চাঁদপুর, সোমবার ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
ভবিষ্যৎ জলাবদ্ধতা থেকে বাঁচতে হলে খাল খনন প্রয়োজন
দুদিনের বর্ষণে ফরিদগঞ্জের অধিকাংশ স্থান পানির নিচে
নূরুল ইসলাম ফরহাদ
২৬ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


দুদিনের টানা বর্ষণে ফরিদগঞ্জের অধিকাংশ স্থান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। অথচ ভরা বর্ষা মৌসুমেও এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি। উপজেলার কিছু কিছু অঞ্চল বিশেষ করে চর এলাকা এবং উত্তর অঞ্চল দক্ষিণ অঞ্চল থেকে নিচু। এবারের বর্ষা মৌসুমে তাই উত্তর অঞ্চল পানিতে ডুবে গেলেও দক্ষিণ অঞ্চলের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু গত ২২ এবং ২৩ অক্টোবরের টানা বর্ষণে দক্ষিণ অঞ্চলের অনেক স্থানই পানিতে ডুবে যায়। ফসলি জমি, মাছের ঘের এমনকি রাস্তাও পানিতে ডুবে যায়। এ অঞ্চলের মানুষ সর্বশেষ এ রকম পরিস্থিতিতে পড়ে ২০০৪ সালে। ফরিদগঞ্জ পৌরসভা সদরের বেশ কয়েকটি বাড়িতেও পানি উঠেছে।



কয়েকদিন পরেই কৃষক ধান ঘরে তুলবে। অনেকেই তাদের উঁচু ভূমিতে শাক-সবজির বীজ বুনেছে। মাঠ শুকালে আলু চাষেরও প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। ঠিক এই মুহূর্তে হঠাৎ করে ভারী বৃষ্টি। দুদিনের টানা বৃষ্টিতে কৃষকের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। যারা মাছের চাষ করেছেন তাদেরতো মাথায় হাত। কোটি কোটি টাকার মাছ জলেই ভেসে গেলো। রাতের বিল এখন টর্চের আলোয় আলোকিত। দিন-রাত এখন শুধু তাদের একটিই কাজ, মাছ শিকার করা।



ফরিদগঞ্জকে ভবিষ্যৎ জলাবদ্ধতা থেকে বাঁচাতে এখনই এখানকার খালগুলো খনন করা প্রয়োজন। নতুন এবং যে খালগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে তা পুনরায় খনন করা দরকার। এছাড়াও ভবিষ্যৎ জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন নতুন খাল খনন করা সময়ের দাবি। বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে বর্ষাকালে ফরিদগঞ্জের সিংহভাগ অঞ্চল পানির নিচে থাকার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।



মূলত সেচপ্রকল্পের আওতায় ধানের একাধিক ফসল উৎপাদনের জন্যে খাল খনন করা হয়। প্রশাসনের অবহেলায় আর জনসাধারণের অজ্ঞতায় আজ খালগুলো মৃতপ্রায়। অনেক জায়গায় খালগুলো দখল হয়ে যাচ্ছে। খালের উপর বহু স্থায়ী স্থাপনা তুলেও কেউ কেউ দখল করছে। কেউ বালু ফেলে ভরাট করছে। আবার কেউ ময়লা-আর্বজনা ফেলেও ভরাট করছে। অর্থাৎ যে যেভাবে পারছে খাল-বিল এবং জলাশয়গুলো ভরাট করে ফেলছে। এমনও জায়গা রয়েছে যেখানে খালের নিশানাও রাখা হয়নি। অস্তিত্বই মুছে ফেলা হয়েছে। ভরাট করে সেখানে কৃষিজমি অথবা বাগান করা হয়েছে।



সরকারি খাল ছাড়াও দ্রুত গতিতে ভরাট হয়ে যাচ্ছে দিঘি, পুকুর, ডোবা, জলাশয় ও হালট। জলাশয়গুলো ভরাট করে সেখানে গড়ে তুলছে বহুতল ভবন। এখানকার খালগুলো বহু বছর ধরে খনন করা হচ্ছে না। তাই পলি জমে দিন দিন খালের গভীরতা কমে আসছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক দশক পর অতিবৃষ্টির ফলে ফরিদগঞ্জ ডুবে যেতে পারে জলাবদ্ধতায়। আর তখনকার অধিবাসীদের দুর্ভোগ বেড়ে যাবে কয়েক গুণ; তা এক প্রকার নিঃসন্দেহেই বলা যায়।



চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের ১০০ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এখানে প্রধান খাল ছিলো ৫৮ কিলোমিটার এবং শাখা-প্রশাখা ছিলো ৭৫৪ কিলোমিটার। পরিসংখ্যান আপডেট না হওয়াতে বর্তমানে খাল এবং শাখা-প্রশাখার পরিমাণ জানা যায়নি। তবে এটা বলা যায়, শুরুর সেই পরিমাণ খাল বর্তমানে নেই। মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে দুয়েকটি খাল দখলমুক্ত করা হলেও আবারো দখল হয়েছে এবং প্রতিনিয়ত দখল হচ্ছে। মূলত স্থানীয় প্রভাবশালীরা এসব খাল দখল করছে। তারা পরিবেশ পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় আনছে না। এটাও ভাবছে না যে, সবার দুর্ভোগ মানে তাদেরও দুর্ভোগ এবং বৃষ্টির পানি খালে কিংবা খালি জায়গায় নিষ্কাশিত হতে না পারলে জলাবন্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই এখনই সময় খালগুলো খনন করা এবং দখল হয়ে যাওয়া খাল উদ্ধার করা।



জলাবদ্ধতা যাতে সৃষ্টি না হয় সেজন্যে প্রথমত ফরিদগঞ্জের আয়তনের তুলনায় বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্যে নির্দিষ্ট পরিমাণের জলধারণসক্ষম খালি জায়গা প্রয়োজন। কিন্তু আশঙ্কার কথা হলো, এখানে দিন দিন জলধারণসক্ষম পুকুর, ডোবা, খাল-বিল ভরাট করা হচ্ছে। ভরাট করার এ অপকর্ম যদি চলতেই থাকে তাহলে একসময় দেখা যাবে ফরিদগঞ্জে পানি ধরে রাখার জন্যে অবশিষ্ট কোনো জায়গা থাকবে না।



 



 


হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭৯-সূরা নাযি 'আত


৪৬ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


১৩। ইহা তো কেবল এক বিকট আওয়াজ,


১৪। তখনই ময়দানে উহাদের আবির্ভাব হইবে।


১৫। তোমার নিকট মূসার বৃত্তান্ত পৌঁছিয়াছে কি?


১৬। যখন তাহার প্রতিপালক পবিত্র উপত্যকা তুওয়া-য় তাহাকে আহ্বান করিয়া বলিয়াছিলেন,


 


 


সৌভাগ্য এবং প্রেম নির্ভীকের সঙ্গ ত্যাগ করে।


-ওভিড।


 


 


যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে (অর্থাৎ মুসলমান বলে দাবি করে) সে ব্যক্তি যেন তার প্রতিবেশীর কোনো প্রকার অনিষ্ট না করে।


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৫,১২,৪৯৬ ৮,২৪,৩৫,৪৮২
সুস্থ ৪,৫৬,০৭০ ৫,৮৪,৪৩,৫১৫
মৃত্যু ৭,৫৩১ ১৭,৯৯,২৯৪
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৮০৫০৩১
পুরোন সংখ্যা