চাঁদপুর, শুক্রবার ৫ জুলাই ২০১৯, ২১ আষাঢ় ১৪২৬, ১ জিলকদ ১৪৪০
jibon dip
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৩-সূরা নাজম


৬২ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২৯। অতএব যে আমার স্মরণে বিমুখ তুমি তাহাকে উপক্ষো করিয়া চল; সে তো কেবল পার্থিব জীবনই কামনা করে।


৩০। উহাদের জ্ঞানের দৌড় এই পর্যন্ত। তোমার প্রতিপালকই ভালো জানেন কে তাঁহার পথ হইতে বিচ্যুত, তিনিই ভালো জানেন কে সৎপথপ্রাপ্ত।


 


assets/data_files/web

মনের যাতনা দেহের যাতনার চেয়ে বেশি। -উইলিয়াম হ্যাজলিট।


 


ঝগড়াটে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট অধিক ক্রোধের পাত্র।


 


 


ফটো গ্যালারি
যাকাতের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয় মাসায়েল
আহমদ আবদুল্লাহ
০৫ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

যাকাত শব্দটি আরবি। এর আভিধানিক অর্থ হলো পবিত্রতা, পরিশুদ্ধি, উন্নয়ন সাধন, বৃদ্ধি লাভ, আধিক্য ও প্রশংসা। শরীয়তের পরিভাষায় দরিদ্র ও অভাবীদেরকে ধনীদের বছর শেষে দেয়া নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের স্বত্ব অর্পণ করাকে যাকাত বলা হয়। যাকাত কেবল ইসলামী অর্থ ব্যবস্থার একটি প্রধান ভিত্তি নয়, বরং তা ইসলামী জীবন ব্যবস্থারও একটি মৌলিক ভিত্তি। পবিত্র কোরআনের বহু জায়গায় নামাজ ও যাকাতের বিষয় অবিচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত হয়েছে। এর তাৎপর্য হলো, নামাজ যেমন ইবাদত তেমনি যাকাতও ইবাদত। নামাজ সরাসরি আল্লাহর ইবাদত তথা শারীরিক ইবাদত আর যাকাত জনসেবার মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত যাকে ইবাদতে মালী বলা হয়। নামাজ দ্বারা অপরাধ ও দুর্নীতিমুক্ত তাক্ওয়াভিত্তিক সমাজ বিনির্মিত হয় আর যাকাত দ্বারা দরি দ্র ও ক্ষুধামুক্ত হার্দিক সমাজ গঠিত হয়। বস্তুত ইসলামে নামাজ ও যাকাতের মাঝে পার্থক্য করার সুযোগ নেই। যাকাত আদায় মুমিনদের একটি অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য। যে ব্যক্তির ওপর যাকাত ওয়াজিব সে যদি যাকাত আদায় না করে, তবে সে কোনোভাবেই মুমিন হওয়ার যোগ্য নয়। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমাদের বন্ধু তো আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও ইমানদারগণ। যাদের বৈশিষ্ট্য হলো, তারা নামাজ আদায় করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহর সামনে মাথা নত করে। (সূরা মায়িদা: ৫৫)। যাকাত আদায় না করাকে মুশরিকদের কাজের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ' আর মুশরিকদের জন্যে রয়েছে দুর্ভোগ, যারা যাকাত দেয় না। (সূরা হামিম সেজদা: ৬-৭)। যাকাত না দেয়ার শাস্তির ব্যাপারে রাসুল (সাঃ) বলেন, আল্লাহ তায়ালা যাকে সম্পদ দান করেছেন আর সে তার যাকাত দেয় না, কেয়ামতের দিন ঐ সম্পদকে দু'টি বিষের থলে বিশিষ্ট মাথায় টাকপড়া বিষধর সর্পে পরিণত করা হবে, যা তাকে পেঁচিয়ে তার চোয়ালে আঘাত করে করে বলতে থাকবে, আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার গচ্ছিত ধন। (বুখারী: ১৪০৩)।

যাকাত আদায়ের শর্তাবলি :

১. মুসলমান হতে হবে। ২. বালেগ হওয়া। কাজেই নাবালেগের উপর যাকাত ফরজ নয়। ৩. বুদ্ধিসম্পন্ন হওয়া। পাগলের উপর যাকাত ফরজ নয়। ৪. স্বাধীন হওয়া। গোলামের উপর যাকাত ফরজ নয়। ৫. নেসাব পরিমাণ মাল থাকা। ৬. উক্ত মালের পূর্ণ মালিক হওয়া। ৭. উক্ত মাল তার মৌলিক প্রয়োজন সমূহের অতিরিক্ত হওয়া। ৮. উক্ত নেসাবের উপর পূর্ণ এক বছর অতিক্রান্ত হওয়া।

যেসব সম্পদের উপর যাকাত ফরজ :

১. সব ধরনের সম্পদ ও সামগ্রীর ওপর যাকাত ফরজ হয় না। সোনা-রূপা, টাকা-পয়সা, পালিত পশু নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী এবং ব্যবসার পণ্যে যাকাত ফরজ হয়।

২. সোনা-রূপার অলংকার সর্বদা বা কালেভদ্রে ব্যবহৃত হোক কিংবা একেবারেই ব্যবহার না করা হোক সর্বাবস্থাতেই তার যাকাত দিতে হবে।

৩. অলঙ্কার ছাড?া সোনা-রূপার অন্যান্য সামগ্রীর ওপরও যাকাত ফরজ হয়।

৪. জামা-কাপড? কিংবা অন্য কোনো সামগ্রীতে সোনা-রূপার কারুকাজ করা থাকলে তা-ও যাকাতের হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং যে পরিমাণ সোনা-রূপা কারুকাজে লেগেছে অন্যান্য যাকাতযোগ্য সম্পদের সঙ্গে তারও যাকাত দিতে হবে।

সোনা-রূপা ছাড?া অন্য কোনো ধাতুর অলঙ্কার ইত্যাদির উপর যাকাত ফরজ নয়। তদ্রূপ হিরা, মণি-মুক্তা ইত্যাদি মূল্যবান পাথর ব্যবসাপণ্য না হলে সেগুলোতেও যাকাত ফরজ নয়।

৫. মৌলিক প্রয়োজন থেকে উদ্ধৃত্ত টাকা-পয়সা নিসাব পরিমাণ হলে এবং এক বছর স্থায়ী হলে বছর শেষে তার যাকাত আদায় করা ফরজ হয়।

তদ্রূপ ব্যাংক ব্যালেন্স, ফিঙ্ড ডিপোজিট, বন্ড, সার্টিফিকেট ইত্যাদিও নগদ টাকা-পয়সার মতোই। এসবের ওপরও যাকাত ফরজ হয়।

৬. টাকা-পয়সা ব্যবসায় না খাটিয়ে রেখে দিলেও তাতে যাকাত ফরজ হয়।

৭. হজ্বের উদ্দেশ্যে কিংবা ঘর-বাড়ি নির্মাণ, ছেলে-মেয়ের বিয়ে-শাদি ইত্যাদি প্রয়োজনের জন্য যে অর্থ সঞ্চয় করা হচ্ছে তা-ও এর ব্যতিক্রম নয়। সঞ্চিত অর্থ পৃথকভাবে কিংবা অন্যান্য যাকাতযোগ্য সম্পদের সাথে যুক্ত হয়ে নিসাব পরিমাণ হলে এবং নিসাবের ওপর এক বছর অতিবাহিত হলে যাকাত ফরজ হবে। বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তা যদি খরচ হয়ে যায় তাহলে যাকাত ফরজ হবে না।

৮. দোকান-পাটে যা কিছু বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাখা থাকে তা বাণিজ্য-দ্রব্য। এর মূল্য নিসাব পরিমাণ হলে যাকাত আদায় করা ফরজ।

৯. ব্যবসার নিয়তে কোনো কিছু ক্রয় করলে তা স্থাবর সম্পত্তি হোক যেমন জমি-জমা, ফ্ল্যাট কিংবা অস্থাবর যেমন মুদী সামগ্রী, কাপড?-চোপড?, অলঙ্কার, নির্মাণ সামগ্রী, গাড়ি, ফার্নিচার, ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী, হার্ডওয়ার সামগ্রী, বইপুস্তক ইত্যাদি, তা বাণিজ্য-দ্রব্য বলে গণ্য হবে এবং মূল্য নিসাব পরিমাণ হলে যাকাত দেওয়া ফরজ হবে।

নিসাবের বিবরণ

১. স্বর্ণের ক্ষেত্রে যাকাতের নিসাব হলো বিশ মিসকাল। আধুনিক হিসাবে সাড়ে সাত ভরি। ২. রূপার ক্ষেত্রে নিসাব হল দু'শ দিরহাম। আধুনিক হিসাবে সাড়ে বায়ান্ন তোলা। এ পরিমাণ সোনা-রূপা থাকলে যাকাত দিতে হবে। ৩. প্রয়োজনের উদ্ধৃত্ত টাকা-পয়সা বা বাণিজ্য-দ্রব্যের মূল্য যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমপরিমাণ হয় তাহলে যাকাতের নিসাব পূর্ণ হয়েছে ধরা হবে এবং এর যাকাত দিতে হবে। ৪. যদি সোনা-রূপা, টাকা-পয়সা কিংবা বাণিজ্য-দ্রব্য- এগুলোর কোনোটি পৃথকভাবে নিসাব পরিমাণ না থাকে, কিন্তু এসবের একাধিক সামগ্রী এ পরিমাণ রয়েছে, যা একত্র করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার সমমূল্য বা তার চেয়ে বেশি হয় তাহলে এক্ষেত্রে সকল সম্পদ হিসাব করে যাকাত দিতে হবে। কারো কাছে নিসাবের কম সোনা এবং নিসাবের কম রূপা আছে, কিন্তু যে পরিমাণ সোনা আছে তার মূল্য মজুদ রূপার সাথে যোগ করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার সমমূল্য হয় বা তার চেয়ে বেশি হয়। তাহলে সোনা-রূপার মূল্য হিসাব করে যাকাত আদায় করতে হবে। কারো কাছে কিছু স্বর্ণালঙ্কার আর কিছু উদ্বৃত্ত টাকা কিংবা বাণিজ্যদ্রব্য আছে যা একত্র করলে সাডে বায়ান্ন তোলা রূপার সমমূল্য বা তার চেয়ে বেশি হয়। এর যাকাত দিতে হবে। কারো কাছে নিসাবের কম রূপা আরো কিছু উদ্বৃত্ত টাকা বা বাণিজ্যদ্রব্য আছে যা একত্র করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার সমমূল্য বা তার চেয়ে বেশি হয়। এগুলোরও যাকাত দিতে হবে। ৫. নিসাবের অতিরিক্ত সোনা-রূপা, টাকা-পয়সা ও বাণিজ্যদ্রব্যের যাকাত আনুপাতিক হারে দিতে হবে। ৬. কারো কাছে সোনা-রূপা, টাকা-পয়সা কিংবা বাণিজ্যদ্রব্য পৃথকভাবে বা সম্মিলিতভাবে নিসাব পরিমাণ ছিলো, বছরের মাঝে এ জাতীয় আরো কিছু সম্পদ কোনো সূত্রে পাওয়া গেলো এক্ষেত্রে নতুন প্রাপ্ত সম্পদ পুরাতন সম্পদের সঙ্গে যোগ হবে এবং পুরাতন সম্পদের বছর পূর্ণ হওয়ার পর সমুদয় সম্পদের যাকাত দিতে হবে। বছরের মাঝে যা যোগ হয়েছে তার জন্য পৃথক বছর পূর্ণ হওয়া লাগবে না। ৭. বছরের শুরু ও শেষে নিসাব পূর্ণ থাকলে যাকাত আদায় করতে হবে। মাঝে নিসাব কমে যাওয়া ধর্তব্য নয়। অবশ্য বছরের মাঝে সম্পূর্ণ সম্পদ নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় তবে ঐ সময় থেকে নতুন করে বছরের হিসাব আরম্ভ হবে এবং এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর যাকাত আদায় করতে হবে।

যেসব জিনিসের ওপর যাকাত ফরজ নয়

৮. নিজ ও পোষ্য পরিজনের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও বাহনের ওপর যাকাত ফরজ নয়। ৯. গৃহের আসবাবপত্র যেমন খাট-পালঙ্ক, চেয়ার-টেবিল, ফ্রিজ, আলমারি ইত্যাদি এবং গার্হস্থ সামগ্রী যেমন হাড়ি-পাতিল, থালা-বাটি, গ্লাস ইত্যাদির উপর যাকাত ফরজ নয়। তা যত উচ্চ মূল্যেরই হোক না কেন। তবে এক্ষেত্রে মনে রাখাতে হবে য, যেসব বস্তুর উপর যাকাত আসে না সেগুলোতে যদি সোনা-রুপা সংযুক্ত থাকে তাহলে অন্যান্য যাকাতযোগ্য সম্পদের সাথে এই সংযুক্ত সোনা-রূপারও যাকাত ফরজ হবে। ১০. পরিধেয় বস্ত্র, জুতা যদি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশিও থাকে তবুও তাতে যাকাত ফরজ হবে না। ১১. দোকান-পাট বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এমন আসবাবপত্র যা ব্যবসাপণ্য নয়, তার ওপর যাকাত ফরজ নয়। তবে ফার্নিচারের দোকানে বিক্রির উদ্দেশ্যে যেসব ফার্নিচার রাখা থাকে তা যেহেতু বাণিজ্যদ্রব্য তাই এসবের ওপর যাকাত ফরজ হবে। ১২. ঘর-বাড়ি বা দোকানপাট তৈরি করে ভাড?া দিলে তাতেও যাকাত ফরজ নয়। তবে এসব ক্ষেত্রে ভাড?া বাবদ যে অর্থ পাওয়া যাবে। উদ্ধৃত্ত টাকা-পয়সা নিসাব পরিমাণ হলে এবং এক বছর স্থায়ী হলে বছর শেষে তার যাকাত আদায় করা ফরজ হয়। ১৩. ভাড?া দেওয়ার উদ্দেশ্যে ঘর-বাড়ি বা অন্য কোনো সামগ্রী যেমন ডেকোরেটরের বড? বড? ডেগ, থালা-বাটি ইত্যাদি ক্রয় করলে তার ওপরও যাকাত ফরজ নয়। তবে ভাড?া বাবদ প্রাপ্ত অর্থের উপর যাকাত আসবে। ১৪. গরু-মহিষ। নিজের কাজে খাটে এবং বিচরণশীল বা 'সায়েমা' নয় এমন গরু-মহিষ বাদ দিয়ে ৩০টি হলেই তার ওপর যাকাত দিতে হবে। যাকাতের হার হবে প্রতি ৩০টির জন্য একটি এক বছর বয়সের গরু এবং প্রতি ৪০টি বা তার অংশের জন্য দুই বছর বয়সের একটি গরু। ১৫. ছাগল-ভেড়া। ছাগল-ভেড়ার সংখ্যা ৪০টি হলে একটি, ১২০টি পর্যন্ত দুটি, ৩০০টি পর্যন্ত তিনটি এবং এর ওপরে প্রতি ১০০টি ও তার অংশের জন্য আরো একটি করে ছাগল যাকাত দিতে হবে।

শেয়ারের যাকাত :

যারা শেয়ার ক্রয় করেন তারা মুলত দুটি উদ্দেশ্যে শেয়ার ক্রয় করে থাকেন। এক. বার্ষিক ডিভিডেন্ড (লভ্যাংশ) গ্রহনের উদ্দেশ্যে স্টক এঙ্চেঞ্জ থেকে শেয়ার ক্রয় করেন। অর্থাৎ কোম্পানির অএগ থেকে যে লভ্যাংশ ঘোষণা হবে তাই তাদের উদ্দ্যেশ্য। দুই. যারা শেয়ারকে অন্যান্য পণ্যের মত লাভের আশায় বেচা-কেনা করেন। তাদের উদ্দ্যেশ্য থাকে আশানুরূপ দর পেলেই তার বিক্রি করে দিবে। বাৎসরিক লভ্যাংশ এদের মুখ্য উদ্দেশ্য থাকে না। এরা মূলত ঈধঢ়রঃধষ এধরহ করে থাকে।

উপরোক্ত দুই শ্রেণীর শেয়ার হোল্ডারদের যাকাতের হুকুম ভিন্ন ভিন্ন। যারা ক্যাপিটাল গেইন করেন তথা শেয়ারকে অন্যান্য পণ্যের মতো ক্রয়-বিক্রয় করেন তাদের যাকাতের হুকুম হলো, তারা শেয়ারের বর্তমান বাজার দর এর উপর যাকাত আদায় করবেন। ফেস ভ্যালুর উপর নয়। অর্থাৎ যে দিন তার যাকাতের অর্থবছর পূর্ণ হবে সেদিন ঐ শেয়ারের মার্কেট ভ্যালু কত? তার উপর যাকাত আদায় করবে। আর যারা বার্ষিক লভ্যাংশের উদ্দেশ্যে শেয়ার ক্রয় করে তাদের যাকাতের হুকুম হলো তারা প্রথমে কোম্পানীর ব্যালেন্স শিট দেখে কোম্পানীর স্থায়ী সম্পদ ও যাকাতযোগ্য সম্পদের অনুপাত বের করবেন। কোম্পানির স্থায়ী সম্পদ হলো বিল্ডিং, মেশিন, জমি, গাড়ি ইত্যাদি। অর্থাৎ যেগুলো বিক্রি করা হয় না। আর যাকাতযোগ্য সম্পদ হলো নগদ টাকা, ব্যবসায়ীক সামগ্রী ও বিভিন্ন পর্যায়ের কাঁচামাল ইত্যাদি। অতঃপর কোম্পানীর মোট সম্পদের যতো পার্সেন্ট যাকাতযোগ্য হয় সে তার শেয়ারের বাজার দরের ততপার্সেন্ট এর যাকাত আদায় করবে। ধরা যাক একটি কোম্পানীর একটি শেয়ারের ফেস ভ্যালু ১০০ টাকা। আজ তার বাজার দর ২০০ টাকা। এদিকে কোম্পানীর স্থায়ী সম্পদ মোট সম্পদের ২০পার্সেন্ট। আর নগদ টাকা, ব্যবসায়ীক পন্য, কাঁচামাল ইত্যদি তথা যাকাত যোগ্য সম্পদ ৮০ পার্সেন্ট। তাহলে যিনি ক্যাপিটাল গেইন এর উদ্দেশ্য শেয়ার ক্রয় করেছেন তিনি আজ যাকাত দিলে ২০০টাকার যাকাত দিবেন। আর যিনি লভ্যাংশের উদ্দেশে শেয়ার ক্রয় করেছেন তিনি আজ যাকাত দিবেন [২০০-(২০*২)] ১৬০ টাকার। আর যদি কোম্পানীর ব্যালেন্স শীট পাওয়া না যায় বা কোম্পানীর আর্থিক অবস্থা জানা না যায় তবে সতকর্তামূলক পূর্ণ বাজার দরের যাকাত দিয়ে দিবে।

বন্ডের যকাত :

বন্ড মূলত ঋণ এর সার্টিফিকেট। বন্ডসহ যবতীয় অর্থনৈতিক সনদ এর যাকাত আদায় করা ওয়াজিব। কেননা এগুলো নগদ অর্থ এর হুকুমে।

প্রভিডেন্ট ফান্ডের যাকাত :

সরকারি বা বেসরকারি চাকুরিজীবীদের বেতন থেকে জিপি বা সিপি ফান্ডের জন্য বাধ্যতামুলক যে অংশ কর্তন করা হয় তা উত্তোলনের পূর্বে চাকুরিজীবীর মালিাকানায় আসে না। তাই ফান্ডে থাকাকালীন উক্ত টাকার উপর যাকাত আসবে না।এবং হস্তগত হওয়ার পরেও বিগত বছরের যাকাত দিতে হবে না। তবে হস্তগত হওয়ার পরে পূর্ব থেকে নেসাবের মালিক না থাকলে উক্ত টাকার উপর এক বছর অতিবাহিত হলে তার উপর যকাত ওয়াজিব হবে। আর পূর্ব থেকে নেসাবের মালিক থাকলে যাকাত হিসাবের সময় উক্ত ফান্ড থেকে প্রাপ্ত টাকারও যাকাত দিতে হবে, সেক্ষেত্রে উক্ত টাকার উপর এক বছর অতিক্রান্ত হওয়া জরুরী নয়। এ হলো বাধ্যতামূলক ফান্ডের হুকুম।

আর যে সব চাকুরিজীবীরা (সরকারি বা বেসরকারি) বাধ্যতামূলকের পাশাপাশি ঐচ্ছিকভাবে টাকা রাখেন বা পূরোটাই ঐচ্ছিকভাবে রাখেন বা সে নিজ উদ্যোগে ঐ ফান্ডের টাকা অন্য কোন ইন্সুরেন্স কোম্পানীতে স্থানান্তর করিয়ে নেন তাদের উক্ত ফান্ডের টাকা যাকাতযোগ্য সম্পদ হিসাবে গন্য হবে।কজেই সে নেসাবের মালিক হলে উক্ত টাকারও যাকাত আদায় করবে।

প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে ঋণের যাকাত :

প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ মূলত তার নিজের। কাজেই যাকাতযোগ্য সম্পদ থেকে এই ঋন বিয়োগ হবে না । সুতরাং প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে ঋন নিলে সে অর্থেরও যাকাত আদায় করতে হবে।

কোম্পানীর রিজার্ভ ফান্ডের যাকাত :

প্রত্যেক কোম্পানী তাদের মুলধনের একটি নির্ধারিত পার্সেন্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংকে রিজার্ভ ফান্ড হিসাবে সংরক্ষিত রাখে। এ টাকার ও যাকাত আদায় করতে হবে। যে সকল শেয়ার হোল্ডার ডিভিডেন্ড এর উদ্দেশ্য শেয়ার ক্রয় করেন তারা কোম্পানীর যাকাতযোগ্য সম্পদ হিসাবের সময় রিজার্ভ ফান্ডেরও হিসাব করবেন। এবং তার শেয়ারের আনুপাতিক হারে (অন্যান্য যাকাতযোগ্য সম্পদসহ) উক্ত রিজার্ভ ফান্ডেরও যাকাত আদায় করবেন।

বীমা বা ইন্সুরেন্স এর যাকাত:

বীমা বা ইন্সুরেন্সের যে কোন স্কীমে প্রদেয় মুলটাকা যাকাতযোগ্য সম্পদ হিসাবে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ উক্ত টাকা এককভাবে বা অন্যান্য যাকাতযোগ্য সম্পদের সাথে মিলে যদি নেসাব পরিমান হয় তবে বছরান্তে তার উপর যাকাত ফরজ হবে। এখানে শুধু যাকাতের হুকুম বলা হলো। বীমা করার শরঈ হুকুম সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি।

ব্যাংক থেকে পাওয়া সূদের যাকাত :

ব্যাংক থেকে বা অন্য যে কোনোভাবে পাওয়া সূদের টাকার উপর যাকাত আসবে না। সূদী চুক্তিকে আবদ্ধ হওয়া ও সূদী টাকা গ্রহণ করা উভয়টিই হারাম। উক্ত টাকা কোনোভাবে হস্তগত হয়ে গেলে মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকলে মালিককে ফিরিয়ে দিবে। অন্যথায় সাওয়াবের নিয়ত ব্যাতীত পুরো টাকা সদকাহ করে দিবে।

বায়নানামার টাকার যাকাত :

জমি, ফ্ল্যাট, বাড়ি ইত্যাদি ক্রয় করার পর বায়না হিসাবে যে আংশিক টাকা দেওয়া হয় তার যাকাত বিক্রেতা আদায় করবে।

ভাড়া বাবদ অগ্রিম প্রদেয় টাকার যাকাত :

দীর্ঘ মেয়াদী ইজারা বা ভাড়ার ভিত্তিতে অগ্রিম যে টাকা দেওয়া হয় তার যাকাত টাকা গ্রহণকারী আদায় করবে।

সিকিউরিটি ও গ্যারান্টি মানির যাকাত :

বর্তমানে বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরীর জন্য জামানত বা সিকিউরিটি বাবদ কিছু টাকা দিতে হয়। নির্দিষ্ট মেয়াদান্তে প্রতিষ্ঠান তাকে উক্ত টাকা ফেরত দেয়। উক্ত টাকার যাকাত টাকা প্রদানকারী আদায় করবে। গ্রহনকারী আদায় করবে না। অনুরূপভাবে ব্যাংকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিকিউরিটি হিসাসে গ্যারান্টি মানি প্রদান করতে হয়। উক্ত টাকা একাউন্ট হোল্ডারের মালিকানাধীন থাকে। নির্দিষ্ট মেয়াদান্তে সে উক্ত টাকা উত্তোলন করতে পারে। এটাকাও যাকাতযোগ্য। যাকাতের হিসাবে সময় অন্যান্য সম্পাদের সাথে এটাকারও হিসাব করে যাকাত আদায় করবে।

ব্যাংক একাউন্টে গচ্ছিত টাকার যাকাত :

ব্যাংকের ব্যক্তি মালিকানাধীন সকল প্রকার একাউন্টের গচ্ছিত টাকা যাকাতযোগ্য। চাই কারেন্ট একাউন্ট হোক বা সেভিংস একাউন্ট হোক বা ফিঙ্ড ডিপোজিট হোক বা দীর্ঘমেয়াদী ডিপোজিট হোক বা স্যালারী একাউন্ট হোক, সর্বপ্রকার একাউন্টের যাকাত আদায় করতে হবে যদি সে নেসাবের মালিক হয়। কাজেই যেদিন তার যাকাতের অর্থ বছর পূর্ণ হবে ঐদিন সে সকল প্রকার একাউন্টের ব্যাংক স্ট্যাটমেন্ট দেখে গচ্ছিত টাকাগুলোর যাকাত হিসাব করে আদায় করবে।

ইম্পোর্টকৃত পণ্যের যাকাত :

ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পণ্য ইম্পোর্ট করে থাকে। এক্ষেত্রে যে সব পন্য তাদের মালিকানায় চলে এসেছে তার বাজার দরের ওপর যাকাত আদায় করবে যদিও উক্ত পণ্য রাস্তায় থাকার কারণে তার কবজায় না আসে। আর যদি পণ্য তার মালিকানায় না আসে বরং টাকা ইনভেষ্ট করেছে কিন্তু এখনো পণ্যের ক্রয়চুক্তি হয়নি তবে শুধু ইনভেষ্টকৃত টাকার যাকাত আদায় করবে।

(চলবে)

আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৫৫২২১
পুরোন সংখ্যা