চাঁদপুর। শনিবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮। ১ পৌষ ১৪২৫। ৭ রবিউস সানি ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৪-সূরা দুখান

৫৯ আয়াত, ৩ রুকু, ‘মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৪৭। উহাকে ধর এবং টানিয়া লইয়া যাও জাহান্নামের মধ্যস্থলে,

৪৮। অতঃপর উহার মস্তকের উপর ফুটন্ত পানি ঢালিয়া শাস্তি দাও-

৪৯। এবং বলা হইবে ‘আস্বাদ গ্রহণ কর, তুমি তো ছিলে সম্মানিত, অভিজাত!   ¬





 


আদেশ সবাই দিতে পারে না।

  -শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।


যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ নয়, সে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ নয়।





 


দেশের গর্ব অণুজীব বিজ্ঞানী ড. সমীর কুমার সাহা
১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আজ সন্ধ্যায় বিজয় মেলা মঞ্চে 'জীবনদীপে'র অনুষ্ঠানে দেশের গর্ব অণুজীব বিজ্ঞানী ড. সমীর কুমার সাহাকে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হবে। নিম্নে তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত তুলে ধরা হলো :-



ড. সমীর কুমার সাহা ১৯৫৫ সালে নোয়াখালীতে বাবা চন্দ্রকান্ত সাহা ও মা দুলালী প্রভা সাহার ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা চন্দ্রকান্ত সাহা ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসায়িক কারণে চন্দ্রকান্ত সাহাকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকতে হতো। সেই সুবাদে ড. সমীর কুমার সাহার শৈশব ও স্কুলজীবন কেটেছে রাজশাহীতে। রাজশাহীর চারঘাট থানার আড়ানী গ্রামের মনমোহিনী হাইস্কুলে স্কুলজীবন করেন। এরপর চৌমুহনীর মদনমোহন হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর চন্দ্রকান্ত সাহা সপরিবারে চাঁদপুর চলে এলে ড. সমীর কুমার সাহা চাঁদপুর সরকারি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। কলেজে পড়াকালীন সময়ে তিনি রামকৃষ্ণ আশ্রমে থাকতেন। ১৯৭৫ সালে এইচএসসি শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৮৩ সালে উদ্ভিদবিজ্ঞানে স্নাতক করার পর মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। এরপর তিনি ঢাকা শিশু হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজিতে যোগ দেন। ১৯৮৯ সালে ভারতের বানারসে ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স থেকে মেডিক্যাল মাইক্রোবায়োলজি বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে আবার ঢাকা শিশু হাসপাতালে ফিরে আসেন। এখানে এসে খুবই সীমিত পরিসরে গবেষণার জন্যে দল গঠন করেন। শুরুতেই একটা টেবিল ও একটি অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছিলো। সেই সময়ে শিশুরা ডায়রিয়ার থেকে বেশি মারা যেতো নিউমোনিয়া, টাইফয়েড ও মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়ে। তখন তিনি নিউমোনিয়ার নির্দিষ্ট দুটি জীবাণু নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। শিশু হাসপাতালের গবেষণাগারের পাশাপাশি টাঙ্গাইলে মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতাল, রাজধানীর মিরপুরের শিশু স্বাস্থ্য হাসপাতাল, চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতাল এবং সিলেটের বালুচরের গবেষণাগার থেকেও তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ করেন। তাঁর গবেষণার তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সরকার শিশু মৃত্যু হার কমানোর জন্যে বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচিতে ভ্যাকসিন 'হিব পেন্টাভ্যালেন্ট' ও 'নিউমোকক্কাস' অন্তর্ভুক্ত করেছে। শিশু মৃত্যুহার কমানোর স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭ সালে তিনি ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে জে. ফিনলে পুরস্কার অর্জন করেন, যা এশিয়ার মধ্যে প্রথম এবং আমেরিকার বাইরে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে আমেরিকান সোসাইটি অব মাইক্রোবায়োলজির পক্ষ থেকে তিনি সম্মানসূচক পুরস্কার পান। দীর্ঘ গবেষণাজীবনের প্রায় একশ' পঞ্চাশটির বেশি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়। ড. সমীর কুমার সাহা বর্তমানে ঢাকা শিশু হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলোজি বিভাগের প্রধান, চাইল্ড হেল্থ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (সিএইচআরএফ) নির্বাহী পরিচালক, কোয়ালিশন অ্যাগেইনস্ট টাইফয়েডের (সিএটি) স্টিয়ারিং কমিটির প্রধান, নিউমোকক্কাল অ্যাওয়ারনেস কাউন্সিল এঙ্পার্টসের সদস্য এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইনভেসিভ ব্যাক্টেরিয়াল ডিজিজ সার্ভিলেন্সের কারিগরি উপদেষ্টা। এছাড়াও ড. সমীর কুমার সাহা বর্তমানে বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন কর্মকা-ের সাথে নিজেকে জড়িত রাখেন। চাঁদপুরের স্বনামধন্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান সংগীত নিকেতনের নিজস্ব ভবন নির্মাণ কাজে তিনি পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। সেখানে তাঁর বাবার নামে চন্দ্রকান্ত সাহা মিলনায়তন প্রতিষ্ঠিত হয়।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৭৫৯৪৪
পুরোন সংখ্যা