চাঁদপুর। সোমবার ১২ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮
ckdf

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ***
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৬-সূরা শু’আরা

২২৭ আয়াত, ১১ রুকু, ‘মক্কী’

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

১২৩। ‘আদ সম্প্রদায় রাসূলগণকে অস্বীকার করিয়াছিল।

১২৪। যখন উহাদের ভ্রাতা হূদ উহাদিগকে বলিল, ‘তোমরা কি সাবধান হইবে না?

১২৫। আমি তো তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।’  

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


বিশ্বাস এবং আস্থা ছাড়া বন্ধুত্ব হয় না।

-রবার্ট ক্লেয়ার। 


যার রসনা ও হস্তদ্বয় হইতে কোন মুসলমানের কোন প্রকার অনিষ্ট না হয়, সেই প্রকৃত মুসলমান এবং যে আল্লাহর নিষিদ্ধ কার্য হইতে পলায়ন করে সে-ই প্রকৃত মহাজ্জির।


পীযূষ কান্তি বড়ুয়ার গুচ্ছ কবিতা
১২ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


যোগসূত্র



 



নারী, কখনো ভার কখনো সম্ভার



কখনো অবুঝ বোঝা অনুভূতির কোমল পিঠে



কখনো অতুল সংবেদনে পড়ে নেয় অন্তরের



শিলালিপি



কখনো নিপুণ নিষাদ, পীড়নের দক্ষ প্রকৌশলী।



প্রেম, কখনো সঙ্গ কখনোবা অনুষঙ্গ



কাঁটা হয়ে বিঁধে গলায়, আনে মরুর দহন



দাবানলে ভষ্ম করে মনের অরণ্য, নিবিড় সবুজ



কখনো ডোবে না জলে, অনন্ত নক্ষত্র হয়ে জ্বলে ।



জীবন, কখনো আলোর নাচ কখনো আলেয়া



তুচ্ছ অাঁধারেও ঢালে আলো, আশার ক্ষীণ আলো নেয় কেড়ে



কখনো রূপালি হাতছানি কখনো বিস্তীর্ণ ধূসর



জীবনের সাঁকো পার করে যারে সে নেয় কেড়ে অন্যের সাঁকো।



নারী, প্রেম ও জীবন যা দেয় তার বেশি নেয়



যা নেয় তা প্রতিদানহীন, যা দেয় তা বিনিয়োগ



ডালে কাঁটা দিয়ে আগায় গোলাপ হাসে



নারী, প্রেম ও জীবন কাঁটাময় হাসির অন্য নাম।



 



 



আকাশের পালকি চড়ে অভিসারে চাঁদ



 



ভোরের রোদের কাছে তার পেয়েছি ডাক



রাতের জলসায় সে ডেকেছে আমাকে



আকাশের নীল খামে লিখেছে চিঠি



অনেকদিন পর সে মন ভরে নাইবে আলোর সরোবরে



আজ তার ফেলে যত অবগুণ্ঠন



সে আসবে অভিসারে ডেকেছে আমারে।



কোন এক অমাবস্যা রাতে



তার বুকে লাগাতে বুক



আমার দারুণ পিপাসা ছিল মনে



সে তার নেকাবের ওপার হতে দিয়েছে ফিরিয়ে



তারপর দিনে দিনে তিল তিল করে



কৃষ্ণকলি সে মুখে মেখে ফরসার জল



ফিরে পেয়ে জ্বলজ্বলে মুখ, হেমন্তের রঙ



সে আজ আমাকে ডেকেছে অভিসারে।



চারতলার ছাদে আমার নিবিড় প্রতীক্ষা



কান্ত আজ মিলিত হবে কান্তার কাঙ্ক্ষিত



আলিঙ্গনে



রাত বাড়ে, বাড়ে জ্যোতির প্রহর



অপার্থিব আলোয় রাঙিয়ে দিগন্ত



আকাশের পালকি চড়ে সে আসে অভিসারে



নেমে আসে টুপ করে ছাদের লাগোয়া আকাশে



বাড়িয়ে দু'হাত টেনে নেয় বুকে



এতো বড় বুকে আমি বিগলিত আলোর স্রোতে



হারাই সম্বিৎ। নেকাবে যে ঢাকা ছিল মুখ



কাঙ্ক্ষিত আলিঙ্গনে সে হয় সুপার মুন



তার এই বিপুল রূপে ক্রমশঃ ক্ষীণ হতে হতে



আমি ফিরে পাই রামায়ণ, সীতার কাহিনী



রামের ভক্ত হনুমান হয়ে কান্তা চাঁদ



ক্রমশঃ ক্ষুদ্র থেকে বড় হতে হতে



আকাশকে ঠেলে দেয় উপরে আরো উপরে!



সুপার মুনের উপোসী নিবীতে মূর্ছিত আমি বুঝি



ষোলকলার নেকাবে ঢাকা বলেই তার প্রতি জাগে প্রেম



নচেৎ বিপুল আলোর বানে হতো সালোক সমাধি!



 



 



বিমূর্ত বিচ্ছেদ



 



অনূঢ়া অপরাহ্নের মায়াবতী রোদের প্রীতিভোজে



নায়রী কনেকে বিদায় দিতে আসন্ন সন্ধ্যায়



তিন নদীর সঙ্গমে জেগেছে উৎসব



একজন নদীর মরদ সাথে দুজন রমণী নদী



প্রগাঢ় আলিঙ্গনে মেতেছে মিলনের মুগ্ধ আয়োজনে



তাদের ত্রিমুখী লীলায় নদীর নূপুরে বাজে



জলের গজল। বাতাসের আলাপী সেতারে



তানের জলসা। সবুজের ঘোমটা টেনে গাছগুলো



লোকনৃত্যের মুদ্রায় দাঁড়িয়ে স্থির। আগত



অতিথি সব উদ্ধত প্রস্থানে, তবু যারা নিকটের



কিংবা এসেছে দেরিতে তাদের বিচলিত প্রতীক্ষা



কনে বিদায়ের আয়োজনে একটি দিনকে



বিদায় দিবে ধরণী। অাঁধারের পালকি নিয়ে



দূরে দাঁড়িয়ে ঠায় অস্তাচলের বেহারা



নীড় ফেরা পাখির দল উছল শিশুর মতো



মাতিয়ে আঙিনা সরব করে তোলে বিদায়ের মুহূর্ত



জ্বলে উঠে 'রক্তধারা'র আলোকসজ্জা



বিচ্ছুরিত আলোকে ফোয়ারার জলে কেলি করে



অধীর প্রতীক্ষা। বিদায়ী দিন গালে লেগে থাকা



লালিমার বেদনায় ধরণীর অাঁচলে দেয় কনকাঞ্জলি



তারপর চলতে থাকে দ্রুত লয়ে বিচ্ছেদের পালকি



মা আর মেয়ের দৃষ্টিপথে আড়াল হয়ে আসে



নদী চিরে ধীরে চলা জাহাজের যবনিকা-পট



বর্গীর রাত ঝুপ করে নেমে এসে কেড়ে নেয়



বিদায়ী বেদন। আতঙ্কের ফাঁদ পেতে হানাদারি



অাঁধার তাড়ায় দিনাবসানের বিমূর্ত বিচ্ছেদ।



 



 



নিবেদন কথামালা-১



 



শীতের হাওয়া উষ্ণ হয়ে অরণ্যে দেয় সান্ত্বনা



তোমার মনের মমতা মেখে বৃক্ষরা তা জানত না



তোমার প্রীতির উষ্ণ ধারায় পত্রঝরা বনের ছায়



শোক ভুলিয়ে শক্তি বাঁচার বল অতুলন মনের পায়।



 



 



নিবেদন কথামালা-২



 



দখিন হাওয়ার আরশী মনের শ্রাবণমেঘের রঙ মাখে



ফাগুনবনের ফুল-পাখিরা গভীর রাগে টঙ থাকে



তোমার হাসির সি্নগ্ধ ধারায় পৌষ-ফাগুনে তাল হারায়



নিত্য ফাগুন বর্ষ জুড়ে তাই দখিনা হাল ছাড়ায়।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫২০৫৭৩
পুরোন সংখ্যা