চাঁদপুর, বুধবার ১ জুলাই ২০২০, ১৭ আষাঢ় ১৪২৭, ৯ জিলকদ ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭১-সূরা নূহ্


২৮ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


৫। সে বলিয়াছিল, হে আমার প্রতিপালক! আমি তো আমার সম্প্রদায়কে দিবারাত্রি আহ্বান করিয়াছি,


৬। 'কিন্তু আমার আহ্বান উহাদের পলায়ন প্রবণতাই বৃদ্ধি করিয়াছে।


 


 


 


 


 


 


 


 


ধনীদের ধন সম্পদ হচ্ছে তাদের স্বাস্থ্যের সবচেয়ে বড় শত্রু।


-জর্জ ওয়েট স্টোন।


 


 


 


 


যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ নয়, সে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ নয়।


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতিতে রামপুরে ব্র্যাকের কার্যক্রম সর্বমহলে প্রশংসিত
সাজ্জাদ হোসেন রনি
০১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অর্থনৈতিকভাবে বিধ্বস্ত সাধারণ মানুষের মাঝে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়ে ১৯৭২ সালে অনুষ্ঠানিকভাবে ব্র্যাকের কার্যত্রম শুরু হয়। সেই থেকে বাংলাদেশের যে কোনো দুর্যোগমুহূর্তে সরকারের পাশাপাশি সর্বপ্রথম যে বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে এসেছে তা হলো স্যার ফজলে হাসান আবেদের প্রতিষ্ঠিত ব্র্যাক।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই ব্র্যাক চাঁদপুর জেলার প্রতিটি উপজেলার প্রত্যেকটি গ্রামে এবং পৌর এলাকার পাড়া-মহল্লায় মাইকে প্রচারের মাধ্যমে মানুষকে সচেতনতা করা, মাস্ক, লিফলেট বিতরণ ও বাড়িতে বাড়িতে স্টিকার লাগানো, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে বৃত্ত অংকন, গাড়িতে জীবাণুনাশক স্প্রে করা, হাট-বাজার ও শহরের বিভিন্ন স্থানে হাত ধোয়ার জন্যে সাবান-পানির ব্যবস্থা করে। পাশাপাশি ব্র্যাকের বিভিন্ন কর্মসূচি যেমন স্বাস্থ্য পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচি, সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচি, শিক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে অতি দরিদ্র পরিবারকে নগদে এবং বিকাশের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা প্রদানসহ নানাবিধ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। বিশেষ করে করোনাভাইরাসের ভয়ে সারাদেশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে গেলে যখন অবস্থা হয় থমথমে, ঠিক সেই সময় থেকে সরকারের নির্দেশনা মেনে ব্র্যাক ফরিদগঞ্জ উপজেলার রামপুর শাখা এরিয়া অফিসের কর্মীরা সাধারণ ছুটি ও ঈদুল ফিতরের ছুটি উপেক্ষা করে, পরিবারের মায়া ত্যাগ করে গ্রাহকদের কাছ থেকে ঋণের টাকা গ্রহণ না করে অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে ঋণ, কৃষি ঋণ এবং সঞ্চয়ের টাকা প্রদান করেছেন। কোভিড-১৯ সম্পর্কে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও খোঁজ-খবর রাখছেন ব্র্যাক কর্মীরা। দুঃসময়ে অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে ব্র্যাকের এমন ব্যতিক্রম উদ্যোগে প্রশংসা জানিয়েছেন ঋণসহ সঞ্চয়ের টাকা প্রাপ্ত সুবিধাভোগীরা।

সরেজমিনে ব্র্যাকের রামপুর কার্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, সঙ্কটকালীন ব্র্যাকের মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির সদস্য-সদস্যাদের চাহিদামাফিক ঋণ প্রদান, গ্রামীণ কৃষিকে সচল রাখতে এবং উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষিঋণ প্রদান, খাদ্য ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সদস্য-সদস্যাদের সঞ্চয়ের টাকা স্বাস্থ্যবিধি মেনে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে রামপুর শাখার সুবিধাভোগী রাজিয়া বেগম বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সঠিকভাবে হাত ধোয়ার কৌশল এবং সামাজিক দূরত্ব বলতে কতটুকু দূরত্ব বজায় রাখতে হবে সেটা আমরা ব্র্যাকের মাধ্যমে জেনেছি। তাছাড়া করোনা মোকাবিলায় মাইকিং করা, লিফলেট বিতরণ, আর্থিক সহায়তা প্রদান করা থেকে শুরু করে সরকারের পাশাপাশি ব্র্যাক সমানতালে সকল পর্যায়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, যা অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য।

রামপুর বাজারের ব্যবসায়ী মাসুদ মিয়া জানান, করোনাভাইরাসের কারণে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ এবং বিদেশ থেকেও টাকা আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কিস্তির টাকা দিতে পারিনি, সে সময় ব্র্যাকের ভাই ও বোনেরা ফোন করে হাতে টাকা পয়সা আছে কি না এবং ঘরে খাবার আছে কি না সে ব্যাপারে সবসময় খোঁজখবর নিয়েছেন। ঘরে যখন টাকা ছিলো না তখন আমাদের বিকাশের মাধ্যমে সঞ্চয় ফেরৎ দিয়েছেন। এছাড়াও ব্র্যাক অফিস থেকে বলেছে, যারা পারবেন বিকাশের মাধ্যমে টাকা দিবেন, না পারলে কোনো চাপ নেই। সঞ্চয়ের টাকা নিতে এসেও কোনো প্রকার হয়রানির শিকার হই নি। বরঞ্চ তাদের আন্তরিকতায় আমরা মুগ্ধ। ব্র্যাকের এ ধরনের কার্যক্রম সত্যিই প্রশংসনীয়। তারা বিকাশের মাধ্যমে আমাদের সঞ্চয়ের টাকা পরিশোধ করছেন। এ দুর্দিনে আমাদের সহায়তা না করলে দিন পার করা মুশকিল হয়ে যেতো।

ব্র্যাক রামপুর শাখার এলাকা ব্যবস্থাপক (দাবি) আসাদুজ্জামান জানান, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক আমরা কিস্তি আদায় বন্ধ রেখেছি। তবে গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে আমরা ঋণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছি। সদস্যদের চাহিদা মোতাবেক বিকাশের মাধ্যমে সঞ্চয় ফেরৎ দিয়ে যাচ্ছি। তবে যে সকল সদস্যের আর্থিক অবস্থা ভালো এবং কিস্তি দিতে আগ্রহী তারা বিকাশের মাধ্যমে কিস্তি প্রদান করেছেন। দেশের এই পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা খুবই প্রয়োজন, তাই আমরা সদস্যদের অফিসিয়াল বিকাশের মাধ্যমে লেনদেনে উৎসাহিত করছি।

তিনি বলেন, ব্র্যাক সবসময় মানুষের কল্যাণে কাজ করে আসছে। দেশের এ দুর্যোগমুহূর্তে ব্র্যাকের কর্মকা-ে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি।

ব্র্যাকের রামপুর শাখা ব্যবস্থাপক (প্রগতি) আনিসুর রহমান বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সরকারের বিধিনিষেধ অনুযায়ী কাউকে ঋণ পরিশোধ করতে চাপ দেয়া হচ্ছে না। বরঞ্চ অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে আমরা ঋণ প্রদান করছি। করোনাভাইরাসের কারণে ডিপোজিট ও সঞ্চয়ের টাকা কেউ নিতে চাইলে বিকাশের মাধ্যমে প্রদান করা হচ্ছে। তবে যাদের আর্থিক অবস্থা ভালো আছে তারা বিকাশের মাধ্যমে ঋণ পরিশোধ করছেন। তিনি আরো বলেন, ঋণ উত্তোলন না করে এখন মানুষের পাশে দাঁড়াতে ঋণ প্রদান করা হচ্ছে।

ব্র্যাক চাঁদপুর অঞ্চল-১-এর আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (প্রগতি) মনির উদ্দিন ও অঞ্চল-২-এর আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (দাবি) এ.এস.এম. কামরুল হাসান বলেন, আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (প্রগতি) মোঃ মারুফ হোসেন ও বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (দাবি) রাজেশ কুমার সাহার নির্দেশে ও শাখা ব্যবস্থাপক (দাবি) মোঃ হাসান আলী পাঠান, সহকারী শাখা ব্যবস্থাপক (দাবি) মোঃ খোরশেদ আলমের তত্ত্বাবধানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় রেখে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। করোনাভাইরাসের কারণে অনেক মানুষ তাদের আয়-রোজগারের পথ হারিয়ে ফেলেছেন, অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাদের মূলধন খেয়ে ফেলেছেন, এমতাবস্থায় ঋণের বকেয়া থাকা সত্ত্বেও কীভাবে নতুন করে রিফাইন্যান্স করে সদস্যদের আয়-রোজগারের পথকে সচল রাখা যায় সে ব্যাপারে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিচার-বিশ্লেষণ করছেন। শাখা ব্যবস্থাপক বলেন, সুস্পষ্ট গাইডলাইন পেলে আমরা সে অনুযায়ী আমাদের কার্যক্রম আবার নতুন করে শুরু করবো।

করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ১,৯০,০৫৭ ১,৩০,৪২,৩৪০
সুস্থ ১,০৩,২২৭ ৭৫,৮৮,৫১০
মৃত্যু ২,৪২৪ ৫,৭১, ৬৮৯
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৭০১০৮০
পুরোন সংখ্যা