চাঁদপুর, সোমবার ১৭ জুন ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬, ১৩ শাওয়াল ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৯-সূরা হাশ্র


২৪ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৩। আল্লাহ উহাদের নির্বাসনের সিদ্ধান্ত না করিলে উহাদিগকে পৃথিবীতে অন্য শাস্তি দিতেন; পরকালে উহাদের জন্য রহিয়াছে জাহান্নামের শাস্তি।


 


 


 


assets/data_files/web

ভালোবাসা মানুষকে শিল্পী করতে পারে কিন্তু প্রাচুর্য বাধার সৃষ্টি করে।


-ওয়াশিংটন অলস্টন।


 


 


কৃপণতা একটি ধ্বংসকারী স্বভাব, ইহা মানুষকে দুনিয়া এবং আখেরাতের উভয় লোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।


 


 


ফটো গ্যালারি
বেপরোয়া সড়কে বেড়েই চলছে দুর্ঘটনা ॥ ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজি
মোঃ মঈনুল ইসলাম কাজল ॥
১৭ জুন, ২০১৯ ০২:৪৮:৫৩
প্রিন্টঅ-অ+


সড়কে শৃঙ্খলা যেনো ফিরছেই না। একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার পরও এ নিয়ে যেনো কারো মাথা ঘামানোর সময় নেই। চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কের নাম শুনলেই যেনো অনেকেই আঁতকে উঠেন। কোনোপ্রকার নিয়ম-নীতি ছাড়াই চলছে যানবাহন। যাত্রীদের মাঝে এ আতঙ্কের নাম সিএনজি স্কুটার, অতিরিক্ত যাত্রী, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন ও নাম্বারবিহীন গাড়ি, লাইসেন্সবিহীন চালক এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক। এসব অভিযোগ সিএনজি স্কুটারের প্রতি রয়েছে যাত্রীদের। তারপরও যাত্রীদের বাধ্য হয়েই এসব যানবাহনে উঠতে হচ্ছে।

চাঁদপুর জেলায় সিএনজি স্কুটার মালিক সমিতির তথ্য মতে রেজিস্ট্রেশনকৃত স্কুটারের সংখ্যা প্রায় ৬ হাজারের উপরে। এর বাইরে নাম্বার ছাড়া আরো কত সিএনজি স্কুটার যে রয়েছে তা তাদের জানা নেই। ধারণা করা হচ্ছে এ সংখ্যা আরো কয়েকগুণ বেশী। জেলার আনাচে-কানাচে, পাড়া-মহল্লাসহ জেলার প্রতিটি অলিগলিতে এখন সিএনজি স্কুটারের দাপট। রমজানের পূর্বে শাহরাস্তি উপজেলার কাঁকৈরতলা এলাকায় অতিরিক্ত যাত্রী বহনের ফলে বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারায় ৬ জন যাত্রী। এরপর চাঁদপুরের বিভিন্ন এলাকায় বেশ ক’জন প্রাণ হারায় সড়ক দুর্ঘটনায়। এ সকল দুর্ঘটনা বেশীরভাগ সিএনজি স্কুুটারের মাধ্যমেই সংঘটিত হয়েছে। বেশীরভাগ যাত্রী সড়ক দুর্ঘটনার জন্যে সিএনজি স্কুটারকেই দায়ী করেছে।

কাঁকৈরতলায় ৬ জন প্রাণ হারানোর পর শাহরাস্তি থানা পুলিশ পরদিন থেকে সিএনজি স্কুটারের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমে পড়ে। প্রথমদিনের অভিযানে দেড় শতাদিক সিএনজি স্কুটারের সামনে চালকের পাশে থাকা সিট তুলে ফেলা হয়। এ অভিযানে মালিক ও শ্রমিক সংঘঠনের নেতৃবৃন্দ শরিক হন। কিন্ত এর দু’দিন পর আবার সড়কের চিত্র পাল্টে যায়। চালকেরা আবার তুলে ফেলা সিট লাগিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী বহন শুরু করে। সিএনজি অটো রিক্সায় তিনজন যাত্রী নেয়ার বিধান থাকলেও বর্তমানে সেখানে ৫ জন তো বটেই, কিছু কিছু স্কুটারে ৭ থেকে ৮ জন যাত্রী বহন করতে দেখা যাচ্ছে। শাহরাস্তি থানা পুলিশের অভিযান কেনো দীর্ঘস্থায়ী হলো না তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন রয়েছে।

সড়কের সিএনজি স্কুটারের বেপোরোয়া চলাচলের পেছনে সড়কে চাঁদাবাজিকে দায়ী করছে অনেকেই। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, অতিরিক্ত চাঁদা দেয়ার কারণেই সিএনজি স্কুটার চালক দিশেহারা হয়ে পড়েন। গাড়ির জমা, কিস্তির টাকা পরিশোধসহ বিভন্ন প্রকার হয়রানি থেকে বাঁচতে তারা সড়কে বেপোরোয়া হয়ে উঠেন।

এ ছাড়া রয়েছে ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজি, প্রতিটি বাজার ও স্টেশনে দিতে হয় চাঁদা। মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতি, স্ট্যান্ড কমিটিসহ বিভিন্ন প্রশাসনের নামেও কিছু চাঁদাবাজ এ অর্থ তুলে থাকে।

গোপন সূত্রে জানা গেছে, যাদের গাড়ির নাম্বার নেই তারা অর্থের বিনিময়ে সড়কে গাড়ি নামিয়ে থাকেন, এ জন্যে তারা চুক্তি করে থাকেন। মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের কিছু লোক এ কাজটি করে থাকেন। বেশির ভাগ চালকেরই নিজস্ব গাড়ি না থাকায় তারা ভাড়ায় গাড়ি এনে চালিয়ে থাকেন। ফলে মালিকের প্রতিদিনের জমার টাকা সংগ্রহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক চালকেরই রয়েছে একাধিক কিস্তি সময়মত কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হয়েই বেপোরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে থাকেন চালকরা। দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি জনগণের সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তিদের হস্তক্ষেপ কামনা করছে যাত্রী সাধারণ।

সর্বশেষ বেপোরোয়া সড়কে সিএনজি স্কুটার হাত ভেঙ্গে দিয়েছে শাহরাস্তি উপজেলার স্থানীয় পত্রিকা বিলিকারক মোঃ মিজানুর রহমানের। গতকাল ১৬ জুন সকালে পত্রিকা বিলি করতে গিয়ে মেহের স্টেশন এলাকায় বেপোরোয়া সিএনজি স্কুটার তার গায়ে এসে পড়ে। সাথে সাথে মিজান সড়কে আছড়ে পড়ে। পরে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় তাকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে আসা হলে কর্মরত চিকিৎসক তার হাত ভেঙ্গে গিয়েছে বলে জানান। সাথে সাথে মিজানকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। স্থানীয় জনগণ ঘাতক সিএনজি স্কুটারটিকে আটক করে। সংবাদ পেয়ে শাহরাস্তি উপজেলার সংবাদ কর্মীগণ মিজানকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান। এরপর ঘাতক সিএনজি স্কুটারটি মালিক সমিতির তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। জেলা সিএনজি স্কুটার মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ আবুল হোসেন যথাযথ বিচারের আশ^াস প্রদান করেন। মিজান বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।


আজকের পাঠকসংখ্যা
১২৫৭৮৯৭
পুরোন সংখ্যা