চাঁদপুর। রোববার ১৩ আগস্ট ২০১৭। ২৯ শ্রাবণ ১৪২৪। ১৯ জিলকদ ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৯-সূরা আনকাবূত

৬৯ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২৮। স্মরণ কর লুতের কথা, সে তাহার সম্প্রদায়কে বলিয়াছিল, ‘তোমরা তো এমন অশ্লীল কর্ম করিতেছ, যাহা তোমাদের পূর্বে বিশ্বে কেহ করে নাই।   

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন




একটি সুন্দর মন থাকা একটি সুন্দর রাজ্যে বসবাস করার আনন্দের মতো।                     

 -জনওয়েলস।


রাসূল (সাঃ) বলেছেন, নামাজ আমার নয়নের মণি।


মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে জলাবদ্ধতা কয়েক হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি
মাহবুব আলম লাভলু
১৩ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


এবার বর্ষার শুরু থেকেই প্রবল বর্ষণে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেচ প্রকল্প মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে মারাত্মক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সেচ প্রকল্পের খালগুলো প্রভাবশালীদের দখলে ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় এবং সংস্কার না হওয়ায় অতি বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে প্রকল্প এলাকায় মারাত্মক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এ জলাদ্ধতার কারণে প্রতি বছর কয়েক হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি থাকছে। প্রকল্পটি যে উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। প্রতি বছর এভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় এ সেচ প্রকল্পটি কৃষকের জন্যে অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে।



সরজমিনে দেখা যায়, গত ক'দিনের বৃষ্টিতে উপজেলার কলাকান্দা, মিলারচর, মাথাভাঙ্গা, পাঁচআনী, নাউরী, হলদিয়া, লুধুয়া, একলাশপুর, জোড়খালী, শিকিরচর, ছেঙ্গারচর, কেশাইরকান্দি, জীবগাঁও, পাঠানবাজার, ঝিনাইয়া, মরাদন, ইসলামাবাদ, অলিপুর, নয়াকান্দি, সুজাতপুর, ঠাকুরচর, রুহিতারপাড়, হানিরপাড়, বদরপুর, বাগানবাড়ি, নিশ্চিন্তপুর, দুর্গাপুর, লবাইরকান্দি, ইসলামাবাদ, ফতেপুরসহ প্রকল্পের বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এ জলাবদ্ধতার কারণে আমন ধানের বীজতলা এবং রোপা আউশ, শাক-সবজি, বগি পাট, আখ, ফল ও কাঠ গাছের বাগান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মৎস্য খামার তলিয়ে গেছে। কৃষকরা ফসলি জমিতে আবাদ করতে পারছে না। ফসলের ব্যাপক ক্ষতি এবং ফসলি জমি আবাদ করতে না পারায় কৃষক পরিবার হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। কৃষকরা এ সেচ প্রকল্প শুরু হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা না পাওয়ায় এ প্রকল্পটিকে তাদের জন্যে অভিশাপ মনে করছেন।



নাউরীর আঃ করিম নিজ ভাষায় বলেন, 'জানি না এহন আমরা কি করুম, হুদিনাকালে পানি পাই না, বর্ষাকালে বৃষ্টির পানিয়ে জইম্মা সব ফসল তলাইয়া যায়। ফসল করতে গিয়া টাকা শেষ হইয়া যায়। ক্ষতির কারণে ফসল পাই না। এমনে আর কত দিন চলুম'। হানিরপাড় গ্রামের আলী আহম্মদ বলেন, প্রকল্পটি তৈরি হওয়ার পর থেকে আমরা বর্ষা আসলেই বৃষ্টির পানিতে ডুবে মরি। আমাদের চাষের জমি তলিয়ে ফসল নষ্ট হয়ে যায়। প্রতি বছর এ সময়ে আমাদের জমিগুলো চাষ ছাড়া থাকছে। পাউবো কর্তৃপক্ষকে এ জলাবদ্ধতার ব্যাপারে জানালেও এ পর্যন্ত কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেয় নি।



উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সালাউদ্দিন জানান, জলাবদ্ধতার কারণে প্রতি বছরই এ প্রকল্পে ফসলের ক্ষতি হয়। বৃষ্টির পানি জমে থাকার কারণে জমি অনাবাদি থাকছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে পাউবো কর্তৃপক্ষকে বলা হয়ে থাকে।



১৯৮৭-৮৮ অর্থবছরে প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমির পরিধি নিয়ে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে জমি ভরাট, অপরিকল্পিত ঘর-বাড়ি নির্মাণ ও ফসলি জমিতে বৃক্ষরোপণ করায় এখন সেচ প্রকল্পে আবাদি জমির পরিমাণ এসে দাঁড়িয়েছে ১৫-১৭ হাজার হেক্টরে। সরকারি খাল, পানি নিষ্কাশনের ক্যানেল, ট্রেইনেতা ক্যানেল এবং পানি নামার জলাশয়গুলো অবৈধভাবে দখল ও ভরাট হওয়ায় পানি নিষ্কাশনের প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার যে খালগুলো দিয়ে উদ্দমদী ও কালীপুর পাম্প হাউজের দিকে পানি নেমে যাবে, সে খালগুলোতে কচুরিপানা জমাট বাঁধার কারণে দ্রুত গতিতে পানি নিষ্কাশন হতে পারছে না। অথচ এ খালগুলো কচুরিপানামুক্ত থাকলে বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গেই পানি চলে যেত। কিন্তু এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একেবারেই উদাসীন।



এভাবে প্রতি বছরই জলাবদ্ধতায় এ প্রকল্পের কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতি হয় এবং কয়েক হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি থাকে। এ সমস্যা সমাধানের জন্যে জলাবদ্ধতা নিরসনের স্থায়ী সমাধান জরুরি বলে দাবি কৃষি পরিবারগুলোর। তা না হলে মূলধন হারিয়ে কৃষকরা পথে বসবে।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৭৩৬২
পুরোন সংখ্যা