চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮। ৩ ফাল্গুন ১৪২৪। ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

বিজ্ঞাপন দিন

jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৫-সূরা ফাতির

৫৫ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

১৫। হে মানুষ, তোমরা আল্লাহর গলগ্রহ। আর আল্লাহ; তিনি অভাবমুক্ত প্রশংসিত।

১৬। তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে বিলুপ্ত করে এক নতুন সৃষ্টির উদ্ভব করবেন।

১৭। এটা আল্লাহর পক্ষে কঠিন নয়।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


মৃত্যুবরণ করার চেয়ে কষ্ট ভোগ করে বেঁচে থাকার জন্যে অধিক সাহসের প্রয়োজন।

-নেপোলিয়ান।


যিনিই বিশ^মানবের কল্যাণ সাধন করেন তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ।


ফটো গ্যালারি
'দুর্নীতিমুক্ত সরকারি সেবা : দুর্নীতির অভিযোগের প্রকৃতি' বিষয়ক সভা
তদবিরবাজরাই হচ্ছে সবচে' বড় দুর্নীতিবাজ
দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ
মিজানুর রহমান
১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে 'দুর্নীতিমুক্ত সরকারি সেবা : দুর্নীতির অভিযোগের প্রকৃতি' শিরোনামে চাঁদপুর জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে মাঠ পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক এক আলোচনা সভায় দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, আমরা কাউকে ধরতে চাই না, যিনি ধরা খাবেন এমন কাজ যেন তিনি না করেন। সবচেয়ে বড় দুর্নীতি তদবির, তা ভাঙ্গতে হবে। আমরা বলি, তদবিরবাজরা হচ্ছে সবচে' বড় দুর্নীতিবাজ। দুর্নীতিমুক্ত ও হয়রানিমুক্তভাবে সরকারি পরিষেবা প্রদান করা আমলাতন্ত্র ও জনপ্রতিনিধিদের কোনো দয়ার বিষয় নয়। এটা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। তিনি বলেন, দুর্নীতি, তদবির, ক্ষমতাবানদের বিশেষ প্রভাব নির্মূল করা প্রয়োজন। তদবিরবাজরাই সবচেয়ে বড় দুর্নীতিবাজ এ অর্থে যে, তারা পদ্ধতি ভাঙ্গতে চায়। সংবিধান লংঘন করে অনুপার্জিত আয় করতে চায়। কিন্তু মানুষ আর তদবিরবাজদের ছাড় দিতে চায় না। তাদের শাস্তি পেতেই হবে। জনগণ পদ্ধতি মেনে সারিবদ্ধভাবে সরকারি পরিষেবা নিতে চায়। কারও দয়া নয়, সেবা প্রাপ্তি তাদের অধিকার। তিনি বলেন, অনেকেই বলেন আমাদের রাজনীতি আছে, উন্নয়ন আছে, নৈতিকতা আছে, সততা আছে, মূল্যবোধ আছে সবই আছে, কিন্তু দুর্নীতি, তদবির, অবৈধ প্রভাব কি নেই? দুর্নীতির যে ব্যাপকতা রয়েছে তা অব্যাহত থাকলে অনেক অর্জনই বিসর্জন হয়ে যাবে। আমরা এ অবস্থার উত্তরণ ঘটাতে চাই।



দুদক চেয়ারম্যান আলোচনার সূত্র ধরে বলেন, প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দোষ দিয়ে লাভ নেই। এক্ষেত্রে অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, সকলকেই দায় নিতে হবে। এভাবে যারা সার্টিফিকেট নিচ্ছেন তাদের দক্ষতা, সক্ষমতা ও মননশীলতা ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, দেশে সক্ষম শিক্ষিত মানুষের চাকুরির অভাব নেই। যদি অভাব থাকতো তাহলে প্রায় লক্ষাধিক বিদেশী বাংলাদেশে চাকরি করতে আসতো না। আমাদের দেশে শিক্ষা ক্ষেত্রে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। অনেক স্কুল হয়েছে, স্কুলে যাওয়ার পাকা রাস্তা হয়েছে, শিক্ষা উপকরণ আছে, শিক্ষক আছে কিন্তু শ্রেণী কক্ষে কি প্রকৃত শিক্ষা আছে? শ্রেণী কক্ষে শিক্ষা থাকলে আমাদের সন্তানরা কেন কোচিং সেন্টারে যাচ্ছে? তিনি এক্ষেত্রে প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধিদের সম্মিলিতভাবে শ্রেণী কক্ষে শিক্ষা নিশ্চিতের আহ্বান জানান।



তিনি বলেন, সময় এসেছে, মানুষও ঘুরে দাঁড়িয়েছে-ঘুষ বন্ধ হবেই। এ প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ২০১৭ সালে ফাঁদ মামলায় প্রায় ৩০ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২০১৭ সালেই কমিশনের গোয়েন্দা ইউনিট গঠন করা হয়েছে। এ বছর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই মাঠ পর্যায়ে ঘুষখোর দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে। তবে কোনো অবস্থাতেই নিরীহ কর্মকর্তাদের হয়রানি করার সুযোগ দেয়া হবে না। এমনকি দুদকে কোনো প্রভাব সৃষ্টি করার সুযোগ নেই। আমি এই চাঁদপুরের ছেলে। আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, আপনারা চাঁদপুরের কেউই দুদকে যেয়ে তদবির করার কোনো সুযোগ পাবেন না। দুদক তদবির ও প্রভাবমুক্ত প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, ভুল করে দুর্নীতি করা কিংবা ইচ্ছাকৃত দুর্নীতি করার পার্থক্য দুর্নীতি দমন কমিশন বুঝে। যেমন কর্ম করবেন তেমন ফল পাবেন।



তিনি বলেন, নৈতিকতা এবং মূল্যবোধ বিকাশের লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন দেশের প্রায় ২২০০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে সততা সংঘ গঠন করেছে। উত্তম চর্চার বিকাশে তাদের নিয়ে নানাবিধ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।



আলোচনা সভার প্রারম্ভেই দুদক মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মোঃ জাফর ইকবাল দুদক, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা, ভূমি রেকর্ড জরিপ, স্বাস্থ্য, প্রাথমিক শিক্ষা, মাধ্যমিক শিক্ষা, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, বিআইডবিস্নউটিএসহ বিভিন্ন দপ্তরের যে সকল অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে আসে তার একটি নমুনা পেপার উপস্থাপন করেন।



জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সুবর মন্ডল (যুগ্ম সচিব)-এর সভাপ্রধানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান (অপরাধ ও প্রশাসন), সনাক চাঁদপুর সভাপতি রোটাঃ কাজী শাহাদাত, মতলব দক্ষিণ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক সিরাজুল মোস্তফা তালুকদার, ইসলামিক ফাউন্ডেশন উপ-পরিচালক আঃ কুদ্দুছ, শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদ চেয়াম্যান দেলোয়ার হোসেন, ইউএনও মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ, ডিডি পরিবার পরিকল্পনা ডাঃ মোঃ ইলিয়াছ, চাঁদপুর সদর এসিল্যান্ড অভিষেক দাস, মতলব দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত ইউএনও আইভী রহমান, শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান প্রমুখ। সভায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
১৫৩৫০৭
পুরোন সংখ্যা