চাঁদপুর। সোমবার ৩০ জানুয়ারি ২০১৭। ১৭ মাঘ ১৪২৩। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • আজ সকালে উপজেলা পরিষদ চেয়াম্যান আলহাজ্ব ওচমান গনি পাটোয়ারীর মাতা ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহে....রাজেউন) || কচুয়ায় সিংআড্ডায় হত্যা মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন কারাদন্ড **ফরিদগঞ্জের কড়ৈতলীতে কুড়িয়ে পাওয়া পাথর নিয়ে তোলপাড়**টিলাবাড়ি এলাকায় ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে গৃহবধূকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৬-সূরা শু’আরা


২২৭ আয়াত, ১১ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২২০। তিনি তো সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। 


২২১। তোমাদিগকে কি আমি জানাইবো কাহার নিকট শয়তানরা অবতীর্ণ হয়?


২২২। উহারা তো অবতীর্ণ হয় প্রত্যেকটি ঘোর মিথ্যাবাদী ও  পাপীর নিকট।  


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


অভিজ্ঞতা হলো দুঃখ-কষ্টের নির্যাস।


                            -আর্থার হেল্পস।

বিদ্যা শিক্ষার্থীগণ বেহেশতের ফেরেশতাগণ কর্তৃক অভিনন্দিত হবেন। 


ফটো গ্যালারি
আমলনামা
এহ্তেশাম হায়দার চৌধুরী
৩০ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

বাইরে প্রচ- শব্দ হয়।

বাজ পড়ার মতো শব্দ। ঘর-বাড়ি গাছপালা থরথর করে কাঁপতে থাকে। টিনের চালগুলো যেন নাটবল্টুর জোড়া খুলে খসে খসে পড়বে । ভূমিকম্প নয় তো ?

আচমকা এ শব্দে চমকে উঠে রমজান। শব্দটা কোন্ দিক থেকে আসে বুঝতে পারে না। কান খাড়া করে শোনার চেষ্টা করে। অনেকক্ষণ পর সে বুঝতে পারে বাড়ির সদর দরজা থেকেই শব্দটা আসছে। কে যেন তার নাম ধরে ডাকে । ডাক তো নয় যেন বোমা ফাটানো শব্দ।

ধড়ফড় করে উঠে রমজান । তাজ্জব ব্যাপার! এ অঞ্চলে তো কেউ তার নাম ধরে ডাকে না ? বিষয়টা কী ? সে ভয়ে ভয়ে জানালা খুলে বাইরে তাকিয়ে অবাক! আজব কিসিমের এক মানুষ ! মানুষ বললে ভুল বলা হবে। মানুষ নামের দৈত্য। এ রকম আজব চেহারার মানুষ এ তল্লাটে কেউ নেই। আপাদমস্তক সাদা ধবধবে পোশাক। মাথায় সাদা পাগড়ি। মানুষটার চারপাশে আলোর ঝলকানি। রমজানের কাছে কী চায় ও ?

আগন্তুক আবার গর্জন করে উঠে ।

_ রমজান বাইরে আয় ।

কথা বলার সাথে সাথে মাটির জমিন কাঁপতে থাকে । যেন রোজ কেয়ামত । রমজান হুজুরদের কাছে শুনেছিলো, কেয়ামতের দিন আকাশ জুড়ে বড় বড় শব্দ হবে। পৃথিবী থরথর করে কাঁপতে থাকবে । আকাশ ছেঁড়া তুলার মতো ওড়তে থাকবে । রমজান অবস্থা বেগতিক দেখে ভয়ে ভয়ে আকাশের দিকে আড়চোখে তাকায়। না, আকাশ তো ঠিকই আছে । তাহলে রোজ কেয়ামত না ! তবে কি? আগন্তুকের চেহারা সুরত ভাবসাব দেখে রমজান ধারণা করে এটা নির্ঘাত জিনের বাদশা। হুজুরের কাছে যেমন বর্ণনা শুনেছে, তার সাথে এ আগন্তুকের চেহারা হুবহু মিলে যাচ্ছে। রমজান ভয়ে ভয়ে ঢোক গিলে। আবার শব্দ হয়,

_ রমজান বাহির হ !

তুই তোয়াক্কারী ব্যবহার ! এ এলাকার মানুষের এমন সাহস নেই । রমজান বুঝতে পারে কারবার অন্যরকম। এর হাত থেকে পালিয়ে বাঁচার উপায় নেই । বাইরে না গেলে সে ঘাড় ধরে জোর করে বাইরে নিয়ে যাবে। সে কাঁপতে কাঁপতে দরজা খুলে বাইরে আসে । সালাম দিয়ে আগন্তুকের সামনে দাঁড়ায়। আমতা আমতা করে বলে,

_ হুজুর, আপনার পরিচয় ? সাকিন কোথায়? আপনারে তো চিনলাম না।

_ আমারে চিনবি কেমনে ? জীবনে কোনোদিন কোরান হাদিস পড়ছস ?

রমজান প্রমাদ গোণে। তাকে চেনার সাথে কোরান হাদিস পড়ার সম্পর্ক কী? সে বুঝতে পারে না। তবে আগন্তুক ঠিকই বলেছে। ছোট বেলায় ফৈজু মুন্সীর মক্তবে যা পড়েছে এরপর কোরান কেতাব নামাজ-রোজার ধারে কাছেও যায় নি সে কোনোদিন। রমজান খসখসে গলায় বললো,

_ জে হুজুর। এবার আপনার পরিচয়টা দেন ।

আগন্তুক বললো,

_ কোরান কেতাব পড়লে আমারে চিনতিরে নালায়েক, আমি তোর মালাকাল মওত। আজরাইল। আজরাইলের নাম শুনছস কোনোদিন?

আজরাইল নামটা শুনেই রমজানের আত্মারাম খাঁচা ছাড়ার উপক্রম । বুকের ভেতর জোরে জোরে হাতুড়ি পেটার ধুপধাপ শব্দ শুরু হয়। মাথাটা চারদিকে ঘুরতে থাকে। পায়ের নিচের মাটি সরতে থাকে দ্রুত। হাত পা অবশ হয়ে আসে । গলা দিয়ে স্বর বের হয় না । রমজান অতি কষ্টে বললো,

_ হুজুর আপনি অসময় !

আজরাইল ধমকে উঠে ।

_ সময় অসময় কীরে কমবখ্ত ? কার কখন মওত হবে মানুষ কি তা জানে ? আল্লাপাকের হুকুম হইছে তাই তোর জান নিতে আসছি।

-হায় হায় ! কয় কী? জীবনের কিছু দেখলাম না, শুনলাম না । তার উপর সামনে ইলেকশন ! এ সময় যদি জীবনটা চলে যায়, তাহলে কেমন দেখায় ।

রমজান ভাবনায় পড়ে । ইলেকশনের যোগাড়যন্ত্র সব শেষ। বড়ভাইয়ের আশীর্বাদও পেয়েছিলো। টিএনও, ওসি সব ম্যানেজ। তাফালিং পার্টিও ভাড়া করা হয়ে গেছে। পাসটা অনিবার্য ছিলো। কিন্তু এরি মধ্যে যদি তার জানটা যায়, তবে সব শেষ।

মৃত্যুটা কি কোনো মতে ঠেকানো যায় না ? বড় বড় অফিসার, থানা পুলিশ হলে কী করে ম্যানেজ করতে হয় রমজান তা জানে। কাউকে টাকা দিয়ে, কাউকে বড় বড় মাছ দিয়ে, মাগীবাজ অফিসারকে মেয়ে মানুষ সাপ্লাই দিয়ে কিন্তু আল্লাহর ফেরেস্তাকে ম্যানেজ করার কোনো কৌশল তার জানা নাই । এখন কি করবে সে ? বড় ভাবনায় পড়ে ।

এত শোরগোল, এতো হুড়হাঙ্গামা, বাড়ির কারো কানে যায় না । তার এ বিপদের সময় মাস্তান ছেলেরা কাছে থাকলে ভরসা পেত। আজরাইল হুজুরের সাথে বাৎচিত করে মওত ঠেকানোর একটা রাস্তা বের করতে পারতো।

নিদান কালে কেউ নাই। তার বৌ পরিজান বিবি। 'নবাবের বেটি। খাইয়া ঘুমাইয়া গাওগতরে চর্বি জমাইছে। তিন মণি আটার বস্তা। পালংয়ে সুখের নিদ্রা যায়। স্বামীর এ অবস্থায় তার কোনো বোধ শোধ নাই। এতো হৈ চৈ মাগীর ঘুম ভাঙে না।' ভেতরে ভেতরে ক্ষোভে দুঃখে সে জ্বলতে থাকে। আসলে মরণ কালে কাউকে পাওয়া যায় না।

আজরাইল বললো,

_ কী ভাবছস, ভাবাভাবির কাম নাই । তাড়াতাড়ি কর। আমারে আবার ঢাকা যাইতে হবে। বিরোধী দলের একটা জঙ্গি মিছিল দেখে আসছি। সামনে পুলিশের অ্যাকশন। কমপক্ষে গোটা চারেক যাবে ।

রমজান জবান দিয়ে কথা সরে না। কী বলবে সে বুঝতে পারে না । তবে সে বুঝে গেছে যমের হাতে ধরা পড়েছে । এখান থেকে বাঁচার উপায় নেই। তবু সে মিনতি করে,

_ হুজুর দয়া কইরা যখন গরিবের ডেরায় কদম মোবারক রাখছেন, তখন আমি ধন্য। গরিবখানায় যদি চারটা ডাল-ভাত খাইয়া যাইতেন তয় মইরাও সুখ পাইতাম। আমার বৌ পরিজান বিবি, খাচ্ছুইরা টাইপের মহিলা অইলে কী অইবো, রান্নবাড়ায় বড় অ্যাঙ্পার্ট। একবার খাইলে হুজুর বুঝতে পারতেন।

আজরাইল রেগেমেগে কটমট করে উঠে। আসমান জমিন বৃক্ষলতা থরথর করে কাঁপতে থাকে।

_চুপ বেতমিজ! আমারে লোভ দেখাস ? তুই জানিস না, আল্লাহর ফেরেস্তার আহার নিদ্রা নাই। তারা কেবল আল্লাহপাকের জিকির করে সময় কাটায়। জানবি কেমনে রে নালায়েক ! আল্লাহ-খোদার নাম মুখে আনছস কোনোদিন ? জাহান্নামি কুনখানের।

ধমকের চোটে রমজান লুঙ্গিতে পেসাব করে দেয় । মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠে । সে বুঝে গেছে তার খেইল খতম । তাই ডরভয় সব দূর হয়ে গেছে। আজরাইল তাকে জাহান্নামি বলাতে সে প্রতিবাদ করে উঠে,

_ হুজুর হাশর ময়দানে বিচারের আগে আমারে জাহান্নামি বলাটা ঠিক অয় নাই। হুনছি আল্লাহপাক বড় মেহেরবান । তিনি রহমানুর রহিম। তিনি ইচ্ছা করলে তার এ নালায়েক বান্দারে ক্ষমাও তো করতে পারেন।

রমজানের কথায় আজরাইল ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। ওরে বাপরে! এ আদমি তো সাংঘাতিক চীজ। মরণের সময় মানুষের হুঁশজ্ঞান থাকে না। অথচ তার মুখে চাটাং চাটাং কথা ! সময় নষ্ট করা আর ঠিক হবে না। আজরাইল হাত বাড়ায়।

রমজানের বুকটা শুকিয়ে যায়। মনে হয় সমস্ত পৃথিবীর পানি দিয়ে তার বুকের এ তৃষ্ণা মিটানো যাবে না। খাঁ খাঁ মরুভূমির উত্তপ্ত বালির উপর দিয়ে সে দৌড়ায়। তার বাপ-দাদা পূর্ব পুরুষরা তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে- রমজান আয় আয়। রমজান চারদিক অন্ধকার দেখে। বুকের ভেতর নিঃশ্বাস থমকে যায় ।

এক সময় রমজান চোখ মেলে।

চারদিকে চোখ ঘুরিয়ে দেখে ছোট্ট একটা ঘরে সে চীৎ হয়ে পড়ে আছে প্রায় বিবস্ত্র অবস্থায়। ঠাসাঠাসি করে বসে আছে তার মতো অনেকগুলো মানুষ। আলোবাতাসহীন দমবন্ধ করা এ ঘর মানুষগুলোর জন্যে হাজতবাস। এ ঘরে অনেককেই সে চেনে। উপজেলা পরিষদে বিভিন্ন মিটিংয়ে এদের সঙ্গে প্রায়ই দেখা হয়েছে। এদের মধ্যে দু-চারজন আছে তারা রমজানের জানের দোস্ত। বিশেষ করে ছয় নম্বর ইউনিয়নের মোখলেছ চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার খায় খাতির একটু বেশি। কিন্তু বিষয়টা কী ? আজকে মোখলেছ চেয়ারম্যান তাকে দেখেও না দেখার ভান করছে। রমজান বার কয়েক হাত তুলে তাকে ইশারা করে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে ।

_মকু ভাই, আমি এইখানে।

মোখলেছ চেয়ারম্যান ভাবলেশহীনভাবে উপরের দিকে চেয়ে থাকে। রমজান নিজের মনে গজগজ করতে করতে একটা গাল দেয়,

_ হালা রিলিফ চোর, ভাব ধরছে। আমারে চিনে না।

এ ঘরের বাসিন্দারা কেউ কারোর দিকে তাকায় না। কারো সাথে কথাও বলে না। হাশর ময়দানে সবার ইয়া নফসি ইয়া নফসি সার। রমজান এবার বুঝতে পারে তার কাম সারা । বড়সড় একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে সে উঠে বসে । তার নিজের ভাগ্যের কথা চিন্তা ভয়ে সেও কাঁপতে থাকে ।

এ আবদ্ধ ঘরের হাজতবাসী সবাই বিভিন্ন এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বার। দেশের দু-চারজন মন্ত্রী আমলা সরকারি লোকও আছে। একসময় এদের ডাটফাট ছিলো। দোর্দ- প্রতাপ ছিলো। এদের এক ইশারায় একদিন অনেক কিছু ঘটতো। এরা রাতকে দিন, দিনকে রাত করতো । এরা মানুষের সুখ-শান্তি হারাম করার তন্ত্র-মন্ত্র জানতো। আজ এ ঘরে তাদের সেদিন নেই। এরা এখন কোমরভাঙ্গা ফণা থেতলানো বিষহীন সাপের মতো । এখানে বসে বসে বিগত দিনের কথা চিন্তা করে হা হুতাশ করা ছাড়া এদের কিছুই করার নেই ।

আজ এদের বিচারের দিন।

এরা হাশর ময়দানে উপস্থিত হয়ে বিচারের জন্যে অপেক্ষা করছে । এক এক জনের ডাক পড়ে, এক এক জন করে বিচার সভায় উপস্থিত হয়। কার ভাগ্যে কী বিচার, কী রায়, এরা কেউ জানে না। এমনি অনিশ্চয়তা নিয়ে এ ঘরের এককোণে অস্থিরভাবে অপেক্ষা করছে দুই নম্বর মরণপুর ইউনিয়নের প্রতাপশালী চেয়ারম্যান রমজান। একদিন যার নাম শুনলে এলাকার মানুষ থর থর করে কাঁপতো। সে প্রতাপশালী চেয়ারম্যান রমজান অসহায়ভাবে জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় বসে আছে। পরণে ছেঁড়া তেনার মতো পোশাক আশাক। কোথায় তার মুখরা স্ত্রী পরিজান বিবি ? কোথায় তার মাস্তান পুত্র খাইট্টা মালেক, পিচ্চি কামাল, লম্বু টুক্কা ? কোথায় তার দুষ্কর্মের সঙ্গী, সুখ-দুঃখের নিত্য সহচর হিকমত উল্লাহ মাতাব্বর, কুদুছ বেপারী ? আজ তার নিদান কালে কেউ নেই । তাই রমজান গুণগুণ করে গান গায় ........আইছো একা যাইবা একা ....। এমনি সময় যমদূতের মতো বিশাল দর্শন এক ফেরেস্তা জলদগম্ভীর স্বরে হাঁক দিয়ে উঠে,

_ বিবাদী, দুই নম্বর মরণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রমজান হাজির ........! রমজানের প্রতীক্ষার পালা শেষ। সকাল থেকে দমবন্ধ করা প্রচ- গরমে অপেক্ষা করতে করতে জীবন যায় যায় অবস্থা। মাথার ভিতর মগজ যেন টগবগ করে ফুটছিলো অবশেষে তার ডাক আসে। দুরুদুরু বক্ষে সে উঠে দাঁড়ায়। বসে থাকতে থাকতে শরীরে খিল ধরে গেছে। রমজান দাঁড়িয়ে একটু আড়মোড় ভাঙ্গার চেষ্টা করে। কিন্তু ফেরেস্তা এসে দাঁত কিড়মিড় করে রক্ত চোখে তার দিকে এক পলক তাকায় । তারপর ঘাড় ধরে টেনে হেঁচড়ে বিচার সভায় ছুড়ে মারে। রমজানের ধারণা ছিলো, রোজ হাশরে আল্লাহপাকের সঙ্গে তার দেখা হবে। স্বচক্ষে আল্লাহপাককে দেখে তার দিল ঠা-া করবে। আল্লাহপাকের পায়ের উপর পড়ে তার কৃতকর্মের জন্যে ক্ষমা চাইবে। কিন্তু একি? কোথায় আল্লাহ পাকের আরশ কুরসি ? কোথায় আল্লাহ পাক? এ যে মরণপুর ইউনিয়নের মানুষজন ! ডানে বায়ে চোখ ঘুরিয়ে সে অাঁৎকে উঠে। এ পাঁচ বছর চেয়ারম্যানী মেয়াদে সে যার যার সর্বনাশ করেছে, আজ ওরা সবাই উপস্থিত। যমদূত তাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। একটা কুদরতি কাগজ এনে তার সামনে ধরে বলে, আমার সঙ্গে বল, "যাহা বলিবো সত্য বলিবো।" রমজান কাঁপতে কাঁপতে যমদূতের সঙ্গে আওড়ায় "যাহা বলিবো, সত্য বলিবো।" মন্ত্রপড়া শেষ হলে যমদূত কাগজ ভাঁজ করতে করতে বিদঘুটে হাসি দিয়ে বলে,

_চেয়ারম্যান সাব, এ বিচার সভায় কোনো মাস্তানি তানসেনি চলবে না। আল্লাপাক ক্ষমাশীল, কিন্তু তার বান্দা পাবলিক বড় ডেন্জারাস্! সুযোগ পাইলে হাড্ডি গুঁড়া কইরা হারিকেন আর বাঁশ ধরাইয়া দিব । সুতরাং এ গণ আদালতে মিথ্যার কোনো কারবার নাই। না বলতে চাইলেও সব সত্য কথা হড়বড় কইরা বাইর অইয়া যাইবো।

গায়েবি আওয়াজ আসে ।

_ রমজানের আমলনামা তার হাতে দাও ।

একজন ফেরেস্তা তার সতের শ' পঁচিশ পৃষ্ঠার (গত পাঁচ বছরের কার্যকলাপের) বিশাল এক আমলনামা রমজানের সামনে তুলে ধরে বলে,

_ চেয়ারম্যান পড়ো, তোমার পাঁচ বছরের কৃতকর্মের আমলনামা পড়ো ।

রমজান ঘামতে থাকে । সমস্ত শরীর ঘামে ভিজে জব জব। সে কাঁপা কাঁপা গলায় বললো,

_হুজুর সব আওলা ঝাওলা লাগতাছে । মুখ দিয়া পড়া আসে না ।

উপস্থিত মরণপুরের মানুষজন সমস্বরে বললো,

_ বকলম, বকলম।

রমজান মানুষজনের দিকে তাকিয়ে ক্ষোভে দুঃখে অভিমানী কণ্ঠে বললো,

_হাতী খাদে পড়ছে তো, অহন চামচিকারাও লেং মারতে চাও। খাড়াও, একবার ছুইটা লই, তহন মজাটা দেখামু।

গায়েবি আওয়াজ আসে,

_ফেরেস্তা, তার আমলনামা পড়ে শোনাও ।

ফেরেস্তা রমজানের আমলনামা পড়তে শুরু করে ।

- রমজান, পিতা আক্কু মিয়া। পাঁচ বছর আগে তোমার পেশা আছিল ভিলেজ পলিটিঙ্। এমন কোনো আকাম নাই যে তুমি করো নাই ? পরে রাজনীতির সঙ্গে জড়াইয়া রাজনীতির কোনো এক বড় ভাইয়ের আশীর্বাদে ভোট কেন্দ্র দখল কইরা চেয়ারম্যান হইছো, ইহা কি সত্য?

_জে হুজুর সত্য। এর জন্যে বড়ভাইয়ের পিছনে বহুত মাল মসল্লা ঢালতে হইছে ।

ফেরেস্তা ধমক দিয়ে উঠে,

_ এইখানে চাপাবাজি কম করো। বড় ভাইকে তুমি কুমিল্লার রসমালাই, চাঁদপুরের ইলিশ আর নগদ কী পরিমাণ দিছ সব তার আমলনামায় লেখা আছে । তাকেও ধরে পাবলিকের সামনে হাজির করা হবে । এখন যা জিগ্যেস করছি তার জবাব দাও ।

_ জে হুজুর ।

_আচ্ছা রমজান, চেয়ারম্যানির প্রথম বছর তুমি এক নাবালক এতিমের সম্পত্তি দখল করছো। রাত্রি নিশিকালে বিধবা নবীতুনের ইজ্জতে হাত দিছো, তোমার প্রতিপক্ষ আবুল মাস্টারের মাথা ফাটাইয়া তারে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাইছো_ ইহা কি সত্য ?

_জে হুজুর সব সত্য।

ফেরেস্তা আমলনামার পাতা উল্টায়।

জলদগম্ভীর স্বরে বলে,

_ রমজান, রাস্তার জন্যে বরাদ্দ করা কাবিখার গম, গরিব দুঃখী মানুষের নামে আসা ভিজিএফ কার্ডের চাল, পুল-কালভার্টের জন্যে আসা এডিবি-কেয়ারের টাকা আত্মসাৎ করছো। ঘটনা কি সত্য ?

-জে, হুজুর ঠিক। তবে আমি একা না। উপরেও দিছি। কেউ পার্সেন্টেজ ছাড়ে নাই । টিএনও ইঞ্জিনিয়ার বেবাকের পকেটেই গেছে।

- একদম চুপ। এখানে তোমার বিচার হইতেছে। ওপরের লোকদেরও বিচার হবে। জার্রা জার্রা হিসাব হবে। কাউকে ছাড়া হবে না। যা জিগ্যেস করি তার জবাব দাও।

_জে হুজুর, জে হুজুর।

ফেরেস্তার চোখ লাল। আগুন যেন ঠিকরে বেরিয়ে আসবে। রাগে ক্রোধে ধমক দিয়ে বললো,

_এতো জী জী করছো কেনো ? দুনিয়াতে ফায়দা হাসিলের জন্যে জী জী করে বহুত তেল মারছো। তোমাদের তেল মারার স্বভাব বন্ধ করো। ফেরেস্তাকে তেল দিয়ে কোনো ফায়দা হবে না। এবার বলো,

_ রমজান, তোমার এলাকার কইতরের নেছা বালিকা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির তুমি চেয়ারম্যান। কিন্তু তোমার মতো একজন বকলম চরিত্রহীন লম্পট কী করে বালিকা বিদ্যালয়ের মতো এমন মহৎ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হয় ?

রমজান ঘামে ভেজা ঠোঁটে মুচকি হাসে। আস্তে আস্তে বলে,

_ হুজুর, আমাগো দেশের স্কুল কলেজ এখন আমার মতো বদলোকদের দখলে। আমাগো ঠেলায় ভালো শিক্ষিত মানুষরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধারে কাছেও ভিড়তে পারে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আয়-রোজগার দিয়া এলাকায় অহন বহুত এতিম মাস্তান লালন পালন হইতাছে। এ ব্যবস্থা আমাগো লিডারই কইরা দিছে । এইসব এখন পলিটিক্যাল পোস্ট। যখন যে দল ক্ষমতায় যায় তার দলের লোকজনরাই স্কুল কলেজের কমিটিতে আসে। এখানে হুজুর যোগ্যতার কোনো বিচার হয় না।

ফেরেস্তা ধমক দেয়,

_ তোর কথা বল, তুই হেডমিস্টেজ-উপবৃত্তি অফিসার আর ব্যাংক ম্যানেজারের যোগসাজশে গরিব মেয়েদের উপবৃত্তির টাকা হজম করছস, ঠিক কিনা ?

_ ঠিক হুজুর, সব ঠিক ।

_ রমজান, তোর ছেলে বাট্টু, পিচ্চি কামাল, লম্বু টুকু মিলে গ্রামের মানুষের অনেক সর্বনাশ করছে । তোর ভাগিনা খাটাশ মালিক্কা কৃষক কন্যা আম্বিয়া খাতুনের উপর এসিড মারছে, তুই তার বিচার করছিলি ?

_ না হুজুর করি নাই।

ফেরেস্তা রমজানের আমলনামা পড়তে পড়তে একসময় বলে,

_ ইয়া বারে ইলাহি, এ বজ্জাতের আমলনামা আকাম কুকামে ভরা। পড়তে পড়তে আমারও ঘেন্না ধরে গেছে। বাকি অংশ পঠিত বলিয়া গণ্য হউক।

গায়েবি আওয়াজ আসে,

_ ঠিক আছে বাকি অংশ পঠিত বলিয়া গণ্য করা হইল। এবার খুঁজে দেখো তার সারা জীবনের আমলনামায় কোনো নেকী আছে কিনা ।

ফেরেস্তা তার সারা জীবনের আমলনামা ঘেঁটে গোটা চারেক ভালো কাজের নেকী বের করে-

রমজানের পিতা আক্কু মাঝি মারা গেলে খোশ দিলে এতিম মিসকিন খাওয়ায় ।

ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার পথে একটি বাঁশের সাঁকো মেরামত করে ।

আতর আলীর ছাগল চুরির ন্যায্য বিচার সে করে। যদিও জরিমানার কিছু দিতে বিলম্ব করেছিলো ।

এক সময় এলাকায় একটি পাগলা কুত্তা অনেক মানুষ কামড়ায়। রমজান নিজ পকেটের নগদ একশ' টাকা খরচ করে লোক দিয়ে কুত্তাটা মারায়। এতে জনগণের উপকার হয়।

রমজানের সারাজীবনে এ চার নেকী সম্বল। তার নেকী আর বদির যোগ বিয়োগ করে দেখা যায় তার বদির পাল্লাই ভারী । গায়েবি আওয়াজ আসে,

-এবার তাকে জিগ্যেস করো কেনো সে এসব করলো?

ফেরেস্তা জিগ্যেস করলো,

- রমজান কেনো এসব বদ কাম করলি।

রমজান চোখ বন্ধ করে। তারপর চোখ খুলে বললো,

_ হুজুর ক্ষমতার গরমে। যখন ক্ষমতায় ছিলাম তখন মনে হইছে, এ ক্ষমতা কেয়ামত পর্যন্ত জারি থাকবো। দেশটাকে ভাবছিলাম আমার বাপ-দাদার সম্পত্তি। পাবলিককে ভাবতাম আমার প্রজা, কেনা গোলাম। আমি যা করুম পাবলিক সব বিনা বাক্যে মাইন্না নিব। ক্ষমতায় গেলে হুঁশ থাকে না হুজুর, হুঁশ থাকে না । আমাগ দেশের রাজনীতির নেতা, সরকারের মন্ত্রী আমলা হগলেই হুজুর আমারই মতো । আমাগ হগলেরই আমলনামা প্রায় একরকম।

গায়েবি আওযাজ আসে _

_ এ বান্দার বিচারের রায় পড়ে শোনাও।

ক্লান্ত শ্রান্ত ফেরেস্তা রমজানের দীর্ঘ রায় পড়তে শুরু করে ।

" রমজান তোমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ যা তুমি নিজেই আল্লাহ পাকের সামনে স্বীকার করেছো এবং সব সত্য বলে প্রমাণিত। তোমার এলাকার হাজার হাজার নর-নারী তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষীও দিয়েছে । তবে তোমার আমলনামায় যে সামান্য নেকী আছে তাও আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বিবেচনা করেছেন । রমজান শোন , তোমাদের দেশের পাবলিক খুবই সহনশীল । এরা সামান্যতেই তুষ্ট। এরা জনপ্রতিনিধির কাছে খুব বেশি কিছু চায় না । এদেরকে সামান্য ভালোবাসা দিলে এরা শতগুণ করে তা ফিরিয়ে দেয় । এরা তোমাদের কাছে প্রত্যাশা করে ন্যায্য বিচার, একটু নিরাপত্তা, রোগে শোকে সান্ত্বনা। তোমরা জনপ্রতিনিধি হয়ে পাবলিকের এ সামান্য প্রত্যাশাও পূরণ করতে পারো না। ক্ষমতায় গিয়ে তোমরা পাবলিকের টাকা পয়সা লুটে নাও। দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করো। ধিক ! তোমাদের এ জনসেবার । আল্লাহ পাক তার বান্দার উপর এ জুলুম সহ্য করবেন না। সহসা তোমাদের রাজনীতির উপর আল্লাহ গজব নাজিল করবেন। অপেক্ষা করো।"

এমন সময় জলদগম্ভীর স্বরে আওয়াজ আসে,

_ফেরেস্তা, তুমি এ সব ছাগলদের কেনো বুঝাও। তুমি জানো না 'চোর না শোনে ধর্মের কাহিনী'। তার রায় পড়ে শোনাও।

ফেরেস্তা গায়েবি আওয়াজ শুনে লজ্জা পায়। রমজানের রায় পড়তে শুরু করে।

"রমজান, বান্দার হক আল্লাহপাক কখনো মাফ করবেন না। বান্দার হক খেলাফকারী হিসেবে তোমাকে দোষী সাব্যস্ত করা হযেছে। তোমার বিচার হচ্ছে, তোমার মরণপুর ইউনিয়নের ভোটাররা প্রত্যেকে তোমার পাছায় একটি করে লাথি মারবে আর তোমার মুথে তিনবার করে থুথু দেবে। এ শাস্তির পর আল্লাহর বিচার তো আছেই।"

রমজান তার বিরুদ্ধে আনীত রায় শুনে চমকে উঠে । হাত জোড় করে বলে,

-হুজুর সব রায় আমি মাথা পাইত্তা নিমু। তয়, এবার নমিনেশন পেপারটা জমা দেওনের চান্সটা দেন।

ফেরেস্তা অবাক হয় ! এতো অপমানের পরেও ইলেকশনে দাঁড়াতে চায়। লজ্জা শরম বলে কি বান্দার কিছুই নেই। ফেরেস্তা বললো,

- রমজান তোমার চক্ষু লজ্জা বলে কি কিছুই নেই ? এতো কিছুর পরেও ....।

রমজান এবার খেক খেক করে হেসে উঠে বলে,

_ হুজুর পেয়ারমে, জংমে আর রাজনীতিমে সব জায়েজ হায় । যে পাবলিক ঘৃণায় আজ আমার পাছায় লাথি দিবে, মুখে ছ্যাব দিবে, গলায় জুতার মালা দিবে, দুইদিন পর সে পাবলিক আবার আমার গলায় ফুলের মালা দিয়া আমারে মাথায় তুইল্লা নাচবো । এদেশের পাবলিক বড় বেয়াক্কল কিসিমের হুজুর। তাই আমাগো নেতারা এ বোকা পাবলিকের উপর চান্স নিয়া সমানে লুটতাছে ।

ফেরেস্তা অবাক হয় !

_বলো কি বান্দা ?

-হ হুজুর, এ ক'বছরে এসবই তো দেইখা আইছি । পাবলিক লইয়া খেলার মজাই তো আলাদা। এ পাঁচ বছরে সব শিক্ষা ফালাইছি। বড় বড় নেতারাও তো এমন কইরা এমপি মন্ত্রী অয়। আসলে পাবলিক লইয়া খেলতে নামলে লাজ-লজ্জা করলে চলে না ।

ফেরেস্তা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে,

-হায়রে বান্দা তোর ইলেকশনের নেশা! এ জন্যই তো তোদের দেশের এ হাল।

-জী হুজুর । দেশ লইয়া কেউ ভাবে না। ইলেকশান আর ক্ষমতাই হইল মূূল কথা। ইলেকশনের নেশা আর বুড়া কালে বান্দার বিয়ার নেশা এক রকম। এ নিশা একবার ধরলে আর ছাড়ান যায় না।

এমন সময় গায়েবি আওয়াজ আসে,

_ নালায়েকের সঙ্গে প্যাঁচাল করে সময় নষ্ট করছো কেনো ফেরেস্তা। তার রায় কার্যকর করে নেঙ্টকে ডাকো।

ফেরেস্তা ইংগিত করতেই মরণপুরের উপস্থিত জনতা রমজান চেয়ারম্যানের পাছায় একটি করে লাথি মারে আর মুথে তিনবার করে থুথু ছিটায়। পাবলিকের থুতুতে রমজানের সারা মুখ ডেকে যায় । সে ওয়াক ওয়াক করে বমি করতে থাকে । কিন্তু এতোকিছুর পরেও রমজান হাত জোড় করে বলে,

_আমারে তোমরা আর একটা চান্স দেও। আমি এইবার ভালো অইয়া যাইমু । ওয়াক ওয়াক .........!

ঘুমের ঘোরে রমজান ওয়াক ওয়াক করতে থাকে।

তার বৌ পরিজানের ঘুম ভেঙ্গে যায়। সে রমজানকে ধাক্কা দিয়ে বলে,

_ আপনের কী অইছে ? ওয়াক ওয়াক করেন কেন? খোয়াব দেখছেন ?

রমজান ভয়ার্ত চোখে চারদিকে তাকায়। কাঁপা কাঁপা গলায় চোখ কচলাতে কচলাতে বলে,

- বৌ বড় খারাপ খোয়াব দেখছি । আমার কারবার শেষ । আল্লাহ জানে এবার কপালে কী আছে ?

মসজিদ থেকে ভোরের আজান আসে । পরিজান বিবি মিনতির সুরে বলে,

_ আপনার আল্লাহর দোহাই, এইবার ভালা অইয়া যান। পোলাগুলানরে সন্ত্রাসী বানাইছেন। অহন যৌথবাহিনীর ভয়ে এলাকা ছাড়ছে। আপনার কাছে মিনতি করি, ইলেকশনের ভূত মাথা থাইকা ছাড়ান দেন । ভালা মানুষরে দেশের চেয়ারম্যান-মেম্বার, মন্ত্রী মিনিস্টার অইতে দেন। দেখছেন না হাওয়া বদলাইতেছে। কারো ছাড়ান নাই।

_ ঠিকই কইছস পরিজান। ভাইবা দেহী ।

_ এতো ভাবাভাবির কাম নাই। যান মসজিদে যাইয়া নামাজ পইড়া আল্লাহর কাছে তোওবা কইরা আসেন । পাবলিকের কাছে ক্ষমা চান। পাবলিকরে বহুত জ্বালাইছেন।

রমজানের বুকের ভেতর আতঙ্ক। স্বপ্নের কথা মনে হলে সে শিউরে উঠে । মনে মনে ভাবে, পরিজান সত্য কথাই বলেছে । সে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে । আস্তে আস্তে উঠে অজু করে মসজিদের দিকে পা বাড়ায় । কতো বছর পর মসজিদে যাচ্ছে সে নিজেও জানে না। গলায় গুণ গুণ সুর-আইছো একা যাইবা একা......।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৬০৬০৪৪
পুরোন সংখ্যা