চাঁদপুর, রোববার ১৯ মে ২০১৯, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৩ রমজান ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫০-সূরা কাফ্

৪৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২৮। আল্লাহ বলিবেন, ‘আমার সম্মুখে বাগ্-বিত-া করিও না; তোমাদিগকে আমি তো পূর্বেই সতর্ক করিয়াছি’।

২৯। ‘আমার কথার রদবদল হয় না এবং আমি আমার বান্দাদের প্রতি কোনো অবিচার করি না।’

৩০। সেই দিন আমি জাহান্নামকে জিজ্ঞাসা করিব, ‘তুমি কি পূর্ণ হইয়া গিয়াছ? জাহান্নাম বলিবে, ‘আরও আছে কি?’


assets/data_files/web

বাণিজ্যই হলো বিভিন্ন জাতির সাম্য সংস্থাপক। -গ্লাডস্টোন।


 


 


যখন কোনো দলের ইমামতি কর, তখন তাদের নামাজকে সহজ কর।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
ফরিদগঞ্জে একদল যুবকের স্বেচ্ছাশ্রমে দীর্ঘ বছরের স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে
তারাবীর নামাজের পর থেকে সাহরীর আগমুহূর্ত পর্যন্ত ওরা মাটি কাটে
এমকে মানিক পাঠান
১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চারদিক চাঁদের আলো যেন ঝলমল করছে। সেই চাঁদের আলোতেই একদল যুবকের হই-হই চিৎকার ভেসে আসছে কানে। দূর থেকে মনে হয়, কেউ জোরপূর্বক কারো জায়গা দখল করে নিচ্ছে। কিন্তু না, কাছে গিয়ে দেখা গেলো উল্টো চিত্র। সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে একদল যুবক রোজার ক্লান্তি উপেক্ষা করে জনস্বার্থে একটি নতুন রাস্তা নির্মাণ করছে। তারাবীর নামাজের পর থেকে সাহরী খাওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত চলে এই রাস্তা নির্মাণের কাজ। একদল যুবকের প্রশংসনীয় উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে এই রাস্তাটি নির্মাণ করা হচ্ছে ফরিদগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বড়ালী গ্রামে।



এ খবর পেয়ে সরেজমিনে গত শুক্রবার রাতে গিয়ে দেখা যায়, পৌর এলাকার পশ্চিম বড়ালী গ্রামের মন্তি খাঁর বাড়ির সামনে থেকে একই গ্রামের হাওলদার বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১ কিঃ মিঃ কাঁচা রাস্তা নির্মাণের জন্যে কাজ করছে প্রায় ৫০ জন যুবক। কাজ করা এই যুবকদের মধ্যেই আবার যুক্ত হচ্ছে শিশু থেকে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ছাড়াও নানা বয়সের পুরুষরাও। ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে রাস্তাটি নির্মাণ করতে যার যার অবস্থান থেকে কোদাল নিয়ে নেমে পড়ছে। কিছুক্ষণ পরপর চলে চা বিরতি। মাটি কাটা যুবকদের হাতে হাতেই চলে আসছে ৭ ফুট চওড়া রাস্তার উপর। প্রতিদিনই তারাবীর নামাজ শেষে দলবল নিয়ে রাস্তা নির্মাণের জন্যে যুবকরা বাড়ি থেকে বের হয়ে আসে। মাটি কাটার কাজ চলে সাহরী খাওয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত।



গ্রামবাসীরা জানায়, ৭ ফুট চওড়া ও এক কিঃ মিঃ দৈর্ঘ্যের রাস্তাটি নির্মাণের মধ্য দিয়ে ভুক্তভোগীগের প্রায় ৫০ বছরের লালিত স্বপ্ন পূরণ করতে যাচ্ছে। কারণ হিসেবে জানা গেল, এই এলাকার কোনো নারী পুরুষ রোগাক্রান্ত হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হলে অনেক পথ ঘুরে যেতে হয়। এই দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে দীর্ঘ সময় ধরেই এই রাস্তাটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন সময় নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে রাস্তাটি নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। এক পর্যায়ে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহফুজুল হকের সহযোগিতায় ওই গ্রামেরই একদল যুবক তাদের স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে রাস্তাটি নির্মাণের জন্যে এবারের রমজানের সময়টাকেই বেছে নেয়। সে মতে এ বছরের প্রতি রোজার তারাবীর নামাজ শেষ করে সাহরী খাওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত চলে রাস্তায় মাটি ফেলার কাজ। গত ৬ দিন আগে শুরু হওয়া ওই রাস্তার প্রায় অর্ধেকটায় মাটি ফেলা হয়ে গেছে। বাকিটার কাজও আগামী ৫/৭ দিনের মধ্যেই শেষ করা হবে বলে জানা গেছে।



এলাকার বাসিন্দা ডাক্তার আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, মূলত গ্রামবাসীর দুর্ভোগ লাঘবের স্বার্থে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা ছিল এ রাস্তাটি নির্মাণের। অবশেষে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে একদল যুবক তারাবীর নামাজ শেষে সাহরীর আগমুহূর্ত পর্যন্ত উক্ত রাস্তায় মাটি কাটার কাজটি যেভাবে করে যাচ্ছে তা সমাজে এক অনুকরণীয় ও বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে আমি মনে করি।



এ নিয়ে ওই এলাকার সাবেক কাউন্সিলর মামুনুর রশিদ বলেন, এলাকার লোকজনের চলাচলের সুবিধা ছাড়াও বিশেষ করে রোগীদেরকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার জন্যেই মূলত এই রাস্তাটি নির্মাণের উদ্দেশ্য। প্রায় ১ কিঃ মিঃ দৈর্ঘ্যের রাস্তাটি নির্মাণের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছরের লালিত স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে দেখে গ্রামবাসীও এখন উৎফুল্ল। তবে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহফুজুল হকের সহযোগিতা ছাড়াও এই এলাকারই সন্তান আমাদের গর্ব ডাক্তার আসাদুজ্জান জুয়েলের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় মূলত এই রাস্তাটি নির্মাণের জন্য গ্রামেরই একদল যুবক তাদের স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে জনস্বার্থে এখন নিরলসভাবে নতুন রাস্তা নির্মাণের জন্য মাটি কাটার কাজ করছে ।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬০৪৩৫৬
পুরোন সংখ্যা