চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ১৬ মার্চ ২০১৭। ২ চৈত্র ১৪২৩। ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৭-সূরা নাম্ল 


৯৩ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৪৯। উহারা বলিল, ‘তোমরা আল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ করো, ‘আমরা রাত্রিকালে তাহাকে ও তাহার পরিবার-পরিজনকে অবশ্যই আক্রমণ করিবো; অতঃপর তাহার অভিভাবককে নিশ্চয়ই বলিল, ‘তাহার পরিবার-পরিজনের হত্যা আমরা প্রত্যক্ষ করি নাই; আমরা অবশ্যই সত্যবাদী।’


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


যে লোক ভদ্র, কথায় সে নগ্ন।  


                        -হযরত আলী (রাঃ)।

মানবতাই মানুষের শ্রেষ্ঠতম গুণ।   


চাঁদপুরের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই আইসিটির শিক্ষক
প্রযুক্তি কণ্ঠ প্রতিবেদক
১৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

চাঁদপুরের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের শিক্ষক নেই। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা কারিকুলামে আইসিটি বাধ্যতামূলক করা হলেও এ বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া যাচ্ছে না। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানে আইসিটির শিক্ষক নিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। কারণ, সরকারি স্কুলে এখনো এ বিষয়ে শিক্ষকের পদ সৃষ্টি হয়নি। অন্যদিকে বেসরকারি স্কুলে আইসিটির শিক্ষক নিয়োগ দেয়া গেলেও এমপিও দেয়া হচ্ছে না। ফলে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে চাঁদপুরের আইসিটি শিক্ষা কার্যক্রম। এক প্রকার টেনে টেন চলছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের পাঠদান কার্যক্রম। স্কুলগুলোর চেয়ে মাদ্রাসাগুলোতে এই অবস্থা আরো শোচনীয়। আইসিটি শিক্ষক না থাকার কারণে একদিকে যেমন বিঘ্ন হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম, তেমনি পিছিয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা।

সরকার শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তিমুখী করতে ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি মাধ্যমিক পর্যায়ে আইসিটি কোর্সটি চালু করে। এ বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হলেও বাধ্যতামূলক করা হয় নি শিক্ষক। সারাদেশেই এ অবস্থা বিদ্যমান। চাঁদপুরের বিভিন্ন স্কুলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনেক স্কুলেই আইসিটির শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা এমপিওভুক্ত হতে পারছেন না। প্রায় বিনা বেতনেই তারা পড়াচ্ছেন। কোনো কোনো স্কুলে নিয়োগ দেয়া হয় নি আইসিটি শিক্ষক। তারা অন্য কোনো বিষয়ের সহকারী শিক্ষককে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে চালিয়ে নিচ্ছেন পাঠদান কার্যক্রম। চাঁদপুরের কলেজগুলোর অবস্থাও স্কুলগুলোর মতো। তারাও আইসিটির শিক্ষক না থাকার কারণে অন্য শিক্ষক দিয়ে চালাচ্ছেন পাঠদান কার্যক্রম।

মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার সাহা বলেন, সরকারি স্কুলে এখনো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের শিক্ষকের কোনো পদ সৃষ্টি হয় নি। আমরা একজন সহকারী শিক্ষককে আইসিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আইসিটি বিষয়ে কোনো শিক্ষক না থাকায় স্বাভাবিক ভাবেই আমরা শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে পাঠদান করাতে পারছি না। আইসিটি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্যে অতিদ্রুত আইসিটির শিক্ষক পদ সৃষ্টি করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এমএ মতিন মিয়া বলেন, আইসিটি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্যে সরকার এখন পর্যন্ত কোনো পদ সৃষ্টি হয় নি। আমরা আমাদের শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়টির পাঠদান করাচ্ছি। সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে তাদেরকে ট্রেনিং দিয়ে এনেছি। তারা শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন। তবে আইসিটির শিক্ষকের পদসৃষ্টি হওয়ার পক্রিয়া চলছে। আমাদের অধ্যক্ষ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। আইসিটি বিষয়ে শিক্ষক পদ সৃষ্টি হলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের পাঠদান কার্যক্রম নিঃসন্দেহে সমৃদ্ধ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

চাঁদপুরের শিক্ষা সচেতন মানুষ মনে করেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হলেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো শিক্ষকের পদ সৃষ্টি হয় নি। এটি শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যে খুব দুঃখজনক ঘটনা। যেখানে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, সেখানে স্কুল-কলেজের আইসিটির শিক্ষক পদই সৃষ্টি হয়, এটি শিক্ষা বিভাগের অব্যবস্থাপনা। বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে অতিদ্রুত আইসিটি শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করা উচিত।

সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকের সাথে কথা বলতে গিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) পরিচালক অধ্যাপক ড. এসএম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, বাধ্যতামূলক বিষয়ের শিক্ষকদের এমপিও দেয়ার যৌক্তিকতা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এরই মধ্যে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। এমপিও দেয়া বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা আছে।'

আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৪৭১৬
পুরোন সংখ্যা