চাঁদপুর। শনিবার ১৭ জুন ২০১৭। ৩ আষাঢ় জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪। ২১ রমজান ১৪৩৮
ckdf

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৮-সূরা কাসাস 


৮৮ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৫৮। কত জনপদকে আমি ধ্বংস করিয়াছি যাহার বাসিন্দারা নিজেদের ভোগ-সম্পদের দম্ভ করিত। এইগুলিই তো উহাদের ঘরবাড়ী; উহাদের পর এইগুলিতে লোকজন সামান্যই বসবাস করিয়াছে। আর আমি তো চূড়ান্ত মালিকানার অধিকারী।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


দেশের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ আইন।


                -জাস্টিনিয়ান।


 


যার হৃদয়ে বিন্দু পরিমাণ অহঙ্কার আছে সে কখনো বেহেস্তে প্রবেশ করতে পারবে না। 


 

সম্পাদনা : লেখক ও সম্পাদনাকারীর ভূমিকা
কামরুল হাসান শায়ক
১৭ জুন, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


পা-ুলিপি প্রস্তুত করার পরবর্তী ধাপ সম্পাদনা করা। পা-ুলিপির প্রাথমিক সম্পাদনার কাজটি লেখককেই করতে হয়। বিশেষভাবে প্রকাশনা সংস্থা কর্তৃক প্রণীত নীতিমালা কিংবা স্টাইল শীট অথবা প্রকাশনীর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নীতিমালা অনুযায়ী লেখককে পা-ুলিপি পুনঃসম্পাদনা করতে অনুরোধ করা হয়। এসবের পরেও কিছু ভুলভ্রান্তি থেকে যায় যেগুলো সংশোধনীর জন্য পেশাদার সম্পাদনাকারী প্রয়োজন। একটা পা-ুলিপিকে সর্বোচ্চ মনন ও নান্দনিকভাবে উপস্থাপন করার কোনো বিকল্প নেই। আর এজন্যই প্রথমেই প্রয়োজন শুদ্ধভাবে, ব্যাকরণ-বানান ভুল বর্জিত লেখা প্রস্তুত। সম্পাদনার মূল বিষয় হিসেবে বানান, ব্যাকরণ, যতিচিহ্নের ব্যবহার বা শব্দ চয়নের মত শব্দগুলো বারবার ব্যবহৃত হয়েছে এ প্রবন্ধে। পা-ুলিপি সম্পাদনায় লেখক ও সম্পাদনাকারীর ভূমিকায় পর্যাপ্ত মিল থাকা সত্ত্বেও বেশ বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়। এ প্রবন্ধের মূল আলোচ্য বিষয় লেখক ও সম্পাদনাকারীর ভূমিকা হলেও সম্পাদনা ও সম্পাদনাকারীর প্রকারভেদ, সম্পাদনার বিষয়বস্তুও আলোচিত হবে।



 



সম্পাদনার প্রকারভেদ :



সম্পাদনা মূলত দুই প্রকার। একটি মেকানিক্যাল সম্পাদনা, আরেকটি প্রকৃত বা হাতে করা সম্পাদনা। একটি পা-ুলিপিকে নির্দিষ্ট শৈলী বা কাঠামোর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করে তোলা হচ্ছে মেকানিক্যাল সম্পাদনা। এর সাথে জড়িত আছে টেঙ্ট, টেবিল, চিত্রকর্মসহ যাবতীয় কিছু। স্টাইল বা শৈলী বলতে এখানে বানান, হাইফেনের প্রয়োগ, শব্দ বর্জনসহ যতিচিহ্নের ব্যবহার, অর্থাৎ দাড়ি-কমার সঠিক প্রয়োগ, বাক্যের মধ্যকার বাক্যাংশ, উদ্ধৃতি চিহ্নসহ সংখ্যায়ন প্রভৃতি বোঝানো হয়েছে। ব্যাকরণের দিকে নজর রাখা, বাক্যপ্রকরণ ও শব্দ ব্যবহারের দিকে নজর রাখা প্রভৃতিও মেকনিক্যাল সম্পাদনার অন্তর্ভুক্ত। এ জাতীয় নিয়ম-কানুন যে কোনো প্রকাশনা শিল্প বা জ্ঞানের শাখার নিয়ম-কানুনের সাথে অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া যায়। জার্নাল সম্পাদনাকারীগণ নির্দিষ্ট জার্নালের প্রতিষ্ঠিত কাঠামো ও শৈলী অনুসরণ করে থাকেন। ধারাবাহিক বই বা একাধিক খ-ের বইয়ের ক্ষেত্রেও একই স্টাইল অনুসরণ করা জরুরি। একাধিক লেখক কর্তৃক প্রণীত বইয়ের প্রতিটি অধ্যায়ও একই নিয়মে সম্পাদনা করা প্রয়োজন। যে কোনো কাজের অথবা মাঝে মধ্যে ব্যতিক্রমী কাজের স্টাইল কেমন হবে, তা সম্পাদনা শুরু করার আগে লেখক, সম্পাদনাকারী ও প্রকাশককে বসে আলোচনার মাধ্যমে অবশ্যই নিশ্চিত করে নিতে হবে।



এছাড়াও আরেক ধরণের সম্পাদনা রয়েছে, যেটাকে বলা হয় প্রকৃত বা হাতে করা সম্পাদনা। লেখার স্টাইল বা শৈলীর উন্নতি ঘটাতে বা অস্পষ্টতা দূর করতে, বাক্য নতুন করে সংগঠিত করতে, টেবিলগুলোকে নতুনভাবে বিন্যাস করতে এবং অন্যান্য সংশোধনমূলক কাজ সম্পন্ন করা প্রকৃত সম্পাদনার আওতায় পড়ে। প্রকাশক আর সম্পাদনাকারীর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত সাধারণভাবে কোনো সম্পাদনার কাজে হাত দেয়া উচিত না। বিশেষ করে বইয়ের দৈর্ঘ্যে বড় ধরণের কোনো পরিবর্তন আনার প্রয়োজন দেখা দিলে লেখকের উচিত আলোচনা করে নেওয়া এবং প্রকাশকের উচিত আসল সম্পাদনার কাজে হাত দেয়ার আগে বইয়ের বর্ধিত দৈর্ঘ্য অনুযায়ী একটা স্যাম্পল ডামি তৈরি করে লেখককে দেখিয়ে অনুমোদন করিয়ে নেয়া। অবশ্য জার্নালের পা-ুলিপির সম্পাদনাকারীগণের অপিরবর্তনীয় টাইট শিডিউলের মধ্যে কাজ করতে হয়। তাই প্রতিষ্ঠানের সমস্যা, উপস্থাপনা, বাচনিক ভঙ্গি ইত্যাদি নিয়ে আগেই লেখকদের সাথে আলোচনা না করে নিলে তাদেরকে সেসব ছাড়াই সম্পাদনার কাজ শুরু করে দিতে হতে পারে।



একজন অভিজ্ঞ সম্পাদনাকারী লেখায় ভিন্ন বা নতুন কিছুর ব্যবহার খুঁজে পেলে তা উপেক্ষা না করে বরং তা পাঠকের কাছে আগ্রহ উৎপাদনকারী হিসেবে তুলে ধরবেন। একজন বিচক্ষণ সম্পাদনাকারী সুকৌশলে পুরো লেখার সামঞ্জস্য বজায় রেখে অপ্রাসঙ্গিক বা অবান্তর লেখা সরিয়ে বা বদলে দিতে পারেন। লেখকের নিজস্ব স্টাইল বা শৈলী অতিরঞ্জিত বা নিরস হোক, সম্পাদনাকারীগণের তার প্রতি অবশ্যই শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। প্রতিটি প্রকাশনা হাউজের নিজস্ব স্টাইল থাকে, যা জেনে নেয়া পা-ুলিপি সম্পাদনাকারীগণের একান্ত কর্তব্য।



 



সম্পাদনাকারীর প্রকারভেদ :



পত্র-পত্রিকায় বিভিন্ন ধরণের সম্পাদনাকারী থাকেন। যেমন: সম্পাদক বা প্রধান সম্পাদক, যিনি পত্রিকা বা ম্যাগজিনের বিষয়বস্তু, পণ্যের অবয়ব, প্রকৃতি ও গল্প-কবিতার সংখ্যা নির্ধারণ ও সম্পাদনা করে থাকেন। বিভাগীয় সম্পাদক, যিনি জ্যেষ্ঠ কোন সম্পাদকের তদারকিতে কাজ করেন। তিনি লেখকদের নির্দিষ্ট লেখনীর নির্দেশনা দেন, এমনকি মাঝেমাঝে নিজেও লিখে থাকেন। পত্রিকার বিশেষ একটি বিভাগ বা পৃষ্ঠার দায়িত্বে থাকেন। প্রয়োজনে শিরোনাম লিখেন। আবার এসবের জন্য কাজ অন্যদের মাঝে বণ্টনও করে থাকেন। সম্পাদনাকারী প্রবন্ধের তথ্যের জন্য দায়ী থাকেন এবং হাউজ স্টাইল নীতিমালা অনুযায়ী প্রবন্ধ লেখা হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করেন। এছাড়াও বানান, ব্যাকরণ ও যতিচিহ্ন সম্পাদনা করেন। কোন শব্দ পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে প্রস্তাব দেন।



আবার একইভাবে প্রকাশনা সংস্থাতে বিভিন্ন ধরণের সম্পাদনাকারী দেখা যায়। অধিগ্রহণ সম্পাদনাকারী, প্রকাশকের জন্য লাভজনক হবে এমন লেখক খুঁজে বের করেন এবং তাঁদের উন্নয়নে কাজ করেন। নতুন লেখক আনার ক্ষেত্রে রীতিমত যুদ্ধে নামতে হয় তাকে, কারণ অন্য সম্পাদনাকারীগণও একই কাজ করছেন। লেখক ও এজেন্টগণ সাধারণত প্রাথমিকভাবে অধিগ্রহণ সম্পাদনাকারীর নিকট পা-ুলিপি জমা দেন। ফিকশনের ক্ষেত্রে অধিগ্রহণ সম্পাদনাকারী প্রকাশনীর পা-ুলিপিসমূহ গ্রহণ করে গল্প বা কাহিনীতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার পরামর্শ দেন। এক্ষেত্রে প্রকাশনী ও প্রকাশকের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য প্রাধান্য পায়। মানোন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদনাকারী লেখকের ভাবনা বা প্রাথমিক খসড়া থেকে বইতে রূপান্তরিত করতে লেখককে সহায়তা করেন। বইটি প্রকাশক ও কাঙ্ক্ষিত পাঠকের চাহিদা মেটাতে সক্ষম কি না নিশ্চিত করেন। যে কোন প্রকার খসড়ার কাজে লেখককে সহায়তা করেন। বিষয় নির্ধারণে লেখককে নির্দেশনা দেন, অথবা বইটি থেকে কোন কোন অংশ বাদ দিতে হবে, সে ব্যাপারে পরামর্শ দেন। পা-ুলিপি সম্পাদনাকারী নিশ্চিত করেন, বইটি হাউজ স্টাইলের স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী হচ্ছে কি না, ব্যাকরণ, বানান ও যতিচিহ্নের ব্যবহার সংশোধন করেন। তথ্য যাচাই করেন এবং প্রয়োজনে ভিন্ন শব্দ ব্যবহারের পরামর্শ দেন। শিরোনাম, পরিসংখ্যান, গ্রাফের তথ্য এবং পাদটীকা যাচাই করেন। ফিকশনের ক্ষেত্রে পা-ুলিপি সম্পাদনাকারী দেখেন বইটি সঙ্গতিপূর্ণ ও যৌক্তিক কি না। এবং পড়ার সময় পাঠকের চাহিদা মাথায় রাখতে হয়। প্রুফরিডারও অনেকক্ষেত্রে একজন সম্পাদনাকারী হিসেবেই বিবেচিত হোন। বই প্রকাশের পূর্বে প্রুফরিডারই শেষ ব্যক্তি যিনি পা-ুলিপি যাচাই করেন। গতানুগতিক চিন্তায় প্রুফরিডার সম্পাদনাকারী হিসেবে বিবেচিত হন না, কিন্তু যাচাই করার দায়িত্বের কারণে প্রুফরিডার সম্পাদনাকারীর ভূমিকা পালন করতে পারেন। পা-ুলিপি সম্পাদনাকারী কোনো দৃশ্য বা ঘটনা সরানো বা ফেলে দেওয়ার, চরিত্র বাদ দেওয়া বা পরিবর্তনের, দৃষ্টিকোণ পাল্টানোর অথবা পা-ুলিপিতে অন্যান্য বৃহৎ পরিবর্তনের পরামর্শ দেন। এছাড়াও রয়েছে ফ্রিল্যান্স সম্পাদনাকারী। তিনি নিজেই সম্পাদনা করেন। তিনি মূলত প্রকাশক কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন, যে পা-ুলিপিটি প্রকাশের জন্য প্রস্তুত করে দেন। ফ্রিল্যান্স পা-ুলিপি সম্পাদনাকারী প্রাথমিকভাবে বানান, ব্যাকরণ, যতিচিহ্ন, তথ্য যাচাই ও শব্দ চয়ন নিয়ে কাজ করেন। উন্নয়নমূলক সম্পাদনাকারী চূড়ান্ত খসড়ার মাধ্যমে ভাবনা-স্তর থেকেই লেখককে সহায়তা করেন। তিনি বিষয়বস্তুর পরামর্শ দিতে পারেন, গবেষণায় সাহায্য, তথ্য যাচাই এবং পা-ুলিপির কাঠামো পরিকল্পনায় সহযোগিতা করেন। লেখকের সাথে ধারাবাহিকভাবে খসড়া নিয়ে কাজ করেন। শব্দ ও অর্থের পাশাপাশি তিনি পা-ুলিপির কাঠামোর দিকেও নজর দেন।



স্বতন্ত্র বা বাস্তব সম্পাদনাকারী ফিকশনের উপাদান, কাহিনী, চরিত্রায়ন, সংলাপ, দৃশ্যের ক্রম, দৃষ্টিকোণ, বাচন, ফিকশনের স্থান ও সময়, শব্দ চয়ন, বাক্য গঠন ও পদবিন্যাস এবং প্রবহমানতা-এরকম পা-ুলিপিকে শক্তিশালী করার উপাদানের উপর গুরুত্বারোপ করার মাধ্যমে লেখককে ফিকশনের পা-ুলিপি উন্নত করতে সাহায্য করেন। এক বিভাগ থেকে আরেক বিভাগ যৌক্তিকভাবে সঞ্চালিত হচ্ছে কি না এবং সঠিক পরিমাণ তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে কি না নিশ্চিত করার মাধ্যমে নন-ফিকশনের লেখককে সাহায্য করেন। উপসংহার সুন্দর ও সাবলীল হয়েছে ও আগে আলোচিত বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত রেখে লেখা হয়েছে কি না নিশ্চিত করেন। স্বতন্ত্র বা বাস্তব সম্পাদনাকারী একেবারে প্রাথমিক স্তর থেকে লেখকের সাথে কাজ করেন না, বরং লেখকের কয়েকবার খসড়া সম্পূর্ণ করার পরেই তিনি হাত দেন। দুর্বলতা খুঁজে সেসব অংশ শক্তিশালী করার পরামর্শ দেন। বৃহৎ চিত্র ও ব্যাকরণ, বানান ও যতিচিহ্নের ব্যবহার সহ পা-ুলিপি চূড়ান্তভাবে বিস্তারিত নিরীক্ষা করে দেখেন।



নেপথ্য লেখকের বিষয়টিও সম্পাদনা সংশ্লিষ্ট আলোচনায় প্রাসঙ্গিক। নেপথ্য লেখক মূলত লেখকের পরামর্শ, নেতৃত্ব ও গবেষণা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ পা-ুলিপি লিখেন। তিনিও একপ্রকার সম্পাদনাকারী। কারণ মূল লেখকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি শুধু লিখেনই না, বরং একই সাথে সম্পাদনার কাজটিও করেন।



সম্পাদনার বিষয়বস্তু :



নন-ফিকশন ও ফিকশনের সম্পাদনাকারীর সম্পাদনার বিষয়বিস্তুতে কিছুটা ভিন্নতা আছে। তাই, সম্পাদনার উপাদানসমূহকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়। প্রথমত, নন-ফিকশনের সম্পাদনাকারী নন-ফিকশন পা-ুলিপি সম্পাদনা করে থাকেন।



টেকনিক্যাল বিষয় যেমন : বানান ও যতিচিহ্ন, উপাত্ত ও তথ্য যাচাই, পাদটীকা, নির্ঘণ্ট সংশোধনী ও পরামর্শের পাশাপাশি নন-ফিকশনের সম্পাদনাকারী পা-ুলিপি বিন্যাস করতে লেখককে সাহায্য করেন-প্রভাব, স্পষ্টতা ও পাঠযোগ্যতার জন্য। পা-ুলিপির প্রবহমানতা ও ছন্দ-তাল ঠিক করেন। উপসংহার পর্যাপ্ত হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করেন। বাক্য গঠনে বৈচিত্র্য খোঁজেন এবং আর কোথায় বৈচিত্র্য প্রয়োজন তার পরামর্শ দেন।



জ্ঞান ও যথার্থতার উপর ভিত্তি করে কাঙ্ক্ষিত পাঠকের জন্য উপযুক্ত শব্দচয়ন নিশ্চিত করেন। বিষয়বস্তুর সাথে উপস্থাপন শৈলীর মিল আছে কি না যাচাই করেন। এছাড়াও তিনি এমন সব সংযোজক অব্যয় খোঁজেন যেগুলোর মাধ্যমে পুরো পা-ুলিপি খ-গুলোর মাঝে মিল খোঁজেন।



দ্বিতীয়ত, ফিকশনের সম্পাদনাকারী সম্পাদনা করেন ফিকশন বা সাহিত্যের পা-ুলিপি। ব্যাকরণ, বানান ও যতিচিহ্ন সংশোধনীর বাইরে গল্পের দিকেও নজর দেন ফিকশনের সম্পাদনাকারী। উপন্যাস বা ক্ষুদ্র উপন্যাসের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী কাহিনী বা প্লট পর্যাপ্ত হয়েছে কি না নিশ্চিত করতে হবে। প্লটে অসঙ্গতি থাকলে সেটা খুঁজে বের করবেন। চরিত্রগুলো একে অপরের থেকে আলাদা কি না এবং তারা তাদের নিজস্ব সত্তা নিয়ে উপস্থিত হয়েছে কি না নিশ্চিত করতে হবে। বিনোদন ও যুক্তির সমন্বয় হয়েছে কি না, দেখতে হবে। চরিত্র ও সাহিত্য বিভাগের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ শব্দ চয়নে পরামর্শ দেন। সেটিং ও সংলাপে, ঘটনা ও প্রদর্শনীতে সমন্বয় খোঁজেন। প্রতিটি অংশ বা অধ্যায়ের শেষেও পাঠক লেগে আছেন কি না, সেটাও যাচাই করেন। দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা চরিত্রের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ক্রিয়ার ব্যবহারেও পরিবর্তন আনতে বলতে পারেন। কোথায় কোথায় লেখকের মতামত বা পূর্বচিন্তা বা ধারণা লেখা হয়েছে, সেগুলো নোট করাও সম্পাদনাকারীর দায়িত্ব। অস্পষ্ট অনুচ্ছেদ বা বিশেষণের অতিরিক্ত ব্যবহার নোট করেন। চরিত্রগুলোকে লেখক পর্যাপ্ত প্রণোদনা বা প্রেরণা দিয়েছেন কি না তা সম্পাদনাকারীকে নিশ্চিত করতে হবে। গল্পের সঙ্কট ও যৌক্তিকতা যাচাই করেন। তিনি লেখককে সাহায্য করেন প্রধান চরিত্রকে কঠিনতম অবস্থানে নিয়ে যেতে এবং তারপরে পরিণয়ের দিকে আনতে। একই শব্দের বহুল ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট জীর্ণতা বা ঘিঞ্জি অবস্থা ঝেড়ে ফেলেন। এছাড়াও গল্পের সমাপ্তি সূচনার চাহিদা পূরণ করতে পারছে কি না নিশ্চিত করবেন।



নন-ফিকশন ও ফিকশনের সম্পাদনাকারী উভয়েই পাঠকের দৃষ্টিতে পা-ুলিপি পড়েন। তারা দেখে কোথায় কোন্ অংশ খাপ খাচ্ছে না। কোনো কিছু বাদ পড়েছে কি না, তাও দেখেন। এছাড়াও কোনো শূন্যতা দেখলে সেখানে উপযুক্ত কী বসানো যেতে পারে, সে ব্যাপারেও পরামর্শ দেন।



 



সম্পাদনায় লেখকের ভূমিকা :



পা-ুলিপি সম্পাদনায় লেখকের প্রধান দায়িত্ব হলো হাউজ স্টাইল অনুযায়ী পা-ুলিপি পুনরায় সজ্জিত ও বিন্যস্ত করা। স্টাইল শীটের মাধ্যমে প্রকাশক আদর্শ নিয়মের পাশাপাশি প্রকাশনা সংস্থার নিজস্ব নীতিমালাও সংযোজন করে দেন। ফলে লেখকের এই অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফলে প্রকাশনার কাজ অনেকটা এগিয়ে যায়। এছাড়াও একজন সম্পাদনাকারীকে প্রতিটি উপাদান মনোযোগের সাথে পড়ার পরে সম্পাদনা করতে বেশ সময় লাগবে। লেখক যেহেতু তার নিজস্ব চিন্তাধারা প্রয়োগ করে রচনা করেছেন, সেদিক দিয়ে পার্থক্য থাকাটাও স্বাভাবিক। কিন্তু পার্থক্যের পরিমাণটা বেশি হয়ে যায়। এজন্য স্টাইল অনুসরণ করে লেখক নিজেই যদি প্রাথমিক সম্পাদনাটা সেরে নেন, তাহলে সুবিধা হয়। এটা লেখকের দায়িত্বও বটে। নিচের চিত্রে নমুনা স্টাইল শীট দেখানো হলো।



 



শব্দ / টার্ম স্টাইল



বই, পত্রিকা বা জার্নাল ইটালিক



বয়স, ওজন, সংখ্যা বানান করে



তারিখ, সাল সংখ্যায় লেখা



প্রবন্ধ, গল্প বা কবিতার শিরোনাম ____'চিহ্ন ব্যবহার



উক্তি, উদ্ধৃতি ____" চিহ্ন ব্যবহার



অধ্যায় শিরোনাম বোল্ডফেস, ফন্ট সাইজ ২০



প্রথম সারির উপশিরোনাম বোল্ডফেস ও আন্ডারলাইন, ফন্ট সাইজ ১৫



দ্বিতীয় সারির উপশিরোনাম বোল্ডফেস ও বুলেট পয়েন্ট, ফন্ট সাইজ ১৩



 



চিত্র : নমুনা স্টাইল শীট



স্টাইল শীটে পা-ুলিপির কোন্ অংশ কিভাবে টাইপ করতে হবে, কিংবা কোথায় কোন্ ফন্ট, মুদ্রাক্ষর বা যতিচিহ্ন বসবে, তা স্পষ্ট করে বলা আছে। আবার প্রবন্ধ বা গবেষণাধর্মী রচনায় বিভিন্ন স্তরের শিরোনাম থাকে। কোন্ শিরোনামের ফন্ট কত হবে, সাধারণ মুদ্রাক্ষরের আকার কত হবে, কোন্ ধরণের উদ্ধৃতি কমা ব্যবহার করা হবে অথবা সংখ্যাবাচক শব্দ সংখ্যা নাকি বানান করে লিখতে হবে, এসব নির্দেশনা দেয়া থাকে। স্টাইল শীট যে আবশ্যিকভাবে উপরের চিত্রের মতই হবে, এমনটি না। প্রকাশনা সংস্থার নিজস্ব নীতিমালার উপর ভিত্তি করে স্টাইল শীটে ভিন্নতা থাকতে পারে। তাছাড়া একেক প্রকাশনী একেক ধরণের নিয়ম অনুসরণ করে থাকে। স্টাইল শীটের পাশাপাশি প্রকাশনীর নিজস্ব ওয়েবসাইটেও কিছু নীতিমালা বর্ণিত থাকে। লেখককে সেগুলোও অনুসরণ করতে হয়।



গবেষণাধর্মী লেখা বা প্রবন্ধে প্রায়শই নির্ঘণ্ট ও গ্রন্থপুঞ্জের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। নির্ঘণ্ট প্রস্তুত করা লেখকের জন্য কঠিন। এটা মূলত পেশাজীবী নির্ঘণ্টকার প্রস্তুত করে থাকেন। তবে কোন্ কোন্ বিষয়সমূহ নির্ঘণ্টে উল্লেখ করা যেতে পারে, সেগুলো লেখক এক নিমিষেই বলে দিতে পারেন। যদিও নির্ঘণ্ট বইয়ের পৃষ্ঠাবিন্যাসের পরে প্রস্তুত করা হয়, বিষয়সমূহ আগে থেকেই প্রস্তুত করে রাখা যায়। গ্রন্থপুঞ্জ সম্পাদনায় লেখকই সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করতে পারে। গ্রন্থপুঞ্জে দুই ধরণের সম্পাদনার প্রয়োজন হয়। প্রথমত উৎস যাচাই। যে উৎস থেকে তথ্যটি নেওয়া হয়েছে, কোন প্রকাশনী বইটি প্রকাশ করেছিল, কত সালে প্রথম প্রকাশ ও (একাধিক সংস্করণের ক্ষেত্রে) কোন সংস্করণ থেকে তথ্য নেয়া হয়েছে ও কোন্ পৃষ্ঠা বা পৃষ্ঠাসমূহ থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য লেখকের জন্য খুঁজে বের করা সহজ। এবং যেহেতু লেখক নিজেই তথ্যসূত্র ব্যবহার করে লিখেছেন, তিনিই দ্রুত খুঁজে বের করতে পারবেন এবং সত্যতা যাচাই করতে পারবেন। সম্পাদনার দ্বিতীয় বিষয়টি হলো কোন্ শৈলী বা স্টাইলে বিন্যস্ত হবে তা নির্ধারণ করা। সাধারণত এপিএ ও এমএলএ ফরম্যাটে গ্রন্থপুঞ্জ বিন্যাস করতে দেখা যায়। বর্তমানে বাংলাদেশে সাধারণত এমএলএ ফরম্যাটের ৭ম সংস্করণ অনুসরণ করা হয়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, অধিকাংশ বইয়ের গ্রন্থপুঞ্জে একগাদা তথ্য পুঞ্জীভূত থাকে, অবিন্যস্তভাবে। সেগুলো কোনো ফরম্যাট অনুসরণ না করেই করা হয়। এ বিষয়গুলো লেখক ও সম্পাদনাকারী উভয়কেই গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে।



বিভিন্ন ধরণের টীকা যেমন, পাদটীকা, পার্শ্বটীকা, প্রান্তটীকা ইত্যাদি যাচাই করাও সম্পাদনার অংশ। এবং এ কাজটি লেখক সবচেয়ে ভালো করতে পারেন। প্রবন্ধ লেখার সময়েই তার টীকাগুলো প্রায় নির্দিষ্ট করা হয়, এছাড়াও দ্ব্যর্থবোধকতা এড়াতে প্রবন্ধ লেখার পরেও যোগ করা হয়। এজন্য টীকার ব্যাখ্যা বা তথ্য যাচাই করা লেখকের জন্য সহজ।



টেবিল ও ইলাস্ট্রেশনের সঠিক বিন্যাস সম্পাদনাতেও লেখক সহায়তা করতে পারেন। টেবিল ও চিত্র লেখক দুইভাবে বিন্যাস করে থাকেন। প্রথমত, লেখার যেখানেই টেবিল বা ইলাস্ট্রেশন প্রয়োজন, সেখানেই বিন্যাস করে রাখেন। তবে অধিকাংশ সময়েই লেখক ইলাস্ট্রেশনের কাজ নিজে করেন না বরং পেশাজীবী কোনো ইলাস্ট্রেটর সে কাজটি করে দেন, এক্ষেত্রে কোন্ স্থানে কোন্ ধরণের ইলাস্ট্রেশন বা টেবিল বসবে, সেটা টেঙ্টের মাঝে লিখতে পারেন। দ্বিতীয় আরেকটি পদ্ধতি রয়েছে। সেটা হলো, আলাদা কাগজে উল্লেখ করে দেন, কোন্ পৃষ্ঠায় বা কোন্ অনুচ্ছেদের পরে কোন্ চিত্র বা টেবিল বসবে। সেক্ষেত্রে আলাদা কাগজে ওগুলো প্রিন্ট করে সেখানে নম্বর বা সংকেত ব্যবহার করে সেগুলোই মূল টেঙ্টে ব্যবহার করা যায়। আর পৃষ্ঠাবিন্যাসের পরে লেখকের উচিত সেগুলো সঠিকভাবে বিন্যস্ত হয়েছে কি না, কিংবা সঠিক ও যৌক্তিক ক্যাপশন সহ বসানো হয়েছে কি না, তা দেখে নেয়া।



প্রকাশনা জগতে পেশাজীবী সম্পাদনাকারীর সম্পাদনার সময়ে যদি লেখকের প্রতি কোনো জিজ্ঞাসা বা পরামর্শ থাকে, কিংবা লেখকের পর্যালোচনার জন্য সম্পাদিত পা-ুলিপি পাঠাতে হলে, চিঠি বা ইমেইল আকারে লেখকের নিকট পৌছানো হয়। সেই চিঠিতে সাধারণত যেসব বিষয় উল্লেখ থাকে, তা হলো :



* সম্পাদনার লক্ষ্য কী ছিলো এবং কোন্ ধরণের সম্পাদনা করা হয়েছে তা উল্লেখ করা।



* সম্পাদনা হাতে করা হয়েছে নাকি রেড লাইনিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে করা হয়েছে, তা উল্লেখ করা।



* সবার সুবিধার্থে লেখক কিভাবে সম্পাদনাকারীর সকল জিজ্ঞাসা ও প্রশ্নের উত্তর দেবেন তা বলে দেয়া।



* শেষ মুহূর্তে কোন্ অংশগুলো নিজ হাতে নিজে সংশোধন করতে হবে।



* পর্যালোচিত ও সংশোধিত পা-ুলিপির কপিসমূহ যেন লেখক নিজের কাছে সংরক্ষণ করেন তার নির্দেশনা দেয়া।



* সংশোধিত কপিটি ফেরৎ দেয়ার শেষ তারিখ উল্লেখ করা।



* সূচিপত্র সম্পাদনা নিয়ে কোন জিজ্ঞাসা (লেখক নিজেই সম্পাদনা করবেন নাকি সম্পাদনাকারী তার দায়িত্ব নেবেন ইত্যাদি) থাকলে তা উল্লেখ করা।



* লেখকের যোগাযোগের ঠিকানাসমূহ উল্লেখ করা।



* এছাড়াও লেখকের অন্যতম দায়িত্ব হলো ক্রস-চেকিং। পা-ুলিপি প্রকাশকের নিকট জমা দেওয়ার সময়ে নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ ক্রস-চেক করে নিতে হবে :



* সূচিপত্র অনুযায়ী সব শিরোনাম এবং উপশিরোনাম



* সূচিপত্র অনুযায়ী বাড়তি সব শিরোনাম



* টেঙ্ট রেফারেন্স, ক্যাপশন ও কল আউটসহ প্রতিটি চিত্রকর্ম



* টেঙ্ট রেফারেন্স ও কল আউট অনুযায়ী প্রতিটি টেবিল



* টেবিলের তালিকা অনুযায়ী প্রতিটি টেবিলের শিরোনাম



* সব ক্রস-রেফারেন্স-এর তালিকা



* ইলেকট্রনিক কাজের ক্ষেত্রে সমস্ত হাইপারলিংক



* টেঙ্ট রেফারেন্স অনুযায়ী সব টীকা



* গ্রন্থপুঞ্জ অনুযায়ী সব টীকা



* তালিকা অনুযায়ী প্যারেনথিসিসভুক্ত অর্থাৎ বাক্যের মধ্যেকার বাক্যের সকল টেঙ্ট নির্দেশিকা



* শব্দ-সংক্ষেপের তালিকা অনুযায়ী সব শব্দ সংক্ষেপ



* একাধিক লেখকের কাজের ক্ষেত্রে অধ্যায় শিরোনাম অনুযায়ী সূচিপত্রে সব লেখকের নাম



* ইউআরএল যাচাই করা



 



সম্পাদনায় সম্পাদনাকারীর ভূমিকা :



পা-ুলিপি সম্পাদনার সময় সম্পাদনাকারীকে বিশেষ কিছু নীতিমালা অনুসরণ করতে হয়। নীতিমালার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্টাইল শীট অনুসরণ করা। অর্থাৎ প্রতিটি পা-ুলিপির জন্য শব্দ আর কার্যকালের একটি বর্ণানুক্রমিক তালিকা তৈরি করে সেই অনুযায়ী সম্পাদনার কাজ করা। স্টাইল শীট নিয়ে লেখকের ভূমিকা অংশে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। লেখকের মতই সম্পাদনাকারীও স্টাইল শীট অনুসরণ করলে সম্পাদনায় সুবিধা হবে এবং লেখক ও সম্পাদনাকারীর সম্পাদনায় সাদৃশ্য তৈরি হবে।



এছাড়াও তথ্য যাচাই সম্পাদনাকারীর অন্যতম দায়িত্ব। বই প্রকাশের ক্ষেত্রে সেটা নির্ভুল হলো কি না, চূড়ান্ত বিচারে লেখকই সে জন্য এককভাবে দায়ী থাকবেন। যদি আগে থেকে নির্দিষ্ট করা না থাকে, তাহলে বেশিরভাগ প্রকাশকই লেখা সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাইয়ের কাজ করেন না, বরং আশা করে থাকেন পা-ুলিপি সম্পাদনাকারী তার হয়ে কাজটি করে দেবেন। তা সত্ত্বেও অঙ্কের গণনায় ভুলসহ অন্যান্য সুনিশ্চিত ভুল সম্পর্কে লেখককে সব সময় অবহিত রাখতে হবে। এছাড়া তাদের প্রশ্নবিদ্ধ প্রোপার নেম বা নির্দিষ্ট নামবাচক বিশেষ্য, সংস্করণ সংক্রান্ত সূত্রের ভুল প্রভৃতি যাচাই করে দেখা উচিত। সম্পাদনাকারীগণের তথ্যানুসন্ধানের ক্ষেত্রে সিস্টেমেটিক ব সুশৃঙ্খল কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে, যাতে হাতের কাজ থেকে তাদের মনোযোগ বিচ্ছিন্ন না হয়ে যেতে পারে। কখনও কখনও একটা বিষয়কে বিশ্বস্ত সূত্র থেকে দু-বার যাচাই করে নিতে পারলে ভালো হয়। তার চেয়ে বেশি কিছু প্রয়োজন দেখা দিলে তথ্যানুসন্ধানের মাত্রা সীমিত রাখতে হবে।



একাধিক লেখক কর্তৃক লিখিত পা-ুলিপি জমা দেয়ার আগেই ভলিউম সম্পাদনাকারী, লেখা প্রদানকারী ও পা-ুলিপি সম্পাদনাকারীসহ প্রকাশক সবাইকে যার যার দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। যদি সেখানে একাধিক ভলিউম সম্পাদনাকারী থাকেন, তাহলে কে কতটুকু দায়িত্ব পালন করবেন, তাও অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। লেখা প্রদানকারীগণ সকল পক্ষের সম্মতি অনুযায়ী পূর্ব নির্ধারিত নিয়মে যার যার অংশ একই স্টাইেেল বা ধরণে লিখে এনেছেন কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর ভলিউম সম্পাদনাকারীর ওপর সাধারণত নিচের দায়িত্বসমূহ বর্তায় :



* প্রকাশকের কাছ পূর্বনির্ধারিত গ্রহণযোগ্য আকারে ভলিউম জমা দেয়ার আগেই লেখা প্রদানকারীদের কাছ থেকে চিত্রকর্মসহ পা-ুলিপি জমা নেয়া।



* পূর্বে অন্যত্র প্রকাশিত লেখা এবং চিত্রকর্ম পুনঃপ্রকাশের জন্য গ্রন্থস্বত্বাধিকারীর কাছ থেকে লিখিত অনুমতি ইত্যাদি নেয়া।



* প্রত্যেক লেখা প্রদানকারীর লেখার সংশোধন ও ক্রস রেফারেন্স করে, লেখার স্টাইল বা ধরণের ধারাবাহিকতা পরীক্ষা করে তা লেখকদের কাছে তাঁদের অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা।



* টাইটেল পেজ, সূচিপত্রসহ যে কোন ভূমিকাস্বরূপ লেখা দেয়া।



* পূর্ণাঙ্গ পা-ুলিপি প্রস্তুত করে প্রকাশকের হাতে তুলে দেয়া।



* প্রকাশকের শিডিউলের কথা মাথায় রেখে লেখা প্রদানকারীর কাছ থেকে কাজ বুঝে নেয়া এবং লেখা প্রদানকারীদের কোনো অপারগতা থাকলে তার দায়িত্ব নেয়া।



* প্রকাশকের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে ভলিউম সম্পাদনাকারীর দায়িত্বের অধীনে আরও যা যা আসতে পারে :



* প্রকাশকের কাছ থেকে প্রকাশনা চুক্তি বুঝে নেয়া এবং সেগুলো কার্যকর করে প্রকাশকের কাছে ফিরিয়ে দেয়া।



* সম্পাদিত পা-ুলিপি পরীক্ষা করে দেখা এবং লেখা প্রদানকারীদের পর্যালোচনার পর তাঁদের কোন জিজ্ঞাসা থাকলে তা পূরণ করা।



* ভলিউমটির চূড়ান্ত সংস্করণের প্রুফরিড করা।



* নির্ঘণ্টকরণ।



পূর্বপ্রকাশিত লেখনীর সংকলন প্রকাশ করা হয় অনেক সময়। এক্ষেত্রে তথ্য, ধরণ, বানান বা ব্যাকরণগত পরিবর্তন পরিমার্জন আনার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। অনুমতিসাপেক্ষে পূর্বে প্রকাশিত লেখায় পরিবর্তন আনা সম্পাদনাকারীর দায়িত্ব।



পরিশেষে বলা যায়, পা-ুলিপিকে যদি কাঁচামাল বলি, তাহলে লেখককে কৃষক ও সম্পাদনাকারীকে প্রক্রিয়াজাতকারী বলা যায়। পা-ুলিপিটি সৃষ্টি করেন লেখক। আর সম্পাদনাকারী সেটাকে প্রকিয়াজাতকরণের মাধ্যমে পাঠকদের জন্য প্রস্তুত করেন নান্দনিক একটি সৃষ্টিকর্ম। আর প্রস্তুতকরণের এই প্রক্রিয়ায় লেখককেও অনুসরণ করতে হয় সম্পাদনার নির্দিষ্ট নীতিমালা। এই নীতিমালা প্রকাশনা সংস্থা কর্তৃক প্রণীত। আবার অনেক ত্রুটিই লেখকের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। সেগুলো পেশাদার সম্পাদনাকারী যাচাই করে থাকেন। বানান, ব্যাকরণ, যতিচিহ্ন, শব্দচয়নসহ রচনার কাঠামো ও বিন্যাস পদ্ধতি-সবকিছুই সম্পাদনার অন্তর্ভুক্ত। সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনার ফলে পা-ুলিপিটি বানান ও ব্যাকরণ সংক্রান্ত ভুল-ত্রুটি বর্জিত হয়ে নান্দনিক চেহারায় পাঠ-উপযোগী হয়ে উপস্থাপিত হয় পাঠকের সামনে। লেখাটি লাভ করে সার্বজনীন পাঠযোগ্যতা।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৫৯৭৮৪৫
পুরোন সংখ্যা