চাঁদপুর, শুক্রবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২ আশ্বিন ১৪২৬, ২৭ মহররম ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৬ সূরা-ওয়াকি 'আঃ


৯৬ আয়াত, ৩ রুকু', মক্কী


 


২০। এবং তাহাদের পছন্দমত ফলমূল,


২১। আর তাহাদের ঈপ্সিত পাখীর গোশ্ত লইয়া,


২২। আর তাহাদের জন্য থাকিবে আয়তলোচনা হুর,


২৩। সুরক্ষিত মুক্তাসদৃশ্য,


 


 


 


 


 


আগে খাঁটি মানুষ হও, তারপর রাজ্যের মতন কঠিন ব্যাপারের ভার নিও। -আব্দুল জব্বার।


 


পবিত্রতা ঈমানের এক অঙ্গ।


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর প্রতি ভালোবাসা ঈমানের মূল
মাওঃ মোঃ মোশাররফ হোসাইন
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ঈমানই মুমিনের প্রধান গুণ, এক অমূল্য সম্পদ। ঈমানের স্বাদ পেতে হলে কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হতে হয়। তবেই ঈমানের স্বাদ অনুভব করা যায়। সেসব বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অন্যতম হলো রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জগতের সবার চেয়ে বেশি ভালোবাসা। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি মহব্বত রাখা ঈমানের এক অপরিহার্য অংশ। যার হৃদয়ে প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসা নেই, তার হৃদয় অন্ধ, আলোহীন। সে হৃদয় জাহান্নামের উপযুক্ত।



আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, "আপনি বলুন, তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের গোত্র, তোমাদের ওই সম্পদ, যা তোমরা অর্জন করেছ, আর সে ব্যবসা যার মন্দ হওয়ার আশঙ্কা তোমরা করছো এবং ওই বাসস্থান, যা তোমরা পছন্দ করছ, যদি তোমাদের কাছে অধিক প্রিয় হয় আল্লাহ তাঁর রাসূল ও তাঁর পথে জিহাদ করার চেয়ে, তবে তোমরা অপেক্ষা করো আল্লাহর নির্দেশ আসা পর্যন্ত এবং আল্লাহ্ ফাসিক্বদেরকে সৎপথ প্রদান করেন না।" (আত-তাওবাহ : ২৪) আল্লাহ তা'আলা বলেন, "তুমি কি দেখ না, আল্লাহ কীভাবে উপমা পেশ করেছেন? কালিমা তাইয়েবা, যা একটি ভালো বৃক্ষের ন্যায়, যার মূল সুস্থির আর শাখা-প্রশাখা আকাশে। সেটি তার রবের অনুমতিতে সব সময় ফল দান করে; আর আল্লাহ মানুষের জন্য নানা দৃষ্টান্ত প্রদান করেন, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে"( সূরা ইব্রাহীম, আয়াত : ২৪,২৫)। আল্লাহ তা'আলা বলেন, "শপথ দুর্গময় আকাশম-লীর। সে কঠিন দিনের, যে দিবসের ওয়াদা করা হয়েছে। শপথ তাদের যারা কিয়ামতকে অবলোকন করবে আর তার শপথ সে কঠিন দিবসে যা কিছু দেখানো হবে। ধ্বংস তাদের জন্য যারা বিশ্বাসীদেরকে আগুনে পুড়ে মারার জন্য গর্ত খনন করেছিলো তাতে প্রজ্বলিত করলো দাউ দাউ অনল। মুমিনদের নিক্ষেপ করা হচ্ছিলো সে প্রজ্বলিত অনল কু-ে আর তারা সে গর্তের মুখে তামাশা দেখছিল। ঈমানদারদের ওপর নিষ্ঠুর আচরণের একটিই কারণ, তারা তো মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ তা'আলা যিনি স-প্রশংসিত সে মহান প্রভুর ওপর বিশ্বাস ছাড়া আর কোনো অপরাধ করেনি।" (সূরা আল-বুরূজ, আয়াত : ১-৪)



রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, "শপথ ওই সত্তার যার হাতে আমার প্রাণ! তোমাদের কেউই ঈমানদার হবে না যতক্ষণ আমি তার কাছে তার পিতা ও তার সন্তান হতে প্রিয়তম না হই।''



সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে র্বির্ণত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, "তোমাদের কেউই ঈমানদার হবে না যতক্ষণ আমি তার কাছে তার পিতা, সন্তান ও সকল মানুষ হতে প্রিয়তম না হই"। আব্দুল্লাহ ইবনে হিশাম রহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গেই ছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাত ধরে আছেন। ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আরয করলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার কাছে শুধু আমার 'জীবন' ব্যতীত আর সকল কিছুর চাইতে অধিক প্রিয়।' রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন, 'না! সেই সত্তার কসম, যাঁর কুদরতের হাতে আমার প্রাণ! যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তোমার কাছে তোমার নিজের জীবনের চেয়েও অধিক প্রিয় না হবো।' ওমর রাদিয়াল্লাল্লাহু আনহু বললেন, 'আল্লাহর কসম! এখন আপনি আমার কাছে আমার নিজের জীবনের চেয়েও অধিক প্রিয়।' নবীজী বললেন, ওমর! এখন হয়েছে। অর্থাৎ এখনই তোমার ঈমান পূর্ণতা লাভ করেছে।



আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি হাদিসে বলেছেন, "খাব্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন কাবার ছায়া তলে একটি চাদরকে বালিশ বানিয়ে শুয়ে ছিল। তখন আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল আমাদের জন্য আল্লাহর সাহায্য কামনা করবেন না? অত:পর তিনি বললেন, তোমাদের পূর্বেকার লোকদের ইতিহাস হল, তাদেরকে ধরে আনা হত এবং জমিনে তার জন্য গর্ত খনন করে, তাতে তাকে নিক্ষেপ করার পর তার মাথার উপর করাত বসিয়ে তাকে দ্বিখ-িত করা হত। এহেন নির্যাতনও তাকে তার দ্বীন থেকে ফেরাতে পারত না। লোহার চিরুনি দিতে তার চামড়া আঁচড়ানো হত, তার দেহে হাড় ছাড়া আর কোনো গোস্ত অবশিষ্ট থাকত না, এত নির্যাতনও তাদেরকে তাদের দ্বীন থেকে বিন্দু পরিমাণও বিচ্যুতি ঘটাতে পারত না। আল্লাহর শপথ, অবশ্যই আল্লাহ তা'আলা এ দীনকে পরিপূর্ণ করবে। এমনকি একজন মুসাফির মদিনা থেকে হাদরা-মওত পর্যন্ত নিরাপদে ভ্রমণ করবে, সে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে এবং বকরীর জন্য নেকড়ে ছাড়া আর কাউকে ভয় করবে না। কিন্তু তোমরা তাড়াহুড়া করছ"( বুখারি, হাদিস : ৩৬১২, ৬৯৪৩; নাসায়ী, হাদিস : ২০৪/৮)।



আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন "তিনটি গুণ যার মাঝে থাকবে সে ঈমানের স্বাধ উপভোগ করতে পারবে, (১) আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য সবকিছু থেকে তার কাছে অধিক প্রিয় হওয়া, (২) একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে কাউকে মহব্বত করা এবং (৩) ঈমান আনার পর কুফরে ফিরে যাওয়াটা আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মত অপছন্দের হওয়া। একদা হযরত আলী রাদিয়াল্লাল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি আপনাদের মহব্বত কেমন ছিলো? উত্তরে তিনি বলেন:'হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করা হলো যে, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি আপনাদের ভালবাসা কিরূপ ছিল? তখন তিনি উত্তরে বললেন, আল্লাহর শপথ! আমাদের কাছে তিনি আমাদের ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্তুতি ও বাবা-মার চেয়েও অধিক প্রিয় ছিলেন। এমনকি তীব্র পিপাসার সময় ঠান্ডা পানি যেমন প্রিয়, আমাদের কাছে আল্লাহর রাসূল তার চেয়েও অধিক প্রিয় ছিলেন'।কোরআন মজিদে এরশাদ হয়েছে: "(হে রাসূল!) আপনি বলুন, যদি তোমরা আল্লাহর সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চাও তবে আমার অনুসরণ কর। তা'হলে আল্লাহ তাআলাও তোমাদেরকে ভাল বাসবেন এবং তোমাদের পাপরাশি ক্ষমা করে দেবেন" (আ-ল ইমরান-৩১)



হযরত আবু তালিব, ইসলামের জন্য যে এহসান করেছেন তার কিছু অংশ আমি পাঠকের সামনে তুলে ধরছি। মহান খোদার একত্ববাদের প্রথম ঘোষণার সকল ব্যবস্থা হাশেমি বংশের উজ্জ্বল নক্ষত্র এই আবু তালিবই সর্বপ্রথম 'দাওয়াত-এ-জুলআসিরা'-র মাধ্যমে সুসম্পন্ন করেছিলেন। সমগ্র আরবের কাফের সর্দারদের উত্তম আপ্যায়নের মাধ্যমে তিনি মোহাম্মদ (সাঃ)-এর খোদায়ী মিশন ও একত্ববাদের ঘোষণার সকল বন্দোবস্ত করেছিলেন। পরপর দুই দিন কাফের সর্দারেরা ভোজন শেষে চলে যায়। তৃতীয় দিন হয়রত আবু তালিব তরবারি উন্মুক্ত করে বলেছিলেন, "হে সর্দারগণ তোমরা প্রত্যেকেই যার যার অবস্থানে অপেক্ষা করো যতক্ষণ পর্যন্ত আমার ভাতিজা মোহাম্মদ তাঁর বক্তব্য শেষ না করে"। কাফেরেরা সেদিন আবু তালিবের নির্দেশ অমান্য করার সাহস পায়নি।(কামিল ইবনে আসির , খ-- ২ , পৃ-৪১ ; আবু তালিব মুমিনে কুরাইশ , পৃ-১৫০)।



ইসলামের ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে ঐ দিনই আল্লাহর রাসূল (সাঃ) প্রকাশ্যে জনসম্মুখে একত্ববাদের ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, "শোনো হে সর্দারগণ! আল্লাহ এক এবং অদ্বিতীয় তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি আমাদের ও তোমাদের একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, তিনি ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই। তাঁকে বাদ দিয়ে তোমরা যেসকল দেব-দেবীর পূজা করছ তা তোমাদের কোনো কল্যাণে আসবে না। কোনো দেব-দেবী আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত নয়। এগুলো তোমাদের বাপ-দাদা ও পূর্বপুরুষদের সৃষ্টি। আল্লাহর সমকক্ষ কোনো শক্তিই নেই। তিনি সর্বশক্তিমান। আমি তার দাসদের অন্যতম। আর আজকের দিনে আল্লাহর কাজে যে আমাকে সাহায্য করবে সে হবে আমার ওয়াসী, আমার বন্ধু, আমার সাহায্যকারী ও আমার ভাই।" তখন উপস্থিত লোকজনের মধ্য থেকে হযরত আবু তালিবের কিশোর পুত্র হযরত আলীই নবী (সাঃ)-এর সাহায্যকারী হওয়ার স্বীকৃতি প্রদান করে দাঁড়িয়েছিলেন। নবী (সাঃ) তাঁকে বসার জন্য ইঙ্গিত করলেন। নবী (সাঃ) একই কথা তিনবার উচ্চারণ করে দেখতে চেয়েছিলেন কোরাইশ সর্দারদের মধ্য থেকে কেউ তাঁর সাহায্যকারী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন কি না? কিন্তু না ঐ তিনবারই উঠে দাঁড়িয়েছিলেন হযরত আবু তালিবেরই সন্তান আট বছরের কিশোর আলী। আর ঐ সভাতেই নবী (সাঃ) তাঁর ওয়াসীর ঘোষণা প্রদান করেন, শুধু দুনিয়াতে নয় আখেরাতের জন্যেও।



পাঠকের অবগতির জন্য আরো কিছু বিষয় আমি তুলে ধরছি। শুধু যে হযরত আবু তালিব এবং তাঁর পুত্র আলী, নবী (সাঃ)-কে ভালোবাসতেন তা কিন্তু নয়। হযরত আবু তালিবের স্ত্রী, পুত্র, কন্যা ও নিকট আত্মীয়দের মধ্যে এমন কোনো সদস্য ছিলেন না যে, এক মুহূর্তের জন্যও মোহাম্মদ (সাঃ)-কে শত্রুদের সম্মুখে একা ছেড়ে গেছেন। এমনিভাবে হযরত আবু তালিব ও তাঁর পরিবার পরিজন ইসলামের নবী (সাঃ)-এর সাহায্যকারী ছিলেন মৃত্যুর পূর্ব মূহুর্ত পর্যন্ত। মক্কার কাফেররা যখন মোহাম্মদ (সাঃ)-কে লোভ-লালসা দেখানোর পরেও ইসলাম প্রচার থেকে বিরত রাখতে সক্ষম হলোনা এবং হাশেমিদের সাথে যুদ্ধেও মোকাবিলার সাহস পাচ্ছিল না তখন তারা নতুন কৌশল অবলম্বন করল। মোহাম্মদ (সাঃ)-কে আশ্রয়দানকারী হযরত আবু তালিব ও তাঁর পরিবার পরিজনদেরকে একঘরে করে দেয়ার নীতি অবলম্বন ও সমাজ থেকে তাঁদেরকে বয়কট করার ঘোষণা এবং কাবার দেয়ালে কাফের সর্দাররা তাদের স্বাক্ষরিত শপথপত্র ঝুলিয়ে দিল। এমনসব প্রতিকূল পরিবেশ ও অবরোধ সত্ত্বেও হযরত আবু তালিব মোহাম্মদ (সাঃ)-এর ওপর বিন্দুমাত্র আঁচড় যেন না আসে সে ব্যবস্থাই করেছিলেন। তিনি ভাতিজাকে নিয়ে সপরিবারে মক্কার অদূরে পাহাড়ের পাদদেশে একটি উপত্যকায় অবস্থান নিলেন। আর এই অবস্থার অবসান ঘটতে সময় লেগেছিল তিন বছরেরও অধিক সময়কাল। আবু তালিবের পাহাড়ের উপত্যকায় অবস্থানের ঐ স্থানটি আজও ইসলামের ইতিহাসে 'শেবে আবু তালিব' নামে পরিচিত। হযরত আবু তালিব নবী (সাঃ) ও ইসলামের কল্যাণে নিবেদিত প্রাণে সকল কাজের আন্জাম দিয়ে গেছেন। তদুপরি যেসব আলেম এই মহান ব্যক্তির সৎ কাজের স্বীকৃতির পরিবর্তে তাঁর ঈমান না আনার তির ছুঁড়ছেন তারা কি হযরত আবু তালিবের এহসানের পরিবর্তে তাঁর প্রতি জুলুম করছেন না? অথচ মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনের সূরা আর-রহমানের ৬০নং আয়াতে উল্লেখ করেছেন: অর্থাৎ এহসানের প্রতিদানে এহসান ছাড়া আর কি হতে পারে?



 



ভালোবাসার পুরস্কার :



সে পরকালে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আলোকিত সানি্নধ্য লাভে ধন্য হবে। হযরত আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: "একদা এক ব্যক্তি(সাহাবী) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে এসে আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কেয়ামত কবে হবে? নবীজী প্রশ্ন করলেন: কেয়ামতের জন্যে কী প্রস্তুতি নিয়েছ? সাহাবী বলেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসি, নবীজী বললেন: তুমি যাকে ভালোবাস, তার সাথেই থাকবে! হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ কথায় আমরা এতটা আনন্দিত হয়েছি যে, ইসলাম গ্রহণের পর অন্য কোন কারণে আর এতটা আনন্দিত হইনি। হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমি আল্লাহকে ভালোবাসি, ভালোবাসি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ও হযরত আবু বকর এবং হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকেও। আমার আমল যদিও তাঁদের সমতূল্য নয় তবুও আমি আশাবাদী, আমি পরকালে তাঁদের সঙ্গেই থাকবো! এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে এসে আরয করলেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি সেই ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলেন, যে একটি গোষ্ঠীকে ভালোবাসে অথচ তাদের সমান নেক আমল করতে পারেনি! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন: যে যাকে ভালোবাসে তার হাশর হবে তারই সাথে।' একজন সত্যিকার মুমিনের জীবনে এর চেয়ে বড় প্রার্থনা আর কী হতে পারে? এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি ও পুরস্কারই বা আর কী হতে পারে? উপরোক্ত আয়াত ও হাদীস থেকে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি মহব্বত ও ভালোবাসা পোষণ না করলে ঈমানদার বলে কেউ বিবেচিত হবে না। ঈমানের মূল হল- হুব্বে রসূল অর্থাৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালোবাসা।



রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মহব্বত করার উপায় :



১. সকল মানবের উপর রাসূল্ল্লুাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রাধান্য ও শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া আল্লাহ তাঁর প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সৃষ্টির আদি ও অন্তের সকলের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। অতএব তিনি হলেন নবীদের সর্দার। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, "আল্লাহ ইসমাঈলের সন্তান থেকে কিনানাকে চয়ন করেছেন এবং কিনানা থেকে কুরাইশকে। আর কুরাইশ থেকে বনু হাশিমকে এবং আমাকে চয়ন করেছেন বনু হাশিম থেকে।'' রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আমি আদম সন্তানের সর্দার এবং এতে কোন অহংকার নেই। আর আমি ঐ ব্যক্তি প্রথম যার কবর বিদীর্ণ হবে, প্রথম যিনি শাফা'আতকারী হবেন এবং প্রথম যার শাফা'আত কবুল করা হবে।'' ২. সকল ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে আদব ও শিষ্টাচার রক্ষা করাঃ আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের প্রতি সাহাবায়ে কেরামের মহব্বত কেমন ছিলো নিম্নের হাদীস থেকে তার যৎকিঞ্চিৎ ধারণা পাওয়া যায়। আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে অধিক প্রিয় ও মর্যাদার অধিকারী আমার কাছে অন্য কেউ ছিলো না। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সম্মান ও মর্যাদার কারণে আমি দৃষ্টি ভরে তাঁর দিকে তাকাতে পারতাম না। সুতরাং আমাকে রাসূলের অবয়ব বর্ণনা করতে বলা হলে আমি তা পারব না। কেননা দৃষ্টি ভরে রাসূলের দিকে আমি কখনো তাকাতাম না'।



৩. তাঁর প্রতি যথাযোগ্য সম্মান ও তা'যীম প্রদর্শন করা : উম্মতের ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আরেকটি হক হলো, তাঁর প্রতি যথাযোগ্য সম্মান ও তা'যীম প্রদর্শন করা। উপযুক্ত বাক্য দ্বারা তার প্রশংসা করা। শুধু 'মুহাম্মদ' নামে তাকে উল্লেখ না করা বরং এর সাথে 'রাসূলুল্লাহ' বা 'নবী উল্লাহ সংযোজন করে সালাত ও সালাম পাঠ করা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: "তোমরা পরস্পরকে যেভাবে ডাকো রাসূলকে সেভাবে ডেকো না' (সূরা নূর: ৬৩)। মসজিদে নববীতে কেউ এলে তার উচিৎ এ মসজিদের আদব রক্ষা করা, এতে স্বর উচ্চ না করা। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু একদল লোককে এজন্য খুব সতর্ক করেছিলেন। পাশাপাশি তাঁর শহর মদীনা মুনাওয়ারার সম্মান রক্ষা করাও অপরিহার্য। আল্লাহ বলেন:"হে ঈমানদারগণ! তোমরা নবীর আওয়াজের উপর তোমাদের আওয়াজ উঁচু করো না এবং তোমরা নিজেরা পরস্পর যেমন উচ্চস্বরে কথা বল, তার সাথে সেকরকম উচ্চস্বরে কথা বলো না।'' (সূরা হুজুরাত ০২)



৪. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর সালাত ও সালাম পাঠ না করা : উম্মতের ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্যতম হক হলো, তাঁর প্রতি বেশি বেশি সালাত ও সালাম পাঠ করা, যেন কাল কিয়ামতের দিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের জন্য সুপারিশ করেন। আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর উপর সালাত পেশ করেন, হে ঈমানদারগণ! তোমরাও তার উপর সালাত ও সালাম পেশ কর।'' (সূরা আহযাবঃ ৫৬) অথচ তার নাম উচ্চারণ করে অথবা শুনে অনেকেই দরূদ ও সালাম পাঠ করে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: "ঐ ব্যক্তির নাক ধুলি ধুসরিত হোক যার কাছে আমার নাম উল্লেখ করা হয় কিন্তু সে আমার উপর সালাত পাঠ করেনি।' রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও এরশাদ করে বলেন: "কৃপণ ঐ ব্যক্তি, যার কাছে আমার নাম উল্লেখ করা হয় অথচ সে আমার উপর সালাত পাঠ করেনি।'' সালাত ও সালাম রাসূলের স্তুতি বলেই তাশাহুদ, খুতবা, সালাতুল জানাযা, আযানের আগে ও পরে যে কোন দো'আর সময়সহ আরো বহু ইবাদাতে তা পেশ করার নিয়ম করে দেয়া হয়েছে; বরং তার উপর সালাত ও সালাম পেশ আলাদাভাবেই একটি ইবাদাত হিসেবে স্বীকৃত।



৫. তাঁর ইত্তেবা ও আনুগত্য পোষণ করা : আল্লাহ তা'আলা বলেন, "নিশ্চয় রাসূলুল্লাহর মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ, বিশেষ করে ঐ ব্যক্তির জন্য যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা পোষণ করে এবং আল্লাহকে বেশী করে স্মরণ করে।''(সূরা আহযাবঃ ২১) অন্যত্র আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: "যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করে সে আল্লাহর আনুগত্য করল। আর যে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করল আমি তো আপনাকে তাদের হেফাযতকারী রূপে প্রেরণ করিনি।'' (সূরা নিসাঃ ৮০) ইরশাদ হয়েছে: "(হে রাসূল!) আপনি বলুন:, যদি তোমরা আল্লাহকে মহব্বত কর তাহলে আমার অনুসরণ কর। আল্লাহ তোমাদেরকে মহব্বত করবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ মাফ করে দিবেন। আর আল্লাহ চিরক্ষমাশীল,পরমদয়ালু' (আলে ইমরান: ৩১)। ৬. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষে অবস্থান নেয়াঃ অনেক মন্দ ও দুষ্ট লোক আছে যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবীদের শানে কটুবাক্য উচ্চারণ করে এবং তাঁদের ব্যাপারে অশালীন ও অশোভন মন্তব্য করে। উম্মতের দায়িত্ব হলো তাদেরকে যুক্তির আলোকে বুঝানো এবং প্রতিবাদ করা, তাতে কাজ না হলে তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া, যাতে পরবর্তীকালে অন্য কেউ এ ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হবার স্পর্ধা দেখাতে না পারে।



আমরা যদি সাহাবাদের (রাঃ) রাসূলের প্রতি ভালবাসার দিকে তাকাই তাহলে দেখব তারা কতটা উৎসাহী ছিলেন রাসূল (সাঃ)-এর প্রতি ভালবাসা দেখাতে, তাঁর (সাঃ) আদেশ মানতে, তারা একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করতেন ভালবাসার এই দায়িত্ব পালন করতে।



উহুদের যুদ্ধের বর্ণনা দিতে গিয়ে আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, যখন সকলে রাসুল (সাঃ) কে রেখে চলে যাচ্ছিল, আবু তালহা (রাঃ) তখন বর্মের মতো রাসুল (সা) এর সামনে দাঁড়িয়ে ছিলো। আবু তালহা ছিলেন একজন অভিজ্ঞ এবং শক্তিশালী তীরন্দাজ যার ধনুক ছিল শক্ত ও প্রসারিত। সেদিন তিনি দু থেকে তিনটি ধনুক ভেঙে ফেলেন। যখন কেউ রাসুল (সাঃ) এর সামনে দিয়ে পাত্র ভর্তি তীর নিয়ে যেত রাসুল (সাঃ) তা আবু তালহার জন্য দিয়ে যেতে বলছিলেন। যখন রাসুল (সাঃ) শত্রুদের দেখার জন্য মাথা তুলছিলেন আবু তালহা বলেন "আমার পিতা মাতা আপনার উপর কুরবান হোক, আপনার মাথা শত্রুদের দেখতে দিবেন না, আমার গলা এবং বুক আহত হোক তার পরও যেন আপনার গায়ে একটি তীরও না লাগে। (বুখারী ও মুসলিম)



সাহাবারা রাসূল (সাঃ) এত ভালবাসতেন এবং তার রক্ষা করার জন্য জীবন দিয়ে দিতেন এমনকি তাদের শিশুদেরকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে বলতেন যাতে রাসুলের (সাঃ) গায়ে যেনো নূন্যতম আঘাত না লাগে। মুসলিমরা আল্লাহ্ তাআলা রাসুল (সাঃ) কে সবচেয়ে বেশি ভালবাসেন কারণ তিনিই হচ্ছেন হাশরের ময়দানে শাফায়েত কারী, আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, "আমি রোজ কিয়ামতে মানুষের সরদার-নেতা হব। যে দিন মানবম-লী আল্লাহর সামনে দাঁড়াবে এবং সূর্য থাকবে মাথার খুব কাছে। মানুষের দুশ্চিন্তা ও বিপদের চরম পর্যায়ে পেঁৗছবে। এমন বিপদ যা তাদের শক্তির বাহিরে এবং সহ্য করাও বড় কঠিন হয়ে পড়বে। ওরা একে-অপরকে বলবে, তোমরা একজনকে পাওনা যিনি তোমাদের প্রতিপালকের নিকট তোমাদের জন্য সুপারিশ করবেন?



তারা একে অপরকে বলবে, চল আদম (আঃ)-এর নিকট। সকলে আদম (আঃ) এর নিকটে গিয়ে বলবে, হে আদম (আঃ) আপনি মানুষের পিতা। আল্লাহ আপনাকে তাঁর নিজ হাতে সৃষ্টি করে আপনার মাঝে তাঁর রুহ ফুঁকেছেন। ফেরেশতাগণকে নির্দেশ করেছেন আর তাঁরা আপনাকে সেজদা করেছেন। আপনার রবের নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আমরা কি অবস্থায় আপনি দেখেন না!? আমরা কী চরম পর্যায়ে পৌঁছেছি দেখেন না? বাবা আদম (আঃ) বলবেন, নিশ্চয়ই আমার রব-প্রতিপালক আজ এমন রাগ হয়েছেন যা ইতিপূর্বে কখনো রাগ হননি। আর এর পরেও কখনও এরূপ রাগ হবেন না। আল্লাহ তা'য়ালা আমাকে গাছের ফল খেতে নিষেধ করেছিলেন আর আমি তার নাফরমানি করেছিলাম। নাফসী নাফসী (আমি নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত আছি) তোমরা অন্য কারো নিকটে যাও। তারা যথাক্রমে: নূহ, ইবরাহীম, মূসা ও ঈসা (আ:)- এর নিকটে যাবে। কিন্তু সকলে ওজর পেশ করবেন। তাঁরা সকলে বলবেন: নিশ্চয়ই আমার রব আজ এমন রাগ হয়েছেন যা ইতিপূর্বে কখনো হন নাই এবং এরপরেও কখনো এরূপ রাগ হবেন না। নাফসী নাফসী (আমি নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত আছি)। অত:পর ঈসা (আঃ) বলবেন: তোমরা মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর নিকটে যাও। তারা সকলে আমার নিকটে আসবে। অত:পর বলবে: হে মুহাম্মাদ (সাঃ) আপনি আল্লাহর রাসূল, শেষ নবী, আল্লাহ আপনার আগের-পরের সকল পাপ ক্ষমা করে দিয়েছেন। আপনি আমাদের জন্য আপনার রবের কাছে সুপারিশ করুন। তখন আমি অগ্রসর হয়ে আরশের নীচে যেয়ে আমার রবের জন্যে দীর্ঘ সেজদায় পড়ে যাব। অতঃপর আল্লাহ আমার প্রতি তাঁর প্রশংসা ও শুকরিয়া করার জন্য অন্তর খুলে দিবেন ও এমন ইলহাম (আল্লাহ কর্তৃক অন্তরে প্রদত্ত জ্ঞান) দান করবেন যা আমার পূর্বে আর কারো জন্য খুলে দেননি। অত:পর বলা হবে: হে মুহাম্মাদ (সাঃ)! তোমার মাথা উঠাও। চাও দেয়া হবে। সুপারিশ কর গ্রহণ করা হবে। তখন আমি মাথা উঠাব এবং বলব: হে আমার প্রতিপালক! আমার উম্মত! আমার উম্মত! বলা হবে: হে মুহাম্মাদ (সাঃ)! তোমার উম্মতের যাদের কোন হিসাব নেই তাদেরকে জান্নাতের ডান দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করাও। তারা মানুষের সঙ্গে অন্য সকল দরজায় অংশীদার। যাঁর হাতে মুহাম্মাদের জীবন! নিশ্চয় জান্নাতের দরজার দূ পাল্লার মধ্যের দূরত্ব মক্কা ও হাজার বা মক্কা ও বুছরার দূরত্বের সমান।" (বূখারী হাদীস নং ৪৭১২; মুসলিম হাদীস নং ১৯৪ শব্দ তারই)



যে রাসূল তার উম্মতকে ছাড়া জান্নাতে যাবেন না মুসলিমরা তাকে (সাঃ) প্রাণের চেয়ে বেশি ভালবাসবে না তো কাকে ভালবাসবে। তাই প্রত্যেক মুসলিমের জন্য বাধ্যতামূলক হল রাসূল (সাঃ) নাম শুনলে তার উপর সালাম নিবেদন করা কারণ, তিরমিযীর একটি বর্ণনায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, "ঐ ব্যক্তির নাক ধুলি ধুসরিত হোক যার কাছে আমার উল্লেখ করা হয় কিন্তু সে আমার উপর সালাত পাঠ করেনি"। কিন্তু বর্তমানে বাংলার মাটিতে কী জঘন্য ভাবে দশকের পর দশক কিছু কুলাঙ্গার আমাদের প্রান প্রিয় রাসুল (সাঃ) কে নিয়ে তার পরিবার কে নিয়ে, সাহাবা (রাঃ) কে নিয়ে ইসলামের বিধি বিধান ও মুসলিমদের নিয়ে একের পর এক কুৎসা রটাচ্ছে। (সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে অবশ্যই সবচেয়ে নীচ সৃষ্টি হচ্ছে যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচারন করে) (সূরা আল-মুজাদিলাহ্ : ২০)। ছুম্মা আমিন।



লেখক : খতীব, কালেক্টরেট জামে মসজিদ, প্রভাষক (আরবি), মান্দারী আলিম মাদ্রাসা, চাঁদপুর।



 



 



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৩০৪৩৮
পুরোন সংখ্যা