চাঁদপুর। বুধবার ১১ জানুয়ারি ২০১৭। ২৮ পৌষ ১৪২৩। ১২ রবিউস সানি ১৪৩৮
ckdf

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৬-সূরা শু’আরা


২২৭ আয়াত, ১১ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১৮২। ‘এবং ওজন করিবে সঠিক দাঁড়িপাল্লায়’।


১৮৩। ‘লোকদিগকে তাহাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিবে না এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় ঘটাইবেন’।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন

যারা আত্মপ্রশংসা করে খোদা তাহাদের ঘৃণা করে।                     -সেন্ট ক্লিমেন্ট। 


নারী-পুরুষ যমজ অর্ধাঙ্গিনী।        


সাক্ষাৎকার : আব্দুল্লাহ আল মামুন
ইমাজিন কম্পিউটার্স থেকে সবসময়ই ঢাকার সমমূল্যে পণ্য বিক্রয় ও সঠিক ওয়ারেন্টি সেবা নিশ্চিত করা হয়
১১ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


 



আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি ১৯৯৪ সালে নিজের আগ্রহ থেকেই কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তির সেবার সাথে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। সেই থেকে পথচলা শুরু। নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে তিনি এখন চাঁদপুরের অন্যতম আইটি প্রতিষ্ঠান 'ইমাজিন কম্পিউটার্স'-এর সত্বাধিকারী। সম্প্রতি তাঁর সাথে কথা হয় তাঁর প্রতিষ্ঠান, চাঁদপুরের তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার, তাঁর ভবিষ্যৎ চিন্তা ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুহাম্মদ ফরিদ হাসান।



 



প্রযুক্তি কণ্ঠ : কেমন আছেন?



আব্দুল্লাহ আল মামুন : আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।



 



প্রযুক্তি কণ্ঠ : আপনার প্রতিষ্ঠান 'ইমাজিন কম্পিউটার্স' সম্পর্কে কিছু বলুন।



আব্দুল্লাহ আল মামুন : আমি প্রথম কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তির সাথে যুক্ত হই ১৯৯৪ সালে। এরপর ১৯৯৬ সালে 'আনছারী কম্পিউটার্স' নামে নিজে একটি প্রতিষ্ঠান দিই। মাঝখানে ১৯৯৮-৯৯ পারিবারিক কারণে খুলনা চলে যাই। সেখানে 'কম্পিউটার একাডেমী' নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালু করি। চাঁদপুরে 'ইমাজিন কম্পিউটার্স' নামে আবারো যাত্রা শুরু ২০০৪ সালে।



 



প্রযুক্তি কণ্ঠ : কীভাবে এ পেশায় আসলেন?



আব্দুল্লাহ আল মামুন : প্রযুক্তি বিষয়ে জানার আগ্রহ_হার্ডওয়্যার, নেটওয়ার্কিং ও প্রোগ্রামিং বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং পরবর্তীতে প্রযুক্তি সেবা দেয়ার মানসিকতা থেকে এ পেশায় আসি। আমি এটিকে একটি সেবামূলক কাজ মনে করি।



 



প্রযুক্তি কণ্ঠ : আপনার ক্রেতাদের অধিকাংশ কোন বয়সী মানুষ?



আব্দুল্লাহ আল মামুন : মোটামুটি স্কুল পড়ুয়া থেকে শিক্ষক, ব্যাংকার, ব্যবসায়ী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সাধারণ মানুষ সবাই আমাদের ক্রেতা।



 



প্রযুক্তি কণ্ঠ : আপনার এখানে কোনো ই-পরামর্শ কি দেয়া হয়?



আব্দুল্লাহ আল মামুন : আমাদের একটি কাস্টমার কেয়ার নাম্বার রয়েছে। ০১৬২০-৭৬১২৫৮। সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত (শুক্রবার বাদে) যে কেউ এই নাম্বারে ফোন করে কম্পিউটার হার্ডওয়্যার, সফ্টওয়্যার, কম্পিউটার ট্রেনিং, আউটসোর্সিং ইত্যাদি যে কোনো বিষয়ে প্রযুক্তি সেবা নিতে পারেন।



 



প্রযুক্তি কণ্ঠ : আপনাদের এখানে বেশি বিক্রিত পণ্য কোনটি?



আব্দুল্লাহ আল মামুন : ব্রান্ড ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, প্রিন্টার, টোনার, সিসিটিভি, রাউটারসহ সকল প্রকার আইসিটি পণ্যই আমরা সুলভে বিক্রি করছি। কোয়ালিটি প্রোডাক্টের পাশাপাশি আমরা ক্রেতাকে সঠিক বিক্রয়োত্তর সেবার নিশ্চয়তা দিচ্ছি।



 



প্রযুক্তি কণ্ঠ : অনেক বছর ধরে এই পেশায় আছেন। গত পাঁচ বছরে চাঁদপুরবাসীর মধ্যে প্রযুক্তি ব্যবহারে কী ধরনের পরিবর্তন আপনি দেখেছেন?



আব্দুল্লাহ আল মামুন : গোটা বিশ্বেই প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এখন বিভিন্ন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দিনদিন মানুষের প্রযুক্তি নির্ভরতা বাড়ছে। গত পাঁচ বছরের হিসেবে বলতে গেলে মানুষের মধ্যে প্রযুক্তি পণ্য ব্যবহার ও সচেতনতা বেড়েছে। তবে প্রযুক্তি পণ্য যতটা সহজলভ্য হয়েছে আমাদের নতুন প্রজন্ম প্রযুক্তি বিষয়ে ততোটা দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি বলে মনে করি। ইন্টারনেটের তথ্য ভা-ার আমাদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে ঠিকই তবে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নেটওয়ার্কিং, প্রোগ্রামিং, ওয়েব ডিজাইন এবং আউটসোর্সিংয়ে তরুণ প্রজন্ম সে হারে এগিয়ে আসতে পারছে না। চাঁদপুরও এর ব্যতিক্রম নয়। আমি এবং আমার প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তি সেবার পাশাপাশি ২০০২ সাল থেকে প্রফেশনাল কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও আউটসোর্সিং নিয়ে কাজ করে আসছি। ইতোপূর্বে আমরা সার্কিট হাউজ, চাঁদপুর সরকারি কলেজের কম্পিউটার ল্যাব ও চাঁদপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগে বিভিন্ন সময়ে আউটসোর্সিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। যার ধারাবাহিকতায় ইউনিয়ন ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের 'শেখ রাসেল আইসিটি ল্যাবে' ইউনিয়নকেন্দ্রিক আউটসোর্সিং বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ চলছে। ভবিষ্যতে চাঁদপুরে তথ্য প্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে আরো ব্যাপকভাবে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।



 



প্রযুক্তি কণ্ঠ : বর্তমানে কোনো পণ্যের বিশেষ ছাড় চলছে কী?



আব্দুল্লাহ আল মামুন : বিভিন্ন ব্রান্ডের ল্যাপটপ এবং প্রিন্টারে আকর্ষণীয় মূল্যছাড় এবং গিফট অফার চলছে। যা ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিভিন্ন আইটি মেলার সাথে সমমূল্যে দেয়া হচ্ছে। আমাদের এ 'নিউ ইয়ার প্রমোশন সেল্স এ- উইন্টার ফেস্টিভ্যাল' চলবে ৩০ জানুয়ারি-২০১৭ পর্যন্ত।



 



প্রযুক্তি কণ্ঠ : কিস্তিভিত্তিক কোনো পণ্য কেনার সুবিধা কী আপনারা দিয়ে থাকেন?



আব্দুল্লাহ আল মামুন : আইসিটি পণ্যে কিস্তি সুবিধা নেই বললেই চলে। তারপরও আমরা ল্যাপটপ ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত শিক্ষকগণকে কিস্তি সুবিধা দিয়ে আসছি। ভবিষ্যতেও আমরা এ সুবিধা চলমান রাখার চেষ্টা করব।



 



প্রযুক্তি কণ্ঠ : চাঁদপুরের আইটি ব্যবসা করার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা কী আপনি বোধ করেন?



আব্দুল্লাহ আল মামুন : চাঁদপুর থেকে ঢাকার দূরত্ব কম হওয়াটা এবং যোগাযোগ মাধ্যম সহজ হওয়াটা চাঁদপুরের আইটি ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ বলে মনে করি। তবে ইমাজিন কম্পিউটার্স থেকে সবসময়ই ঢাকার সমমূল্যে পণ্য বিক্রয় ও সঠিক ওয়ারেন্টি সেবা নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া চাঁদপুরে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির কার্যক্রম না থাকাটাও একটি সমস্যা।



 



প্রযুক্তি কণ্ঠ : যারা আপনার মতো আইটি নিয়ে ব্যবসা করতে চায়, তাদের উদ্দেশে কিছু বলুন।



আব্দুল্লাহ আল মামুন : অন্য যে কোন ব্যবসা থেকে আইটি ব্যবসা নিঃসন্দেহে ডিসেন্ট, স্টাইলিশ এবং অ্যাট্রাক্টিভ। তবে নতুন যারা এই সেক্টরে আসতে চায় তাদেরকে শুধুমাত্র সেলস কেন্দ্রিক ব্যবসার চিন্তা না করে ওয়েব ডিজাইন, আউটসোর্সিং, প্রোগ্রামিংয়ের মতো বিষয়গুলো মাথায় রাখতে বলবো। কারণ সেলসে প্রতিনিয়ত প্রতিযোগিতা বাড়ছে। তারপরও সেলসে আসতে চাইলে হার্ডওয়্যার, সফ্টওয়্যার ও নেটওয়ার্কিং বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ/প্রস্তুতি থাকাটা জরুরি। যাতে করে ক্রেতাকে যথাযথ সেবা দেয়া যায়। মনে রাখতে হবে, প্রযুক্তি পণ্যের সাথে সেবা প্রদানের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।



 



প্রযুক্তি কণ্ঠ : অবসর সময়ে কী করেন?



আব্দুল্লাহ আল মামুন : পারিবারিক পরিবেশে সময় কাটাই।



 



প্রযুক্তি কণ্ঠ : সবশেষে কী বলবেন?



আব্দুল্লাহ আল মামুন : চাঁদপুর কণ্ঠ, সুধী পাঠক ও সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। সকলের পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৬৪৮২৩
পুরোন সংখ্যা