চাঁদপুর। রোববার ০৯ জুলাই ২০১৭। ২৫ আষাঢ় ১৪২৪। ১৪ শাওয়াল ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ---------
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৮-সূরা কাসাস 


৮৮ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৭৮। সে বলিল, ‘এই সম্পদ আমি আমার জ্ঞানবলে প্রাপ্ত হইয়াছি।’  সে কি জানিত না আল্লাহ্ তাহার পূর্বে ধ্বংস করিয়াছেন বহু মানবগোষ্ঠীকে যাহারা তাহা অপেক্ষা শক্তিতে ছিল প্রবল, জনসংখ্যায় ছিল অধিক? অপরাধীদিগকে উহাদের অপরাধ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হইবে না।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 

সংসার আনন্দময় পরিবেশ ভালো কিছু করার প্রেরণা যোগায়।             -জন মেসাভ-।


স্বভাবে নম্রতা অর্জন কর।  


আইফোনের ইতিহাস ও অজানা কথা
০৯ জুলাই, ২০১৭ ০২:৪৪:৩১
প্রিন্টঅ-অ+


প্রথম আইফোন এখন সবাই চেনেন। কিন্তু এর ইতিহাস জানেন কি? গতকাল ২৯ জুন এক দশক পূর্ণ করল মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের তৈরি আইফোন। ১০ বছর আগে ২০০৭ সালের ২৯ জুন তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এসেছিল প্রথম আইফোন। অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস্ ২০০৭ সালের ৭ জানুয়ারি সানফ্রান্সিসকোতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আইফোনের ঘোষণা দেয়ার ছয় মাস পর বাজারে এসেছিলো প্রথম আইফোন।

বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেয়ার সময় স্টিভ জবস্ বলেছিলেন, তিনটি বৈপ্লবিক উদ্ভাবনী পণ্যের সমন্বয় আইফোন। একটি হচ্ছে বৈপ্লবিক মোবাইল ফোন, প্রশস্ত পর্দার স্পর্শ নিয়ন্ত্রণযোগ্য আইপড ও যুগান্তকারী ইন্টারনেট যোগাযোগের যন্ত্র, যাতে ডেস্কটপের মতো মেইল আদান-প্রদান, ওয়েব ব্রাউজ, সার্চ ও ম্যাপ দেখা যায়। বছরের পর বছর ধরে বিশ্বজুড়ে অ্যাপল-ভক্তদের কাছে বিশ্বস্ত পণ্যের নাম হয়ে উঠেছে আইফোন। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশজুড়ে নতুন আইফোন বাজারে আসা নিয়ে তৈরি হয় চরম উন্মাদনা।

আইফোনের ঘোষণা দেন স্টিভ জবস্ আইফোনের ইতিহাস :

আইফোনের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছেন অ্যাপল প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস্। তাঁর হাত ধরেই এসেছে মোবাইল ফোনের যুগ পরিবর্তনকারী ‘আইফোন’। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট স্লেট ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, আইফোন তৈরির আগে গান শোনার যন্ত্র হিসেবে আইপড বাজারে এনেছিলো অ্যাপল। অ্যাপল প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত স্টিভ জবস্ মিউজিক প্লেয়ারের যুগের সমাপ্তি দেখতে চেয়েছিলেন। তাই বাজারে মিউজিক প্লেয়ারের বিকল্প হিসেবে আইপডের স্থান দখল করে নিতে পারে এমন পণ্য তৈরির ইচ্ছা পোষণ করেন তিনি।

অ্যাপলের কর্মকর্তারা ২০০৪ সালে ধারণা করেছিলেন, অ্যাপল যদি মিউজিক প্লেয়ারের বিকল্প তৈরি না করে, তবে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান মুঠোফোনের মতো ফোন কল, ভিডিও দেখার প্রযুক্তি ও গান শোনার যন্ত্র একত্র করে নতুন পণ্য বাজারে আনতে পারে। তাদের মনে শঙ্কা তৈরি হয়েছিলো, আইপডের বাজার দখল করতে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান নতুন পণ্য বাজারে ছাড়তে পারে। এরপর থেকেই আইফোন তৈরির জন্যে প্রস্তুতি শুরু করে অ্যাপল।

২০০৫ সালেই স্টিভ জবস্ অ্যাপলের প্রকৌশলীদের টাচ স্ক্রিন প্রযুক্তির পণ্য নকশা করার নির্দেশ দেন। স্টিভ জবস্ ২০০৭ সালের ৯ জানুয়ারি সানফ্রান্সিসকোতে প্রথম আইফোন বাজারে আনার ঘোষণা দেয়ার সময় তিনি আইপডের একটি ছবি দেখান, যাতে ক্লিক হুইলের পরিবর্তে রোটারি ডায়াল বাটন ছিলো। তবে অ্যাপলের মুঠোফোনে রোটারি বাটনযুক্ত করে নি। কারণ, ওই সময় স্যামসাংয়ের এক্স৮১০ মডেলের মুঠোফোনটির মডেলে রোটেটিং হুইল ছিলো।

তবে অ্যাপলের প্রথম আইপড নকশাকারী হিসেবে পরিচিত প্রকৌশলী টনি ফ্যাডেল স্টিভ জবসের রোটেটিং হুইলযুক্ত নতুন পণ্যটির ধারণাকে বাতিল করে দেন এবং ক্লিক হুইলের পরিবর্তে মাল্টি টাচ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু করার কথা জানান। টনি ফ্যাডেলের পরামর্শ গ্রহণ করে অ্যাপলের প্রকৌশলী দলকে দুই ভাগে ভাগ করে দেন স্টিভ জবস। একটি দল সফটওয়্যার ও আরেকটি দল হার্ডওয়্যার নিয়ে কাজ শুরু করে। সফটওয়্যার দলটির মূল কাজ ছিল সুন্দর ইন্টারফেস তৈরি করা আর হার্ডওয়্যার দলটির কাজ ছিল মানুষের পছন্দসই একটি মুঠোফোনের নকশা তৈরি করা।

অ্যাপলের মুঠোফোনের নকশাকারী দলটি স্টিভ জবসের সামনে পাতলা, মোটা, গোলাকার ডিসপ্লেসহ একাধিক নকশা উপস্থাপন করে। কিন্তু তিনি আরও সহজতর নকশার কথা বলেন। ২০০৬ সালে অ্যাপলের নকশাকারী দলটির প্রধান জোনাথন আইভ আইফোনের জন্যে একাধিক নকশা চূড়ান্ত করেন। তবে স্টিভ জবস পছন্দ করেছিলেন জোনাথন আইভের নকশা করা ২০০৪ সালে বাজারে আসা আইপড মিনি সাদৃশ্যের ধাতব পদার্থের তৈরি প্রোটোটাইপটি। আর এ প্রোটোটাইপটির নকশাতে আরও পরিবর্তন করেন জোনাথন আইভ। এরপরই তৈরি শুরু হয় আইফোনের।

২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান এটিঅ্যান্ডটির সঙ্গে চুক্তিতে আইফোন বাজারে আনার ঘোষণা দেয় অ্যাপল। ২৯ জুন ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রথম আইফোন বিক্রি শুরু হয়। ২০০৭ সালের নভেম্বর মাস থেকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির বাজারে আইফোন বিক্রি শুরু হয়।

দ্বিতীয় প্রজন্মের আইফোন ৩জি ১১ জুলাই ২০০৮ সালে বাজারে আনার ঘোষণা দেয় অ্যাপল। তৃতীয় প্রজন্মের আইফোন ৩জিএস বাজারে আসার ঘোষণা এসেছিল ৮ জুন ২০০৯ তারিখে। ২০১১ সালের ৪ অক্টোবর বাজারে আসে পঞ্চম প্রজন্মের আইফোন ৪এস। ২০১১ সালের ৫ অক্টোবর স্টিভ জবস মারা যাওয়ার পর নতুন প্রজন্মের আইফোন বাজারে আনার ঘোষণা দেয় অ্যাপল। আইফোনের প্রতিটি নকশায় স্টিভ জবসের হাত ছিল বলে প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা ধারণা করেন। কিন্তু স্টিভ জবসকে ছাড়াই ষষ্ঠ প্রজন্মের আইফোন ৫ বাজারে ছাড়ে অ্যাপল।

আইফোন ৭-এর ঘোষণা দিচ্ছেন টিম কুক, এরপর বাজারে এসেছে আইফোন ৫সি, ৫এস, আইফোন ৬, ৬ প্লাস, ৬এস, ৬এস প্লাস, ৭, ৭ প্লাস। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোতে আইফোন ৭-এর ঘোষণা দেন টিম কুক। এ বছর দশকপূর্তি উপলক্ষে নতুন নকশার আইফোন ৮ বাজারে ছাড়তে পারে অ্যাপল।

আইফোনের কয়েকটি তথ্য :

অ্যাপ স্টোর ছিলো না : ২০০৭ সালে প্রথম আইফোন যখন বাজারে এসেছিল, তখন এতে কোনো অ্যাপ স্টোর ছিল না। ফলে এতে অ্যাপ ডাউনলোডের কোনো সুবিধা ছিল না। আইওএস অপারেটিং সিস্টেমের ডিজিটাল বিপণন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত অ্যাপ স্টোর। এখান থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করা যায়। ২০০৮ সালের ১০ জুলাই মাত্র ৫০০ অ্যাপ নিয়ে চালু হয় অ্যাপ স্টোর। ২০১৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এতে ২২ লাখের বেশি অ্যাপ্লিকেশন আছে।

আইফোন নামের জন্যে মামলা : স্টিভ জবস আইফোন নামকরণ করার পরপরই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সিসকো অ্যাপলের বিরুদ্ধে মামলা করে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ডিসট্রিক্ট আদালতের মামলায় হেরে যায় সিসকো। অ্যাপল তাদের স্মার্টফোনের নাম আইফোন রাখার অনুমতি পায়।

প্রভাবশালী প্রযুক্তিপণ্য হিসেবে স্বীকৃতি : ২০১৬ সালে টাইম ম্যাগাজিনের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রযুক্তিপণ্যের তালিকায় শীর্ষে চলে আসে আইফোন। ওই সময় শীর্ষ ৫০টি গ্যাজেটসের তালিকা করে টাইম ম্যাগাজিন। ম্যাগাজিনটিতে বলা হয়, কম্পিউটিং ও তথ্যের মধ্যে আমাদের সম্পর্কের ভিত্তি পরিবর্তন করায় আইফোনকে সবচেয়ে প্রভাবশালী পণ্য বলা যায়।

সম্ভাব্য আইফোন ৮১০০ কোটি আইফোন বিক্রি : ২০১৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত হিসাব ধরলে বিশ্বে ১০০ কোটির বেশি আইফোন বিক্রি হয়েছে, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক সপ্তমাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের কুপারটিনো শহরে অ্যাপলের এক সভায় প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান প্রধান নির্বাহী টিম কুক এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ইতিহাসে আইফোন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ, বিশ্বকে বদলে দেয়া ও সফল এক পণ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি ধারাবাহিকভাবে চ্যাম্পিয়ন। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের জরুরি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা সারাদিন যা করতে চাই, তার সক্ষমতা তৈরি করেছে।

রেটিনা স্ক্রিন : আইফোনের সপ্তম সংস্করণ আইেেফান ৭-এ সবচেয়ে দামি অংশ হচ্ছে এর স্ক্রিন। এতে রেটিনা স্ক্রিন ব্যবহার করা হয়েছে। উপাদানের দাম হিসাব করলে স্ক্রিনের দাম দাঁড়ায় ৪৩ মার্কিন ডলার।

অ্যাপলের আয়ের মোট ৬০ শতাংশ আইফোন থেকে : অ্যাপলের মোট আয়ের ৬০ শতাংশ আসে আইফোন বিক্রি থেকে। ২০১৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিক বা গত অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া প্রান্তিকে ৭ কোটি ৮২ লাখ ইউনিট আইফোন বিক্রি হয়েছে। অ্যাপলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয় ১৪ শতাংশ আসে সেবা খাতে বিভিন্ন সেবা বিক্রি করে।

তথ্যসূত্র : গ্যাজেটস নাউ, স্লেট, সিএনএন, দ্য ভার্জ।


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৮০৮১৪
পুরোন সংখ্যা