চাঁদপুর, রোববার ১৯ মে ২০১৯, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৩ রমজান ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫০-সূরা কাফ্

৪৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২৮। আল্লাহ বলিবেন, ‘আমার সম্মুখে বাগ্-বিত-া করিও না; তোমাদিগকে আমি তো পূর্বেই সতর্ক করিয়াছি’।

২৯। ‘আমার কথার রদবদল হয় না এবং আমি আমার বান্দাদের প্রতি কোনো অবিচার করি না।’

৩০। সেই দিন আমি জাহান্নামকে জিজ্ঞাসা করিব, ‘তুমি কি পূর্ণ হইয়া গিয়াছ? জাহান্নাম বলিবে, ‘আরও আছে কি?’


assets/data_files/web

খ্যাতিমান লোকের ভালোবাসা অনেক ক্ষেত্রে গোপন থাকে। -বেন জনসন।


 


 


যার দ্বারা মানবতা উপকৃত হয়, মানুষের মধ্যে তিনি উত্তম পুরুষ।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
বুদ্ধ-জীবন
পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


জগৎ হলো দুঃখে ভরা কেউ ভাবেনি তাঁর মত



কেউ ভাবেনি অনিত্য সব মর্ত্যে দেখি আর যত



কেউ পারেনি মানুষ হয়ে রাজার আসন ত্যাগ করে



সবার দুঃখে নিজের মনে দুঃখ দ্যাখে এক করে



রাজার কুমার রাজ্য ছেড়ে প্রাসাদ ছেড়ে যান বনে



মুক্তি পথে খুঁজতে গিয়ে জগতের ডাক পান মনে।



 



সেদিন ছিলো আলোর বানে বৈশাখেরই পূর্ণিমা



লুম্বিনীতে ঠিক যেখানে যায় মিলিয়ে পূর্ণসীমা



মা জননীর খুশির ব্যথা উঠলো জেগে মাঝপথে



জগজ্জ্যোতির আগম হল মায়ের দখিন পাশ হতে



আয়ুর প্রদীপ নিভলো মায়ের পুত্র হেঁটে সাত কদম



এই জন্মে বুদ্ধ হবো বললো আমার শেষ জনম।



 



আকাশ হতে বৃষ্টি হলো জল তাতে নয় ফুল পড়ে



সাত কদমে সাত পদ্ম ফুটলো মুখ অমল করে



যেই বৃক্ষে হাত দিয়ে মা নিজ উদরে দিলেন চাপ



কাঠগোলাপের সে পুষ্পে হয় না পূজা পায় না মাফ



মা হারিয়ে মাসীর কোলে রাজকুমারের হয় আলয়



গৌতমী তাই মা হয় আর মাসীর চিহ্ন পায় তা লয়।



 



অনেক আশার বংশ-প্রদীপ সিদ্ধার্থ রাজধামে



গৌতমীরও পুত্র বিধায় গৌতম সে আজ নামে



গণক আসে, আসে জ্যোতিষ বলে গুরু কালদেবে



থাকলে ঘরে হবেন রাজা চুলকে তার কপাল ভেবে



ছাড়লে গৃহ বুদ্ধ হবেন জগৎ যাতে শান্তি পায়



বলেন গুরু কোষ্ঠী কষে বিন্দু যে নাই ভ্রান্তি তায়।



 



চার ঋতুতে চারখানা ঘর বাঁধেন রাজা অাঁক কষে



রাজার কুমার নৃত্য-গীতে ঘরের ভিতর থাক বসে



মামার মেয়ে যশোধরা ডাক নাম তাঁর হয় গোপা



রাজার চালে সিদ্ধার্থ নিলেন পাণি নয়গো পা!



মনের ভিতর উঠলো নড়ে জগৎ তবে কীসের ভার



আজ মরলে কালকে উধাও হয়ে যাবে সব অসার।



 



পিতার কাছে ঘুরতে চেয়ে তাঁর নগরের চারিধার



পুত্র মাগে মতের আশিষ্ কম্পে পিতা তারই সার



দূত পাঠিয়ে ঢেঁঢড়া পিটায় নগরবাসীর জাগল ভয়



সিদ্ধার্থ নামলে পথে কেউ যেন বের হবার নয়



কিন্তু বিধিবাম হলো তার যে যা দেখার দেখল তাই



প্রথম দিনে বৃদ্ধ এল রাজপথে আর কেউতো নাই।



 



শুধায় কুমার নিজ সারথি তার বয়সের ছন্দকে



এই বৃদ্ধ কাতর কেন এর চেয়ে আর মন্দ কে?



সকল মানুষ বৃদ্ধ হবে বয়স হলে তার পরে



জগৎজুড়ে এই নিয়মে চলছে সবাই যার ঘরে



পরের দিনে জীর্ণ রোগী শীর্ণদেহ শক্তিহীন



কুমার শুধায় কেনবা তার মলিন দেহ দীনের দীন?



 



ছন্দকে কয় রাজার কুমার জন্ম নিলেই রোগ হবে



তুমি আমি রুগ্ন হবো করবো জরা ভোগ সবে



তৃতীয় দিনে মরদেহ নিচ্ছে বয়ে চিতায় কেউ



পেছনে তার অশ্রুভেজা চলছে কেঁদে পিতায় ফেউ



শুধায় কুমার বল্ সারথি যা দেখেছি সত্যি কি



ছন্দকে কয় মরবো সবাই মিথ্যে তা এক রত্তি কি?



নগর ভ্রমণ করতে গিয়ে দেখলো দুয়ে শেষ দিনে



গৈরিকে এক সন্ন্যাসী যায় রুগ্নতা আর ক্লেশ বিনে



রাজার কুমার ভেবে অকূল কীসের তবে তৃষ্ণা সব



ভবে শেকল খুলবে না কেউ লয় যদি নাহয় আসব।



 



এরই মাঝে গোপার কোলে পুত্র এসে ফুটল ফুল



কুমার ভাবে আসলো বাধা মুক্তি-পথে ফোটায় হুল



তবুও শেষে মস্নান হেসে গভীর রাতে ছাড়লো ঘর



আষাঢ় মাসের পূর্ণিমাতে কুমার করে আপন পর



পূর্বমুখে বের হয়ে ঘর কুমার ডাকে ছন্দকে



তুই ফিরে যা চলছি আমি পথ দেখাতে অন্ধকে।



ছয় বছরের মুক্তি খুঁজে পায়নি কুমার মোক্ষ তার



কঠিন পথে সিদ্ধ হতে নেয়নি কেউ পক্ষ তার



মধ্য পথের যাত্রী হয়ে কুমার পেলো ব্যঞ্জনা



এই পথে তাঁর সঙ্গী নদী নাম ছিলো নৈরঞ্জনা



নদীর তীরে দূর সেনানী গ্রাম ছিলো এক অখ্যাত



কপালগুণে জগৎজুড়ে সেই গাঁ হলো আজ জ্ঞাত।



 



সুজাতা এক নবীন মাতা পুত্র পেয়ে উল্লাসে



পাত্রভরা পায়েস নিয়ে বনে যে তার দল আসে



গাছের তলায় সে ভেবেছে বনদেবতার অধিষ্ঠান



পায়েস তারে দেয় নিবেদন মানত পুরে জুড়ে প্রাণ



পঞ্চাশের এক কম প্রয়াসে পায়েস খেয়ে গৌতমে



নতুন করে বসলো ধ্যানে পূর্ণ পেটে চৌ-দমে।



 



সেদিন ছিল পূর্ণিমা আর মাতাল করা বৈশাখে



চাঁদের আলো ঠিকরে পড়ে অশ্বত্থেরই ঐ শাখে



প্রথম যামে সিদ্ধার্থ হলেন নিজে জাতিস্মর



দ্বিতীয় যামে দুঃখ যত গেলেন জেনে একের পর



তৃতীয় যামে কার্যকারণ এবং তাহার পরিণাম



অবশেষে মার বিজয়ে বুদ্ধ পেলেন তারই দাম



শেষ যামে পান আটটি ধাপে মার্গপথে নির্বাণে



বুদ্ধ তিনি হলেন নিজে আজ পৃথিবী বীর মানে।



 



বোধি লাভের পরে বুদ্ধ অশ্বত্থ হয় বোধিদ্রুম



বুদ্ধকে তার ছায়ায় রাখে পাহারা দেয় সে নির্ঘুম



সাত মুষ্টির কুশের আসন পূর্বদিকে মুখ করে



বুদ্ধ পেলেন জ্ঞানের বোধি আর জিতেছেন দুঃখরে



বুদ্ধ হয়ে পঞ্চজনে ব্যাখ্যা করেন ধর্ম তাঁর



তখন ছিল পূর্ণিমা আর বৈশাখ নয় মাস আষাঢ়।



 



ধম্মচক্র প্রবর্তনে বিখ্যাত হয় সারনাথ



বুদ্ধ বলে, নিজে দীপ হও আর ধরো না কারও হাত



বহুজনের হিতের তরে বহুজনের সুখে



বুদ্ধ বলেন, দাও ছড়িয়ে ধর্ম পঞ্চমুখে



শাক্যমুণি সঙ্গে পেলেন শিষ্য আনন্দ



তার সেবাতে দিন চলে যায় যেমন পছন্দ।



 



ঊনতিরিশে গৃহত্যাগী পঁয়তিরিশে বোধি



বুদ্ধ নিজেই আলোকনে পেয়েছেন সম্বোধি



পঞ্চশীলে দীক্ষা দিয়ে ত্রিরত্নে দেন শরণ



দিকে দিকে রাজ-রাজড়া বুদ্ধ করে বরণ



মগধ-কোশল পেরিয়ে গিয়ে ছড়ায় চীন-জাপান



শীল-সমাধি-প্রজ্ঞা দিয়ে করেছেন আহ্বান।



 



অহিংসারই বিলিয়ে বাণী মৈত্রী দিয়ে সবে



বুদ্ধ বলেন,অপ্রমাদে জীবন কাটাও ভবে



করুণা বিলাও দান করো আর ভাবনা করো সাথে



ধ্যানের মাঝেই পরম পথের মিলিবে সাক্ষাতে



বুদ্ধ যা দেন ধর্ম তা নয় অভিধর্মের দর্শন



জাতে পাতে নয় ব্যবধান আর্তে হয় স্পর্শন



মুক্তি শেষে পায় যদি কেউ সে তবে হয় নির্বাণ



অর্থাৎ সে এই ভুবনে পুনর্জন্মহীন প্রাণ।



 



বুদ্ধালোকে আলোকিত চুন্দ নামের উপাসক



অন্নদানে পুণ্য লাভে একদিন তার হয় আসক



বুদ্ধ জানে এই আহারই তাঁর জীবনে শেষ খাওয়া



বারে বারে আনন্দকে জিজ্ঞাসে তাই কী চাওয়া



আনন্দ কি ছিলেন হুঁশে! বললেন তাই চাইনাকো



বুদ্ধ বলেন চুন্দ-গৃহে খাবার যা সব তাই মাখো।



 



সেই খাবারে পূর্ণ হলো মর্ত্যে তাঁরই মানুষ-কাল



সিংহ-শয্যা পাতলো শেষে কুশীনরের যমক শাল



সেদিন ছিলো পূর্ণিমা আর মাস ছিল তার বৈশাখই



বুদ্ধ গেলেন দেহান্তরে আমরা চেয়ে ঐ থাকি



আশি বছর পূর্ণ করে বুদ্ধ গেলেন চোখের পার



বৈশাখী আজ পূর্ণিমাতে বুদ্ধে স্মরি বারংবার।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৩০২২৯
পুরোন সংখ্যা