চাঁদপুর, শনিবার ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২ ফাল্গুন ১৪২৬, ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • শাহরাস্তিতে ডাকাতি মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড ও ৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে চাঁদপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালত। || 
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৪-সূরা তাগাবুন


১৮ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৪। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে সমস্তই তিনি জানেন এবং তিনি জানেন তোমরা যাহা গোপন কর ও তোমরা যাহা প্রকাশ কর এবং তিনি অন্তযামী।


 


 


 


 


 


 


আমি অস্বীকার করছি না যে, মেয়েরা বোকা, মহান খোদা তাদের তৈরি করেছেন পুরুষদের জুরী হিসাবে।


-জর্জ ইলিয়ট।


 


 


স্বভাবে নম্রতা অর্জন কর।


 


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
শাহরাস্তি কালীবাড়িতে সনাতন সমাবেশ-২০২০-এ অ্যাডঃ রানা দাস গুপ্ত
পঞ্চদশ সংশোধনী হওয়ার পরও সংবিধানকে জিয়াউর রহমান ও এরশাদের প্রেতাত্মা থেকে মুক্ত করা যায়নি
রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, ধর্ম ও সমাজকে না জানলে গতানুগতিক শিক্ষাগ্রহণ করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হয়ে লাভ নেই : শ্যামল দত্ত
রাকিবুল হাসান ও মইনুল ইসলাম কাজল
১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


এদেশে স্বাধীনতার পূর্বে ছিলো এক তৃতীয়াংশ ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। এ সম্প্রদায়কে সংখ্যাগরিষ্ঠ থেকে সংখ্যালঘু করার জন্যে সেদিন পাকিস্তানের আইয়ুব ও ইয়াহিয়ার সরকার শত্রু সম্পত্তি আইন করে তাদের সম্পত্তি কেড়ে নিয়ে হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ মানুষকে দেশত্যাগ করতে বাধ্য করে। সে সময় আমাদের যে শিক্ষকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছিলেন, যে ডাক্তাররা চিকিৎসালয়ে ছিলেন তাদেরকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। '৭০-এর নির্বাচনের পূর্বে আমাদের জনসংখ্যা ছিলো ২৯.৭ শতাংশ, '৭০-এর নির্বাচনে তা এসে দাঁড়ালো ৯.৭ শতাংশ। এতো নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা বঙ্গবন্ধুর ডাকে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। দেশ স্বাধীনের সাড়ে ৩ বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর শুরু হলো আমাদের উপর আবারো নির্যাতন। জিয়াউর রহমানের সময়েও আমরা নির্যাতিত হয়েছি। পরে এরশাদ সরকারের সময়েও ৩ দিনের নির্যাতনে অনেকে দেশছাড়া হয়েছে। ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দির, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের মন্দির পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এরশাদ পতনের পর খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে আমাদের উপর ২৫ দিনব্যাপী নির্যাতন করলেন। আর ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কী হয়েছে তা আপনারা সকলে জানেন। অত্যাচার, নির্যাতন, বাড়ি দখল, স্কুল শিক্ষক থেকে শুরু করে সকলের বাড়ি ঘরে আক্রমণ ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ভেবেছিলাম শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে আমাদের উপর আর নির্যাতন হবে না। কিন্তু এখনো আমাদের উপর নির্যাতন হচ্ছে। রামু, উখিয়া, টেকনাফ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাছিরনগর, পাবনার সাঁথিয়ায় একের পর এক ঘটনা ঘটেছে। তারপর শুরু হলো গলা কাটা, মাথা কাটা। মন্দিরে পুরোহিতের মাথা কাটে, খ্রিস্টান যাজকের গলা কাটে, বৌদ্ধ ধর্ম যাজকের গলা কাটে। শুধু তাদের গলা নয়, অভিজিৎ রায় থেকে শুরু করে বহু মুক্তচিন্তার মানুষের গলা কাটে। আমরা সরকারের কাছে যখন নির্যাতনের বিষয়গুলো তুলে ধরি তখন ভাবি সরকার বুঝি ব্যবস্থা নিচ্ছে। আমাদের উপর যতো সময়ই নির্যাতন হয়েছে কোনো কোনো জায়গায় প্রশাসন অথবা আওয়ামী লীগ দলীয় লোকও জড়িত ছিলো। ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে পুলিশ আসে, প্রশাসন আসে আর রাজনৈতিক দলের নেতারা কিছু চাল, কিছু ডাল ও কিছু গম নিয়ে এসে বলে, আমরা সম্প্রীতি সমাবেশ করতে এসেছি। কোনো কোনো জায়গায় নির্যাতনের বিষয়ে মামলা হয়েছে। পুলিশ প্রতিবেদনে বলে ঘটনা সত্য, কিন্তু কোনো সাক্ষী পাওয়া যায়নি। আমরা যখন এলাকা পরিদর্শনে যাই, তখন ভুক্তভোগীরা আমাদের অভিযোগ করে, আমরা কীভাবে সাক্ষী দিবো? যারা আমাদের উপর হামলা করেছে তারা সম্প্রীতি সমাবেশের মঞ্চে বসে থাকে। কোন্ সাহসে আমরা তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিবো?



তিনি আরো বলেন, সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনী হয়েছে, তারপরও আজকের যে সংবিধান তা ১৯৭২ সালের সংবিধান নয়, এ সংবিধান বঙ্গবন্ধুর সংবিধান নয়। এ সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ফিরে এসেছে ঠিক, কিন্তু জিয়াউর রহমান ও এরশাদের প্রেতাত্মা থেকে এ সংবিধানকে আজও মুক্ত করা যায়নি। এ সংবিধানে বঙ্গবন্ধু আছেন, আবার পাকিস্তানও আছে।



তিনি গতকাল শুক্রবার দুপুরে শাহরাস্তি উপজেলার মেহের কালীবাড়ি প্রাঙ্গণে শিক্ষা, বস্ত্র ও স্বাবলম্বন কর্মসূচির অংশ হিসেবে সনাতন সম্মেলন-২০২০ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।



অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সনাতন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ও দৈনিক ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, সনাতনের কার্যক্রমের সাথে আমার পরিচয় দীর্ঘদিনের। শাহরাস্তি কালীবাড়িতে সনাতন সমাবেশে আসার দুটি কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথমত সনাতনের সাথে জড়িত আর দ্বিতীয়টি সমাবেশস্থলটি মেহের কালীবাড়ি হওয়া। এখানে মা সবসময় জাগ্রত অবস্থায় বিরাজমান। কালীবাড়ির সাথে সম্পৃক্ত সকলকে প্রণাম জানাই।



বাংলাদেশে এখন ২০১টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। তারপরও সনাতন একটি বিশ্ববিদ্যালয় করার চিন্তা চলছে। আমি তাদের সাধুবাদ জানাই। তবে ভাবতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়টি কী রকম হবে। এখানে গতানুগতিক শিক্ষা দেয়া হবে নাকি অন্য কিছু-এর রূপরেখা দাঁড় করাতে হবে। আমাদের দেশে শিক্ষার্থীর চেয়ে মা-বাবারা জিপিএ-৫-এর দিকে বেশি ঝুঁকে গেছে। বস্তুত এ ধরনের শিক্ষা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে পিছিয়ে দিচ্ছে। আপনারা আইডিয়া তৈরি করেন। তারপর সকলের সাথে আলোচনা করুন। ঐক্যবদ্ধভাবে অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে উদ্যোগ নিতে হবে। ব্যক্তিউদ্যোগেও অনেক কিছু করা যায়। প্রয়োজনে আইডিয়া সভা করতে হবে। সনাতনের ৫৭ হাজার সদস্য রয়েছে। তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করে কাজ করতে হবে। শিক্ষা ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হলে ঐক্যের বিকল্প নেই। গতানুগতিক শিক্ষাগ্রহণ করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হয়ে লাভ নেই, যদি রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, ধর্ম ও সমাজকে না জানি। পড়ালেখার পাশাপাশি ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকা-ের সাথে জড়িত থাকতে হবে। এখনকার বাজারে চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গেলে সার্টিফিকেটের বাইরেও এঙ্ট্রা অর্ডিনারি কিছু রয়েছে কি না তা যাচাই করা হয়। অনেক চেষ্টা করেও চাকরি পাওয়া যায় না। আমিও একসময় ঢাকা এসে বেকার ছিলাম। সিঙ্গারা খেয়ে রাত কাটিয়েছি। পরে বহু চেষ্টা করে এ পর্যায়ে এসেছি। আমি বুঝেছি চেষ্টা করলেই পারা যায়। সনাতনের প্রতিটি কর্মীকে লিডারশীপ অর্জন করতে হবে। আমাদের দেশে কোয়ালিটিসম্পন্ন লিডারশীপের অভাব রয়েছে। সমাজে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারের চেয়ে কোয়ালিটিসম্পন্ন লিডারের বেশি প্রয়োজন। কোয়ালিটিসম্পন্ন নেতা তৈরি করতে হবে। যে নেতা জনগণের পালস্ বুঝবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণই তার উদাহরণ। সমাজে বঙ্গবন্ধুর মতো নেতার অভাব দেখা দিয়েছে।



আত্মশুদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, চোখ খুলে দেখার চেয়ে চোখ বুঁজলে বেশি দেখা যায়। চোখ খুলে দেখলে দৃষ্টির সামনে যতোটুকু দেখা যায় শুধু সেটুকু দেখা যায়। কিন্তু চোখ বুঁজে দেখলে পুরো দুনিয়া দেখা যায়।



সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে তিনি বলেন, সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে বিভিন্ন ফোরামে অনেক কথা বলেছি। যার জন্যে মামলার মধ্যেও পড়েছি। অনেক চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছি। গণমাধ্যমে কাজের সুবাদে অনেক খবর আমার কাছে আসে। দেশের বিভিন্ন স্থানে আমাদের উপর নির্যাতন চালানো হয়। প্রতিবেশী দেশের বিষয়েও আমাদের উপর প্রভাব পড়ে। '৭৫-এর পরে বাংলাদেশি না বাঙালি আর ধর্মীয় সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। তার ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে। গণতন্ত্রের সংগ্রামে ব্যক্তির ভূমিকা অনেক। কোনো কোনো সময় এমন মনে হয়, যেনো আমরা ফুরিয়ে গেছি। সামনে আমাদেরকে আরো অনেক বড় চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। আজ সনাতনে যে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়েছে সে প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখতে হবে।



শাহরাস্তি উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি নিখিল চন্দ্র মজুমদারের সভাপ্রধানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইয়ুথ ফর ডেমোক্রেসী এন্ড ডেভেলপমেন্টের সাধারণ সম্পাদক বাপ্পাদিত্য বসু। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সনাতন কর্মী চট্টগ্রাম অঞ্চলের অ্যাডঃ রাজিব দাস, সনাতন কর্মী ঢাকা অঞ্চলের অসীম দে। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সনাতন সম্মেলনের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার সোহাগ মজুমদার।


আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৭২০০৫
পুরোন সংখ্যা