চাঁদপুর। শুক্রবার ২৯ জুন ২০১৮। ১৫ আষাঢ় ১৪২৫। ১৪ শাওয়াল ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • কচুয়ায় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে জেলা দায়রা জজ আদালত
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৯-সূরা আয্-যুমার


৭৫ আয়াত, ৮ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১৫। অতএব, তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার ইচ্ছা তার এবাদত কর। বলুন, কেয়ামতের দিন তারাই বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যারা নিজেদের ও পরিবারবর্গের তরফ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জেনে রাখ, এটাই সুস্পষ্ট ক্ষতি।


১৬। তাদের জন্যে উপর দিক থেকে এবং নিচের দিক থেকে আগুনের মেঘমালা থাকবে। এ শাস্তি দ্বারা আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে সতর্ক করেন যে, হে আমার বান্দাগণ, আমাকে ভয় কর।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


রূপে চক্ষু জুড়ায় কিন্তু গুণ হৃদয় জয় করে।


-পোপ।


 


 


 


 


 


 


 


 


দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞানচর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।


 


 


ফটো গ্যালারি
অফিসের গল্প
কাজী শাহাদাত
২৯ জুন, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


(পূর্ব প্রকাশিতের পর)



এ হামলার ব্যর্থ প্রয়াসে চাঁদপুর কণ্ঠ পরিবারের সদস্যগণ যতোটা না ভয় পেয়েছে, তারচে' বেশি ভয় পেয়েছেন হাবিব চেয়ারম্যান সাহেব। তিনি আমাকে ও অ্যাডঃ ইকবাল-বিন-বাশারকে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে একদিন বললেন, আপনারা ভাড়াটিয়া হিসেবে ভালোই ছিলেন। কিন্তু আমার ছেলে শাহাদাত নিচের ফ্ল্যাটটি চেয়েছে তার ব্যবসায়িক প্রয়োজনে। আপনারা ২-৩ মাসের মধ্যে খালি করে দিলে খুশি হবো। এমন অনুরোধে আমি বেঁকে বসলেও অ্যাডঃ ইকবাল-বিন-বাশার একেবারে গলে গিয়েছিলেন। তিনি আমাকে নূতন অফিস খোঁজার তাগিদ দিলেন। বড় জোর ১৫দিনের মাথায় আমরা চাঁদপুর প্রেসক্লাব লাগেয়া চাঁদপুর রেড ক্রিসেন্ট ভবনের তিন তলা খালি পেলাম। এটি ভাড়া পেতে মধ্যস্থতায় প্রধান ভূমিকা রাখলেন তৎকালীন রেড ক্রিসেন্ট চাঁদপুর ইউনিটের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ জসিম উদ্দিন খান বাবুল। আমরা এক মাসের মধ্যে গুয়াখোলার অফিস ছেড়ে, চাঁদপুর কণ্ঠের ৬ষ্ঠ ও স্বতন্ত্র তৃতীয় অফিস হিসেবে রেড ক্রিসেন্ট ভবনে চলে আসলাম। পরে অফিসের কাজের পরিধি বাড়লে একই ভবনের দোতলাও ভাড়া নিলাম। এ অফিসে থাকাকালীন চাঁদপুর কণ্ঠের মালিক ও সম্পাদক অ্যাডঃ ইকবাল-বিন-বাশার চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। আমিও সভাপতি হই এবং দু মেয়াদে দায়িত্ব পালন করি। তিন বছর পর পর বার বার চুক্তি নবায়ন করে আমরা রেড ক্রিসেন্ট ভবনের দোতলা ও তিন তলায় চাঁদপুর কণ্ঠের অফিস ভালোভাবেই চালাচ্ছিলাম। কিন্তু আবার একটি নির্বাচন এবং নির্বাচনে চাঁদপুর কণ্ঠকে রাবার স্ট্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করতে না পারায় মনোবেদনায় বিজয়ী এক প্রার্থীর রোষানলে পড়ে চাঁদপুর কণ্ঠ। তিনি সুযোগ খুঁজছিলেন কোনো একটা উপলক্ষ পেলেই চাঁদপুর কণ্ঠকে রেড ক্রিসেন্ট ভবন ছেড়ে দেবার নোটিস দিতে ইউনিট সেক্রেটারী আলহাজ্ব এম.এ. মাসুদ ভঁূইয়াকে অনুরোধ জানাবেন।



সে সুযোগটি এলো ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে। আমি চাঁদপুর ডায়াবেটিক সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভার আহ্বায়ক হিসেবে সভাটি সঠিকভাবে সঞ্চালনা করছিলাম। মঞ্চে উপবিষ্ট সমিতির কোষাধ্যক্ষ মাসুদ ভঁূইয়া বিনা প্রয়োজনে আমাকে ডিস্টার্ব করছিলেন। আমি এতে অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করি। এতে অপমানিত বোধ করেন মাসুদ ভঁূইয়া। তিনি সম্ভবত এ অপমানের প্রতিশোধ নিতে মনে মনে ফন্দি অাঁটছিলেন কী করে চাঁদপুর কণ্ঠকে তাঁর পিতার অর্থে গড়া রেড ক্রিসেন্ট ভবন ছাড়ার নোটিস দেয়া যায়। তার এ ফন্দি অাঁটার খবর ফাঁস হয়ে যায় আমার ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্তজনদের মাঝে। তাঁরা মাসুদ ভঁূইয়াকে এ ফন্দি থেকে বিরত থাকার জোরালো অনুরোধও জানান। এমতাবস্থায় তিনি নিজে ভালো সাজতে রেড ক্রিসেন্ট চাঁদপুর ইউনিটের পদাধিকার বলে বর্তমান চেয়ারম্যান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওচমান গণি পাটওয়ারীর ওপর সওয়ার হন। গত মে মাসে ইউনিটের একটি সভার শেষ লগ্নে কারণ স্পষ্ট না করে রেড ক্রিসেন্ট ভবন থেকে চাঁদপুর কণ্ঠ কার্যালয় অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চেয়ারম্যান সেক্রেটারীকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে মাসুদ ভঁূইয়া আমাকে জানান।



৮ মে বাগাদী ইউনিয়ন পরিষদে অনুষ্ঠান চলাকালে আমি বাইরে পায়চারী করছিলাম। এ সময় চক্ষু হাসপাতালের ল্যান্ড ফোন থেকে আমার মোবাইল ফোনে একটি কল আসলো। আমি কলটি রিসিভ করতেই অফিস সহকারী আল-আমিন নিজ পরিচয় দিয়ে বললো, স্যার আপনার সাথে কথা বলবেন। এ সময় মাসুদ ভঁূইয়া সাহেব স্বভাবসুলভ কুশলাদি জিজ্ঞেস করে আমাকে বললেন, আমাদের রেড ক্রিসেন্ট ভবনের তৃতীয় তলার চুক্তির মেয়াদ ৩০ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে শেষ হয়ে গেছে, আর দ্বিতীয় তলার চুক্তির মেয়াদ ২০১৯ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ আরো এক বছর আছে। আমাকে চেয়ারম্যান সাহেব গতকালের সভায় তৃতীয় তলার চুক্তির মেয়াদ আর নবায়ন করা হবে না এবং দ্বিতীয় তলার চুক্তির মেয়াদ থাকলেও তা তিন মাসের মধ্যে ছেড়ে দেয়া মর্মে আপনাদেরকে নোটিস দিতে বলেছেন এবং নোটিসের খসড়া ড্রাফটও তাকে দেখাতে বলেছেন। আমি বললাম, এ খবর তো আমরা বহু আগে থেকেই জানি। চেয়ারম্যান সাহেব অবশেষে তার নির্বাচনকালীন জেদ চাঁদপুর কণ্ঠের ওপর মেটানোর সুযোগটা নিতে যাচ্ছেন। 'ঠিক আছে, নোটিস দেন' বলে আমি ফোন ছেড়ে দিলাম। সাথে সাথে রেড ক্রিসেন্ট চাঁদপুর ইউনিট কার্যকরী কমিটির ২-৩জন সদস্যের সাথে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করলাম। তাদের একজন বললেন, হেড অফিসের নির্দেশে অডিটোরিয়াম করার প্রয়োজনে চাঁদপুর কণ্ঠকে দু-তিনতলা ছাড়ার নোটিস দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ তথ্য মোতাবেক চাঁদপুর কণ্ঠের ঢাকা প্রতিনিধি রেড ক্রিসেন্ট হেড অফিসের এস্টেট ও ইউনিট বিভাগে যোগাযোগ করলেন। তারা চাঁদপুর ইউনিটকে আপাতত এমন নির্দেশ দেয়ার এখতিয়ার রাখে না বলে জানালেন। আমরা এমন তথ্য নিয়ে আমাদের সকল শুভাকাঙ্ক্ষীর সাথে কথা বললাম। সকলেই এমন নোটিসকে অন্যায্য ও ভাড়াটিয়া অধিকার ক্ষুণ্ন করার শামিল বলে অভিমত ব্যক্ত করেন এবং ক্ষুব্ধ কেউ কেউ আদালতের শরণাপন্ন হবার পরামর্শ দিলেন। সহমত প্রকাশ করলেন চাঁদপুর কণ্ঠের সম্পাদক ও প্রকাশক।



এদিকে মাসুদ ভঁূইয়া ফোনযোগে নোটিস দেয়ার ব্যাপারে আমাকে যেভাবে বললেন, ঠিক সেভাবে আমরা নোটিস পাচ্ছিলাম না। আমার সহকর্মীদের কেউ কেউ বলছিলেন, সম্ভবত নোটিস আর দেবে না। এদিকে চেয়ারম্যান সাহেবের সাথে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের দূরত্ব আরো বাড়লো। আমার সাবেক সহকর্মীদের ৫-৬ জন এখন তার খুব ঘনিষ্ঠ, যাদের কারো কাছ থেকে চাঁদপুর কণ্ঠ পাওনাও রয়েছে অনেক টাকা। এদের কারো কারো ইন্ধনে চেয়ারম্যানের নির্দেশে চাঁদপুর কণ্ঠকে রেড ক্রিসেন্ট সেক্রেটারী আর দেরি না করে নোটিস দিয়ে দিলেন। যেদিন (২৪ মে) নোটিস পেঁৗছান, সেদিন আমি টিআইবি অফিসে একটি ইন্টারভিউ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। নোটিসটি হাতে পেয়েই চাঁদপুর কণ্ঠের ম্যানেজার সেলিম রেজা আমাকে ফোন করলেন। আমি কিছুটা ব্যথিত হলেও ভেঙ্গে পড়িনি। কারণ, নোটিসটি গ্রহণ সম্পর্কে আমার মানসিক প্রস্তুতি ছিলো। আমি টিআইবি অফিস থেকে চাঁদপুর কণ্ঠ কার্যালয়ে ফেরার পথে আমার অন্যতম শুভাকাঙ্ক্ষী প্রকৌশলী জয়নাল আবেদিনকে ফোন করলাম। তাঁর নিকট জানতে চাইলাম, স্ট্র্যান্ড রোডে চাঁদপুরের সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব ডাঃ এম.এ. গফুর সাহেবের দোতলাটি খালি আছে কিনা এবং সেটি ভাড়া দেবেন কিনা। জয়নাল সাহেব বললেন, খালি আছে নিশ্চিত। তবুও আমি আলাপ করে আপনাকে জানাচ্ছি। জয়নাল সাহেব ঐদিনই আলাপ করেছেন এবং জানতে চাইলেন, কে ভাড়া নেবে? আমি বললাম, আমরা চাঁদপুর কণ্ঠের জন্যে ভাড়া নেবো। জয়নাল সাহেব এটি ডাঃ গফুর সাহেবকে জানালেন এবং ভাড়া সংক্রান্ত প্রাথমিক সম্মতি আদায় করলেন। পর্যায়ক্রমে এ ভাড়ার বিষয়টি নিয়ে ডাঃ এম.এ.গফুর, তাঁর স্ত্রী প্রফেসর মাহমুদা খাতুন ও কনিষ্ঠ পুত্র প্রফেসর ড. শায়ের গফুরের সাথে কথা বললাম। ৯ জুন প্রকৌশলী জয়নাল আবেদিন আমেরিকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবার পূর্বেই তাঁর তত্ত্বাবধানে শুরু হলো ডাঃ গফুর সাহেবের দোতলাটির সংস্কার কাজ। চুক্তিপত্রটি লিখার দায়িত্ব দেয়া হলো তাঁরই ছোটভাই প্রথিতযশা আইনজীবী অ্যাডঃ ফজলুল হক সরকার সাহেবকে। ঈদের পূর্বেই চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করলাম।



এ চুক্তি অনুযায়ী প্রায় এক যুগ (১২ বছর) পর আগামী ১ জুলাই রোববার চাঁদপুর কণ্ঠের ৭ম ও চতুর্থ স্বতন্ত্র অফিস হিসেবে চাঁদপুর শহরের চৌধুরী মসজিদ সংলগ্ন স্ট্র্যান্ড রোডস্থ আলহাজ্ব ডাঃ এম. এ. গফুর সাহেবের তিনতলা ভবনের দোতলায় নূতন অর্থ বছরের প্রথম দিন থেকে শুরু হবে আমাদের নবযাত্রা। এ অফিসটি আমাদের শ্রদ্ধেয় সম্পাদক মহোদয়ের বাসভবন থেকে হেঁটে যাওয়া দূরত্বে, এমনকি পাথর নিক্ষেপ দূরত্বে অবস্থিত। আর চাঁদপুর কণ্ঠের অলিখিত প্রথম অফিস হোটেল তাজমহলের উত্তর দিকে অবস্থিত, ১৯৯৪ সালের প্রথমদিকে যেখানে 'চাঁদপুর কণ্ঠ' নামটি আমার মাথায় এসেছিলো। বস্তুত সেই ডাকাতিয়ার তীরেই ২৪ বছর পর



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১২৯৯৩৭
পুরোন সংখ্যা