চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ১৬ মার্চ ২০১৭। ২ চৈত্র ১৪২৩। ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • আজ ভোরে অ্যাডঃ এ.বি.এম. মোনাওয়ার উল্লা মৃত্যুবরন করেছেন (ইন্নালিল্লাহে.....রাজেউন)। তাঁর মৃত্যুতে চাঁদপুর রোটারী ক্লাব ও চাঁদপুর ডায়াবেটিক সমিতির পক্ষ থেকে গভীর শোক জানিয়েছেন
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৭-সূরা নাম্ল 


৯৩ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৪৯। উহারা বলিল, ‘তোমরা আল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ করো, ‘আমরা রাত্রিকালে তাহাকে ও তাহার পরিবার-পরিজনকে অবশ্যই আক্রমণ করিবো; অতঃপর তাহার অভিভাবককে নিশ্চয়ই বলিল, ‘তাহার পরিবার-পরিজনের হত্যা আমরা প্রত্যক্ষ করি নাই; আমরা অবশ্যই সত্যবাদী।’


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


যে লোক ভদ্র, কথায় সে নগ্ন।  


                        -হযরত আলী (রাঃ)।

মানবতাই মানুষের শ্রেষ্ঠতম গুণ।   


মঙ্গলের পথে বাংলাদেশের যান
নাদিম মজিদ
১৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

মঙ্গলগ্রহে গবেষণা বা চলাফেরার জন্য প্রয়োজন যানবাহন। যানবাহনে জ্বালানি ব্যবহার করলে একটি নির্দিষ্ট সময় পর তা শেষ হয়ে যায়। মঙ্গলগ্রহে জ্বালানি ব্যবহার না করে মানুষের উপযোগী যানবাহনের সন্ধান পেতে 'নাসা হিউম্যান এঙ্প্লোরেশন রোভার চ্যালেঞ্জ' নামের প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে নাসা। প্রতিবছরই এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় ইউএস স্পেস অ্যান্ড রকেট সেন্টারে। এ বছর ৩০ মার্চ প্রতিযোগিতার পর্দা উঠবে, চলবে ১ এপ্রিল পর্যন্ত।

প্রতিযোগিতায় রোভারের (বাহন) কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে। রোভারকে পাঠানো হয় একটি রকেটের সাহায্যে। রকেটের ভেতরে রোভারের জন্য রাখা বাঙ্রে দৈর্ঘ্য ৫ ফুট, প্রস্থ ৫ ফুট ও উচ্চতা ৫ ফুট। এ বঙ্রে ভেতরে রাখার উপযোগী করে রোভারটি তৈরি করতে হয়। প্রয়োজনে রোভারকে ভাঁজ করা যাবে। রোভারটি মঙ্গলগ্রহে দুজন নভোচারী পরিচালনা করবে। সে উপযোগী করে প্রতিযোগিতায় একজন ছাত্র ও একজন ছাত্রী রোভারটি পরিচালনা করবেন। শুধু ধারণা দিলেই হবে না, প্রতিযোগিতায় রোভারটিকে আধা মাইল পথ পাড়ি দিতে হবে। তাও গতানুগতিক পিচঢালা মসৃণ রাস্তা নয়। মঙ্গলগ্রহের ভূমির আদলে তৈরি বিশেষ পথ পাড়ি দিতে হবে। এ জন্য ইউএস স্পেস অ্যান্ড রকেট সেন্টারে গড়ে তোলা হয়েছে মঙ্গলগ্রহের উপযোগী ভূমি, সেখানকার আবহাওয়া, গর্ত এমনকি পাহাড়ও। রোভারটিকে প্রয়োজনে সে পাহাড়গুলো গুঁড়িয়ে দিতে হবে। গর্তগুলো ভরাট করতে হবে।

প্রতিযোগিতাটি মূলত দুটি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত। প্রথম ক্যাটাগরিতে হাই স্কুল ও দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়ে থাকেন। প্রতিটি ক্যাটাগরি থেকে তিনটি দলকে পুরস্কৃত করা হয়। প্রতিটি ক্যাটাগরির জন্য ১০টি বিশেষ পুরস্কারও দেয়া হয়ে থাকে। এ বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৯৩টি দল এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে।

এ বছর বাংলাদেশ থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে 'এআরসি লিগ্যাসি রিলোডেড'। দলে রয়েছেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছয় শিক্ষার্থী। মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে দলের বাকি সদস্যরা হলেন জসিম উদ্দিন, শশাঙ্ক কুমার প্রামাণিক, চৌধুরী মিফতাহ মাহমুদ, শাবাব ইকবাল ও সিফাত নূর। সিফাত নূর কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী। বাকি সদস্যরা সবাই ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী। দলটির ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে রয়েছেন এআইইউবির সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ইবাদ জহির।

গত বছর দলটি এআইইউবি রোবটিক ক্রু নামে অংশ নেয় যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি রোভার চ্যালেঞ্জে। সেখানে তারা অষ্টম স্থান অর্জন করে। এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার কারণে নাসার প্রতিযোগিতাটি তাদের সামনে সহজ হয়ে যায়। গত ডিসেম্বরে তারা এ প্রতিযোগিতার উপযোগী রোভার তৈরির কাজ শুরু করে। এরই মধ্যে তাদের রেজিস্ট্রেশন হয়ে যায়। মার্কিন দূতাবাসও তাদের ভিসা মঞ্জুর করে। গত ২ ফেব্রুয়ারি তাদের রোভার তৈরির কাজ শেষ হয়।

গত বছর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার কারণে তারা এ রোভার তৈরির কাজটি সহজ হবে বলেই ধরে নিয়েছিল। এ জন্য সফটওয়্যার তৈরি করেছিল তারা। কিন্তু যে স্টিলের ওপর ভরসা করে তারা সফটওয়্যার তৈরি করেছিল, তা বাংলাদেশের বাজারে নেই। সময় কম হওয়ায় বিদেশ থেকে সে স্টিল আনাও সম্ভব ছিল না। সে স্টিল খোঁজার জন্য চট্টগ্রামের কয়েকটি কারখানায়ও গিয়েছিল দলের সদস্যরা। সেখানেও না পেয়ে নতুন করে স্টিল পছন্দ করে। সে স্টিল দিয়ে বানানো হয়েছে এ রোবট। রোভার তৈরিতে তাদের খরচ পড়েছে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা।

আগের প্রতিযোগিতাগুলোয় প্রতিযোগীদের আইডিয়া ভালো হলে সে আইডিয়াগুলোর কিছু কিছু অংশ নিয়ে নাসা নিজে রোভার তৈরি করত। কিন্তু এ প্রতিযোগিতায় রোভার বিজয়ী হলে সরাসরি সে রোভারটিকেই মঙ্গলগ্রহে পাঠাবে নাসা।

দলপতি মাহফুজুর রহমান জানান, 'মঙ্গলগ্রহে সরাসরি আমাদের যানবাহন যাবে বলে আমরা আশাবাদী। এ প্রতিযোগিতা আমাদের সে সুযোগ সামনে নিয়ে এসেছে। আমরা সবার দোয়া প্রার্থী। আমরা নিজেদের খরচে রোবটটি বানিয়েছি। যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ায় কোনো প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করলে আমরা উপকৃত হব।'

আজকের পাঠকসংখ্যা
২২৬৯৯
পুরোন সংখ্যা