চাঁদপুর। শনিবার ১৭ জুন ২০১৭। ৩ আষাঢ় জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪। ২১ রমজান ১৪৩৮
ckdf

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৮-সূরা কাসাস 


৮৮ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৫৮। কত জনপদকে আমি ধ্বংস করিয়াছি যাহার বাসিন্দারা নিজেদের ভোগ-সম্পদের দম্ভ করিত। এইগুলিই তো উহাদের ঘরবাড়ী; উহাদের পর এইগুলিতে লোকজন সামান্যই বসবাস করিয়াছে। আর আমি তো চূড়ান্ত মালিকানার অধিকারী।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


দেশের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ আইন।


                -জাস্টিনিয়ান।


 


যার হৃদয়ে বিন্দু পরিমাণ অহঙ্কার আছে সে কখনো বেহেস্তে প্রবেশ করতে পারবে না। 


 

সরকারের ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম ও ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান
১৭ জুন, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


 



 



বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে সার্বিকভাবে এগিয়ে নেয়ার জন্যে যে ক'টি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তার মধ্যে 'জেলা ব্র্যান্ডিং' অন্যতম। যেহেতু ব্র্যান্ডিং ধারণা বাংলাদেশে নতুন, সেজন্যে আগে ব্র্যান্ডিং সম্পর্কে দু কথা জানা যাক। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, ব্র্যান্ডিং ধারণার উদ্ভব হয়েছে কয়েক হাজার বছর পূর্বে। জানা যায়, খ্রিস্টপূর্ব ২৭০০ বছর আগে মিশরের ব্যবসায়ীগণ গবাদি পশুর গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্ন লাগিয়ে দিতেন। এতে করে তারা সহজেই একটি পশু থেকে আরেকটি পশুকে আলাদা করতে পারতেন। এই যে একটি থেকে আরেকটিকে আলাদা করার প্রক্রিয়া_এটিই পরবর্তীতে ব্র্যান্ডিংয়ে রূপ নেয়। শিল্প বিপ্লবের পর এই ব্র্যান্ডিং ধারণা পণ্যের উপর ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হওয়া শুরু হয়। পণ্যের পরিচিতি স্বরূপ চিহ্নই পরবর্তীতে পণ্যের সুনাম ও যশকে বহন করতো। অর্থাৎ এই সিম্বল সম্বলিত কোম্পানির পণ্য মানেই ভালো মানের পণ্য। সে ধারা বর্তমানে ব্যাপৃত পরিসরে অব্যাহত আছে। প্রখ্যাত চিন্তাবিদ হিসলপ ব্র্যান্ডিংয়ের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন, ব্র্যান্ডিং হলো প্রতিযোগিতা থেকে নিজেকে আলাদা করে তুলে ধরতে ও ব্র্যান্ডের প্রতি ক্রেতার আনুগত্য নির্মাণের স্বার্থে একটি কোম্পানির পণ্যের সঙ্গে ক্রেতার মনস্তাত্তি্বক উপলব্ধিকে যুক্ত করা বা সম্পর্ক সৃষ্টি করার প্রক্রিয়া। সব মিলিয়ে কোনো পণ্যের গুণগত পরিচিতি গ্রাহকের কাছে পেঁৗছে দেয়াই ছিল ব্র্যান্ডিংয়ের প্রধান কাজ। ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে বাজারের অন্য সকল পণ্যের চেয়ে নির্দিষ্ট একটি পণ্যকে গ্রাহকদের মাঝে জনপ্রিয় করে তোলা হয়। সেই পণ্যটি যদি জনপ্রিয় হয় এবং বিশেষ পরিচিতি লাভ করে, সেটি পরবর্তীতে 'ব্র্যান্ড' হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই ব্র্যান্ডিং পণ্য হলো ভোক্তার নির্ভরতার প্রতীক। যেমন আমরা কোকের কথা বললে প্রথমেই যে কেউ বলবেন কোকাকোলার কথা। এই যে হাজার হাজার কোম্পানির মধ্যে কেবল কোকাকোলাকে চিহ্নিত করা_এটিই ব্র্যান্ডিং সফলতা। ব্র্যান্ডিং করার জন্যে পণ্যের গুণগত মান উন্নয়নের পাশাপাশি এটি সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়ার জন্যে ব্যাপক প্রচারণা চালায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গ্রাহক-গ্রহণযোগ্য ও অগ্রগণ্য হলেই পণ্যটি ব্র্যান্ডের রূপ লাভ করে এবং ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম সফল হয়।



ব্র্যান্ডিংয়ের সাথে অর্থনীতির যেমন সুস্পষ্ট সম্পর্ক রয়েছে, তেমনি রয়েছে সুনাম ও গৌরবের সম্পর্ক। এ চিন্তাকে ধারণ করেই বাংলাদেশ সরকার চাচ্ছে প্রতিটি জেলার বিশেষ বিশেষ পণ্য ও ঐতিহ্যগুলো নিয়ে তারা জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করুক। যেমন : কুমিল্লার 'রসমালাই' সারা বাংলাদেশে এক নামে পরিচিত। অর্থাৎ কুমিল্লার 'রসমালাই' ব্র্যান্ড হয়ে গেছে। আবার চাঁদপুরের ইলিশ বললেই সবাই এক নামে চাঁদপুরকে চিনবে ও আগ্রহী হবে। সরকার চায়, এমন বিশেষ বিশেষ পণ্য ও ঐতিহ্যগুলো নিয়ে জেলাগুলো প্রচার-প্রচারণা ও উন্নয়নে কাজ করুক। এতে করে ঐ জেলার প্রতি পর্যটকরা যেমন আকৃষ্ট হবে, তেমনি পণ্যের প্রসারের মাধ্যমে জেলাটি নতুন করে অর্থনৈতিক ভিত্তি পাবে। ব্র্যান্ডিংয়ে পর্যটনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কঙ্বাজার ব্র্যান্ড হয়েছে সমুদ্র সৈকতের জন্যে। পর্যটনের জন্যে প্রতি বছর দেশ ও বিদেশের হাজার হাজার মানুষ সেখানে ভিড় করে। ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে প্রতিটি জেলার দর্শনীয় স্থান ও বিশেষ পণ্যগুলোর প্রচার করা হবে। পাশাপাশি জেলাগুলোকে ব্র্যান্ডিং করার জন্যে হাতে নেয়া হবে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম। সর্বোপরি ব্র্যান্ডিংকে কেন্দ্র করে প্রতিটি জেলা নিঃসন্দেহে পৃথক পৃথক পরিচিতি নিয়ে জনমানুষের সামনে উপস্থিত হবে।



 



দুই.



সরকার প্রথম ব্র্যান্ডিং জেলা হিসেবে ইলিশের শহর চাঁদপুরকে বেছে নিয়েছে। ইলিশের খ্যাতির কথা চিন্তা করেই 'ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর' বা 'সিটি অব হিলশা' নামে জেলা ব্র্যান্ডিংয়ের লোগো করে দিয়েছেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী হাশেম খান। ইতিমধ্যে চাঁদপুরবাসী অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকায় দিনব্যাপী 'ব্র্যান্ডিং ফেস্টিভ্যাল' উদ্যাপন করেছে। এ ফেস্টিভ্যালে চাঁদপুরের বরেণ্য শিল্পী, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষজন উপস্থিত ছিলেন। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল জেলা ব্র্যান্ডিংকে দ্রুত এগিয়ে নিতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তাঁর উদ্যোগগুলোর মধ্যে জেলার সৌন্দর্যবর্ধন ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং চাঁদপুরের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়ার কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য। তাঁকে আমরা এসব কার্যক্রমের সাথে সাথে এটাও স্মরণ করিয়ে দিই যে, কোনো জেলাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে আগে সেই জেলার বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে হবে। কেননা সমস্যাধারী শহরে পর্যটকরা স্বস্তিবোধ করবে না। ইলিশ চাঁদপুরের মূল্যবান ঐতিহ্য। এটি উপলব্ধি নিয়েই বর্তমানে প্রশাসন ইলিশ সম্পদ রক্ষায় ভালোভাবে কাজ করছে। ফলে ইলিশ উৎপাদন আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে। চাঁদপুরে যদি এমন একটি হোটেল থাকতো, যেখানে কেবল নানা পদের ইলিশ বিক্রি হতো_তাহলে সেটি ব্র্যান্ডিং সহায়ক হতো। চাঁদপুর ছোট শহর। তাই শহর উন্নয়নের আগে শহরের যানজট দূর করতে হবে। ঐতিহ্যম-িত স্থানগুলো সংরক্ষণ খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আবার চাঁদপুরে রিসোর্ট ও বিনোদন পার্কের অভাব রয়েছে। সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে। তবে একদিনে কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়। পরিবর্তন হবে ধীরে ধীরে। জেলা প্রশাসক ও ব্র্যান্ডিং সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়টি মাথায় রেখেই কাজ করবেন বলেই আমাদের বিশ্বাস।



চাঁদপুর প্রথম ব্র্যান্ডিং জেলা। এভাবে সব জেলা ব্র্যান্ডিং জেলা হবে। অর্থাৎ প্রতিটি জেলাই নিজেদের অর্থনীতি, ঐতিহ্য ও ইতিহাস নিয়ে প্রথমত দেশবাসী ও পরবর্তীতে বিশ্ববাসীর কাছে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। এতে যে কেবল প্রতিটি জেলা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে তেমন নয়, এর মধ্য দিয়ে প্রতিটি জেলার সুনাম বাড়বে। বাড়বে নাগরিক সুবিধাও। সর্বোপরি অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ঐতিহাসিক দিক দিয়ে লাভবান হবে বাংলাদেশ। কেননা, বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা যদি ব্র্যান্ডিং হয়, তবে বাংলাদেশ হবে একটি ব্র্যান্ডিং কান্ট্রি। বহির্বিশ্ব বাংলাদেশকে এখন যেভাবে চিনে, ব্র্যান্ডিং কান্ট্রি হলে সবার কাছে বাংলাদেশ আরো মর্যাদাপূর্ণ দৃষ্টি পাবে। এতে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবো আমরা নাগরিকরাই। কারণ, দেশ উন্নত হলে উন্নত হবে আমাদের জীবনাচরণ, নাগরিক সুবিধা ও সুরক্ষিত হবে আমাদের অধিকার। জেলা ব্র্যান্ডিং উদ্যোগকে সফল করতে তাই আমাদেরকে প্রশাসনের পাশপাশি এখন থেকেই জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। তাহলেই ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম সার্থক ও অর্থপূর্ণ হবে।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৫৯৮০৯১
পুরোন সংখ্যা