চাঁদপুর। বুধবার ১১ জানুয়ারি ২০১৭। ২৮ পৌষ ১৪২৩। ১২ রবিউস সানি ১৪৩৮
ckdf

সর্বশেষ খবর :

  • পুরানবাজার ট্রাঙ্কপট্টিতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড, আগুন নিয়ন্ত্রনে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস || পুরানবাজার ট্রাঙ্কপট্টিতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড, আগুন নিয়ন্ত্রনে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৬-সূরা শু’আরা


২২৭ আয়াত, ১১ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১৮২। ‘এবং ওজন করিবে সঠিক দাঁড়িপাল্লায়’।


১৮৩। ‘লোকদিগকে তাহাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিবে না এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় ঘটাইবেন’।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন

যারা আত্মপ্রশংসা করে খোদা তাহাদের ঘৃণা করে।                     -সেন্ট ক্লিমেন্ট। 


নারী-পুরুষ যমজ অর্ধাঙ্গিনী।        


বিশেষ সাক্ষাৎকার : এহসানুল ইসলাম
জাপানে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে কাজে লাগাতে পারলে ভালো লাগবে
১১ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


এহসানুল ইসলামের জন্ম রাজবাড়িতে। ১৯৯১ সালে তেজগাঁও আইডিয়াল স্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৯৩ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। উচ্চশিক্ষার নেয়ার জন্য মনবুশো স্কলারশিপ নিয়ে ১৯৯৪ সালে জাপান যান। টোকিও ইউনিভার্সিটি অব ইলেকট্রোকমিউনিকেশন থেকে ২০০০ সালে বিএসসি এবং ২০০২ সালে এমএসসি পাস করেন। ২০০৯ সালে সুকুবা ইউনিভার্সিটি থেকে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস এ এমবিএ করেন। ২০০২ সালে অ্যাজাইলেন্ট টেকনোলজিতে অ্যাপলিকেশন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগগান করেন। পরবর্তীকালে মটোরোলা, ভোডাফোন, প্যাকেট-ভিডিওতে কাজ করে ২০১৩ সালে কোয়ালকমে সিনিয়র ডিরেক্টর হিসেবে যোগ দেন। সিডিএমএ এবং পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তি থ্রি-জি, ফোর-জি তে নেতৃত্ব দেয়া প্রতিষ্ঠান কোয়ালকমের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান কোয়ালকম সিডিএমএ টেকনোলজিসের সিনিয়র ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছেন। সম্প্রতি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য দেশে আসলে তার সাথে কথা বলেন নাদিম মজিদ।



 



নাদিম মজিদ : কোয়ালকম কি নিয়ে কাজ করে?



এহসানুল ইসলাম : যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান কোয়ালকম টেলিকমিউনিকেশন পণ্যের সেমিকন্ডাক্টর চিপ, প্লাটফর্ম এবং সেবা প্রদান করে থাকে। থ্রি-জি, ফোর-জি এবং পরবর্তী প্রজন্মের টেলিকমিউনিকেশন সামগ্রী উৎপাদনে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে কোয়ালকম। কোম্পানির আয়ের বড় অংশ আসে সেমিকন্ডাক্টর চিপ এবং থ্রি-জি, ফোর-জি উদ্ভাবনের প্যাটেন্ট লয়ালিটি থেকে।



 



নাদিম মজিদ : কোয়ালকম এখন ফাইভ জি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। প্রযুক্তির সুবিধা কেমন হবে?



এহসানুল ইসলাম : তথ্যপ্রযুক্তি দ্রুত-ই এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতি ১০ বছরে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসছে। আগামী তিন-চার বছরের মধ্যে ফাইভ জি প্রযুক্তির মাধ্যমে সেবা প্রদান শুরু হবে। আজকাল স্মার্টফোনের সাহায্যে ইলেকট্রিক সামগ্রীগুলো নিয়ন্ত্রণের সুবিধা তৈরি হয়েছে। ইলেকট্রিক সামগ্রীগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য ভিন্ন ভিন্ন নেটওয়ার্ক এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজন হচ্ছে। টুজি, থ্রিজি, ফোর-জি, বস্নূটুথ, জিগবি, ওয়াইফাই প্রভৃতি আলাদা আলাদা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য।



 



ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ২০২০ সালের মধ্যে ত্রিশ বিলিয়ন ইলেকট্রিক ডিভাইস ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হবে। সব ধরনের ইলেকট্রিক ডিভাইসকে ফাইভ জি প্রযুক্তির সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।



ফাইভ জির প্রধান বৈশিষ্ট্য হল, ডাটা-রেট হবে গিগা-বিট এর বেশি, একই ইন্টারফেস দিয়ে যুক্ত হতে পারবে ফোর-জি, বস্নূটুথ, জিগবি, ওয়াইফাই মত বিভিন্ন প্রযুক্তি। আপনার মোবাইল ডিভাইসে সহজেই উপভোগ করতে পারবেন ভারচুয়াল রিয়েলিটি। যেমন, বাসায় বসেই আপনি জাপান ভ্রমণের অথবা স্কুবা ডাইভিংয়ের অনুভূতি উপভোগ করতে পারবেন।



বেশ কিছু মোবাইল ফোন অপারেটর ফাইভ জি প্রযুক্তিতে সেবা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ২০২০ সালে জাপানে অলিম্পিক গেমস অনুষ্ঠিত হবে। জাপানের মোবাইল ফোন অপারেটররাও ২০২০ সালের মধ্যে ফাইভ-জি প্রযুক্তিতে সেবা প্রদানের লক্ষ্যে বিভিন্ন পার্টনারের সাথে কাজ করে যাচ্ছে।



 



নাদিম মজিদ : ফাইভ জির ক্ষেত্রে ডাটা রেট কেমন হতে পারে?



এহসানুল ইসলাম :ফাইভ জি নিয়ে বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করে যাচ্ছে। এখনো ফাইভ জির জন্য নূ্যনতম স্ট্যান্ডার্ড তৈরি হয়নি। ফাইভ জির স্ট্যান্ডার্ড কেমন হতে পারে, তা নিয়ে কাজ করছে থ্রি জি পিপি নামে একটি প্রতিষ্ঠান। নেটওয়ার্ক ভেন্ডর এবং চিপসেট তৈরিতে নেতৃত্ব প্রদানকারী কোম্পানিগুলো থ্রিজিপিপিকে ফাইভ জির বৈশিষ্ট্য নির্ধারণে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ইন্টারনেট স্পিডের ডাউনলিংক এবং আপলিংকের স্পিড প্রতি সেকেন্ডে এক জিবির বেশি হবে। সেবা প্রদান করা হবে ২৬ অথবা ৩৭ গিগাহার্জের ফ্রিকোয়েন্সি দিয়ে।



 



নাদিম মজিদ : কল সংযোগের ক্ষেত্রে সময় কেমন লাগতে পারে?



এহসানুল ইসলাম :এখন এক মোবাইল নাম্বার থেকে আরেক মোবাইল নাম্বারে কল দিলে প্রথম কলটি বেস স্টেশনে যায়। পরবর্তীকালে বেস স্টেশন থেকে সুইচিং রুম হয়ে নাম্বারটি খুঁজে বের করে একই বেস স্টেশন অথবা অন্য বেস স্টেশন হয়ে সে নাম্বারে কল প্রেরণ করে। ফাইভ জি প্রযুক্তিতে বেস স্টেশনের ধারণা নাও থাকতে পারে। এখন কথা বলতে গেলে অনেক সময় কল কেটে যায়, ভেঙ্গে যায়। তখন এ সমস্যা থাকবে না।



নাদিম মজিদ : ফাইভ জি প্রযুক্তি বাজারে আসলে জনজীবনে কেমন পরিবর্তন সাধিত হতে পারে?



এহসানুল ইসলাম :ফাইভ জি হবে ব্রেকিং থ্রু টেকনোলজি। আমাদের জনজীবনে অভূতপূর্ব পরিবর্তন নিয়ে আসবে। গ্রামের কোনো হাসপাতালে রোগী ভর্তি হয়ে থাকলে ডাক্তার তাকে শহর থেকে চেকাপ করতে পারবেন। এমনকি শহরে বসেই অপারেশন করে রোগীকে সারিয়ে নিতে পারবেন। সেক্ষেত্রে অপারেশনের যন্ত্রপাতিগুলোকে ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় রাখতে হবে। চালকবিহীন গাড়ি প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। গাড়ির অপারেটর বাইরে থেকে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে।



এখন ড্রোনের ব্যবহার সীমাবদ্ধ। এ প্রযুক্তি ব্যবহার ব্যয়বহুল। ফাইভ জি প্রযুক্তি বাজারে আসলে ড্রোনের ব্যবহার সহজ হবে। এক শহর থেকে আরেক শহরে ড্রোনের সাহায্যে ওষুধপত্র এবং বিভিন্ন জরুরি সামগ্রী পাঠানো যাবে। খরচ কম পড়বে।



 



নাদিম মজিদ : ফাইভ জি প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য কি কি প্রস্তুতির প্রয়োজন হতে পারে?



এহসানুল ইসলাম :ফাইভ জি প্রযুক্তি বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ২৬ অথবা ৩৭ গিগাহার্জের ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ করে এমন চিপ এবং ডিভাইস বানাতে হবে, বিশেষ করে অ্যান্টেনা ডিজাইন করা হবে জটিল।



ফাইভ জি প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দেয়ালভেদ করে ঘরের ভেতর কল যাওয়া কঠিন হবে, সেক্ষেত্রে সমাধান হিসেবে ঘরের ভেতর ছোট সেল রাখার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে সে সেল দিয়ে বাইরের কলের সাথে সংযোগ ঘটবে।



সব থেকে বড় ব্যাপার হল, ফাইভ জির কোনো মানদন্ড এখনো তৈরি হয়নি। এ মানদন্ড তৈরি হতে আরো কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।



 



নাদিম মজিদ : আপনি জাপানে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন। বাংলাদেশের পড়াশোনার সাথে জাপানের আইটি পড়াশোনার পার্থক্য কি?



এহসানুল ইসলাম : বাংলাদেশে আইটি সেক্টরের মৌলিক বিষয়গুলোকে বেশি করে গুরুত্ব দেয়া হয়। সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট বিষয় বা লক্ষ্য নিয়ে সেভাবে পড়ানো হয় না। জাপানে উচ্চশিক্ষার শুরুতে একটি সেক্টর ঠিক করে পড়ানো হয়। ফলে দেখা যায়, সে যে সেক্টরে পড়াশোনা করেছে, সে সেক্টরের বাইরে তার ধারণা কম থাকে। কিন্তু নিজের সেক্টরে সে ভাল করছে। সেখানে গবেষণাকে বেশ গুরুত্ব দেয়া হয়। আন্ডারগ্রাজুয়েট এবং পোস্ট গ্রাজুয়েট পর্যায়ে গবেষণা করে রিসার্চ পেপার প্রকাশ করতে হয়।



 



বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের সব বিষয়ে ধারণা থাকলেও পড়াশোনা শেষ হলে তার কাজের দক্ষতা সেভাবে তৈরি হয় না। প্রথম দিকে তাকে কষ্ট করতে হয়। তাকে ধরিয়ে দিলে পরবর্তীতে সে অন্যদের তুলনায় ভাল করে।



 



নাদিম মজিদ : তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরকে বাংলাদেশে বেশ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ সেক্টরে বাংলাদেশের অগ্রগতি নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কি?



এহসানুল ইসলাম : গত ৫-১০ বছরে বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরে ভাল এগিয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রাজুয়েট বের হয় প্রতিবছর। কম খরচে জনশক্তি সহজলভ্য হওয়ায় অনেক দেশ বাংলাদেশে কাজ করতে চায়। আবার অনেক সেক্টরে বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে। যেমন মোবাইল মানি ব্যাংকিং, গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইআরপি ব্যবহারসহ অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ নিজেরা-ই ভাল করছে। অনেক প্রবাসী বাইরের দেশে আছে, তারা বাংলাদেশে বর্তমানে কাজের এ ধারাকে কাজে লাগিয়ে কাজ করতে চাচ্ছে। আইসিটি মন্ত্রণালয়ও বিভিন্নক্ষেত্রে তাদের পলিসিকে উন্নত করছে।



 



নাদিম মজিদ : আপনার মতে, বাংলাদেশের আইসিটি সেক্টরের সামনে কি কি চ্যালেঞ্জ রয়েছে?



 



এহসানুল ইসলাম :প্রথমত, বাংলাদেশে মানসম্মত প্রকৌশলীর অভাব রয়েছে। প্রতিবছর প্রচুর গ্রাজুয়েট চাকুরির বাজারের জন্য বের হয় । কিন্তু তাদের মধ্যে মানসম্মত প্রকৌশলী পাওয়া কঠিন। দ্বিতীয়ত, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অবজেক্ট অরিয়েন্টেড পড়াশোনা সেভাবে করানো হয় না। তাই, পড়াশোনা শেষ হলেই তাদেরকে কোনো প্রজেক্টে ভরসা করা যায় না। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে সিএসই গ্রাজুয়েট বলতেই ওয়েবসাইটের হোমপেইজ বানানো বুঝানো হয়। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম আপডেটেড থাকে না। বিশ বছর পুরনো প্রযুক্তি নিয়ে পড়াশোনা করানো হয়।



 



তৃতীয়ত, বাংলাদেশের আইটি ইন্ডাস্ট্রি ছোট। তাই অভিজ্ঞতা নেয়ার সুযোগ কম। শেখার মত প্রচুর ইন্ডাস্ট্রি সেভাবে তৈরি হয় নি।



 



নাদিম মজিদ : অভিজ্ঞতা নেয়ার জন্য ইন্টার্নশিপের সুযোগ নিতে পারেন শিক্ষার্থীরা...



 



এহসানুল ইসলাম : ইন্টার্নশিপের সাহায্যে শিক্ষার্থীরা অ্যাকাডেমিক জ্ঞান কাজে লাগাতে পারেন। প্রকৌশলের অন্যান্য সেক্টরে ইন্টার্ন করার ভাল সুযোগ থাকলেও আইটি সেক্টরে ইন্টার্ন করার সুযোগ কম। বেশিরভাগ কোম্পানিগুলোতে ২০-৩০ জনের বেশি কর্মচারি থাকে না। তাই তাদেও ইন্টার্নশিপ করানোর মত দক্ষতাও থাকে না।



নাদিম মজিদ : বাংলাদেশকে নিয়ে আপনার বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে কিনা..



এহসানুল ইসলাম : জাপানে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে কাজে লাগাতে পারলে ভাল লাগবে। বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় স্টার্টআপগুলোর বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আসতে আমি সহযোগিতা করার চেষ্টা করব। দেশের পলিসি নির্ধারণে সাহায্য করার সুযোগ থাকলে তাতে সাহায্য করতে চাই।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৯৩৩৮৪
পুরোন সংখ্যা