চাঁদপুর। শুক্রবার ২৯ জুন ২০১৮। ১৫ আষাঢ় ১৪২৫। ১৪ শাওয়াল ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • কচুয়ায় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে জেলা দায়রা জজ আদালত
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৯-সূরা আয্-যুমার


৭৫ আয়াত, ৮ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১৫। অতএব, তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার ইচ্ছা তার এবাদত কর। বলুন, কেয়ামতের দিন তারাই বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যারা নিজেদের ও পরিবারবর্গের তরফ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জেনে রাখ, এটাই সুস্পষ্ট ক্ষতি।


১৬। তাদের জন্যে উপর দিক থেকে এবং নিচের দিক থেকে আগুনের মেঘমালা থাকবে। এ শাস্তি দ্বারা আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে সতর্ক করেন যে, হে আমার বান্দাগণ, আমাকে ভয় কর।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


রূপে চক্ষু জুড়ায় কিন্তু গুণ হৃদয় জয় করে।


-পোপ।


 


 


 


 


 


 


 


 


দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞানচর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।


 


 


ফটো গ্যালারি
যে চলেছে আলো হাতে
পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
২৯ জুন, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


দেবরাজ জিউসকে গ্রীক পুরাণের বদৌলতে জানে না এমন মানুষ বিরল। জেদী দেবরাজে প্রতীক ছিলো বজ্র,ঈগল ও ষাঁড়। তার প্রতীক থেকেই বুঝা যায়, জিউসের অত্যাচারের মাত্রাটা কেমন ছিল। জিউসের রাজত্বে টাইটান গোত্রের এক দেবতার নাম ছিল প্রমিথিউস। প্রমিথিউসের দায়িত্ব ছিল মানুষকে হাঁটতে শিখানো, সোজা হয়ে চলতে শিখা এবং মেরুদ- সিধা রাখা। মানুষকে সবচেয়ে সেরা বানাতে মানুষকে ভালোবেসে টাইটান গোত্রভুক্ত দেবতা প্রমিথিউস চেষ্টা করেছেন তাকে সর্বসহযোগিতা করার। এরই ধারাবাহিকতায়, অপরিণামদর্শী সাহসে ভর করে প্রমিথিউস সূর্য হতে চুরি করে আনেন আগুন আার তা বিলিয়ে দেন গোপনে মানুষকে।



দেবরাজ জিউস প্রমিথিউসের এই মানব প্রীতির খবর পেয়ে তার উপর চরম রুষ্ট হন। তিনি প্রমিথিউসকে শাস্তি দেন। বড়ই কঠিন সে শাস্তি। জ্বলন্ত সূর্যের দিকে প্রতিদিন তাকিয়ে থাকতে হতো প্রমিথিউসকে। সূর্যের আগুনে ঝলসে যেত তার চোখ। তবুও মানুষকে ভালোবাসা তার কমেনি। প্রতিদিন ঈগলরূপী দেবরাজ জিউস এসে ছিন্নভিন্ন করে তুলতো তার কলজে। তারপর আবার সেই কলজে জোড়া নিতো পরের দিনের আক্রমণ-অত্যাচারে ছিন্নভিন্ন হওয়ার জন্য। এতো অত্যাচার সয়েও প্রমিথিউস মানুষের প্রেমে ছিলেন অটল।



একটি সংবাদপত্র 'দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ' চাঁদপুরের পাঠকদের জন্যে, এমনকি, তার অনলাইন পাঠকদের কাছেও মানবপ্রেমী প্রমিথিউসের ভূমিকায় আজ অবতীর্ণ। মফস্বলে একটি দৈনিক পত্রিকাকে দুইযুগ সাফল্যের সাথে ধারাবাহিকভাবে টেনে নিয়ে আসা চাট্টিখানি কথা নয়। আর্থিক ব্যবস্থাপনা, জনবল পরিচালনা, প্রশাসন মোকাবেলা, পাঠক-চাহিদা ওয়াকিবহাল থাকা ইত্যাদি মোটেই বোতাম টিপে সম্পন্ন হওয়ার মতো নয়। কতো গভীর পাঠকপ্রেম হলে এই হার্কিউলিসের কর্মযজ্ঞ করা সম্ভব তা অনুমান করা যায়। মফস্বলের সংবাদপত্র হিসেবে এই চালাক-চতুর মুঠোফোনের যুগে পাঠক সৃষ্টি করা ও ধরে রাখা খুবই কঠিন। তবুও আপন মুন্সীয়ানায়,অনন্য সম্পাদকীয় নীতি আর নিরপেক্ষতার কারণে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ আজ সত্যিকার অর্থেই হয়ে উঠেছে চাঁদপুর নামক জনপদের গণমানুষের কণ্ঠ।



জেমস্ রেনেল নামের ইংরেজ জরিপকারীর অংকিত মানচিত্রে অখ্যাত জনপদ চাঁদপুর আজ খ্যাতিমান হয়ে উঠেছে ইলিশের কারণে। ইলিশ যেমন চাঁদপুরের ব্র্যান্ড, তেমনি সংবাদপত্র হিসেবে 'দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ'ও আজ চাঁদপুরের ব্র্যান্ড। যে বা যারা ব্র্যান্ড হিসেবে সমাদৃত, তাদের গৌরব যেমন বেশি, তেমনি তাদের দায়িত্বও বেশি। দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠও এই দায়িত্বশীলতার বাইরে নয়।



কেবল পাঠকের সংখ্যা বৃদ্ধি নয়, একজন পাঠককে নির্মাণের মহান দায়িত্বও দৈনিক পত্রিকাগুলোর রয়েছে। পাঠকের রুচিবোধ, চিন্তার স্তর, গুণগত গভীরতা ইত্যাদি নির্মাণ করা দৈনিক পত্রিকার গুরুত্বপূর্ণ কাজ। দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে তা পালন করে চলেছে আরাধনার পবিত্রতায়, প্রার্থনার শুদ্ধতায়। নির্ভুল বানানের জন্যে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ কিংবদন্তী হয়ে আছে প্রধান সম্পাদকের নিরলসতায় ও প্রজ্ঞায়। সে পত্রিকাই অধিক সফল যেখানে লেখকই পাঠক, পাঠকই লেখক হিসেবে সক্রিয় থাকে। পাঠক ফোরামের মাধ্যমে পাঠকের মনের কথাটি জেনে নেওয়া এবং এর মাধ্যমে নতুন লেখকের সূতিকাগার বা বীজতলা তৈরি করা পত্রিকার প্রগমনের একটি প্রকৃষ্ট চিহ্ন। সাহিত্য পাতার মাধ্যমে স্থানীয় লেখকদের জাতির সামনে তুলে ধরা ও এতদ্অঞ্চলের সাহিত্যিক স্ফূরণে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ একটি অভিভাবক-প্রতিষ্ঠান।



একটি পত্রিকাকে স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে টেনে নিতে হলে তার অনেক অঙ্গ-অনুষঙ্গ থাকা চাই। শিশুকণ্ঠ, ক্রীড়াকণ্ঠ, চিকিৎসাঙ্গন, সংস্কৃতি অঙ্গন, প্রবাসী কণ্ঠ, প্রযুক্তি কণ্ঠ, কৃষিকণ্ঠ, ইসলামী কণ্ঠ, বাজার কড়চা, শিক্ষাঙ্গনের বিভাগীয় পাতাগুলো দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠকে দান করেছে বটের আদল। একটা বট যেমন অনেকের পথিকৃৎ হয়, ছায়া ও আশ্রয় দিয়ে সবার সেবায় দাঁড়িয়ে থাকে আজন্ম, তেমনি দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ পত্রিকাও সব বয়সী পাঠক ও সব শ্রেণির পাঠকের কাছে হয়ে উঠেছে এক অভিভাবক প্রতিষ্ঠান। 'সবখোল-চাবি'র মতো সবার চাহিদা পূরণে চাঁদপুর কণ্ঠ আজ কল্পতরু যেন।



ভালো ফসল ঘরে তুলতে হলে লাগে বীজতলা। বীজতলায় চারা গজিয়ে তারপর চারাগুলো রোপণ করা হয় জমিতে। সেই নিরিখে 'দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ' সংবাদপত্র-কর্মী সৃজনে একটি মাতৃ প্রতিষ্ঠান তথা বীজতলা। এই প্রতিষ্ঠান হতে সাংবাদিকতা শুরু করা অনেকেই আজ নিজে যশস্বী হয়েছেন সাংবাদিকতা পেশায়। জেলার অধিকাংশ সংবাদকর্মীর প্রথম প্রশিক্ষণের বিদ্যালয় হলো দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ।



প্রতিটা সংবাদপত্রের থাকে কিছু সামাজিক দায়বদ্ধতা। পেশাগত মূল কাজের বাইরে গিয়ে সামাজিক অনুপ্রেরণামূলক কাজে সংবাদপত্র পালন করতে পারে সমাজ সংস্কারকের ভূমিকা। দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ এক্ষেত্রে এক অগ্রণী প্রতিষ্ঠান। টানা দশ বছর ধরে আদর্শ প্রজন্ম গঠনের মহান ব্রতে নিরলসভাবে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ যৌথভাবে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্সের সাথে আয়োজন করে চলেছে 'পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতা।' এই প্রতিযোগিতার জন্যে আজ দেশব্যাপী চাঁদপুর জেলা ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতা বাদ দিলে দেশে এত বড় ও ব্যাপক বিতর্ক প্রতিযোগিতা আর নেই। দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের এই পিতৃস্থানীয় ভূমিকার কারণেই আজ চাঁদপুরের কোমলমতি শিশুরা শিখেছে সাবলীলভাবে নিজের যুক্তি ও মতামত প্রকাশ করতে।



প্রযুক্তির এই যুগে চাঁদপুর কণ্ঠও পিছিয়ে নেই। অনলাইন পত্রিকার সংস্করণের মাধ্যমে এই পত্রিকা চাঁদপুরকে তুলে ধরছে বিশ্বের নানাপ্রান্তে অত্যন্ত দক্ষতা ও প্রজ্ঞার সাথে। দৈনিক লক্ষাধিক অনলাইন পাঠক এই পত্রিকার পরম সম্পদ। আদর্শ পত্রিকার আয়তন ও কলেবরে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের সবিশেষ আকর্ষণ তার সম্পাদকীয়। উল্লেখযোগ্য সংবাদ হতে সম্পাদকীয় নির্মাণ ও দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যমে এই পত্রিকা কার্যকর পরিবর্তন সাধনে সক্ষম হয়েছে ইতোমধ্যেই।



আলো সবার হাতে উঠে না। সবাই হয় না বাতিঘর। স্বার্থপরতার এই বিশ্বে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ একটি শক্তিমান বাতিঘর। তার কর্মযজ্ঞে, পেশাদারিত্বে এবং মানবিকতার সঞ্চালনে সমাজ সংস্কারের বাস্তবতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দুইযুগের দুস্তর পারাবারে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ আজ হয়ে উঠেছে সময়ের স্বর, কালের শিলালিপি। হাঁটি হাঁটি পা পা করে সাপ্তাহিক থেকে দৈনিক পত্রিকায় নিজেকে মেলে ধরা, প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই সংবাদ প্রতিষ্ঠান নিজেই আজ সংবাদের শিরোনাম তার সুকর্মের গুণে, সুকীর্তির বিভায়। যুগল যুগপূর্তির এই দিনে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ দীর্ঘজীবী হোক, চিরস্মরণীয় হোক দূরবর্তী আগামীর কাছে।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১২৮৮৬৭
পুরোন সংখ্যা