চাঁদপুর, বুধবার ২২ মে ২০১৯, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৬ রমজান ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরে স্কুল শিক্ষিকা জয়ন্তীর চাঞ্চল্যকর হত্যার রহস্য উদঘাটন * হত্যাকারী ডিস ব্যবসায়ী লাইনম্যান জামাল ও আনিসুর রহমান আটক
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫০-সূরা কাফ্

৪৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৩৬। আমি তাহাদের পূর্বে আরও কত মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করিয়াছি যাহারা ছিল উহাদের অপেক্ষা শক্তিতে প্রবল, উহারা দেশে দেশে ঘুরিয়া বেড়াইত; উহাদের কোনো পলায়নস্থল রহিল কি?

৩৭। ইহাতে উপদেশ রহিয়াছে তাহার জন্য যাহার আছে অন্তঃকরণ অথবা যে শ্রবণ করে নিবিষ্ট চিত্তে।


assets/data_files/web

ভালোবাসার কোনো অর্থ নেই, কোনো পরিমাপ নেই।


-সেন্ট জিরোমি


 


 


নামাজ বেহেশতের চাবি এবং অজু নামাজের চাবি।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
একদল বিতার্কিকের প্রচেষ্টায় হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে ফিরে পেলো বাবা-মা
স্টাফ রিপোর্টার
২২ মে, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা। ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে মানুষের যখন বাড়ি ফেরার তাড়া ঠিক তখনই মতলব উত্তরের দুর্গাপুর ইউনিয়নের চৌরাস্তায় 'মা, মা' বলে কাঁদছিলো ৫ বছরের এক ছোট্ট শিশু। অনেকেই ছেলেটিকে দেখেছেন কিন্তু ইফতারের পূর্বে সময়ক্ষেপণ করতে চাননি। যে যার মত চলে যাচ্ছিলেন। অাঁধার ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে কান্না বাড়ছিলো ছেলেটির। ছেলেটির কান্নায় এগিয়ে যায় মতলব উত্তর উপজেলার দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বিতার্কিক রাকিব ও রাফিল। ছেলেটির কাছে তার কান্নার কারণ জানতে চায়। কেঁদে কেঁদে জানাচ্ছিলো সে তার বাবা-মাকে হারিয়ে ফেলেছে। ছেলেটির নাম সিয়াম, বাবার নাম বাসু। এর চেয়ে বেশি কোনো তথ্যই দিতে পারছিলো না ৫ বছরের অবুঝ শিশুটি।



ততক্ষণে চারিদিক অাঁধার ঘনিয়ে এসেছে। এতোটুকু একটি ছেলেকে রাস্তায় রেখে যাওয়া মোটেই নিরাপদ মনে করেনি বিতার্কিকরা। পরম স্নেহে তাকে বাড়ি নিয়ে গেলো। অপরিচিত বাড়ি, অপরিচিত মানুষ সবকিছু আরও ভীত করে তুললো সিয়ামকে। তাই রাত বাড়ার সাথে সাথে কান্না বাড়ছিলো ছেলেটির। বিতার্কিক রাকিব মুঠোফোনে বিস্তারিত জানালো চাঁদপুর বিতর্ক একাডেমির উপাধ্যক্ষ, বিতার্কিক রাসেল হাসানকে। সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নিলেন আপাতত পুলিশকে না জানিয়ে সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে খোঁজার চেষ্টা করবে তার বাবা-মাকে।



রাত ৮টা ৪০ মিনিটে রাসেল হাসান তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে 'ছেলেটি তার বাবা-মায়ের কাছে যেতে চায়' এই শিরোনামে ছবিসহ একটি আবেদনময়ী পোস্ট করেন। ছবিতে ছেলেটি কাঁদছিলো। বিতার্কিক রাসেল হাসানের পোস্টের সাথে সাথে তা শেয়ারের মাধ্যমে বিভিন্নজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করার উদ্যোগ নেয় জেলা সদরের আরও একদল বিতার্কিক। সদর উপজেলার বিতার্কিক ভিভিয়ান ঘোষ, মিথুন ত্রিপুরা, সালাউদ্দিন আহমেদ, রিয়াজ রহমান, ফরিদগঞ্জ উপজেলার বিতার্কিক শামীম হাসান, ফয়সাল তাহসান, মুশফিকা ইসলামসহ সুশীল সমাজের বিভিন্ন মানুষ স্ট্যাটাসটি জেলার শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন গ্রুপে শেয়ার করেন। সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জেলার সকল উপজেলায় খোঁজ নেয়া হয় কোনো হারানো বিজ্ঞপ্তি আছে কিনা। রাতভর চলতে থাকে ছেলেটিকে নিয়ে জল্পনা কল্পনা। রাত ১০টায় মতলব থেকে বিতার্কিক রাকিব ও রাফিল নিশ্চিত করেন যতক্ষণ পর্যন্ত ছেলেটি তার বাবা মায়ের সন্ধান না পায় ততক্ষণ পর্যন্ত তার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব তারাই নিবে। সংবাদটি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও ফুটফুটে ছেলেটিকে হারিয়ে তার মা কী অবস্থায় আছেন তা ভাবতেই যেন অাঁতকে উঠতে হয় সবার।



রাফিল তার বাড়িতে রাত ৯টার মধ্যে ছেলেটিকে ঘুম পাড়ায়। সারাদিনে কান্না করা, ক্লান্ত ছেলেটি ঘুমাচ্ছে আর একদল বিতার্কিক ফেসবুকের কমেন্ট বঙ্ চেক করছে কয়েক মিনিট পর পর। যদি কোনো সন্ধান পাওয়া যায়! রাত আড়াইটার দিকে ফেসবুক পোস্টের যোগাযোগের জন্য যে নম্বর দেওয়া হয় সে নম্বরে কল আসে অচেনা একটি নম্বর থেকে। জানানো হয় তারা এইমাত্র ফেসবুকে দেখতে পেলেন তাদের সিয়ামকে। সিয়াম তাদের সন্তান।



সিয়ামের সাথে কথা বলতে চান তার মা। সিয়ামকে ঘুম থেকে উঠিয়ে ভিডিও কলের মাধ্যমে কথা বলানো হয় তার মায়ের সাথে। মাকে দেখেই সিয়াম 'মা' বলে চেঁচিয়ে উঠে। ফোনের ওপাশ থেকে বাবা বলে কেঁদে ওঠেন ছেলেকে হারানো ব্যথিত মা। দু পক্ষের মধ্যে কথা চলে সেহেরির পূর্বক্ষণ পর্যন্ত। সিয়ামের মা জানালেন তাদের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ। সকালের লঞ্চেই চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন তারা।



সকাল ১০টায় মতলব উত্তর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নে এসে উপস্থিত হন সিয়ামের মা, চাচা ও ভাই। সিয়ামকে বুকে তুলে নিলেন তার মা। সিয়াম হাসছে, মা কাঁদছে। অন্যরকম এক মুহূর্ত নেমে আসে তখন। পরবর্তীতে বিতার্কিক রাকিব ও রাফিল সিয়ামকে হস্তান্তর করলেন তার মায়ের কাছে। এ সময় এলাকার গণ্যমান্য অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।



সোস্যাল মিডিয়াকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করতে পারলে তার শক্তি যে কত বেশি হতে পারে তা প্রমাণ করলো একদল তরুণ। তারা প্রত্যেকেই বিতার্কিক। যুক্তি জানা, মুক্ত পথের মানুষ। দিনশেষে একজন মায়ের মুখে, ছোট্ট এক শিশুর মুখে হাসি ফোটাতে পেরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন বিতার্কিকগণ। সোমবার বিকেলে মুঠোফোনে নিশ্চিত হওয়া গেছে সিয়ামকে নিয়ে তার মা নারায়ণগঞ্জে তাদের বাড়ি ফিরে গেছেন।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১১৬৬০১
পুরোন সংখ্যা