চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ১৪ এপ্রিল ২০১৬। ১ বৈশাখ ১৪২৩। ৬ রজব ১৪৩৭
ckdf

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৩-সূরা মূ’মিনূন

১১৮ আয়াত, ৬ রুকু, ‘মক্কী’

পরম করুণাাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৩৪। ‘যদি তোমরা তোমাদেরই মত একজন মানুষের আনুগত্য কর তবে তোমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হইবে;

৩৫। ‘সে কি তোমাদিগকে এই প্রতিশ্রুতিই দেয় যে, তোমাদের মৃত্যু হইতে এবং তোমরা মৃত্তিকা ও অস্থিতে পরিণত হইলেও তোমাদিগকে উত্থিত করা হইবে ?

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


আমি দুর্ভাগ্যকে স্বাগত জানাই, কারণ দুর্ভোগ্যের পরই সৌভাগ্য আসে।

-টমাস কিড।


যে ব্যক্তি (অভাবগ্রস্ত না হয়ে) ভিক্ষা করে, কেয়ামতের দিন তার কপালে একটি প্রকাশ্য ঘা হবে।

-হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)


ফটো গ্যালারি
নববর্ষের আগমন
মোঃ হাশিম প্রধানীয়া
১৪ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আল্লাহ পাক এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করে তাঁর সৌন্দর্যের জন্য আকাশম-লী, গ্রহ-নক্ষত্র সৃষ্টি করেছেন। এই সব সৃষ্টির দিন হতে মাস গণনা শুরু হয়েছে। আল্লাহতায়ালা আরবি ভাষায় বারটি মাসের কথা পাক কোরআনের সূরা তওবাতে উল্লেখ করেছেন। যথা : মহরম, সফর, রবিউল আউয়াল, রবিউস সানী, জমাদিউল আওয়াল, জমাদিউস সানি, রজব, সাবান, রমজান, শাওয়াল, জিলক্বদ, জিলহজ্ব। এই ভাবেই সৃষ্টি হয়েছে বর্ষ।



অনন্ত মহাকাল বয়ে চলেছে অনাদিকাল হতে। এই অনাদি কালও মানুষ খ-িত করেই পুনরায় আরম্ভের পক্ষপাতী। এই ভাবেই সৃষ্টি হয়েছে বর্ষের। পুরাতন বছরের জীর্ণ ক্লান্ত রাতের অবসান ঘটিয়ে পুরাতন বছরের ইতি টেনে উদিত হয় নতুন সূর্য। ছড়িয়ে পড়ে নতুন আলো। আসে নববর্ষের প্রথম প্রভাত পহেলা বৈশাখ, আসে নব সূর্যের শুভক্ষণ।



ঋতু পরিক্রমায় পুরানো বছর শেষ হয়ে গেলে সেই সঙ্গে শেষ হয় পুরাতন বছরের জীর্ণ ক্লান্ত রাতের অবসান। পুরাতন বছরের ইতি টেনে নতুন সূর্যের আলোয় আসে নববর্ষের শুভক্ষণ। আমাদের জাতীয় জীবনে আসে উৎসবের আমেজ। এই উৎসবের মর্মবাণী হলো : নতুন বছরের আমার আনন্দটুকু হোক সবার আনন্দ। তাই কবি গেয়েছেন-



নিশি অবসান, ওই পুরাতন



বর্ষ হলো গত-----



বন্ধু হও শত্রু হও যেখানে থেকে রও



ক্ষমা করো আজিকার মতো



পুরাতন বছরের সাথে পুরাতন অপরাধ যতো।



 



বাংলাদেশে জাতীয় উৎসবগুলোর মধ্যে পহেলা বৈশাখ বা নববর্ষ জাতীয়ভাবে উদ্যাপিত হয়ে থাকে। আমাদের নববর্ষ উৎসব জাতি, ধর্ম, শ্রেণী নির্বিশেষে সমস্ত বাঙালির জীবনে নব চেতনার আলোকে নতুন জীবন আগমনের দিন। যুগ যুগ ধরে এই দিনটি বাঙালি জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়ে থাকে।



আমাদের দেশে বিভিন্ন অঞ্চলে পহেলা বৈশাখ বিভিন্নভাবে উদ্যাপিত হয়ে থাকে। আজকে ডিজিটাল যুগে নববর্ষের প্রভাতেই দূর দূরান্তের বন্ধু আত্মীয় পরিজন একে অন্যকে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করে থাকে মুঠো ফোনে। তারপরেও চিঠিপত্রের মাধ্যমে শুভেচ্ছা বিনিময় করে থাকে।



নববর্ষের একটা বড় অনুষ্ঠান ব্যবসায়ীদের হালখাতা। আদিকাল থেকেই দোকানি ও ব্যবসায়ীরা নববর্ষের শুভ হালখাতার অনুষ্ঠান করে আসছে। পহেলা বৈশাখে দোকানিরা তাদের দোকানকে নানাভাবে সাজিয়ে থাকে। হালখাতায় আগতদের জানানো হয় প্রীতিময় শুভেচ্ছা ও কুশল। অতিথিদের মিষ্টি মিঠাই দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। দোকানের মালিক এ দিনে নতুন খাতা খুলে বসেন। সম্মুখে থাকে বড় একটা সাজানো থালা। আগত বেপারী, মহাজন, ক্রেতারা থালায় কিছু টাকা রেখে হালখাতার শুভ উদ্বোধন ও সম্মান জানান।



নববর্ষের আরেক বিরাট আকর্ষণ বৈশাখী মেলা। নাগরদোলা, তালপাতার ভেঁপুর আওয়াজ, খেলনা মিঠাই, হাড়ি কুড়ির বেসাতি, লোক শিল্প সামগ্রীর বেচাকেনা। বাউল গান, যাত্রাপালা ও লোক সংগীতের অনুষ্ঠান এসবই মেলার আকর্ষণ ও ঐতিহ্য। সেকালের বৈশাখী মেলা ছিল হৃদয়ে আকুল করা আনন্দ।। এ কালের ক্ষয়িষ্ণু অপসংস্কৃতির দাপটে নববর্ষের বৈশাখী মেলা তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে।



বিভিন্ন শহরের বিভিন্ন স্থানে নানাভাবে, নানা আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় নববর্ষ। বাংলা একাডেমীতে বৈশাখী মেলা, রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান এখন ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। আমাদের চাঁদপুরেও নববর্ষ উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে আকর্ষণীয় মেলার হাট বসে। বিশেষ করে বড় স্টেশনের মোলহেড রক্তধারার পাদদেশে এ মেলার আয়োজন করা হয়। প্রতি বছর জেলা প্রশাসক মহোদয় নববর্ষে সংগীতানুষ্ঠান ও খেলাধুলার আয়োজন করে থাকেন। চাঁদপুরের উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী প্রতি বছর হরেক রকম পান্তা ভর্তার আয়োজন করে থাকে। এ বছর প্রতিষ্ঠানটি আয়োজন করবে রকমারি পিঠা পুলি।



পাকিস্তান শাসন আমলে পহেলা বৈশাখী উদ্যাপনে বাধা ছিল অনেক। পহেলা বৈশাখ, ২৫শে বৈশাখ অনুষ্ঠান ছিল বাঙালি চেতনার সপক্ষে। পাকিস্তান শাসক গোষ্ঠীর দৃষ্টিতে বাঙালি জাতীয়তাবাদের সংস্কৃতির কথা যারাই বলতেন তারাই দেশের শত্রু। ফলে পহেলা বৈশাখ ও রবীন্দ্র জয়ন্তী একটা অপরাধ হিসেবেই গণ্য হতো। পূর্ব পাকিস্তানে পহেলা বৈশাখে নববর্ষের কোনো কর্মসূচি থাকত না। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশ আজ এই নিপীড়ন থেকে মুক্ত।



আজকে নববর্ষে আমাদের প্রার্থনা : তরুণ প্রজন্মের জন্য আগামী দিনগুলো হবে অপরাধ মুক্ত। কোনো হিংসা থাকবে না। থাকবে না বঙ্গবন্ধুর এই সোনার বাংলায় অসাম্প্রদায়িক চেতনায় কোনো মৌলবাদী। থাকবে না আজকের শিশুর জন্য কোনো অশুভ হুমকি, কোনো অশনি সংকেত। এই বাংলা থাকবে রাজাকার মুক্ত।



 



লেখক পরিচিতি : লেখক, সমালোচক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক, অধ্যাপক পাড়া, চাঁদপুর।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৭৬৭০৫
পুরোন সংখ্যা