চাঁদপুর, বুধবার ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬, ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৭-সূরা হাদীদ


২৯ আয়াত, ৪ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


২৭। অতঃপর আমি তাহাদের পশ্চাতে অনুগামী করিয়াছিলাম আমার রাসূলগণকে এবং অনুগামী করিয়াছিলাম মারইয়াম তনয় ঈসাকে, আর তাহাকে দিয়াছিলাম ইঞ্জীল এবং তাহার অনুসারীদের অন্তরে দিয়াছিলাম করুণা ও দয়া। আর সন্নাসবাদ-ইহা তো উহারা নিজেরাই আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য প্রত্যাবর্তন করিয়াছিল। আমি উহাদের ইহার বিধান দেই নাই; অথচ ইহাও উহারা যথাযথভাবে পালন করে নাই। উহাদের মধ্যে যাহারা ঈমান আনিয়াছিল, উহাদিগকে আমি দিয়াছিলাম পুরস্কার এবং উহাদের অধিকাংশই সত্যত্যাগী।


 


 


অপ্রয়োজনে প্রকৃতি কিছুই সৃষ্টি করে না। -শংকর।


 


 


কবর এবং গোসলখানা ব্যতীত সমগ্র দুনিয়াই নামাজের স্থান।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত মজিবুর দম্পতির বাড়িতে শোকের মাতম
'তোরা আমার বাবা-মাকে এনে দে'
কামরুজ্জামান টুটুল
১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বাবা-মা তো সকাল ৯টার মধ্যে বাড়ি চলে আসার কথা। এখনো আসেনি কেনো রে...। তোরা আমার বাবা-মাকে এনে দে। আমার ভাগ্যটা এমন কেনো। নিজের বাবা-মায়ের থেকে আমার শ্বশুর-শাশুড়ি আমাকে বেশি আদর করতো বলেই বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত দম্পতি মজিবুর রহমান (৫০) ও জেসমিন বেগম (৪২) বড় ছেলে কাউসারের স্ত্রী রহিমা আক্তার (১৯)। মজিবুর ও জেসমিন দম্পতি হাজীগঞ্জের রাজারগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম রাজারগাঁও বেপারী বাড়ির বাসিন্দা। সোমবার দিনশেষে রাতে ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় এই দম্পতি ঘটনাস্থলেই মারা যান। মজিবুর রহমান ওই ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বেপারী বাড়িরে মৃত আঃ জলিলের ছেলে।



নিহত দম্পতির ছোট ছেলে ইয়াসমিন (১৬) জানান, বাবা শ্রীমঙ্গল স্টেশন বাজারে হার্ডওয়ারের ব্যবসা করতেন। কিছুদিন আগে বাবার কাছে মা বেড়াতে যান। আজ (মঙ্গলবার) সকালে বাবা-মা বাড়িতে এসে পেঁৗছার কথা ছিলো। গত রাত সাড়ে ৯টায় বাবা-মায়ের সাথে আমার সর্বশেষ কথা হয়। তারা শ্রীমঙ্গল থেকে ট্রেনে করে রওনা দিয়েছেন এমন সময় আমাকে বাড়িতে কল দেন। এ সময় আমি মোবাইলে লোডের টাকা চাইলে মা বলেন, আমরা কিছু টাকা নিয়েছি। কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে হবে। এরপরে আমি রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। রাত সাড়ে ৩টার সময় ফোনে খবর পাই ট্রেন দুর্ঘটনায় বাবা-মা দুজনেই মারা গেছেন বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ইয়াসমিন।



সরেজমিনে মঙ্গলবার দুপুরের বেপারি বাড়িতে গেলে দেখা যায় পুরো বাড়িসহ এলাকায় শোকের মাতম চলছে। বিশেষ করে মজিবুর জেসমিন দম্পতির আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকাবাসী মিলিয়ে পুরো বাড়ি লোকে লোকারণ্য। নিহতদের বাড়িতে চলছে কান্নার রোল। বাড়িতে অবস্থানকালে একমাত্র পুত্রবধূ রহিমা বেগম, জেসমিন বেগমের অন্য সকল ভাই বোন আর সন্তানদের গগণবিদারী কান্নায় এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। একত্রে একই পরিবারের দুটো মৃত্যুর ঘটনা এলাকাবাসীসহ পরিবার কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না।



নিহত জেসমিনের ছোট বোনের স্বামী আলী মুন্সী জানান, রাত সাড়ে ৩টার দিকে আমরা ট্রেন দুর্ঘটনাকবলিত এলাকার থানা থেকে খবর পাই আমার ভাই আর আপা মারা গেছেন। ভোররাতেই নিহত বোনের দুই ছেলে কাউসার আর সবুজ ঢাকা থেকে ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় গেছেন সেখানের সকল প্রক্রিয়া শেষ করে গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় লাশ নিয়ে বাড়ি আসা হয়েছে। পরে রাত ১১টায় নিহত দম্পতিকে রাজারগাঁও তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।



এ বিষয়ে স্থানীয় রাজারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল হাদী জানান, নিহত দম্পতি আমার এলাকার বাসিন্দা। তাদের সহায়তার জন্যে আমার যা করণীয় তা-ই আমি করবো। আর ওই পরিবারের সাথে আমার যোগাযোগ রয়েছে।



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৭১০৫৬
পুরোন সংখ্যা