চাঁদপুর, শুক্রবার ২২ মে ২০২০, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৮ রমজান ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৯-সূরা হাক্কা :


৫২ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


১৪। পর্বতমালা সমেত পৃথিবী উৎক্ষিপ্ত হইবে এবং মাত্র এক ধাক্কায় উহারা চূর্ণ-বিচূর্ণ হইয়া যাইবে।


১৫। সেদিন সংঘটিত হইবে মহাপ্রলয়,


শান্তির প্রকাশ সবসময়েই সুন্দর ও সহজ হয়।


-ওয়াল্ট হুইটম্যান।


 


 


 


 


যারা শিক্ষালাভ করে এবং তদনুযায়ী কাজ করে, তারাই প্রকৃত বিদ্বান।


 


রোজার আধুনিক মাসায়েল
২২ মে, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মূল : বিচারপতি মুফতি তাকি উসমানী ভাষান্তর : এসএম আনওয়ারুল করীম



রোজা ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম। মাসব্যাপী এই সিয়ামসাধনা প্রত্যেক মুসলমান নারী-পুরুষের ওপর ফরজ। তবে বর্তমান আধুনিক বিশ্বে আমরা প্রতিনিয়ত এমন কিছু পরিস্থিতির সম্মুখীন হই, যাতে ইসলামের বিধান খুঁজতে গলদঘর্ম হয়ে পড়তে হয়। নিচে রোজার এমনই কতিপয় আধুনিক মাসায়েল তুলে ধরা হলো।



১. ইনজেকশন : ইনজেকশন নিলে রোজা ভাঙবে না। (জাওয়াহিরুল ফাতাওয়া)



২. ইনহেলার : শ্বাসকষ্ট দূর করার লক্ষ্যে তরল জাতীয় একটি ঔষধ স্প্রে করে মুখের ভেতর দিয়ে গলায় প্রবেশ করানো হয়। এভাবে মুখের ভেতর ইনহেলার স্প্রে করা দ্বারা রোজা ভেঙে যাবে। (ইমদাদুল ফাতাওয়া)



৩. এনজিওগ্রাম : হার্ট বস্নক হয়ে গেলে উরুর গোড়া কেটে বিশেষ রগের ভেতর দিয়ে হার্ট পর্যন্ত যে ক্যাথেটার ঢুকিয়ে পরীক্ষা করা হয়। তার নাম এনজিওগ্রাম। এ যন্ত্রটিতে যদি কোনো ধরনের ঔষধ লাগানো থাকে তারপরও রোজা ভাঙবে না। (ইসলাম ও আধুনিক চিকিৎসা)



৪. এন্ডোসকপি : চিকন একটি পাইপ যার মাথায় বাল্ব জাতীয় একটি বস্তু থাকে। পাইপটি পাকস্থলিতে ঢুকানো হয় এবং বাইরে থাকা মনিটরের মাধ্যমে রোগীর পেটের অবস্থা নির্ণয় করা হয়। এ নলে যদি কোনো ঔষধ ব্যবহার করা হয় বা পাইপের ভেতর দিয়ে পানি/ঔষধ ছিটানো হয়ে থাকে তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। আর যদি কোনো ঔষধ লাগানো না থাকে তাহলে রোজা ভাঙবে না। (জাদীদ ফিকহি মাসায়েল)



৫. নাইট্রোগি্লসারিন : এরোসল জাতীয় ঔষধ, যা হার্টের জন্য দুই-তিন ফোটা জিহ্বার নিচে দিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখে। ঔষধটি শিরার মাধ্যমে রক্তের সাথে মিশে যায় এবং ঔষধের কিছু অংশ গলায় প্রবেশ করার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। অতএব, এতে রোজা ভেঙে যাবে। (জাদীদ ফিকহি মাসায়েল)



৬. লেপারোসকপি : শিক জাতীয় একটি যন্ত্র দ্বারা পেট ছিদ্র করে পেটের ভেতরের কোনো অংশ বা গোশত ইত্যাদি পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে বের করে নিয়ে আসার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র। এতে যদি ঔষধ লাগানো থাকে তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। অন্যথায় রোজা ভাঙবে না। (আল মাকালাতুল ফিকহিয়া)



৭. অঙ্েিজন : রোজা অবস্থায় ঔষধ ব্যবহৃত অঙ্েিজন ব্যবহার করলে রোজা ভেঙে যাবে। তবে শুধু বাতাসের অঙ্েিজন নিলে রোজা ভাঙবে না। (জাদীদ ফিকহি মাসায়েল)



৮. মস্তিস্ক অপারেশন : রোজা অবস্থায় মস্তিস্ক অপারেশন করে ঔষধ ব্যবহার করা হোক বা না হোক রোজা ভাঙবে না। (আল মাকালাতুল ফিকহিয়া)



৯. রক্ত নেওয়া বা দেয়া : রোজা অবস্থায় শরীর থেকে রক্ত বের করলে বা শরীরে প্রবেশ করালে রোজা ভাঙবে না। (আহসানুল ফাতাওয়া)



১০. সিস্টোসকপি : প্রসাবের রাস্তা দিয়ে ক্যাথেটার প্রবেশ করিয়ে যে পরীক্ষা করা হয় এর দ্বারা রোজা ভাঙবে না। (হেদায়া)



১১. প্রক্টোসকপি : পাইলস, পিসার, অর্শ, হারিশ, বুটি ও ফিস্টুলা ইত্যাদি রোগের পরীক্ষাকে প্রক্টোসকপ বলে। মলদ্বার দিয়ে নল প্রবেশ করিয়ে পরীক্ষাটি করা হয়। রোগী যাতে ব্যথা না পায় সে জন্য নলের মধ্যে গি্লসারিন জাতীয় কোনো পিচ্ছিল বস্তু ব্যবহার করা হয়। নলটি পুরোপুরি ভিতরে প্রবেশ করে না। চিকিৎসকদের মতানুসারে ঐ পিচ্ছিল বস্তুটি নলের সাথে মিশে থাকে এবং নলের সাথেই বেরিয়ে আসে, ভেতরে থাকে না। আর থাকলেও তা পরবর্তীতে বেরিয়ে আসে। যদিও শরীর তা চোষে না কিন্তু ঐ বস্তুটি ভিজা হওয়ার কারণে রোজা ভেঙে যাবে। (ফাতাওয়ায়ে শামী)



১২. কপার-টি : কপার-টি বলা হয় যোনিদ্বারে প্লাস্টিক লাগানোকে, যেন সহবাসের সময় বীর্যপাত হলে বীর্য জরায়ুতে পেঁৗছাতে না পারে। এ কপার-টি লাগিয়ে সহবাস করলে রোজা ভেঙে যাবে। কাজা কাফফারা উভয়টিই ওয়াজিব হবে।



১৩. সিরোদকার অপারেশন : সিরোদকার অপারেশন হলো অকাল গর্ভপাত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে জরায়ুর মুখের চতুষ্পাশ্র্বে সেলাই করে মুখকে খিঁচিয়ে রাখা। এতে অকাল গর্ভপাত রোধ হয়। যেহেতু এতে কোনো ঔষধ বা বস্তু রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য খালি স্থানে পেঁৗছে না, তাই এর দ্বারা রোজা ভাঙবে না।



১৪. ডিএন্ডসি : ডি এন্ড সি হলো আট থেকে দশ সপ্তাহের মধ্য ডায়াটরের মাধ্যমে জীবিত কিংবা মৃত বাচ্চাকে মায়ের গর্ভ থেকে বের করে নিয়ে আসা। এতে রোজা ভেঙে যাবে। অযথা এমন করলে কাজা কাফফারা উভয়টি দিতে হবে এবং তওবা করতে হবে। (হেদায়া)



১৫. এমআর : এম আর হলো গর্ভ ধারণের পাঁচ থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে যোনিদ্বার দিয়ে জরায়ুতে এম আর সিরিঞ্জ প্রবেশ করিয়ে জীবত কিংবা মৃত ভ্রূণ নিয়ে আসা। যারপর ঋতুস্রাব পুনরায় হয়। অতএব মাসিক শুরু হওয়ার কারণে রোজা ভেঙে যাবে এবং কাজা করতে হবে। কিন্তু যদি রাতের বেলা করা হয় তাহলে দিনের রোজা কাজা করতে হবে না। (ফাতহুল কাদীর)



১৬. আলট্রাসনোগ্রাম : আলট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষায় যে ঔষধ বা যন্ত্র ব্যবহার করা হয় সবই চামড়ার উপরে থাকে, তাই আলট্রাসনোগ্রাম করলে রোজা ভাঙবে না। (হেদায়া)



১৭. স্যালাইন : স্যালাইন নেওয়া হয় রগে। আর রগ যেহেতু রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য রাস্তা নয়, তাই স্যালাইন নিলে রোজা ভাঙবে না। তবে রোজার কষ্ট লাঘবের জন্য স্যালাইন নেওয়া মাকরূহ। (ফাতাওয়ায়ে দারুল উলূম)



১৮. টিকা নেওয়া : টিকা নিলে রোজা ভাঙবে না। কারণ টিকা রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য রাস্তায় ব্যবহার করা হয় না। (আপকে মাসায়াল আওর উনকা হল)



১৯. ঢুস লাগানো : ঢুস মলদ্বারের মাধ্যমে দেহের ভেতরে প্রবেশ করে। তাই ঢুস নিলে রোজা ভেঙে যাবে। ঢুস যে জায়গা বা রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করে এ জায়গা বা রাস্তা রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য স্থান। (ফাতাওয়ায়ে শামী)



২০. ইনসুলিন গ্রহণ করা : ইনসুলিন নিলে রোজা ভাঙবে না। কারণ, ইনসুলিন রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করে না এবং গ্রহণযোগ্য খালি জায়গায় প্রবেশ করে না। (জাদীদ ফিকহি মাসায়েল)



২১. দাঁত তোলা : রোজা অবস্থায় একান্ত প্রয়োজন হলে দাঁত তোলা জায়েজ আছে। তবে অতি প্রয়োজন না হলে এমনটা করা মাকরূহ। ঔষধ যদি গলায় চলে যায় অথবা থুতু থেকে বেশি অথবা সমপরিমাণ রক্ত যদি গলায় যায় তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। (আহসানুল ফাতাওয়া)



২২. পেস্ট/টুথ পাউডার ব্যবহার করা : রোজা অবস্থায় দিনের বেলায় টুথ পাউডার, পেস্ট, মাজন ইত্যাদি ব্যবহার করা মাকরূহ। কিন্তু গলায় পেঁৗছালে রোজা ভেঙে যাবে। (জাদীদ ফিকহি মাসায়েল)



২৩. মিসওয়াক করা : শুকনো বা কাঁচা মিসওয়াক দিয়ে দাঁত মাজার দ্বারা রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। চাই যখনই করা হোক না কেন। (ফাতাওয়া শামী)



২৪. মুখে ঔষধ ব্যবহার করা : মুখে ঔষধ ব্যবহার করে তা গিলে ফেললে বা ঔষধ অংশ বিশেষ গলায় প্রবেশ করলে রোজা ভেঙে যাবে। গলায় প্রবেশ না করলে রোজা ভাঙবে না। (ফাতাওয়া শামী)



২৫. রক্ত পরীক্ষা : পরীক্ষার জন্য রক্ত দিলে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। তবে খুব বেশি পরিমাণে রক্ত দেওয়া যার দ্বারা শরীরে দুর্বলতা আসে, তা মাকরূহ।



২৬. ডায়াবেটিস মাপা : ডায়াবেটিসের সুগার মাপার জন্য সুঁচ ঢুকিয়ে যে এক ফোঁটা রক্ত নেওয়া হয়। এতে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না।



২৭. নাকে ঔষধ দেয়া : নাকে পানি বা ঔষধ দিলে যদি তা খাদ্যনালিতে চলে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে এবং কাজা করতে হবে। (ফাতাওয়ায়ে রাহমানিয়া)



২৮. চোখে ঔষধ বা সুরমা ব্যবহার করা : চোখে ঔষধ বা সুরমা ব্যবহার করার দ্বারা রোজা ভাঙবে না। যদিও এগুলোর স্বাদ গলায় অনুভব হয়। (হেদায়া)



২৯. কানে ঔষধ প্রদান করা : কানে ঔষধ, তেল ইত্যাদি ঢুকালে রোজা ভাঙবে না।



৩০. নকল দাঁত মুখে রাখা : রোজা রেখে নকল দাঁত মুখে স্থাপন করে রাখলে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। (ইমদাদুল ফাতাওয়া)



৩১. হিজামা বা সিঙ্গা নেওয়া : হিজামা বা সিঙ্গা নেওয়ার দ্বারা রোজা ভাঙে না। যদি শরীর দুর্বল লাগার ভয় বা শঙ্কা থাকে তাহলে মাকরুহ। যদি এমন ভয় বা শঙ্কা না থাকে তাহলে মাকরুহও হবে না।



 



অনুবাদক : মুহাদ্দিস, গবেষক ও প্রাবন্ধিক; বিভাগীয় প্রধান (হাদিস), আল ফাতাহ পাবলিকেশ, ০১৭১১ ৩৩৩৯৯৬



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৯৯৫৭০৮
পুরোন সংখ্যা