চাঁদপুর, মঙ্গলবার ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ৩ বৈশাখ ১৪২৬, ৯ শাবান ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৮-সূরা ফাত্হ্

২৯ আয়াত, ৪ রুকু, মাদানী

২৬। যখন কাফিররা তাহাদের অন্তরে পোষণ করিতো গোত্রীয় অহমিকা-অজ্ঞতার যুগের অহমিকা, তখন আল্লাহ তাঁহার রাসূল ও মু’মিনদিগকে স্বীয় প্রশান্তি দান করিলেন; আর তাহাদিগকে তাকওয়ার বাক্যে সুদৃঢ় করিলেন, এবং তাহারাই ছিলো ইহার অধিকতর যোগ্য ও উপযুক্ত। আল্লাহ সমস্ত বিষয়ে সম্যক জ্ঞান রাখেন।











 


assets/data_files/web

যে-লোক তার সুযোগ হারায় সে নিজেকে হারায়।      


-জি. মরু।


নফস্কে দমন করাই সর্বপ্রথম জেহাদ।


ফটো গ্যালারি
এবারের বর্ষবরণ উৎসবই ছিলো যেনো 'মিনি কক্সবাজার' ঘিরে
চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট
১৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বাংলা বর্ষবরণ উৎসব মানেই বাঙালির প্রাণের উৎসব। তার সাথে যদি যোগ হয় নিজ ভূমেই সমুদ্র সৈকতের মতো বীচে নিজেদের অবগাহন করে দেয়ার মতো আনন্দ, তাহলে তো সে উৎসবে শতভাগ পূর্ণতা আসবেই। সে রকম এক ভিন্নতর উৎসবের আনন্দ এবার চাঁদপুরে লক্ষ্য করা গেলো পহেলা বৈশাখ তথা বাংলা নববর্ষের প্রথমদিন। আর সেই বীচের আনন্দ এবার চাঁদপুরের মানুষ নিজ জেলা শহরেই উপভোগ করেছে। যেটি ইতিমধ্যে 'মিনি কঙ্বাজার' নামে পরিচিতি পেয়েছে। তবে উদ্যোক্তারা এর নাম দিয়েছেন 'মেঘনার ত্রিমোহনা বীচ'। তারা চাচ্ছেন এ নামেই চাঁদপুরের প্রথম এই পর্যটন স্পটটির পরিচিতি হোক। চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন মোলহেড থেকে সোজা পশ্চিমে মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা চর'ই এখন চাঁদপুরের 'মিনি কঙ্বাজার' বা 'মেঘনার ত্রিমোহনা বীচ'। আর এ বীচকে ঘিরেই যেনো ছিলো এবার চাঁদপুরের বর্ষবরণ উসব।



'এই মিনি কঙ্বাজার, মিনি কঙ্বাজার, একশ' টাকা, একশ' টাকা'। এভাবেই ডেকে ডেকে শুধু ট্রলারে মানুষ উঠাচ্ছে আর সেই মেঘনার বুকে জেগে ওঠা মিনি কঙ্বাজার খ্যাত 'মেঘনার ত্রিমোহনা বীচ'_এ নিয়ে যাচ্ছে। ট্রলারে যেতে মাত্র ৮/১০ মিনিট সময়। এক ট্রলারে প্রায় ৩০/৩৫ জন করে যাচ্ছে। পহেলা বৈশাখ ১৪ এপ্রিল রোববার চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন মোলহেড এলাকায় গিয়ে দেখা গেলো এ দৃশ্য। মানুষ লাইন ধরে ট্রলারে উঠছে। এক সাথে ৩/৪টি ট্রলার ভরপুর হয়ে ছেড়ে যাচ্ছে। ভাড়া একবারেই নিয়ে নেয়া হয় যাওয়ার সময়। ফিরে আসার সময় যে কোনো ট্রলারে করে চলে আসবে। তখন আর ভাড়া দিতে হবে না। অন্যদিন যাওয়া-আসা জনপ্রতি ৫০টাকা ভাড়া রাখলেও পহেলা বৈশাখের দিন তা একশ' টাকা করা হয়। আর এই বাড়তি ভাড়া শুধু উৎসবের দিনই। এটা নাকি ট্রলার মালিক এবং চালকদের আনন্দেরই একটা অংশ। তবে এ নিয়ে বীচে যাওয়া কোনো পর্যটকের বাদ-প্রতিবাদ বা আপত্তি নেই। যেনো ভাড়া কোনো বিষয় নয়, বীচে যেতে পারাটাই মুখ্য। শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষ সববয়সী মানুষকেই দেখা গেলো মেঘনার চরের এই বীচে আসতে।



এই প্রতিবেদকও পর্যটকদের সঙ্গী হলেন। সেখানে গিয়েই দেখা গেলো অবিশ্বাস্য রকমের দৃশ্য। কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা বা কোনো প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা ছাড়াই পাঁচ বন্ধু একি ঝড় তুলে দিলো মেঘনার বুকে। আরাফাত, অপু, পাবেল, সাগর, সোহান-এই পাঁচ বন্ধুর উদ্যোগই আজ মেঘনার ত্রিমোহনা বীচ যা মিনি কঙ্বাজার নামে পরিচিত। তবে এ পাঁচজনের শুধু উদ্যোগই নয়, কঠোর পরিশ্রমও করতে হচ্ছে তাদের। নিজেরাই শ্রম দিচ্ছেন। এর বাইরে আছে তিন জন স্টাফ। চাঁদপুর শহরের ছেলে এই পাঁচ বন্ধুর সবাই ছাত্রলীগের নেতা। এরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো এবং সমাজে অনেককে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো। আর চাঁদপুরের ট্যুরিজমের ইতিহাসে প্রথম নাম লেখালো এই পাঁচ বন্ধু।



মেঘনা বীচে গিয়ে দেখা গেলো অসংখ্য ছেলে-মেয়ে, শিশু-কিশোর বীচে তথা মেঘনার মিঠা পানিতে গোসল করছে। আনন্দ-উল্লাস আর দৌড়-ঝাপ দিচ্ছে। অনেকে পানিতেই ভলিবল খেলাসহ নানা খেলায় মেতে উঠেছে।



বীচে রয়েছে ১০টি চেয়ার বীচ। যেগুলো ৩০ মিনিট এবং ঘন্টা ভাড়ায় বিশ্রাম নেন পর্যটকরা। খালি দেখা গেলো না একটিও। একজনের সময় শেষ হওয়ার সাথে সাথেই ভাড়া হয়ে যাচ্ছে। দুপুর ২টার সময়ই দেখা গেলো অসংখ্য পর্যটক বীচজুড়ে। ১০টি বীচ চেয়ার ছাড়াও রয়েছে কেন্টিন। সেখানে পহেলা বৈশাখের দিন পাওয়া গেলো মোরগ পোলাও, চটপটি, ফুসকা ও ঠা-া কোমলপানীয়। ওই পাঁচ বন্ধু নিজেরাই এটি পরিচালনা করছেন। কেন্টিনে ভিড়ও লক্ষ্য করা গেলো।



বীচে আরো রয়েছে ড্রেসিং রুম যেখানে নারী-পুরুষ কারো ড্রেস চ্যাঞ্জ করার প্রয়োজন হলে করতে পারবে। এছাড়া নামাজের জায়গাও রয়েছে। রয়েছে টয়লেটের ব্যবস্থা। আবার এক পাশে দেখা গেলো একটি পিকনিক পার্টি সামিয়ানা টানিয়ে পিকনিক করছে। একপাশে দেখা গেলো অনেক ঝাউগাছ। যেনো বিশাল ঝাউগাছের বন। সেখানেও দেখা গেলো পর্যটকরা গিয়ে ছবি তুলছে। সবমিলিয়ে অসংখ্য পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত ছিলো এই মেঘনা ত্রিমোহনা বীচ। পিকনিক পার্টি এবং অনেক পর্যটক দল ট্রলার রিজার্ভ করে বাদ্য বাজনা নিয়ে এসেছে। এক কথায় বলতে গেলে পহেলা বৈশাখের তথা বর্ষবরণের শতভাগ আনন্দ আর উৎসব ছিলো এই বীচজুড়ে।



পর্যটক ক'জনের সাথে কথা হলে তারা বললেন, কঙ্বাজারের চেয়ে আনন্দ এবং মজা এখানে অনেক বেশি। কারণ, সাগরের হচ্ছে লোনা পানি আর এখানে মিঠা পানি। তাই এখানে মেঘনার পানিতে ডুবানো এবং সাঁতরানো যায়। সাগরের বড় বড় ঢেউয়ের ভয় আছে, কিন্তু এখানে সে ভয় নেই। মেঘনার এই বীচের আমেজই ভিন্ন রকমের।



ব্যস্ততার কারণে এই বীচের উদ্যোক্তাদের সাথে বিস্তারিত কথা না বলতে পারলেও তারা এতটুকু জানালেন যে, তাদের ইচ্ছার পাশাপাশি যাঁর অনুপ্রেরণা এবং পরামর্শ আজ তাদের এই স্বপ্ন ট্যুরিজম বাস্তবে রূপ নিলো, তিনি হচ্ছেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির বড় ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডাঃ জে আর ওয়াদুদ টিপু। মূলত তাঁর অনুপ্রেরণাই তাদের এ কাজে সাহস জুগিয়েছে।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
১০০৪৩৭১
পুরোন সংখ্যা