চাঁদপুর। সোমবার ২০ নভেম্বর ২০১৭। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪। ৩০ সফর ১৪৩৯
kzai
muslim-boys

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩২- সূরা সেজদাহ

৩০ আয়াত, ৪ রুকু, ‘মক্কী’

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

১১। বলুন, তোমাদের প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।

১২। যদি আপনি দেখতেন যখন অপরাধীরা তাদের পালনকর্তার সামনে নতশির হয়ে বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা দেখলাম ও শ্রবণ করলাম। এখন আমাদেরকে পাঠিয়ে দিন, আমরা সৎকর্ম করব। আমরা দৃঢ়বিশ্বাসী হয়ে গেছি।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


সংসারে যে সবাইকে আপন ভাবতে পারে, তার মতো সুখী নেই।              

-গোল্ড স্মিথ।


দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞানচর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।


ফটো গ্যালারি
আল-আমিন একাডেমীর অনিয়ম ফিরিস্তি-৩
ধর্মের নাম ভাঙ্গিয়ে গোঁড়ামি শেখানোর প্রয়াস!
বিশেষ প্রতিনিধি
২০ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আল-আমিন সোসাইটির অন্যতম প্রতিষ্ঠান আল-আমিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজ। দেশে সরকার কর্তৃক প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থাকে 'ইসলাম বিবর্জিত' বলে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু। এ প্রতিষ্ঠান থেকেই প্রতি বছর জামায়াত-শিবির তৈরি হচ্ছে বলে চাঁদপুর শহর থেকে শুরু করে পুরো জেলার জনসাধারণ অবগত আছেন। আল-আমিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজের ওয়েব সাইটে উল্লেখ রয়েছে, প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা ইসলাম বিবর্জিত হওয়ায় বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর আশা-আকাঙ্ক্ষার আলোকে জাতির মেরুদ-ের পুষ্টি বিধান না হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার সাথে ইসলামী শিক্ষার সমন্বয় সাধন করে আল-আমিন সোসাইটি চাঁদপুর শহর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে। ইতোমধ্যে ৬টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছে। জামায়াত-শিবির তৈরিতে অগ্রগণ্য ভূমিকা এ প্রতিষ্ঠানগুলোর। বিষয়টি চাঁদপুর শহরবাসীর কাছে ওপেন সিক্রেট।



অনুসন্ধানে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, এ প্রতিষ্ঠানে প্রধান ক্লাসগুলো শেষে আলাদাভাবে দুই ঘন্টা (ব্রেইন ওয়াশ) ক্লাস নেয়া হয়। যেখানে মূলত ধর্মীয় গোঁড়ামি শেখানো হয়ে থাকে। এ সময় সুকৌশলে জামায়াত/শিবির নেতারা ক্লাসে ঢুকে পড়ে। এখানে পড়ালেখা ভালো হয় এমন সুনাম পূর্বের। কিন্তু বর্তমানে এ সুনামকে পুঁজি করে কোমলমতি শিশু-কিশোরদের মনে ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে জামায়াতের বিভিন্ন কার্মকা-ের ইতিবৃত্ত ও উদ্দেশ্য। অবুঝ শিশু-কিশোরদের ওসব শুনতে শুনতে নিজের অগোচরেই জামায়াত-শিবির সংগঠনের প্রতি আসক্তি তৈরি হয়। যেখানে সহিংস রাজনীতির কলাকৌশলও শিক্ষা দেয়া হয়ে থাকে।



নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক অভিভাবক জানান, আমরা যখন বিষয়টি বুঝতে পেরেছি তখন নিজের সন্তানকে ওই স্কুল থেকে নিয়ে এসেছি। আনতে গিয়েও হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। ট্রান্সফার সার্টিফিকেট দিতে করে গড়িমসি। এমনকি ভর্তি হওয়ার দুইদিন পরে আসতে চাইলেও পুরো এক বছরের বেতনসহ আনুষঙ্গিক অর্থ পরিশোধ করে আসতে হয়।



আল-আমিন একাডেমীর ঈর্ষণীয় ফলাফলের পেছনে রয়েছে ভিন্ন কাহিনী। এ প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। সেখানে চলে বিভিন্ন চালবাজি। বিশেষ করে চরাঞ্চল বা গ্রামের স্কুলগুলোকে ফেলা হয় গণি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে। আর শহরের আশপাশের স্কুলগুলোকে ফেলা হয় হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে। প্রশাসনের সার্বিক নজরদারি থাকে এ প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে। অথচ আল-আমিন একাডেমী ও হাসান আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফেলা হয় ডিএন হাই স্কুল কেন্দ্রে। যেখানে প্রশাসনের দৃষ্টি যায় কম। ম্যাজিস্ট্রেট আসলেও অল্প সময় ব্যয় করে আবার চলে যান। যার ফলে শিক্ষার্থীদের তথ্য আদান প্রদান করতে সুবিধা হয়। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বিশেষ সুবিধাও প্রদান করা হয়ে থাকে। অবশ্য যে কোনো ধরনের সন্দেহ এড়াতে দুই-একটা রুমে অন্য দুই একটা স্কুলের সায়েন্স বা কমার্সের পরীক্ষার্থীদের রাখা হয়। এভাবে বছরের পর বছর এ বিদ্যালয়টি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে আসছে। মূলত প্রকৃত শিক্ষা থেকে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে। না হয় প্রতি বছর চার থেকে পাঁচশ' শিক্ষার্থী টেস্ট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়। কিন্তু বোর্ড পরীক্ষায় অল্প কিছু বাদে সব শিক্ষার্থী পাস করে ফেলে। বিষয়টিতে অন্যান্য শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের মনে প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে। কিন্তু কোনো জবাব মিলে না।



নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক জানান, এ প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ শিক্ষক প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত। অনেকেই বাসায় আবাসিক কোচিং করেন। কোনো কোনো শিক্ষকের মাধ্যমে পাড়া-মহল্লায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে মেস বা হোস্টেল গড়ে তোলা হয়েছে। কোনো কোনো শিক্ষক বাসায় ব্যাচের পর ব্যাচ প্রাইভেট পড়ান। প্রাইভেটে না পড়লেই বাধে বিপত্তি। টেস্ট বা মূল পরীক্ষায় নম্বর কম পাবে নতুবা ফেল করবে-এমন আতঙ্কে এক প্রকার বাধ্য হয় এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কাছে পড়তে। অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভালো শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়লে কোনো কোনো শিক্ষার্থীকে বিরাট মাশুল গুণতে হয়। অবশ্য এ নিয়ে যদিও কোনো শিক্ষার্থী বা অভিভাবক মুখ খুলতে নারাজ। শুধু কি তাই, এখানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতার বিচার করা হয় কে কত ত্যাগী শিবির বা জামায়াত নেতা। তাকেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়। যোগ্যদের এক্ষেত্রে বঞ্চিত করা হচ্ছে এমনও মৌখিক অভিগোগ আছে ভুরিভুরি। এ প্রতিষ্ঠানে ক্লাস বন্টনের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের মধ্যে যারা বড় শিবিরের নেতা ছিলেন কিংবা বর্তমানে জামায়াত নেতা তাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। নির্দিষ্ট বিষয়ে পারদর্শিতার চেয়ে শিক্ষকদের রাজনৈতিক পদ-পদবীকে গুরুত্ব দিয়ে ক্লাস দেয়া হয়। এদের কেউ যখন জেলে যায়, তখন শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলে কানাঘুষা। সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড়ে বিভিন্ন স্থান থেকে পালিয়ে আসা জামায়াত-শিবির নেতা এ প্রতিষ্ঠানে খ-কালীন বা পূর্ণকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের এতোটা দাপট যে, এখানে জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের কেউ খবরদারি বা তদারকি করার সাহসও দেখান না।



এ ব্যাপারে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসনের শীর্ষ দুই কর্মকর্তার সাথে আলাপকালে তাঁরা জানান, আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। আর শীঘ্রই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে নোটিস দিয়ে তদন্ত করা হবে।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৪২২২২
পুরোন সংখ্যা