



আরাফার ময়দানের আমল : ৯ জিলহজ বাদ ফজর থেকেই আরাফার ময়দানের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রত্যেক হাজীকে এ দিন সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়ার আগেই অর্থাৎ জোহরের আগেই এসে হাজির হওয়া আবশ্যক। এ ময়দানে প্রদত্ত খোতবা শ্রবণ করে আল্লাহ তাআলার দরবারে দোয়া ও ইসতেগফারের মাধ্যমে দিনটি অতিবাহিত করতে হয়। এ দিনটি মহান আল্লাহ তাআলার নিকট অন্য দিনগুলোর থেকে আলাদা এবং এ দিনের ইবাদাত-বন্দেগির সাওয়াব অন্য দিনের তুলনায় দিগুণ।



আরাফাতের ময়দানে হজ পালনকারীদের জন্য রয়েছে কিছু করণীয়। যা পালন করা অত্যন্ত সাওয়াবের কাজ- (১) মিনায় ফজরের নামাজ আদায় করে একনিষ্ঠ তাওবার সঙ্গে আরাফাতের ময়দানের দিকে রওয়ানা হওয়া। (২) মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে আসার নিয়তে গোসল করা; সম্ভব না হলে ওজু করে আরাফায় প্রবেশ করা। (৩) ৯ জিলহজ সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ার আগেই অর্থাৎ ১২টার পর থেকে সূর্যাস্ত (সন্ধ্যা) পর্যন্ত পুরো সময় অবস্থান করা ওয়াজিব। (৪) নামাজের ওয়াক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মসজিদে নামিরাসহ আরাফাতের ময়দানের যেকোনো জায়গায় অবস্থান করা এবং নিজ নিজ জায়গায় নামাজ আদায় করা। অর্থাৎ জোহরের সময় জোহর এবং আসরের ওয়াক্তে আসর নামাজ আদায় করার এবং দোয়া ইসতেগফার করা। জামাতে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে মসজিদে নামিরায় জোহর ও আসরের জামাত এক আজানে দুই ইকামাতে (জময়ে' তাক্বদিম) একত্রে আদায় করলে একত্রে দুই ওয়াক্ত আদায় করা করা যাবে। কিন্তু তাবুতে বা অন্য কোনো স্থানে একত্রে আদায় না করে আলাদা আলাদা আদায় করা। (৫) আরাফার দিনে দুই হাত উত্তোলন করে বেশি বেশি দোয়া করা। বিশেষ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামসহ পূর্ববর্তী নবী রাসুলগণ যে দোয়া পাঠ করেছেন, তা পাঠ করা। আরাফার ময়দানের অন্যতম দোয়া হলো, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুওয়া আলা কুলি্ল শাইয়িন ক্বাদির। ' (৬) পঞ্চ ইন্দ্রিয় তথা চোখ, কান, নাক, জিহ্বা তথা স্পর্শসহ যাবতীয় হারাম কাজ থেকে বিরত থাকা। হাদিসের পরিভাষায় যে ব্যক্তি তার কান, চোখ ও জিহ্বাকে সঠিক কাজে ব্যয় করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দিবেন। (৭) বিশেষ করে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও বিশ্বনবীর প্রতি দরূদ প্রেরণ হলো আরাফাতের ময়দানের সর্বোত্তম আমল। (৮) সম্ভব হলে আরাফাতের ময়দানে সিজদায় দোয়া ও ইসতেগফারের মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করা। (৯) সূর্যাস্তের পর সঙ্গে সঙ্গে মাগরিব না পড়ে মুজদালিফার দিকে রওয়ানা হওয়া।



অন্যান্যদের জন্য আরাফা দিবসের আমল : (১) রোজা পালন করা। এটা এদিনের সর্বোত্তম আমল। সহিহ মুসলিম শরিফের এক হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, 'আরাফার দিবসের রোজা, পূবের্র এক বছর ও পরের এক বছরের গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়। ' তবে এ রোজা হাজীদের জন্য নয়, যারা হজে যায়নি তাদের জন্য। হাজীদের জন্য আরাফার দিবসে রোজা রাখা মাকরুহ। হজরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বিদায় হজের সময় আরাফার দিবসে রোজা রাখেননি। বরং সবার সম্মুখে তিনি দুধ পান করেছেন। (মুসলিম) ইকরামা থেকে এক বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেন, আমি আবু হুরায়রা (রা.) এর বাড়িতে প্রবেশ করে আরাফার দিবসে আরাফার ময়দানে থাকা অবস্থায় রোজা রাখার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আরাফার ময়দানে আরাফার দিবসের রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন। (মুসনাদে আহমদ: ২/৩০৪) (২) তাকবিরে তাহরিমাসহ জামাতে নামাজ আদায় করা। বেশি বেশি সিজদা করা অর্থাৎ নফল নামাজ পড়া। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, 'বেশি বেশি সিজদা করা তোমার দায়িত্ব। কেননা, তুমি যদি আল্লাহর জন্য একটি সিজদা করো তাহলে আল্লাহ তোমার একটি মর্যাদা বাড়িয়ে দিবেন, আর একটি গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। ' (সহিহ মুসলিম: ৭৮৮) (৩) পুরুষের উচ্চ আওয়াজে একাকি তাকবির পাঠ করা। নারীরা নিম্নস্বরে তাকবির বলবে। (৪) আরাফার দিনে বেশি বেশি দোয়া পাঠ করা। আরাফার দিনের উত্তম দোয়া হলো, যেগুলো রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ও পূর্ববর্তী নবীরা পাঠ করেছেন। ওই সব দোয়ার অন্যতম হলো, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া আলা কুলি্ল শাইয়্যিন ক্বাদির। ' এ ছাড়া আরাফার দিনের দোয়ায় আল্লাহর কাছে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার দোয়াও করা। আলেমরা 'সুবহানাল্লাহ, ওয়াল হামদুলিল্লাহ, ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার' বেশি বেশি পাঠ করার কথা বলেন। (৫) চোখ, কান ও জিহ্বাকে হারাম কাজ থেকে বিরত রাখা। হজরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, 'আরাফার দিবসে যে তার কান, চোখ, জিহ্বাকে সঠিক কাজে ব্যয় করবে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। ' (শোয়াবুল ঈমান: ৩৭৬৬) ৬. কোরআনে কারিম তেলাওয়াত করা। কোরআনের অর্থ ও তাফসির পাঠ করা। ৬. হজরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর প্রতি দরূদ পাঠ করা। ৮. সৎ কাজের আদেশ করা ও অসৎ কাজ থেকে অন্যকে বিরত রাখা।



পবিত্র কোরআন হাদিসের আলোকে আরাফা দিবসের ফজিলত : পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে, শপথ উষার। শপথ ১০ রজনীর, শপথ জোড় ও বেজোড়ের। (সূরা ফজর: আয়াত নং-১-৩)। এ আয়াতে জোড় বলতে ঈদুল আজহার দিন আর বেজোড় বলতে আরাফা দিবসকে বুঝানো হয়েছে। হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে হজরত মুহাম্মাদ (সাঃ) জোড় ও বেজোড়ের এ ব্যাখ্যাই করেছেন (তাফসিরে ইবনে কাছীর ও মাআরিফুল কোরআন), অবশ্য জোড় বেজোড়ের অন্যান্য ব্যাখ্যাও রয়েছে। হাদীসে আরাফার দিবসের অনেক ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে। আরাফার ময়দানের হাজীদের নিয়ে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ফেরেশতাদের কাছে গর্ব করেন। এ দিন হাজীদের ওপর বিশেষভাবে মহান আল্লাহর রহমত বর্ষণ হয় এবং জাহান্নামিদের অধিক পরিমাণে মুক্তি দেওয়া হয়। এছাড়াও বান্দার গোনাহ মার্জনার কারণে এই দিন শয়তান চরমভাবে অপমানিত হয়। তাই আরাফাত আল্লাহ প্রদত্ত একটি শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, যখন আরাফাতের দিন হয়, তখন মহান আল্লাহ তায়ালা এই নিকটতম আসমানে আসেন। হাজীদের নিয়ে ফেরেশতাদের কাছে গর্ব করেন এবং বলেন যে, দেখ আমার বান্দাদের দিকে, তারা আমার কাছে এসেছে এলোমেলো কেশে ধুলাবালি গায়ে, ফরিয়াদ করতে করতে বহুদূর-দূরান্ত থেকে। আমি তোমাদের সাক্ষী করছি, আমি তাদের ক্ষমা করে দিলাম। তখন ফেরেশতারা বলেন, হে আল্লাহ! অমুককে তো বড় গোনাহগার বলা হয়। আর অমুক পুরুষ ও অমুক স্ত্রীকেও। প্রত্যুত্তরে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমি তাদেরও ক্ষমা করে দিলাম। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, এমন কোনো দিন নেই, যাতে জাহান্নাম থেকে অধিক মুক্তি দেওয়া হয়ে থাকে আরাফাতের দিন অপেক্ষা। (শরহে সুন্নাহ)।



রাসূল (সাঃ) আরো বলেন, শয়তানকে কোনো দিন এত অধিক অপমানিত, ধিকৃত, হীন ও রাগান্বিত দেখা যায়া না আরাফাতের দিন অপেক্ষা। যেহেতু সে দেখতে থাকে যে, বান্দার প্রতি আল্লাহর রহমত নাজিল হচ্ছে এবং তাদের বড় বড় গোনাহ ক্ষমা করা হচ্ছে। কিন্তু যা দেখা গিয়েছিল বদরের দিনে; তা ব্যতীত। কেউ জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! বদরের দিন কী দেখা গিয়েছিল? উত্তরে তিনি বলেন, সেদিন যখন সে নিশ্চিতরূপে দেখছিল যে, জিবরাইল (আঃ) ফেরেশতাদের সারিবন্দি করছেন (মালেক মুরসালরূপে)।



আরাফাত দিবস দোয়া কবুল হওয়ার সময় : এ দিনের দোয়াই শ্রেষ্ঠ দোয়া। এ মর্মে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, সব দোয়ার শ্রেষ্ঠ দোয়া হলো আরাফাতের দিনের দোয়া। (তিরমিজি : ৩৯৩৪)। হাদিসে আরো আছে, আরাফাতের দিন বিকালে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) স্বীয় উম্মতদের (হাজীদের) জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করলেন। উত্তর দেওয়া হলো অন্যের প্রতি জুলম ব্যতীত সব গোনাহ আমি ক্ষমা করে দিলাম। কিন্তু আমি মজলুমের পক্ষে তাকে পাকড়াও করব। (ইবনে মাজাহ : ৩১২৭)।



আরাফার ময়দানে খুৎবা : হাজীদের উদ্দেশ্যে এবার হজের খুৎবা দিবেন মসজিদে নববীর সিনিয়র ইমাম ও খতিব, মদিনা সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি শায়খ ড. হুসাইন আলে শায়খ। আরাফাতের ময়দানে যোহরের ওয়াক্তে এক আজান ও দুই একামতে দুই রাকাত করে যোহর ও আসর একসঙ্গে আদায় করা হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল। এই নামাজের পরই ঐতিহাসিক আরাফাত ময়দানের মসজিদে নামিরার মিম্বরে দাঁড়িয়ে খুতবা দেন হজের খতিব। সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ শায়খ হুসাইনকে এ বছর আরাফার খতিব নিয়োগ করে রাজকীয় ডিক্রি জারি করেন। নিয়মানুযায়ী রাষ্ট্র প্রধান বা তার নিযুক্ত প্রতিনিধিই কেবল এ খুতবা দিতে পারেন। ইসলামের ইতিহাসে মহানবী (সাঃ) সর্বপ্রথম অষ্টম হিজরিতে মক্কা বিজয়ের পর হজের আমির নিযুক্ত করেন স্থানীয় সাহাবি হজরত আত্তাব বিন উসাইদ উমাওয়িকে (রাঃ)। পরের বছর নবম হিজরি মদিনা থেকে নিজের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠান হজরত আবু বকর (রাঃ)কে। দশম হিজরিতে বিদায় হজে আরাফার ময়দানে নিজের কসওয়া নামক উটের পিঠে বসে সর্বপ্রথম আরাফার খুতবা দেন হজরত মুহাম্মদ (সাঃ)। তার পর থেকে প্রতি বছর মুসলিম খলিফা বা তার প্রতিনিধি এ খুতবা দিয়ে আসছেন।



আলে সউদ শাসনামলে বাদশাহর প্রতিনিধি হিসেবে ১৩৪৪ হিজরি থেকে ১৩৭৬ হিজরি পযর্ন্ত খুতবা প্রদান করেন শায়খ আবদুল্লাহ বিন হাসান বিন হুসাইন আলে শায়খ, ১৩৭৭ থেকে ১৪০১ হিজরি পযর্ন্ত শায়খ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ বিন হাসান আলে শায়খ, ১৩৯৯ হিজরি শায়খ সালেহ বিন মুহাম্মদ আল লাহিদান, ১৪০২ থেকে ১৪৩৬ হিজরি পযর্ন্ত শায়খ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আলে শায়খ, ১৪৩৭ হিজরিতে শায়খ ড. আবদুর রহমান সুদাইস ও ১৪৩৮ হিজরিতে শায়খ ড. সাদ বিন নাসের শাছারি।



 



 



লেখক : খতিব, কালেক্টরেট জামে মসজিদ ও প্রভাষক (আরবি), মান্দারী আলিম মাদ্রাসা, চাঁদপুর।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৪২৫৩৯
পুরোন সংখ্যা