চাঁদপুর। শনিবার ১৭ জুন ২০১৭। ৩ আষাঢ় জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪। ২১ রমজান ১৪৩৮
kzai
muslim-boys

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৮-সূরা কাসাস 


৮৮ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৫৮। কত জনপদকে আমি ধ্বংস করিয়াছি যাহার বাসিন্দারা নিজেদের ভোগ-সম্পদের দম্ভ করিত। এইগুলিই তো উহাদের ঘরবাড়ী; উহাদের পর এইগুলিতে লোকজন সামান্যই বসবাস করিয়াছে। আর আমি তো চূড়ান্ত মালিকানার অধিকারী।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


দেশের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ আইন।


                -জাস্টিনিয়ান।


 


যার হৃদয়ে বিন্দু পরিমাণ অহঙ্কার আছে সে কখনো বেহেস্তে প্রবেশ করতে পারবে না। 


 

এতোদিন লিখতে চাইনি, তবুও আজ লিখলাম...
অ্যাডভোকেট ইকবাল-বিন-বাশার
১৭ জুন, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


 



 



প্রতি বছর আমার নিজের জন্মদিন, স্ত্রীর জন্মদিন ও দুটি সন্তানের জন্মদিনের বাইরে আরেকটি জন্মদিন আমাকে ভীষণ আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত করে, সে দিনটি হচ্ছে ১৭ জুন। কারণ, ১৯৯৪ সালের এইদিনেই সাপ্তাহিক চাঁদপুর কণ্ঠ জন্মলাভ করে তথা প্রকাশের আলোয় নিজের অস্তিত্ব জানান দেয়। সৌভাগ্যক্রমে এই চাঁদপুর কণ্ঠই ১৯৯৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর চাঁদপুরের প্রথম দৈনিক হিসেবে তার নবযাত্রা শুরু করে এবং জেলার ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়।



আজ চাঁদপুর কণ্ঠের ২৩ বছরপূর্তি ও ২৪তম জন্মদিনে এসে পেছন ফিরে ও আশপাশে তাকিয়ে দেখি, আরে এতো কেবল কোনো সংবাদপত্র প্রকাশনা সংস্থা নয়, যেনো সম্পাদক গড়ার প্রতিষ্ঠান। যাদেরকে নিয়ে সাপ্তাহিক ও দৈনিক হিসেবে চাঁদপুর কণ্ঠের দুটি স্বতন্ত্র যাত্রা শুরু করেছিলাম, সেই পুরানোদের মধ্যে দুজনই (কাজী শাহাদাত ও মির্জা জাকির) শুধু আমার সাথে আছেন, আর অন্যরা সবাই চাঁদপুর কণ্ঠ ছেড়ে তাদের নূতন কর্মস্থলে যোগদান করেছেন এবং কাজ করছেন। এঁদের মধ্যে শতকরা ৯৯ জনই সংবাদপত্র জগতে কাজ করছেন। কেউ প্রতিষ্ঠাতা/সম্পাদক/প্রকাশক হয়েছেন, কেউ প্রধান সম্পাদক/ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক/যুগ্ম সম্পাদক/নির্বাহী সম্পাদক/উপদেষ্টা সম্পাদক কিংবা বার্তা সম্পাদক হয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, চাঁদপুর কণ্ঠের উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত সংবাদ প্রতিনিধিগণের অধিকাংশই সাপ্তাহিক ও দৈনিকের সম্পাদক, প্রকাশক, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকসহ অন্যান্য পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। কেউ কেউ জাতীয় দৈনিক কিংবা অনলাইন মিডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও অধিষ্ঠিত হয়েছেন। সাংবাদিকতাকে যে সম্মানজনক পেশা হিসেবে গ্রহণ করা যায় চাঁদপুর কণ্ঠে কর্মরত আমার উপরোক্ত সকল সাবেক সহকর্মী ও সহযোদ্ধার বর্তমান অবস্থানে তা প্রমাণিত হয়। বস্তুত এতেই চাঁদপুর কণ্ঠের জন্মদানে আমার সার্থকতা খুঁজে পাই, আত্মতৃপ্তিতে ভুগি এবং গর্ববোধ করি।



চাঁদপুর কণ্ঠ বিগত ২৩ বছরে শুধু সম্পাদকই গড়েনি অসংখ্য প্রতিভাবান লেখক, আলোকচিত্রী ও প্রতিবেদকও গড়েছে। যাঁরা আজ স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে এবং বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। অনেকের এক বা একাধিক প্রকাশনাও রয়েছে এবং কারো কারোটা প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। চাঁদপুর কণ্ঠ চাঁদপুরের শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে এবং সমাজসেবায় অসামান্য অবদান রেখেছে। ডুবন্ত তরীর মতো অবস্থা থেকে চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজকে পরিত্রাণ দিতে চাঁদপুর কণ্ঠ ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছে। চাঁদপুর কণ্ঠের প্রচার-সহযোগিতাসহ অন্যান্য আনুকূল্য নিয়ে আমি নিজে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়েছি, সংস্কার করেছি ও ব্যাপক পরিবর্তনে নূতন মাত্রা যোগ দেয়ার চেষ্টা করেছি। বছরের পর বছর চাঁদপুর কণ্ঠের পক্ষ থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীদের এবং সমাজের সর্বস্তরের গুণীজনকে ব্যাপক সংবর্ধনা প্রদান করেছি। এসব সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি, সচিব, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার, জাতীয় পত্রিকার সম্পাদকম-লীর সভাপতিসহ অনেক দেশবরেণ্য ব্যক্তির আগমন ঘটেছে। সংস্কৃতি অঙ্গনে চাঁদপুর কণ্ঠের সর্বাত্মক আনুকূল্য নিয়ে আমি নিজে আহ্বায়ক হিসেবে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মেলন এই চাঁদপুরে সর্বস্তরের সুধী ও সংস্কৃতিসেবীর আন্তরিক সহযোগিতায় সুন্দর ও শতভাগ সাফল্যে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি। একইভাবে একটি জাতীয় বিতর্ক উৎসবও করেছি। গত ৯ বছর ধরে দেশের খ্যাতনামা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্সের টাইটেল স্পন্সরে চাঁদপুর কণ্ঠ পুরো জেলাব্যাপী হাইস্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজন করে চলছে বিতর্ক প্রতিযোগিতা। এ বিতর্ককে কেন্দ্র করে চাঁদপুর কণ্ঠ একটি বিতর্ক সংগঠন গঠন করেছে, যার নাম চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশন-সিকেডিএফ (রেজিস্ট্রেশন নং-চাঁদ/৭৩৭/২০১৫)। চাঁদপুর কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক কাজী শাহাদাত বিগত ৮ বছর চতুরঙ্গের ইলিশ উৎসবের আহ্বায়ক হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া চিরঞ্জীব '৭১ নামে ৮টি চিত্র প্রদর্শনী, ২টি ছড়া উৎসব আয়োজনেও মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি বেসরকারি প্রথম ব্যক্তি হিসেবে সাহিত্য একাডেমী, চাঁদপুর-এর মহাপরিচালক নির্বাচিত হন ও চলতি ২০১৭ সালের ৬ মে চাঁদপুরের ইতিহাসে প্রথম অনুষ্ঠিত জাতীয় মানের সাহিত্য সম্মেলনের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। যেখানে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালকসহ দেশের খ্যাতিমান সাহিত্যিকদের সম্মিলন ঘটেছে। এছাড়া চাঁদপুরের সর্ববৃহৎ অনুষ্ঠান মাসব্যাপী বিজয় মেলার ক'বছরের আয়োজন, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উৎসব, ক'টি নাট্যোৎসব, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী আয়োজনে আমি নিজে কখনো প্রধান সংগঠক বা উদ্যোক্তা হিসেবে থেকেছি কিংবা উপদেষ্টা বা শীর্ষস্থানীয় পদে সংশ্লিষ্ট হয়ে চাঁদপুর কণ্ঠ থেকে সম্ভাব্য সকল প্রকার সহযোগিতা প্রদান করেছি। চাঁদপুর কণ্ঠ চাঁদপুরের কতোটি সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমে গত ২৩ বছর ধরে মিডিয়া পার্টনার হয়েছে তার হিসেব বের করাটা অনেক সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।



১৯৯৯ সালের সবচে' আলোচিত ঘটনা ছিলো ঢাকা-চাঁদপুর দূরপাল্লার সাঁতার। তৎকালীন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রমের সর্বাত্মক সহযোগিতায় এবং ফরিদগঞ্জের ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভঁূইয়া এমপি ও লায়ন্স ক্লাব অব চাঁদপুর রূপালীর অর্থানুকূল্যে, আর চাঁদপুর কণ্ঠের পুরো পরিবারসহ চাঁদপুরের সাঁতারু ও সাঁতারপ্রেমীদের সহযোগিতায় আমি আহ্বায়ক হিসেবে ঐতিহাসিক এই সাঁতার সম্পন্ন করতে সক্ষম হই। এছাড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রকাশ্য বিরোধিতার মুখেও চাঁদপুর কণ্ঠে ব্যাপক লেখালেখির কারণে বিশ্বখ্যাত সাঁতারু অরুণ নন্দীর চেষ্টা-তদবিরের ফসল হিসেবে চাঁদপুর আউটার স্টেডিয়ামে সুইমিং পুল নির্মিত হয় এবং পরবর্তীতে অরুণ নন্দীর নামে এই সুইমিং পুলের নামকরণ করা হয়। আর আমি চাঁদপর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সেক্রেটারী ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অকৃপণভাবে পেয়েছি চাঁদপুর কণ্ঠ পরিবারের আনুকূল্য, যাতে চাঁদপুরের ক্রীড়া ক্ষেত্রে আমি ইতিবাচক অনেক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছি।



সমাজসেবায়ও চাঁদপুর কণ্ঠ অনেক অবদান রেখেছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে : অসুস্থ মেধাবী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা, লেখক, সংগীত শিল্পীর চিকিৎসাসেবায় চাঁদপুর কণ্ঠ বারবার তহবিল গঠন করেছে এবং যে তহবিল দ্বারা তাদের অধিকাংশেরই দেশে-বিদেশে সফল চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে। অনেক প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ ব্যক্তির জন্যে মানবিক সহায়তা চেয়েও চাঁদপুর কণ্ঠ আশাব্যঞ্জক সাড়া পেয়েছে এবং উপকারপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা চাঁদপুর কণ্ঠের জন্যে প্রাণ খুলে দোয়া করেছে। বলা দরকার, অনেক সম্পত্তিগত বিরোধ ও সামাজিক সমস্যাও চাঁদপুর কণ্ঠের লেখালেখিতে সঠিক সমাধানে পেঁৗছেছে। চাঞ্চল্যকর মিলন রাণী হত্যাকে নিয়ে তো চাঁদপুর কণ্ঠ রীতিমত সামাজিক আন্দোলনই গড়ে তোলে এবং এ সংক্রান্ত মামলা যথার্থ গতিশীলতায় রায়ের দিকে অগ্রসর হয়।



এ কথা আমাকে অকপটে বলতেই হবে, চাঁদপুর কণ্ঠের সম্পাদক হয়েছি বলেই আমি চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি হতে পেরেছি এবং তিন মেয়াদে (২০০২ থেকে ২০০৭ খ্রিঃ) ৬ বছর দায়িত্ব পালন করেছি। আমার সময়েই প্রেসক্লাবের বর্তমান বহুতল ভবনের নিচতলার মূল কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছি, যে কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আমার আরো ভালো লাগে এজন্যে যে, চাঁদপুর কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক কাজী শাহাদাত ২০১২ সালে যখন প্রেসক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পান, তখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে এককালীন ৯০ লাখ টাকা অনুদান পাওয়া যায়, যাতে চার তলা ফাউন্ডেশনে ৩৩০০ বর্গফুট বর্তমান ভবনের তিনতলা সম্পন্ন হয় এবং নির্মাণ শেষে প্রধানমন্ত্রীই ভবনটি উদ্বোধন করেন। যে ভবন পরবর্তীতে আরো সরকারি-বেসরকারি অর্থানুকূল্যে উন্নয়ন-সমৃদ্ধ হয় এবং চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ও আধুনিক কমিউনিটি সেন্টার চালু করার মাধ্যমে প্রেসক্লাবের স্থায়ী আয় বৃদ্ধির পথ সুগম হয়।



আজ আর নয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাঁদপুর কণ্ঠের আরো অবদানের কথা বেঁচে থাকলে পরে লিখবো। আজকের ২৪তম জন্মদিনের শুভলগ্নে চাঁদপুর কণ্ঠের পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাচ্ছি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অনেক কৃতজ্ঞতা। সকলের উত্তরোত্তর আরো সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৩০৩৯৫
পুরোন সংখ্যা