চাঁদপুর। সোমবার ১২ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮
kzai
muslim-boys

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৬-সূরা শু’আরা

২২৭ আয়াত, ১১ রুকু, ‘মক্কী’

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

১২৩। ‘আদ সম্প্রদায় রাসূলগণকে অস্বীকার করিয়াছিল।

১২৪। যখন উহাদের ভ্রাতা হূদ উহাদিগকে বলিল, ‘তোমরা কি সাবধান হইবে না?

১২৫। আমি তো তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।’  

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


বিশ্বাস এবং আস্থা ছাড়া বন্ধুত্ব হয় না।

-রবার্ট ক্লেয়ার। 


যার রসনা ও হস্তদ্বয় হইতে কোন মুসলমানের কোন প্রকার অনিষ্ট না হয়, সেই প্রকৃত মুসলমান এবং যে আল্লাহর নিষিদ্ধ কার্য হইতে পলায়ন করে সে-ই প্রকৃত মহাজ্জির।


ফটো গ্যালারি
ফেলটুশ
এহ্তেশাম হায়দার চৌধুরী
১২ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

চতুর্থবারের মতো বিএ পরীক্ষা শেষ করে বাড়ি ফিরে সানাউল্লা। এবার প্রিপারেশন ভালো ছিলো। রাতদিন প্রাণান্তকর পরিশ্রম করেছে, সুতরাং আর ঠেকায় কে? প্রতি বছরই দু-এক নম্বরের জন্য ফেল করে। যদিও ইংরেজিতে সে খুবই ভালো। স্থানীয় হাইস্কুলে সে পার্টটাইম ইংরেজিও পড়ায়। কটমট করে ইংরেজি বলা, খসখস করে একটানে দু-চার পৃষ্ঠা ইংরেজি লেখা যার কাছে একটা তুচ্ছ বিষয়, সে সানাউল্লা ইংরেজিতে ফেল! এটা যেন অবিশ্বাস্য। তারপরেও বিএ ফেল করার মতো একটা অবিশ্বাস্য ঘটনা তার জীবনে ঘটেছে তিন তিনবার। বার বার বিএ ফেল করায় তার জীবনে কী প্রতিক্রিয়া, এলাকার লোকজন বা কী চোখে দেখে, সেসব নিয়ে সানাউল্লার কোনো মাথা ব্যথা নেই। কিন্তু চেয়ারম্যানের মেয়ে পরীবানু যখন ভ্রু কুঁচকিয়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে 'সানাভাই, এইবারেও কি ফেলটুশ!' তখন লজ্জায় ক্ষোভে দুঃখে সানাউল্লার মরে যেতে ইচ্ছে করে। 'ধরণী দ্বিধা হও আমি এর ভিতর লুকাই অবস্থা'। তখনই সে প্রতিজ্ঞা করেছে, এবার তাকে যে কোনো মূল্যে বিএ পাস করতেই হবে অন্ততঃ পরীবানুর চোখ পাকানো, ঠোঁট বাঁকানো থেকে রক্ষা পেতে। তাই বছরের শুরু থেকে ইংরেজি নিয়ে উঠে পড়ে লাগে। পাড়ার বেকার গবেষকরা তার ইংরেজি ফেলের নেপথ্য কারণ আবিষ্কার করে ফেলে। গ্রামের আবুল ভাই একদিন তাকে নিভৃতে ডেকে নিয়ে বললো,

_দেখ সানা, তুই একটা ব্রিলিয়ান্ট পোলা, কিন্তু প্রতি বছর বিএ ফেল কইরা গ্রামের নাম ডুবাস। তোর এটা তো ভালো কথা নয়! তোর ইংরেজি লেখাটা দেখছস, একেবারে কাউয়ার ছা বগার ছা'। লেখাটা ঠিক কর।

আবুল ভাইয়ের কথা শুনে সানাউল্লা এবার রাতদিন ইংরেজি লিখেছে। এ প্রাণান্তকর পরিশ্রমের ফলে লেখাটা একটু সাফ সুতোর হয়। কষ্ট করে পড়াও যায়। সুতরাং এবার বিএ পাস অবধারিত। অন্ততঃ পরীবানুর খোঁচাখুঁচি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে সানাউল্লা দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর লম্বা একটা ঘুম দেয়। মোবাইলটা সাইলেন্ট করে মাকে বললো,

_মা, আমাকে কেউ ডিস্টার্ব কইরো না। এবার শইল্যের উপর বড় ধকল গেছে। একটু আরাম কইরা ঘুমাই।

শেষ বিকেলে ঘুম ভাঙ্গে সানাউল্লার।

কাপড়চোপড় পরে। কড়া গন্ধের পারফিউম মাখে। ফিটফাট হয়ে বাজারের দিকে পা বাড়ায়। চেয়ারম্যান বাড়ির পাস দিয়ে যাবার সময় বকুল গাছের নিচে এসে থমকে দাঁড়ায়। সার্চ লাইটের মতো চোখ ঘুরিয়ে এদিক ওদিক তাকায়। যদি পরীবানুকে এক নজর দেখা যায়। মেয়েটার জন্য গত ক'বছর থেকে তার বুকের ভিতর হৃদপি-টা উজাইয়ার কই মাছের মতো তড়ফায়। উঠতে বসতে সারাক্ষণ পরীর বড় বড় দুটি চোখ, গোলাপ পাপডির মতো ঠোঁটের হাসি, গ্রীবা বাঁকিয়ে কথা বলার ভঙ্গি, বেনী দুলিয়ে হরিণীর মতো ছুটে পালানোর দৃশ্য, সানাউল্লার দিনরাত্রির কাব্য হয়ে মনের মধ্যে ভাসতে থাকে। কিন্তু পরীবানুকে কোনোদিন বুকের নিভৃতে লুকানো কথাটা বলতে পারেনি। আশা ছিলো, বিএ পাস করে বুক টান টান করে তার সামনে দাঁড়িয়ে বলবে, পরী আই লাভয়ু!

কিন্তু বিধির বিধান খ-াবে কে? গত তিনবারেও বিএ পাস করা হয়নি, পরীকে সাহস করে কথাটা বলাও যায়নি। আর পরীবানুও এক আজব কিসিমের মেয়ে। তার মতো হৃদয়বান যুবককে পাত্তা না দিয়ে সারাক্ষণ ও পাড়ার ফটকাবাজ ননম্যাট্রিক শুক্কুরালীর সঙ্গে লটবফটর করে বেড়ায়। আল্লাই জানে পরীবানু কি তার সঙ্গে..... কথাটা ভাবতেই বুকের ভিতর চিনচিন করে উঠে।

-সানাভাই, বাড়ির ভিতর পুসকি মাইরা কি দেখতাছেন?

পেছনে পরীবানুর কথায় সানাউল্লা চমকে উঠে। আচমকা পরীর খোঁচায় ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। থতমত করতে করতে বললো,

-পুসকি মারুম ক্যান পরী, দেখতেছিলাম, তোমাদের বাড়ির গেইটটা। বড় সুন্দর ডিজেন। নতুন করছে বুঝি।

পরীবানু মুখ টিপে টিপে হাসে।

-সানাভাই মিথ্যা কথা বলেন ক্যান, সাহস কইরা কইতে পারেন না, পরী তোমারে খুঁজতাছি।

পরীর কথায় সানাউল্লা লজ্জা পেয়ে আমতা আমতা করে।

-আসলে-আসলে

-চুপ করেন। তা এইবার বিএ পাসের সিকা ছিঁড়বো তো, নাকি আবার ফেলটুশ।

পরীবানুর কথাটা সানাউল্লার কলজের মধ্যে গিয়ে গাঁথে। অপমানটা হজম করে বললো,

-এইবার ইনশাল্লাহ্।

কথাটা শেষ করার আগেই পরীবানু ঠোঁট বাঁকিয়ে চোখ ঘুরিয়ে বললো,

-প্রতিবারেই তো শুনি, যাক কই যাইতেছিলেন?

-বাজারে যামু।

পরীবানু কিশোরীর মতো লাফিয়ে উঠে।

-সানাভাই আমার একটা কাজ করতে অইব যে?

সানাউল্লা মনে মনে ভাবে, পরী, তোমার কোনো কাজ করতে পারলেই তো আমি ধন্য।

-কী কাজ পরী?

পরীবানু আমতা আমতা করে বললো,

-কাইল আমরা কলেজ থাইকা পিকনিকে যাইমু। কিন্তু... আমার স্যান্ডেলটা ছিঁইড়া গেছে।

ভালোবাসার দুর্বার আকর্ষণের জন্য পরীর স্যান্ডেল নিয়ে বাজারে যাওয়ার মধ্যে যে অপমান আছে, সে বোধ সানাউল্লার চোখে ধরা পড়েনি। তার ভাবনা, ভালোবাসার মানুষের জন্য সব করা যায়। প্রেমিক মজনু লাইলির কুকুরকে চুমু খেতে কার্পণ্য করেনি। প্রেম অন্ধ, সানাউল্লা ততক্ষণাৎ বললো,

-স্যান্ডেল কই, নিয়ে আসো।

পরীবানু দৌড়ে বাড়ির ভিতর থেকে কাগজে মুড়িয়ে স্যান্ডেলটা এনে সানাউল্লার হাতে দিয়ে বললো,

-সানাভাই আপনারে কষ্ট দিলাম, এই নেন বিশ টাকা।

-কী বলছো পরী? তোমার স্যান্ডেল সেলাইয়ের জন্য তোমার কাছ থেকে টাকা নেব। আমারে তুমি কী ভাবছো?

পরীবানু মুখ টিপে টিপে হাসে। সানাউল্লা সেন্ডেলের প্যাকেটটা নিয়ে আস্তে আস্তে বাজারের দিকে চলে যায়। পথে যেতে যেতে কতো আকাশকুসুম স্বপ্ন মনের মধ্যে পাক খায়। পরীর এ স্যান্ডেলের বোঝা বহন করার আনন্দে যেন তার হৃদয়ের পরতে পরতে বসন্তের বাতাস বয়ে যায়। সন্ধ্যার আগে আগে বাড়ি ফিরে সানাউল্লা। চেয়ারম্যান বাড়ির গেইটে এসে দাঁড়ায়। আস্তে আস্তে ডাকে,

-পরী ও পরী? তোমার স্যান্ডেল লইয়া যাও।

ভিতর থেকে পরীর গলা শুনতে পায়।

-সানাভাই, আমাগো জরির কাছে রাইখা যান।

সানাউল্লা অবাক হয়! একটা অন্যরকম কষ্ট বুকের ভিতর থেকে উপরের দিকে বেয়ে উঠে। সে ভেবেছিলো, তার গলা শুনে পরীবানু দৌড়ে এসে তার হাত থেকে স্যান্ডেলটা নিয়ে তার খুব প্রশংসা করবে, কৃতজ্ঞতা জানাবে। নগদ ত্রিশটা টাকা একেবারে পানিতে গেলো।

-সানাভাই, বুবুর স্যান্ডেল দেন।

সানা যন্ত্রচালিতের মতো প্যাকেটটা জরির হাতে দিয়ে কোনোমতে পালিয়ে বাঁচে। মনে মনে ভাবে দুনিয়াটা বড় নিষ্ঠুর। কেউ ভালোবাসার মর্যাদা বুঝে না।

দুদিন পর।

সকাল বেলা বাইর বাড়িতে চেয়ারম্যানের গলা শুনে সানাউল্লা চমকে উঠে। বুকের ভিতর অজানা আতঙ্ক খামচে ধরে। পরীবানু আবার তার নামে আবোলতাবোল লাগিয়ে বাপের কানকে ভারী করেনি তো? চেয়ারম্যানের যে মেজাজ। তাহলে তাকে আস্ত রাখবে না।

সানাউল্লা ভয়ে ভয়ে বাইরে এসে চেয়ারম্যানকে সালাম দেয়।

-চাচা, আমারে ডাকছেন?

-হরে বাজান ? তোমার তো পরীক্ষা শেষ।

-জ্বী চাচা

-এবার কেমন হইল? পাস করবাতো?

-ইনশাল্লাহ।

-বাবা আইছিলাম, তুমিতো বাবা ইংরেজিতে মাশাল্লাহ খুব ভালো। যদি পরী আর জরিরে একটু দেখাশুনা করতা, তা হইলে খুব খুশি হইতাম।

সানাউল্লার বুকের ভিতরটায় দক্ষিণ হাওয়া যেন দোল দিয়ে যায়। কোথায় যেন কোকিল ডেকে উঠে। সে তো মনে মনে এমন কিছুই আশা করেছিলো! হাসি হাসি মুখে বললো,

-আমি অবশ্যই যাবো চাচা, তবে সন্ধার আগে তো সময় পাবো না।

-ঠিক আছে, ঠিক আছে, তুমি মাগরেব বাদই আসো

-জ্বী চাচা, একটু বসেন।

-না, না, আমার সময় নাই। তোমার বাজান কি বাজারে গেছে?

-জ্বী, চাচা।

চেয়ারম্যান চলে যায়। সানাউল্লার কী যে আনন্দ লাগছে। সে যেন এমন একটি দিনের জন্য অপেক্ষা করছিল। পড়ানোর ফাঁকে ফাঁকে পরীবানুকে তার ভালোবাসার কথাটাও বলার একটা সুযোগ পাওয়া যাবে। উফ! কী আনন্দ আকাশে বাতাসে।

সন্ধ্যার পরপরই সানাউল্লাহ সেজেগুঁজে কড়া পারফিউম মেখে পরীদের বাড়ি আসে। জরি বইখাতা নিয়ে পড়তে বসে। কিন্তু পরী তখনো পড়ার টেবিলে আসে না। সানাউল্লাহ উসখুস করতে থাকে। বার বার জরিকে জিজ্ঞেস করেও সদুত্তর পায় না। অনেকক্ষণ পর আসে পরীবানু। সানাউল্লাহ্কে দেখে চমকে ওঠার ভঙ্গি করে বললো-

-ওমা সানাভাই, আপনি কুনসময় আইলেন? ঘটনা কী? হঠাৎ এ সময়?

সানাউল্লা অবাক চোখে দেখে। কী অপূর্ব সুন্দরী পরীবানু। ঠিক আকাশপরীর মতোই লাগছে। পরীর কথায় ধাক্কা খায়।

-বলো কি? তোমার আব্বা তোমাদের ইংরেজি পড়াতে আমাকে নিযুক্ত করেছেন।

-ও তাই। আপনি কি ইংরেজি পড়াবেন? নিজেইতো...।

কথা শেষ করার আগেই সানাউল্লা তেজি গলায় বললো,

-দেখ পরী, এতোটা অকৃতজ্ঞ হইয়ো না। আমার চেষ্টা না থাকলে তোমার এসএসসি পাস হতো না। সে সব কথা কি ভুলে গেছো?

পরীবানু এবার চুপ করে বই নিয়ে বসে। সানাউল্লাহ ভাবে দুর্বল জায়গায় আঘাত করা হয়েছে। সত্যি তো, পরীর এসএসসি পাসের জন্য সানাউল্লার কতো বড় আত্মত্যাগ ছিলো। ইংরেজি পরীক্ষার দিন ত্রিশ নম্বর ইংরেজি গ্রামার সাপ্লাই দিতে গিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে ধরা পড়ে কী হেনস্তাই না হতে হয়েছে সানাউল্লাকে। অল্পের জন্য অ্যারেস্ট হওয়া থেকে বেঁচে যায় ! পরীর কথাবার্তায় মনে হয় এরি মধ্যে সে সেসব ভুলে গেছে। নিষ্ঠুর নারী!

পরীবানু পড়ার এক ফাঁকে হঠাৎ অমনোযোগী হয়ে খোলা জানালার দিকে তাকিয়ে থাকে। যেখান দিয়ে বাইরের হাস্নাহেনার মিষ্টি গন্ধটা ঘরের ভিতর এসে সব উলোটপালট করে দিচ্ছিল। সানাউল্লা বললো,

-পরী, মন দিয়ে পড়ো, ওদিকে তাকিয়ে কী ভাবছো?

পরী যেন খেই ফিরে পাবার ভান করে বললো,

-সানাভাই, আইজ কলেজে এক কা- ঘটছে।

-কী ঘটছে?

-কলেজ মাঠে আমাদের গ্রামের সঙ্গে কৃষ্ণপুরের ক্রিকেট ম্যাচ হইছিলো।

-তো!

-আমাগো দক্ষিণ পাড়ার শুক্কুর ভাই যা একটা খেইল দেখাল, ওরে বাবা! এক্কেবারে ডাবল সেঞ্চুরি। ব্যাটের কী কাজ, সাকিবরে হার মানাইব।

পরীর মুখে শুক্কুরের প্রশংসা শুনে সানাউল্লার মুখটা কালো হয়ে যায়। সে রাগে কটমট করে বললো,

-দেখ পরী, আমার সময়ের দাম আছে । একটা বকলম, ননম্যাট্রিক শুক্কুইরার গল্প শুনতে আমি আসি নাই। তোমাদের পড়াতে এসেছি।

পরীবানু ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো,

-আপনি রাগ করেন ক্যান স্যার? শুক্কুর ভাই হইতে পারে ননম্যাট্রিক। কিন্তু তার প্রতিভার মূল্য দিবেন না-এইটা আবার কেমুন কথা?

সানাউল্লা রাগে ফোঁস ফোঁস করতে করতে বললো,

-চুপ করে পড়াশুনা করো। প্রতিভার মূল্যায়নের অনেক সময় আছে।

সানাউল্লা ভিতরে ভিতরে কষ্ট পায়। মনে মনে ভাবে, যে তোরে জীবন দিয়ে ভালোবাসে তোর কাছে তার মূল্যায়ন চাই। একটা লাপাঙ্গা বখাটে মাস্তানের মূল্যায়নে তোর অজস্র আগ্রহ। হায়রে নারী!

দুইমাস অতিক্রান্ত হলেও অবস্থার কোনো উন্নতি নেই। পরীকে মনের কথাটা বলা যায়নি। সানাউল্লারও মন ভালো নেই। খাওয়া দাওয়ায় রুচি লাগে না। সারাদিন উদাস উদাস। বাপ সারাক্ষণ দোকানে বসার তাগাদা দেয়। কিন্তু সানাউল্লার কিচ্ছু ভালো লাগে না। পরীবানুকে মনের কথাটা বলে নিজকে হাল্কা করতে পারে না।

সারাদিন বুকের ভিতর আগ্রহের পাখিটা ডানা ঝাপটায়, কিন্তু পরীর কাছে এসেই যেন সব মুখ থুবড়ে পড়ে। পড়ার মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়। এখন সকাল সন্ধ্যা দুবেলা চেয়ারম্যান বাড়িতে যাতায়াত। পরী সুযোগ পেলেই বলে শুক্কুরের গল্প। সানাউল্লার বুকটা ফেটে চৌচির। কী করবে বুঝতে পারে না। হঠাৎ তার মনে হলো সকল মুসকিল আসান পাড়ার আবুল ভাই। তার কাছ থেকে পরামর্শ নিলে কেমন হয়? পরীর প্রতি তার দুর্বলতার কথা আবুল ভাই কিছু কিছু জানে। মাঝে মাঝে তাকে ক্ষেপায়ও।

একদিন বিকেল বেলা।

স্কুল মাঠে আবুল ভাই তার চেলাচামু-া নিয়ে আড্ডা মারছে। সানাউল্লাহকে দেখে হাতে ইশারা করে।। সানাউল্লা এগিয়ে এসে কাচুমাচু করে বললো,

-আবুল ভাই, তোমার সাথে জরুরি কথা আছে।

-এইখানে বলবি?

-না। একটু একলা।

আবুল ভাই সানাউল্লার কাঁধে হাত রেখে বললো-

-কী এমন জরুরি কথা? পরীর বিষয় নয় তো?

-হ্যাঁ। এমনি কিছু একটা।

-তো চল, ঐ বটগাছটার নিচে বসি।

ওরা বটগাছটার নিচে আসে। সানাউল্লা পুরো বিষয়টা খুলে বলে আবুল ভাইয়ের হাত ধরে অনুনয়ের স্বরে বললো,

-আবুল ভাই, তুমি আমারে বাঁচাও, পরীরে না পাইলে আমি নির্ঘাত আত্মহত্যা করুম।

-ছি ছি এসব কী কস্? একটু ভাবতে দে। আচ্ছা পরী কি তোরে মোটেই পাত্তা দেয় না।

-মনে হয় না?

-পরী কি অন্য কাউকে?

-মনে হয় না। তবে মাঝে মাঝে শুক্কুইরার খেলার কথা বলে।

-ঘটনা তো সেখানেই প্যাঁচ। এখন কাজ হইল শুক্কুইরা থেকে মন ঘুরাইয়া তোর দিকে আনা, এই তো?

-হ আবুল ভাই।

আবুল ভাই অনেকক্ষণ চোখ বন্ধ করে সিরিয়াস ভাব দেখায়। তারপর তড়াক করে লাফিয়ে উঠে হাতে তুড়ি বাজায়।

-কুচ পরোয়া নেই। সানা! তুই কিছু টাকা খরচ করতে পারবি?

-কতো?

-এই ধর, হাজার দুয়েক!

-হ্যাঁ পারুম। পরীর জন্য আমি সব পারুম।

-তাহলে কোনো চিন্তা নেই। শোন, আমার জানা এক এলেমদার হুজুর আছে, তিনি চিনি পড়া আর তাবিজ দেয়। চিনি পড়া খাওয়াইতে হয়, আর তাবিজ নিশি রাইতে কবরস্থানের মাটিতে পুঁততে হয়। পারবি তো?

সানাউল্লা মাথা নাড়ে।

-হ্যাঁ, অবশ্যই পারবো।

-তাহলে আজ সন্ধ্যায় টাকাটা দিয়ে আসবি। কালই আমি সব জোগাড় করবো।

-ঠিক আছে আবুল ভাই।

সানাউল্লা আবুল ভাইয়ের হাত ধরে চুমু খেয়ে বললো,

-আবুল ভাই তুমি গ্রেট।

আবুল ভাই হাসতে হাসতে বললো,

-বিয়ের সময় বড় রোস্টটা আমাকে দিবি, মনে থাকবে তো?

-নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই।

হাজার দুয়েক টাকা যোগাড় করা সানাউল্লার জন্য অত্যন্ত কঠিন। দুচার পাঁচশ' হলে কথা ছিলো। মার কাছ থেকে নেয়া যেত, কিন্তু দুই হাজার! তার বাপ আসমত সদাগর। হাড় কিপটে মানুষ হিসেবে দশ গ্রামে জানে। পাঁচ টাকা খরচ করতে দশবার ভাবে। সানাউল্লা এতো বড় হয়েছে, অথচ কখনো একসঙ্গে একশত টাকা তাকে দেয়নি। গুণে গুণে বাস ভাড়া, নাস্তা বাবদ বিশ টাকার বেশি তার জন্য বরাদ্দ হয়নি। একটা মটর সাইকেল কেনার জন্য তার অনেক দিনের সখ। গ্রামের রাস্তা দিয়ে সাঁই সাঁই করে ছুটে যাবে। বাতাসে তার চুল উঠবে। পরীবানু মুগ্ধ দৃষ্টিতে দেখবে। বিভিন্ন যুক্তি দেখিয়ে বাপের কাছে কথাটা বলতেই বাপ তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে। দাঁত খিঁচিয়ে বললো,

-বাপের টাকায় ফুটানি এ বাড়িতে চলবে না। নিজে রোজগার করো, তারপরে মোটরসাইকেল ক্যান, হেলিকপ্টার কিন্যা আসমানে উইড়ো।

স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। আগে মাঝে মাঝে দোকানে যেতো। পরীবানু দোকানে গেলে গোপনে এটা ওটা গিফট দিয়ে আনন্দ পেতো। কিন্তু কর্মচারী ছেলেটা এ গোপন তথ্য ফাঁস করে দিয়ে বাপের হাতে তাকে প্রচ- নাজেহাল হতে হয়েছে। তাও বছর দুয়েক আগে। এখন দুহাজার টাকা কিভাবে জোগাড় করবে? দোকানের কর্মচারী ছেলেটার সাথে গিভ এ- টেক পলিসিতে একটা আপোষ রফা করে হাজার খানেক টাকা ম্যানেজ করেছে। মাকে পটিয়ে গোপনে ধান বিক্রি করে পাঁচশ' ম্যানেজ। দুপুর বেলায় আবুল ভাইয়ের আস্তানায় দেয় ছুট। আবুল ভাই তার চেলাচামু-া নিয়ে তখন চায়ের দোকানে বসে বাংলাদেশের দুর্নীতি নিয়ে তুমুল বিতর্কে মত্ত। সানাউল্লা আস্তে আস্তে চা দোকানে ঢুকে আবুল ভাইকে ইশারা করে। আবুল ভাই তার চেলা চামু-ার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে। তার প্রধান চেলা রতন চোখ টিপে ইশারা করতেই আবুল ভাই উঠে এসে সানাউল্লার সামনে দাঁড়ায়।

-কিরে সানা কিছু বলবি?

সানাউল্লা কাচুমাচু করে পকেট থেকে পনের শত টাকা বের করে আবুল ভাইয়ের হাতে নিয়ে বললো,

-আবুল ভাই, এ টাকা দিয়াই সারবা। বহুত কষ্টে জোগাড় করছি।

আবুল ভাই চিন্তার ভান করে কপাল কুঁচকিয়ে বললো,

-ঠিক আছে, হুজুরকে হাতে পায়ে ধরতে অইব আর কি? তোর জন্য এইটা করতে না পারলে কিসের বড় ভাই?

সানাউল্লাহ আবুল ভাইয়ের হাত চেপে ধরে হাসি হাসি মুখে বললো,

-আবুল ভাই আমি জানি। আমার এই কামটা সফল হইলে আমি চিরকাল...

আবুল ভাই কথা থামিয়ে দেয়,-

-আরে ঠিক আছে ঠিক আছে। আমি কালই সব ব্যবস্থা করুম।

সানাউল্লা আনন্দচিত্তে চলে যায়। সানাউল্লার টাকায় আবুল ভাইয়ের আড্ডায় এবার গোস্ত পরটা আর ড্রিংকসের অর্ডার হয়। আবুল ভাই রতনের দিকে তাকিয়ে বললো,

- কিরে রতন পারবি তো? টাকাটা তো হালাল করণ লাগবো।

রতন আঙ্গুলে তুড়ি মেরে বললো

-পারবো না মানে? সারা জীবন শাহজাহান চৌধুরীর লগে থাইক্যা কী শিখলাম। আমার অভিনয় তুমি দেখ নাই।

-ঠিক আছে। ছাগলটার মাথা একেবারেই গেছে? এ সুযোগে যা বাগানো যায়।

পরদিন বিকেল বেলা আবুল ভাই সানাউল্লার হাতে এক পোটলা চিনি আর একটা তাবিজ দিয়ে বললো,

-দেখ সানা, খুব সাবধানে কাম সারবি। খুব গরম জিনিস। খবরদার! এ চিনিপড়া আর তাবিজ যেন মাটিতে না পড়ে। তাহলে কিন্তু উল্টা ফল। হুজুর বাবার চিনিপড়া বড় সাংঘাতিক!

সানাউল্লার বুকের ভিতর প্রচ- উত্তেজনা। কাঁপা কাঁপা হাতে চিনি পড়ার আর তাবিজ নিয়ে সোজা বাড়ি ফিরে। পড়ার টেবিলে বইয়ের ফাঁকে চিনিপড়ার পুঁটুলিটা আর তাবিজটা রেখে সে বাইরে আসে। বুকের ভিতর উত্তপ্ত কড়াইতে ভাজা মাছের ছটফটানি। কখোন সম্ভব হবে? কী ছলে পরীকে চিনিপড়া খাওয়াবে। এসব আকাশ কুসুম ভাবতে ভাবতে কখোন সে পরীদের বাড়ির গেটে হাজির হয় সে নিজেও বলতে পারে না। এমনি সময় হন্তদন্ত হয়ে পরী বাড়ির ভিতর থেকে ছুটে এসে সানাউল্লার মুখোমুখি হয়। দুজনই অবাক!

-সানা ভাই। আপনি কই যাইতাছেন?

-না-এমনি বাজারে যাইতাছিলাম।

পরী আমতা আমতা করে বললো,

-সানাভাই, আইজ তো পড়া হবে না।

সানার চোখ কপালে!

-কেন পরী? কেন পড়া হবে না?

পরী লজ্জিত হয়ে বললো,

-আজ আমারে দেখতে আসবে। পছন্দ হলে সঙ্গে সঙ্গে আলহামদুলিল্লাহ, ছেলে নাকি সিনেমার সাকিব খানের মতো। শহরে গাড়ি বাড়ি আছে।

সানাউল্লার বুকটা যেন ভেঙ্গে খান খান। কে যেন কলজেটা খামচে ধরে চিবে চিবে রক্ত বের করছে। ঢোগ গিলে শুকনো খসখসে গলায় বললো,

-ও তাই!

পরী ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো,

-অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, আপনি খুশি হন নাই সানাভাই।

সানাউল্লার ভিতর থেকে কান্না দলা পাকিয়ে উপরের দিকে উঠে দুচোখ ভিজিয়ে দেয়। সে কোনো কথা না বলে হন হন করে বাড়ির দিকে ছুটে।

পড়ার ঘরে এসে দেখে রতন পুঁটুলি খুলে চিনি দিয়ে শরবত বানিয়ে মজা করে খাচ্ছে। এ দৃশ্য দেখে সানাউল্লা হাহাকার করে উঠে।

-হায় হায় রতন করস কি?

রতন কোনো কথা বলে না। শরবতটুকু নিঃশেষ করে অনেকক্ষণ চোখ বন্ধ করে লাফিয়ে উঠে।

-সানা, সানা, আমারে ধর। কী খাইলাম ভাই।

সানা উৎসুক হয়ে বললো।

-কী হইছে? কী হইছে রতন?

রতন ফ্যাল ফ্যাল করে সানার দিকে তাকিয়ে থেকে ঢোগ গিলতে গিলতে বললো,

-সানা, চারদিকে কেবল তোরে দেখি, শুধু তোর চেহারা! কী খাইলাম সানা, চিনির মধ্যে কী আছিলো ভাই? তোরে ভুলতে পারি না। চিনির মধ্যে কী আছিলো? কী আছিলো?

রতন বুক চাপড়িয়ে লাফাতে লাফাতে পাগলের মতো বলতে থাকে, কী খাওয়ালি সানা ভুলতে পারি না, ভুলতে পারি না।

রতন প্রলাপ বকতে বকতে উন্মাদের মতো বেরিয়ে যায়। সানা ভাবে চিনি পড়াটা খাওয়াইতে পারলে নির্ঘাত কাজ হতো। পরীও তার জন্য এমন পাগল হতো। বদমাশটা তার সর্বনাশ করেছে। এক ফোঁটা চিনিও রাখেনি। এখন কী করা যায়। আবার আজ পরীকে দেখতে আসবে। অগত্যা তাবিজটা। শেষ চেষ্টা করে দেখা যাক।

রাত নামে। অমাবস্যার নিকষ কালো রাত।

চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। কদিন থেকে প্রচ- শীতও পড়ছে। আজ আর পরীদের বাড়ি যাওয়া হবে না। পরীকে দেখতে আসছে। সানাউল্লা খোঁজ খবর নিয়ে জেনেছে সত্যি চেয়ারম্যান বাড়িতে আজ অনেক লোকজন আসছে। সানাউল্লা একবার ভাবে, বরপক্ষের লোকদের কান ভাঙ্গালে কেমন হয়? চুপি চুপি কাউকে বলবে, মেয়ের চরিত্র ভালো না। পাড়ার এক ছেলের সঙ্গে লটরফটর আছে। বরপক্ষ এ কথা শুনলে আলহামদুলিল্লাহর বদল একেবারে নাউজুবিল্লাহ বলে চলে যাবে। আবার ভাবে, না, পরীকে সে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসে। ভালোবাসার মানুষের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা ঠিক না। আবোলতাবোল ভাবতে ভাবতে রাত গভীর হয়। চারদিকে সুনসান নির্জনতা। ঘড়ির কাঁটা বারোটা ছুঁই ছুঁই। সানাউল্লা চাদর মুড়ে দিয়ে তাবিজটাতে চুমু খেয়ে বুক পকেটে পুরে ধীরে সন্তর্পণে বিড়ালের মতো পা পা করে বের হয়। বাড়ির কাছে পুকুরের পাড়ে কবরস্থান। জমাট অন্ধকারে পুকুরপাড়ের দিকে তাকাতেই ভয়ে বুকটা কেঁপে ওঠে। প্রচ- শীতেও শরীর ঘামতে থাকে। বাতাসের হিসহাস শব্দে মাঝে মাঝে শিউরে উঠে। শরীর বার বার কাঁটা দিয়ে যায়। ভয়ে দাঁত কপাটি লাগার উপক্রম। কবরস্থানের বড় তালগাছটায় হঠাৎ সড় সড় শব্দ হলে সানাউল্লা কাছে মনে হলো কী যেন গাছ বেয়ে নিচে নামছে। একবার ভাবে ফিরে যাবে। কিন্তু পা যেন মাটিতে আটকে আছে। সে কবরস্থানে পেঁৗছে দম বন্ধ করে চার পাঁচ ইঞ্চি মাটির নিচে তাবিজটা পুঁতে দিয়ে ফিরতে যাবে এমনি সময় মনে হলো কে যেন তার চাদর ধরে টানছে। ভয়ে ভয়ে পিছনে ফিরে দেখে একটি হাত তার চাদর খামচে ধরে আছে। ভয়ে সে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে আর্তনাদ করে উঠে।

-ওরে বাবারে গেলামরে। ভূত! ভূত!

দৌড়াতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়ে জ্ঞান হারায়। সকালে কথাটা রাষ্ট্র হয়ে যায়। গ্রামে নানা রকম গুজব ছড়িয়ে পড়ে। নানান জনের নানান কথা। কেউ বলে সানার উপর পরীর আছর হয়েছে। পরীরা ওকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলো। তালগাছ তলায় মুমূর্ষ অবস্থায় পাওয়া গেছে। গ্রামসুদ্ধ মানুষ সানাদের বাড়িতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। নান রকম প্রশ্ন, নানা রকম উত্তর। জবাব দিতে দিতে সানার বাপ-মার অবস্থা নাজুক।

সানার তখনো জ্ঞান ফিরেনি।

জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে। মা-বাবা, বাড়ির লোকজন সবাই তার শিয়রে। উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সানার দিকে। ডাক্তার নাড়ি পরীক্ষা করে বলছে,

-প্রচ- ভয় থেকে এ অবস্থা। ঔষধপত্র দিলাম, জ্ঞান ফিরবে।

ডাক্তার চলে যায়। মা মসজিদের ইমাম হুজুরকে ডেকে দোয়া দরূদ পড়ায়। মসজিদে সিনি্ন দেন।

খবর পেয়ে ছুটে আসে পরী।

ওড়না নিয়ে বার বার চোখ মোছে। বিষণ্ন বদনে সানার শিয়রে বসে থাকে।

জ্বরের ঘোরে সানা স্বপ্ন দেখে।

ধুমধাম করে পরীর বিয়ে হচ্ছে। বিচিত্র বর্ণের বিজলী বাতিতে চেয়ারম্যান বাড়ি আলো ঝলমল। হৈ হল্লা কোলাহল। সানা দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বাড়ির বাইরে বকুল গাছটার নিচে দাঁড়িয়ে আছে। এক সময় লাল বেনারসি পরে বধূবেশে পরী বাড়ির বাইরে আসে। বরের সঙ্গে গাড়িতে উঠতে যাবে এমনি সময় দূরে দাঁড়িয়ে থাকা সানার চোখে চোখ পড়তেই পরী মুচকি হাসে। ধীর পদক্ষেপে পা ফেলে সানার মুখোমুখি এসে হাসি হাসি মুখে বললো,

-সানাভাই আমি শ্বশুর বাড়ি যাচ্ছি। আমার জন্য দোয়া কইরেন। বিএ পাস করলে আমারে খবর দিয়েন। আমি কুমিল্লার রসমলাই লইয়া আসুম।

পরী কলকলিয়ে হাসতে হাসতে বরের গাড়িতে উঠে। ব্যর্থপ্রেমের চিত্তদাহে সানার বুকটা ফেটে যায়। এক সময় সানার চোখে মুখে ধোঁয়া ছুটিয়ে তার পাশ ঘেঁষে গাড়ি চলে যায়। নাকে মুখে ধোঁয়া লাগাতে সে খুক্ খু্ক্ করে কেশে ওঠে।

সানার জ্ঞান ফিরে। চোখ মেলে দেখে পরী কান্নাভেজা বড় বড় চোখ দিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে। সানা অবাক হয়! তবে কি সে স্বপ্ন দেখেছে এতোক্ষণ? অনেকক্ষণ পর পরীর দিকে তাকিয়ে উদ্বিগ্ন কন্ঠে বললো,

-পরী কাইল কি সাকিব খান আইছিলো?

কান্নাভেজা ঠোঁটে লাজরাঙা হাসির আভা এনে বললো,

-না! বুদ্ধ একটা?

সানা তড়াক করে লাফিয়ে উঠে সবার সামনে পরীর দুহাত চেপে ধরে বললো,

-শোকর আলহামদুলিল্লাহ

পরী হাত ছাড়িয়ে নিতে নিতে বললো,

-ফেলটুশ কুনখানের। লজ্জাশরম এক্কেবারে নাই।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৭৪১৬৮
পুরোন সংখ্যা