চাঁদপুর। মঙ্গলবার ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭। ৯ ফাল্গুন ১৪২৩। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮
ckdf

সর্বশেষ খবর :

  • পুরানবাজার ট্রাঙ্কপট্টিতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড, আগুন নিয়ন্ত্রনে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস || পুরানবাজার ট্রাঙ্কপট্টিতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড, আগুন নিয়ন্ত্রনে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৮-সূরা কাসাস

৮৮ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মক্কী’

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৩৭। মূসা বলিল, ‘আমার প্রতিপালক সম্যক অবগত, কে তাহার নিকট হইতে পথ-নির্দেশ আনিয়াছে এবং আখিরাতে কাহার পরিণাম শুভ হইবে। যালিমরা কখনো সফলকাম হইবে না।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


assets/data_files/web

প্রতাপশালী লোককে সবাই ভয় পায়, কিন্তু শ্রদ্ধা করে না।                          


-জনগো।




তুমি কি আল্লাহকে ভালোবাসো? তাহলে এখন মানুষকে ভালোবাসতে শেখ। অর্থাৎ আল্লাহতায়ালাকে ভালোবাসার ইচ্ছা থাকলে প্রথমে মানুষকে ভালোবাসতে শেখ।


আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং কিছু কথা
মোঃ কায়ছার আলী
২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

"নানান দেশের নানান ভাষা, বিনে স্বদেশী ভাষা, পুরে কি আশা?" মাতৃভাষা সমাসবদ্ধ পদ। ব্যাকরণের দিক দিয়ে ৬ষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস। অভিধানে লেখা আছে স্বদেশের ভাষা। ভাষা খেলা করে জিভের ডগায়। ঘোষিত হয় গলার মধ্য দিয়ে। প্রাণ লাভ করে ফুসফুসে। আসলে ওর জন্ম বুকের মধ্যে। উৎস মানুষের মন। আমাদের মাতৃভাষা তিব্বতের গুহাচারী, মনসার দর্প চূর্ণকারী, আরাকানের রাজসভার মণিময় অলঙ্কার, বরেন্দ্র ভূমির বাউলের উদাস আহ্বান। মাইকেল মধুসূধন দত্ত, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম, বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষা আমার মাতৃভাষা, আমাদের মাতৃভাষা, বাঙালির মাতৃভাষা। প্রতিটি শিশুর জন্য মায়ের দুধ যেমন পুষ্টিকর ঠিক তেমনি প্রতিটি মানুষের জীবনের উন্নতির জন্য মাতৃভাষা পুষ্টিকর। ভাষা যে কোনো জাতির সৃজনশীল শক্তির অপূর্ব সৃষ্টি। জাতির মেধার অনন্য লালনক্ষেত্র। জাতির মননের আকর্ষণীয় স্থাপত্য। সারা বিশ্বে প্রায় সব ক্ষেত্রে ভাষার ভূমিকা এ রকমই হয়ে থাকে। আজ মহান একুশে ফেব্রুয়ারি। শুধু বাঙালি জাতির নয়, পৃথিবীর ছোট-বড় সব জাতির মাতৃভাষার মর্যাদা আর গুরুত্ব তুলে ধরার দিন। কৃষ্ণচূড়ার রক্ত লালে রাঙ্গানো বসন্তে আবার ফিরে এসেছে সেই ২১ ফেব্রুয়ারি। মাতৃভাষাকে চির অমস্নান করে একটা সংগ্রামের জাগ্রত চেতনার দিন। একটা লাল তারিখের অণু-পরমাণুতে গড়া নবচেতনার দিন, জীবন দর্শনের দিন। স্বার্থসিদ্ধির কালো মেঘের বক্ষ বিদীর্ণ করে সূর্য ওঠার দিন। বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষার দাবি তথা বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম সোপানের দিন।

আর্থ-সামাজিক অধিকার বঞ্চিত বাঙালি জাতি তার সকল বঞ্চনাকে এ ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে মূর্ত করতে চায়। ফলে দেখা যায় যে, বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়ার পরও এমনকি স্বাধীন বাংলাদেশে শহীদ দিবস ও শহীদ মিনারের আবেদন এতটুকু কমেনি। ইতিহাস গড়ে উঠে, ইতিহাস রচিত হয়। বাঙালি জাতীয়তাবাদের ইতিহাস এমনিভাবে প্রাণ পেয়েছে, যদিও তার প্রতি বাঁকে বাঁকে রয়েছে নির্মল রক্ত কণিকার মণিমুক্তা। পাকিস্তানের শাসকেরা বাংলাভাষাকে কোনোদিন সু-নজরে দেখেননি। তাদের বদ্ধমূল ধারণা ছিল যে, বাংলা হিন্দুর ভাষা, হিন্দু সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। তাই শাসক গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র শুরু করলো। ১৯৪৯ সালের ১২ই মার্চ প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত খান গণপরিষদের সদস্যদের মধ্য থেকে একটি 'মূলনীতি কমিটি' গঠন করেন এবং পাকিস্তানের সংবিধান রচনার মৌল বিষয়বস্তু নির্ধারণের ভার এই কমিটির উপর ন্যাস্ত করেন। ১৯৫০ সালে 'মূলনীতি কমিটির' রিপোর্ট প্রকশিত হয়। এই রিপোর্টে পূর্ব বাংলার জনমন বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পূর্ব বাংলার নেতৃবৃন্দ এতদিন যা দাবি করে এসেছে অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থা, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন তার কোনোটি এতে স্থান পায় নি। ১৯৫১ সালের ১৬ই অক্টোবর লিয়াকত আলী খান আততায়ীর হাতে নিহত হলে খাজা নাজিমুদ্দীন প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হলেন। তিনি ঢাকায় এসে ১৯৫২ সালের প্রথম দিকে ভাষার প্রশ্নটি আবার উত্থাপন করেন এবং পল্টন ময়দানে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর উক্তিটি আবার ঘোষণা করেন, "একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।" এবার কিন্তু প্রতিবাদের ঝড় তুমুল আকার ধারণ করল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি তারিখে অনুষ্ঠিতব্য প্রাদেশিক পরিষদের আসন্ন অধিবেশনকে সামনে রেখে দেশব্যাপী আন্দোলনের ভিত্তি রচনা করেন। ২১ ফেব্রুয়ারির পূর্বে কয়েকটি পথসভা, পতাকা দিবস পালন এবং সর্বত্রই জনগণের উৎসাহ উদ্দীপনা প্রকাশিত হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীরা জনগণের ভাষার এই মৌলিক দাবিটি তুলে ধরতে চেয়েছিলেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে ব্যাপক ভিত্তিক এক আন্দোলনের পত্তন করেন। কিন্তু প্রতিক্রিয়াশীল সরকার এই আন্দোলনকে চেয়েছিলেন বানচাল করতে। যদিও আন্দোলনের যৌক্তিকতা ছিল সন্দেহাতীত। পাকিস্তানের শতকরা আটজন লোক উর্দুতে কথা বলে, অথচ তা হবে রাষ্ট্রভাষা এবং যে ভাষায় দেশের শতকরা ৫৬ জন লোক কথা বলে তা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা লাভ করবে না-এই যুক্তি একমাত্র নির্বোধ ছাড়া সকলেই বোঝে। কিন্তু পাকিস্তান সরকার ছিল বলদর্পী ও ক্ষমতালোলুপ। তাই একুশে ফেব্রুয়ারির হরতালকে বানচাল করার জন্য শহরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। রফিক, জব্বার, শফিউর রহমান প্রমুখ অকালে ঢলে পড়ল, ঢাকার রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হলো এবং সব কিছই শুধুমাত্র মাতৃভাষার দাবিতে। পরবর্তীতে ১৯৫৩ সালের কমিটির রিপোর্টের আলোকে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম 'সরকারি ভাষা' হিসেবে মর্যাদা দানের সুপরিশ করা হয়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগের পরাজয়ে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন করে এবং ১৯৫৬ সালের সংবিধানে উর্দুর সঙ্গে বাংলাও রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

বর্তমানে আমাদের মাতৃভাষার ব্যবহার ও প্রয়োগ আরো ব্যাপকভাবে বাড়াতে হবে। লেখক, কবি, সাহিত্যিক. দার্শনিক প্রমুখ প্রত্যেকে মাতৃভাষায় তাদের কাব্য, সাহিত্য ও মতবাদ রচনা করেছেন এবং সম্মানিত হয়েছেন। মাইকেল মধুসূদন দত্ত মাতৃভাষা ছেড়ে ইংরেজিতে লিখতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে পুনরায় বাংলা ভাষায় লিখে আবার সম্মানিত হয়েছেন। বর্তমানে পৃথিবীতে ৬৭০০-এর উপরে ভাষা আছে। বর্তমান শতকে অধিক ভাষা হারিয়ে যাবে অর্থাৎ প্রতি সপ্তাহে একটি ভাষা বিলুপ্ত হচ্ছে। আমরা চাই আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভাষা দিনে দিনে আরো সমপ্রসারিত হোক।

সামপ্রতিককালে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ায় বাংলা ভাষার অনেক উন্নতি বা পরিবর্তন ঘটেছে। সরকারের দক্ষ এবং আন্তরিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে সাধারণ অধিবেশনে ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাকে যথার্থ স্থানে স্থান দেওয়ায় ১৮৮ টি দেশের সমর্থনে সারা বিশ্বে আজ যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে দিবসটি 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে পালিত হচ্ছে। শুধু এখানেই শেষ বলা যাবে না, যারা সেদিন ভাষা শহীদদের বুকে গুলি চালিয়েছিল তাদের দেশেও আজ দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। ২৩শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে যে প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয়েছিল এবং পরের দিন ২৪শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালের শহীদ শফিউর রহমানের গর্বিত পিতার হাতে উদ্বোধনের পরে বর্তমান শহীদ মিনারে এবং চির প্রবহমান নদীর ধারার মত দেশ ও বিদেশে অবস্থিত সকল শহীদ মিনার বা স্মৃতিস্তম্ভে আবালবৃদ্ধবনিতার মাধ্যমে ফুলে ফুলে বা ভালবাসার মালায় মালায় সিক্ত হয়ে শ্রদ্ধা আর ভক্তিতে ভরে উঠছে। আর অন্তরের অন্তঃস্থল হতে হৃদয়ের সমস্ত অনুভূতি দিয়ে আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত এবং প্রয়াত সুরকার আলতাফ মাহমুদের সুরে কালজয়ী গানটি দলে দলে গাইছে "আমার ভাইয়ের রক্ত রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি".......................................।

লেখক : শিক্ষক, ০১৭১৭-৯৭৭৬৩৪, শধরংধৎফরহধলঢ়ঁৎ@ুধযড়ড়.পড়স

আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৮১৭৩৪
পুরোন সংখ্যা