চাঁদপুর। রোববার ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮। ২২ মাঘ ১৪২৪। ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৪-সূরা সাবা

৫৪ আয়াত, ৬ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৪৭। বলুন, আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাই না বরং তা তোমরাই রাখো। আমার পুরস্কার তো আল্লাহর কাছে রয়েছে। প্রত্যেক বস্তুই তাঁর সামনে।

৪৮। বলুন, আমার পালনকর্তা সত্য দ্বীন অবতরণ করেছেন। তিনি আলেমুল গায়েব।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


যারা আত্মপ্রশংসা করে খোদা তাদের ঘৃণা করে।                        

-সেন্ট ক্লিমেন্ট।


কাউকে অভিশাপ দেওয়া সত্যপরায়ণ ব্যক্তির উচিত নয়।


ফটো গ্যালারি
ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা
তাসলিমা মেহজাবিন
০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ইন্টারনেটে অবারিত নজরদারিতে আমাদের প্রায় কোনো তথ্যই আজ গোপন থাকছে না। মোবাইল নেটওয়ার্ক, অ্যাপস, ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, সার্চ ইঞ্জিন-ইন্টারনেট সংশি্নষ্ট সব সেবাই আমাদের কর্মকা- নজরদারিতে রাখছে। জেনে অথবা অজান্তে আমরা এসব প্রতিষ্ঠানের ট্র্যাকিংয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছি। অনলাইন বিশ্বে নিরাপদ থাকতে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষাকবচ জরুরি।



অনলাইন বিশ্বে কেনাকাটা থেকে শুরু করে যে কোনো সেবা গ্রহণে ব্যক্তিগত নানা তথ্য দিতে হয় গ্রাহকদের। এসব তথ্যের নিরাপত্তা ইস্যুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কারণে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হলে আর্থিকসহ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন গ্রাহক। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি অ্যালায়েন্সের (এনসিএসএ) উদ্যোগে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষায় প্রতিবছর ২৮ জানুয়ারি পালিত হচ্ছে 'তথ্য সুরক্ষা দিবস'। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ভারতসহ বিশ্বের ৪৭টি দেশ পালন করেছে দিবসটি। এ বছর তথ্য সুরক্ষা দিবসের প্রতিপাদ্য 'গোপনীয়তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন, তথ্য সুরক্ষা ও আস্থা প্রতিষ্ঠা'।



ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা কেন জরুরি



ইয়াহু, ভেরিজন, ইকিউফ্যাঙ্, উবারের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গত বছর সাইবার হামলার শিকার হয়। এতে এসব প্রতিষ্ঠানের সেবাগ্রহীতাদের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেয় হ্যাকাররা। এছাড়া একাধিক সাইবার হামলার মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কম্পিউটারের তথ্যও নিজেদের দখলে নিয়ে নেয় সাইবার অপরাধীরা। আক্রান্ত পিসির তথ্য উদ্ধারে বড় অঙ্কের অর্থও দাবি করে হ্যাকাররা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্টারনেটে অবারিত নজরদারিতে আমাদের প্রায় কোনো তথ্যই আজ গোপন থাকছে না। মোবাইল নেটওয়ার্ক, অ্যাপস, ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, সার্চ ইঞ্জিন আমাদের কর্মকা- নজরদারিতে রাখছে। জেনে অথবা অজান্তেই আমরা এসব প্রতিষ্ঠানের নজরদারিতে থাকতে একরকম বাধ্য হচ্ছি। ফলে দেখা যাচ্ছে, আপনি গুগলে কোনো খাবার হোটেল কিংবা ইলেক্ট্রনিঙ্ পণ্য সার্চ করেছেন। এরপর ফেসবুক ঢোকার পরেই দেখলেন, ফেসবুক ওই সংশি্নষ্ট পণ্যের বিজ্ঞাপন আপনার ওয়ালে প্রদর্শন করতে শুরু করেছে! বিষয়টি কতটা ভয়ংকর দেখেন, চান বা না চান; গুগলে আপনি কী করেছেন তা জেনে নিচ্ছে ফেসবুক! ব্যবসা নিয়ে গুগল ফেসবুকের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও আপনাকে দিয়ে ব্যবসার অর্থ ভাগাভাগিতে কতটা উদার তারা! এভাবেই অনলাইনে প্রতিনিয়ত আমাদের সকল গোপনীয়তা সকল ডাটা শেয়ার হচ্ছে। কে কখন কীভাবে আমার ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করছে তার হদিসও হয়তো আমরা জানি না। এরই প্রেক্ষাপটে কীভাবে ব্যক্তিগত তথ্য ভালোভাবে নিরাপদে রাখা যায়, তা জানা জরুরি হয়ে পড়েছে।



সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাফিজ জানান, মোবাইল ফোনে অ্যাপস ডাউনলোডের সময় ৯৯ শতাংশ ব্যহারকারী তার সব তথ্যে প্রবেশাধিকারের অনুমোদন দিয়ে দেন। এসব তথ্য অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য ব্যবহার করছে কিংবা চড়া দামে বিক্রি করছে সংশি্নষ্ট প্রতিষ্ঠানটি। এ বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৬৮ শতাংশ ভোক্তা বলছেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো (ব্র্যান্ড) তাদের দেয়া ব্যক্তিগত তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে পারবে কি-না তা নিয়ে তারা আস্থা রাখতে পারছেন না।



উন্নত দেশের চিকিৎসকরা রোগীদের তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে রেকর্ড করার দিকে ঝুঁকছেন এবং তারা ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত মেডিকেল ডিভাইসের একেবারে প্রথম ধাপে রয়েছেন। ডিভাইসগুলোতে সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর, আর্থিক তথ্য, চিকিৎসার ইতিবৃত্ত ও বর্তমান স্বাস্থ্য অবস্থার তথ্যসহ নানা তথ্য রেকর্ড করা হচ্ছে। আর এই বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করছে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিসহ মেডিকেল সংস্থাগুলো। সাইবার অপরাধীদের কাছে এসব তথ্য অত্যন্ত মূল্যবান। তাই এসব তথ্য হারিয়ে গেলে বা চুরি হয়ে গেলে রোগীরা গভীরভাবে আক্রান্তের শিকার হবেন। উন্নত দেশ স্বাস্থ্যসেবা ডিজিটালাইজড করার পর এ খাতও সাইবার হামলার শিকার হয়েছে কিংবা চিকিৎসক ও রোগীর ব্যক্তিগত তথ্য বেহাত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। জরিপ মতে, পাঁচ মার্কিন চিকিৎসকের মধ্যে চারজনই তাদের চিকিৎসা কার্যক্রমে সাইবার হামলার শিকার হয়েছেন! স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের নিয়ে সমপ্রতি পরিচালিত একটি জরিপে প্রায় ৭৮ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, বিগত ১২ মাসে হয় তারা ম্যালওয়্যার অথবা র‌্যানসামওয়্যার হামলার শিকার হয়েছেন।



স্বাস্থ্যবীমা জবাবদিহিতা আইনে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর রোগীদের চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য অন্য কাউকে প্রদান করা অবৈধ।



ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তায় সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে রয়েছে শিশু কিশোর-তরুণরাও। যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত মাইক্রোসফট এক জরিপে দেখা যাচ্ছে, জরিপে অংশ নেওয়া ৩৯ শতাংশ তরুণরা জানাচ্ছে, অনলাইনে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে পড়া নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। ৩৬ শতাংশ বলেছে, ব্যক্তিগতভাবে শেয়ার করা ছবি ও ভিডিও ফাঁস হওয়া নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।



এদিকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে ইন্টারনেট অব থিংসের (আইওটি), মেশিন লার্নিং, বিগ ডাটার মতো প্রযুক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে কাজ হচ্ছে। আগামীতে আমাদের বাসাবাড়ি, স্কুল ও কর্মক্ষেত্র-ইন্টারনেট ডিভাইসের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকবে। জীবনযাত্রা হয়ে উঠবে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রিত। ঘরের দরজা, ফ্যান, এসি কিংবা ফ্রিজ ইন্টারনেটে যুক্ত থাকবে। দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে এসব ডিভাইস। এতে যুক্ত হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আর এসব প্রযুক্তিগত উৎকর্ষে ব্যক্তিগত তথ্য হয়ে উঠবে আরও ঝুঁকিপূর্ণ। ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে সাইবার অপরাধীরা এখন যেমন কম্পিউটার হ্যাক করে তেমনি এসব ডিভাইস হ্যাক করে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারবে। ফলে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। আর ডিজিটাল জীবনযাত্রায় নিরাপদ থাকতে এই ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা কতটা জরুরি সেটা নিশ্চয়ই বোঝা যাচ্ছে।



চাই তথ্য সুরক্ষা আইন, চাই সচেতনতা



দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী প্রায় ৭ কোটি। স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় তিন কোটি। সংখ্যাটি দ্রুত বাড়বে নিঃসন্দেহে। ফলে আগামীতে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা দিতে না পারলে বিশেষ করে সাধারণ ব্যবহারকারীরা বিপাকে পড়বে। আমাদের সংবিধানের ৪৩ (খ) নম্বর অনুচ্ছেদে প্রাইভেসি রাইটস বা ব্যক্তির তথ্য সুরক্ষা ও গোপনীয়তা মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃত। একই সঙ্গে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৬৩ ধারায় অনুমতি ছাড়া কারও ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ঘোষণা (অনুচ্ছেদ ১২) নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সনদ (অনুচ্ছেদ ১৭), জাতিসংঘের কনভেনশন অন মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কার্স (অনুচ্ছেদ ১৪) এবং শিশু অধিকার সনদে (অনুচ্ছেদ ১৬) প্রাইভেসিকে অধিকার হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। অথচ বাংলাদেশের কোনো আইনে নাগরিকের তথ্য সুরক্ষার বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনাই নেই।



সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাফিজ বলেন, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত যথোপযুক্ত আইন প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। উন্নত বিশ্বে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা একটি স্পর্শকাতর ইস্যু। বাংলাদেশেও মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মতো চরম নৈতিক অপরাধকে প্রতিহত করার জন্য আইনি ব্যবস্থা থাকা জরুরি। কেউ ইচ্ছা করলেই যাতে আরেক নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে না পারে সেজন্যই শক্ত আইন থাকা উচিত। আইন ব্যক্তির পক্ষে তার অধিকার সংরক্ষণে দায়িত্ব পালন করে। এর সঙ্গে সঙ্গে আইন মেনে চলার জন্য জনসচেতনতাও প্রয়োজন। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দ্বারা ব্যক্তি সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্রচার ও প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে ব্যক্তির সর্বাধিক নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কীভাবে বজায় থাকবে, তা নিশ্চিত করতে হবে।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৯২৭৪৪১
পুরোন সংখ্যা