চাঁদপুর, শুক্রবার ২৫ অক্টোবর ২০১৯, ৯ কার্তিক ১৪২৬, ২৫ সফর ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৭-সূরা হাদীদ


২৯ আয়াত, ৪ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


২৬। আমি নূহ এবং ইব্রাহিমকে রাসূলরূপে প্রেরণ করিয়াছিলাম এবং আমি তাহাদের বংশধরগণের জন্যে স্থির করিয়াছিলাম নুবূওয়াত ও কিতাব, কিন্তু উহাদের অল্পই সৎপথ অবলম্বন করিয়াছিল এবং অধিকাংশই ছিল সত্যত্যাগী।


 


 


assets/data_files/web

অপ্রয়োজনে প্রকৃতি কিছুই সৃষ্টি করে না। -শংকর।


 


 


কবর এবং গোসলখানা ব্যতীত সমগ্র দুনিয়াই নামাজের স্থান।


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
রাহমাতুললিল আলামীনের শ্রেষ্ঠ মর্যাদা
ড. আ. ন. ম. রইছ উদ্দিন
২৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


সাইয়্যেদুল মুরসালীন রাহমাতুললিল আলামীন মহানবী হযরত মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা'য়ালা ওয়াসাল্লাম-এর আবির্ভাবের সময়কালে মক্কা ও ইয়াসরীবে (বর্তমানে মদীনা মুনাওয়ারাহ্) আব্দুল্লাহ ও আমেনা এ ধরনের কোনো নাম কারো ছিলো বলে জানা যায় না। আব্দুল মুত্তালিবের ১১ ছেলের মধ্যে একজন ছাড়া অন্যদের নাম আবদুস শামস, আবু লাহাব, আবদুল ওয্যা এ রকমের ছিলো। 'আবদুল্লা' রেখেছিলেন তাঁর পিতা আবদুল মুত্তালিব। অপরদিকে ইয়াসরিবে (মহানবীর শুভাগমনে মদীনা) হেন্দা, হোযাইফা তথা দেব-দেবতার নামেই মেয়েদের নাম রাখা হতো, কিন্তু মহান স্রষ্টা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ কৃপাগুণেই হযরত আমেনার পিতা তাঁর নাম আমেনা রাখেন। আর আল্লাহ জাল্লা শানুহুর ইচ্ছা ও কুদরতেই তাঁদের মধ্যে পরিণয় হয় আর তাঁদের মিলনের মধ্যে নূর নবীর আলোকরশ্মি উদ্ভাসিত হয়। পৃথিবীতে আবির্ভাব ঘটে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা'য়ালা আলায়হি ওয়াসাল্লামের। মহানবী সাল্লাল্লাহু তা'য়ালা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর জন্ম তথা আবির্ভাবের পর তাঁর মাতা হযরত আমেনা তাঁর নাম রাখলেন 'আহমদ' অর্থাৎ অতীব প্রশংসাকারী। আর তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিব, মহানবীর বয়স যখন সাতদিন বয়স তখন তিনি একটি উট জবাই করে আত্মীয়স্বজনসহ সকলকে দাওয়াত করলেন এবং সবার মধ্যে ঘোষণা করেন যে, তাঁর নবজাত নাতির নাম 'মুহাম্মদ' অর্থাৎ 'প্রশংসিত'।



তখন সবাই আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন যে, এ ধরনের নামতো এ সমাজে প্রচলিত নয়; এমন নাম রাখার হেতু কি? আবদুল মুত্তালিব বললেন যে, আসমান থেকে যমীন পর্যন্ত সব স্তুরে অর্থাৎ সমগ্র পৃথিবীতে আমার ইয়াতিম নাতি যেনো প্রশংসিত হয় সেজন্যেই তাঁর নাম রাখা হয়েছে 'মুহাম্মদ'। আর বাস্তবে তিনি শুধু প্রশংসিতই হননি; বরং মহান স্রষ্টা আল্লাহ জাল্লা শানহু হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু তা'য়ালা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে তাঁর সৃষ্টি জগতের সবার উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। একারণেই ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাহু তা'য়ালা আলায়হি ওয়াসাল্লাম সকল ঈদ বা আনন্দের চেয়েও শ্রেষ্ঠ ঈদ বা শ্রেষ্ঠ আনন্দ। এমনি বিশেষ দিনে মহান আল্লাহ জাল্লা শানহুর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এই মহানন্দের দিনকে উদ্যাপন করার নির্দেশ দিয়েছেন পবিত্র কুরআনে, যেমন হযরত মূসা আলায়হিস সালামকে তাঁর সমপ্রদায়কে অন্ধকার থেকে আলোকে নিয়ে আসার দিনকে স্মরণ করে আনন্দ করার যে নির্দেশনা দিয়েছেন তা হলো : অর্থাৎ আর আমি মূসাকে আমার নিদর্শনসমূহ নিয়ে প্রেরণ করেছি যেনো তোমার সমপ্রদায়কে অন্ধকার থেকে আলোতে বের করে নিয়ে এসে এবং আল্লাহর এ বিশেষ দিনগুলো সম্পর্কে তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দাও' (১৪ :৫)।



দিবস রজনী সকল কিছুর স্রষ্টাইতো আল্লাহ জাল্লা শানহু; কিন্তু কিছু দিন আছে যাতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের বিশেষ রহমত অবর্তীণ হয়েছে এবং তিনি তাঁর সৃষ্টির প্রতি বিশেষ দয়া দান করেছেন। সেই দিবসগুলোকে 'আয়্যালিল্লাহ' বা আল্লাহর দিবস বলে তিনি আখ্যায়িত করেছেন। যেমন হযরত মূসা আলায়হিস সালাম-এর সমপ্রদায়ের মুক্তির এই ক্ষণকে স্মরণ করে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্যে ও তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্যে আল্লাহ জাল্লা শানহু হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে নির্দেশ দিয়েছেন। আর মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সৃষ্টি জগতের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ রহমত বর্ষণের দিন হলো যেদিন তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি ও তাঁর হাবীর রাহমাতুললিল আলামীন মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা'য়ালা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এ পৃথিবীতে আবির্ভূত হন। আল্লাহ জাল্লা শানহু তাঁর হাবীবকে এতই ভালোবাসেন যে, তিনি তাঁর ফেরেশতাগণ নিয়ে তাঁর হাবীবের প্রতি রহমত প্রেরণ করেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ জাল্লা শানহু ঘোষণা করেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবী (সাল্লাল্লাহু তা'য়ালা আলায়হি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি রহমত প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরা তাঁর (নবী সাল্লাল্লাহু তা'য়ালার আলায়হি ওয়াসাল্লাম) প্রতি দরুদ ও সালাম প্রেরণ করো পূর্ণ প্রেম ও শ্রদ্ধাভরে। (৩৩ : ৫৬)।



উল্লেখিত আয়াত থেকে নিঃসন্দেহে বুঝা গেলো যে, সালাত কায়েম করা ও যাকাত আদায় করা যেমন ফরজ বা অপরিহার্য কর্তব্য, তেমনি হযরত নবী পাক সাল্লাহু তা'য়ালা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি দরূদও সালাম প্রেরণ করা তেমনি ফরজ বা অপরিহার্য কর্তব্য এবং দরূদ ও সালাম হতে হবে প্রেমের সাথে শ্রদ্ধা আদবের সাথে। আর ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু তা'য়ালা আলায়হি ওয়াসাল্লাম একজন মু'মিনের জন্যে মহাআনন্দের দিন। এদিন শুধু মু'মিনগণের জন্যে নয়, বরং সকল সৃষ্টিকূলের জন্যে। এদিন মহা আনন্দের দিন। ইবলিস মালউন ছাড়া সৃষ্টি জগতের ১৭ হাজার, ৯৯৯ সৃষ্টিই এই সময়ে আনন্দে উদ্বেলিত হয়। কোন কোন বাতেলপন্থী বলে থাকে যে, হযরত রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম তো একই দিনে ইন্তিকাল করেছেন। তাহলে ঐ দিন আনন্দের সাথে শোকও পালন করতে হবে (না' উযুবিল্লাহ্ ।



ওসব বাতেলপন্থী ইবলিসের দোসররা জানে না যে, হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম হায়াতুন নবী। তিনি পার্থিব জগত থেকে চিরন্তন জগতে স্থানান্তরিত হয়েছেন মাত্র। তিনি সর্বক্ষণ সক্রিয় রয়েছেন। তাঁর যে কোন উম্মত তাঁর উপর দরূদ ও সালাম প্রেরণ করলে তাঁকে অবহিত করা হয় কিংবা তিনি সবকিছুরই খোঁজ খবর রাখেন। মহান আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু তাঁকে এই ক্ষমতা ও মর্যাদা দান করেছেন। বস্তুত মহান আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা তাঁর প্রিয় হাবীবকে যেমন সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টিরূপে সৃজন করেছেন তেমনি তাঁকে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদাও দান করেছেন। যেমন আমরা দেখতে পাই একজন জালিলুল কদর নবী ও রাসূল হযরত মূসা আলায়হিস্ সালাম আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করলেন, 'হে আমার প্রভু আপনি আমাকে দর্শন দান করুন আমি আপনাকে দেখতে চাই' আল্লাহ্ বললেন, 'কখনো তুমি আমাকে দেখতে পাবেনা; বরং তুমি পাহাড়ের দিকে তাকাও। যদি স্থির থাকতে পার তাহলে হয়তো দেখতে পার।' আর আল্লাহ জাল্লা শানুহু তাঁর নূরের সামান্যটুকু জালওয়া পাহাড়ে নিক্ষেপ করলেন আর তাতেই হযরত মূসা আলায়হিস্ সালাম বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেলেন (৭:১৪৩) এবং তুর পাহাড় পুড়ে গেল। অপরদিকে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু বিশেষ ব্যবস্থায় নিয়ে গেলেন তাঁর আরশে মু'আল্লায় তাঁর দিদার বা দর্শন দান করার জন্যে, যা সংঘটিত হলো মিরাজ রজনীর মাধ্যমে (১৭ : ১)। এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য যে, মহানবী সাল্লাহু তা'য়ালা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে হযরত জিব্রাঈল আলায়হিস সালাম উম্মুল মু'মিনীন হযরত উম্মে হানীর ঘর থেকে বায়তুল্লাহু এবং সেখান থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস এবং তথা হতে বোরাকযোগে সিদরাতুল মুনতাহা পেঁৗছানোর পর আর উপরে যেতে হযরত জিব্্রাইল আলায়হিস সালাম অপরাগতা প্রকাশ করলেন। কেননা সিদরাতুল মুনতাহা থেকে উপরের জগত হলো বিশেষ নূরের জগত, যেখানে বিশেষ নূর ছাড়া অন্য কারো যাওয়া কোনোমতেই সম্ভব নয়।



আর মহানবী সাল্লাল্লাহু তা'য়ালা আলায়হি ওয়াসাল্লাম যেহেতু নূরিল্লাহ তাই শুধু তাঁর পক্ষেই সে নূরের জগতে যাওয়া সম্ভব। আর সেই জগতের উপোযোগী বাহন 'রফরফ'যোগে হযরত নূর নবীর সাল্লাল্লাহু তা'য়ালা আলায়হি ওয়াসাল্লাম আল্লাহু জাল্লা শানুহুর সানি্নধ্য লাভ করলেন এবং 'ক্বাবা ক্বাওসাইন আর আদ্না' অর্থাৎ আল্লাহ জাল্লা শানুহুর সাথে একান্তে বাণী বিনিময় বা কথোপকথন হলো জাগতিক সময়ের হিসেব ২৭ বছর কাল। এসব কিছুই প্রমাণিত হলো যে, আল্লাহ সুবহানহু তা'য়ালা তাঁর হাবীব, শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি নবী ও রাসূলকে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা দান করেছেন।



আমরা যে সাইয়্যেদুল মুরসাীন-এর উম্মত হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছি এবং তজ্জন্য অসংখ্য কোটি শুকরিয়া। আর প্রিয় নবী, মহানবী, নূর নবীর প্রতি অসংখ্য কোটি দরূদ ও সালাম। মহান স্রষ্টা আল্লাহ জাল্লা শানুহু আমাদের সকলকে তাঁর নবীর প্রেমিক বানিয়ে পার্থিব ও পারলৌকিক মহাশান্তি লাভ করার তাওফিক দান করুন। (আমীন)।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৩৫৪৫২
পুরোন সংখ্যা