চাঁদপুর। সোমবার ১৯ মার্চ ২০১৮। ৫ চৈত্র ১৪২৪। ৩০ জমাদিউস সানি ১৪৩৯
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • অনিবার্য কারণে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির আজকের চাঁদপুর সফর স্থগিত করা হয়েছে
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৬-সূরা ইয়াসিন

৮৩ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৪৫। আর যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা সামনের আযাব ও পেছনের আযাবকে ভয় কর, যাতে তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করা হয়, তখন তারা তা অগ্রাহ্য করে।

৪৬। যখনই তাদের পালনকর্তার নির্দেশাবলীর মধ্যে থেকে কোন নির্দেশ তাদের কাছে আসে, তখনই তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


রাতে শুয়ে দিনের কাজগুলি একবার মনে মনে ভেবো।             

-ইমাম গাজ্জালি।

 


আল্লাহ যখন কোন পরিবারের মঙ্গল সাধনের ইচ্ছা করেন, তখন সেই পরিবারের ন¤্রতা অবলম্বনের তৌফিক দান করেন।

 


ফটো গ্যালারি
স্ত্রী-সন্তানকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে ভিটেমাটি থেকেও উচ্ছেদের পাঁয়তারা
চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট
১৯ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

স্ত্রী-সন্তানদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেই ক্ষান্ত হননি মফিজ সরকার। এখন তিনি ও তার ভাই নূরুল ইসলাম সরকার অসহায় দুই নারীকে ভিটেমাটি থেকেও উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছেন। এদিকে প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের সকল ধরনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে দ্বিতীয় বিয়ে করে সিলেটে সুখের জীবনযাপন করছেন মফিজ সরকার। আর অন্যদিকে ১ম স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম ও তার মেয়ে সালমা আক্তার স্বামী এবং পিতার অধিকার ফিরে পেতে আইনের দুয়ারসহ প্রশাসন ও সমাজের গণ্যমান্যদের দ্বারে বছরের পর বছর শুধু ঘুরছেন। কিন্তু তারা কোনো কুলকিনারাই পাচ্ছেন না। উপরন্তু তারা মফিজ সরকার ও তার ভাই নূরুল ইসলাম সরকারের হুমকি-ধমকি, হয়রানি ও চাপের মধ্যে আছেন ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্যে।

এমন অমানবিক আচরণের শিকার হওয়ার বিষয়ে অভিযোগ করলেন মতলব পৌরসভাধীন ভাঙ্গারপাড় সরকার বাড়ির মফিজ সরকারের স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম এবং তার মেয়ে সালমা আক্তার। মা-মেয়ে প্রায় পাঁচ বছর যাবৎ থানায় মামলা, আদালতে মামলা, এলাকায় সালিস, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছেন। কিন্তু এখনো কোনো প্রতিকার তারা পাননি। তবে তারা ন্যায় বিচার পাবেন বলে আশাবাদী।

ফেরদৌসী বেগম জানান, ১৯৮৫ সালের ২৯ মে পরিবারিকভাবে তার বিয়ে হয় মতলব পৌরসভাধীন ভাঙ্গারপাড় সরকার বাড়ির মৃত ফজর আলী সরকারের ছেলে মফিজ সরকারের সাথে। তাদের সংসারে সুমা আক্তার ও সালমা আক্তার নামে দুই কন্যা সন্তানের জন্ম নেয়। ফেরদৌসী বেগম জানান, তার দুই সন্তান জন্ম হওয়ার পর থেকেই সংসারের প্রতি অনেকটা উদাসীন হয়ে যান তার স্বামী। তার ছোট মেয়ে সালমা আক্তারের বয়স যখন ৪/৫ বছর তখন তাদের বাবা মফিজ সরকার অনেকটা নিখোঁজ হয়ে যান। অনেক বছর পর তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারেন যে, তার স্বামী সিলেটে আরেকটি বিবাহ করেছে। তাও এখন থেকে প্রায় ২০ বছর আগে। মফিজ সরকার এবং তার বোন পারভীন বেগম সিলেট কোতয়ালী থানাধীন পাঠানটুলী এলাকায় পাশাপাশি থাকেন।

ফেরদৌসী বেগমের ছোট মেয়ে সালমা আক্তার জানান, তার চাচা নূরুল ইসলাম (নূরু) সরকারই মূলত তার বাবাকে দিয়ে তাদের সবকিছু থেকে বঞ্চিত করছে। এই নূরু সরকারের প্ররোচনায় তার পিতা মফিজ সরকার গ্রামের সব সম্পত্তি বিক্রি করে এখন যে ঘরভিটিতে থারা থাকেন সেখান থেকেও উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছেন। সালমা জানান, তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করার বিষয়টি যখন জানাজানি হয়, তখন তাদের বাড়িতে সালিস বসে। সে সালিসে তার বাবা মফিজ সরকার, চাচা নূরু সরকারসহ গণ্যমান্য আরো অনেকে ছিলেন। সে সালিসে পঞ্চায়েত সিদ্ধান্ত দেয় আমাদের দুই বোনকে ৪০ শতাংশ জমি বাবা রেজিস্ট্রি করে দেবেন। কিন্তু পরে আমাদেরকে দেননি।

ফেরদৌসী বেগম জানান, সবদিক থেকে যখন তিনি ও তার সন্তানরা বঞ্চিত হতে লাগলেন এবং সামাজিক দরবারের কোনো সিদ্ধান্তই যখন তার স্বামী মানছেন না তখন নিরূপায় হয়ে ২০১৪ সালে তিনি ও তার মেয়ে সালমা বাদী হয়ে সহকারী জজ ও পারিবারিক আদালত মতলব-এ মফিজ সরকারকে বিবাদী করে মামলা (নং-৩৯/২০১৪ খ্রিঃ) দায়ের করেন। এছাড়া মতলব দক্ষিণ থানায় মামলা, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছেও আবেদন করেন ফেরদৌসী বেগম ও তার মেয়ে সালমা আক্তার। সর্বশেষ গত ১৮/০২/২০১৮ তারিখে পুলিশ সুপারের কাছে সালমা আক্তার যে অভিযোগ দেন সে বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) রাজন কুমারের কাছে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু এ পর্যন্ত এ ব্যাপারে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে জানান সালমা আক্তার। সালমা আক্তার জানান, তার চাচা নূরু সরকার, চাচী শিখা বেগম, ফুফু পারভীন বেগম ও ফুফা নূরুল আমিনের প্ররোচনা ও বুদ্ধি-পরামর্শেই তার পিতা দ্বিতীয় বিবাহ করা এবং তাদেরকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করার সকল অমানবিক আচরণ করে যাচ্ছে। এখন তাদেরকে যে পৈত্রিক ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছে তাও তার চাচা-চাচী ও ফুফা-ফুফুর প্ররোচনায় করছেন তার বাবা। তাদের এ বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে তার সুবিচার প্রত্যাশা করছে আইন-আদালত এবং প্রশাসনের কাছ থেকে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা হয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) রাজন কুমারের সাথে। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টি আমার জানা আছে। এসপি স্যার আমাকে দায়িত্ব দেয়ার পর আমি তাদেরকে অর্থাৎ মফিজ সরকার ও নূরু সরকারকে পরপর দুটি নোটিস করেছি। তারা আসেনি। পরে আমি অন্যান্য কাজে ব্যস্ত হয়ে যাওয়ায় পরবর্তী পদক্ষেপ আর নেয়া হয়নি। তবে আমি চট্টগ্রাম আছি, এখান থেকে মতলব ফিরেই এ ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবো। এদিকে এ বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্যে নূরুল ইসলাম নূরু সরকারের সাথে কথা হলে তিনি এএসপি সার্কেল অফিস থেকে কোনো নোটিস পাননি বলে জানান। আর তার বিরুদ্ধে তার ভাবী ও ভাতিজির অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, 'আসলে ফোনে তো এতো কথা বলা যায় না। আপনি একদিন মতলব আসেন, তখন বিস্তারিত জানতে পারবেন।

এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩০৩৫২২
পুরোন সংখ্যা