চাঁদপুর। বুধবার ২৩ মে ২০১৮। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫। ৬ রমজান ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৮-সূরা ছোয়াদ

৮৮ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

০৪। তারা বিস্ময়বোধ করে যে, তাদেরই কাছে তাদের মধ্যে থেকে একজন সতর্ককারী আগমন মিথ্যাচারী যাদুকর।

০৫। সে কি বহু উপাস্যের পরিবর্তে এক উপাস্যের উপাসনা সাব্যস্ত করে দিয়েছে। নিশ্চয় এটা এক বিস্ময়কর ব্যাপার।   

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


বক্তৃতা ছোট হোক কিন্তু তার বক্তব্য সুস্পষ্ট এবং বোধগম্য হওয়া চাই।               


-স্টিন।


নীরবতাই শ্রেষ্ঠতম এবাদত। 


ফটো গ্যালারি
ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের আল্টিমেট গাইডলাইন
সানজিদুল আলম
২৩ মে, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বাংলাদেশের মতো দেশ যেখানে চাকুরির বাজার বেশ নাজুক অবস্থায় আছে, যেখানে ৪৭% শিক্ষিত জনগোষ্ঠী বেকার, পর্যাপ্ত চাকুরির ক্ষেত্র তৈরি হয় না, সেখানে বিকল্প পেশা হিসেবে সম্মানজনক অবস্থায় আছে ফ্রিল্যান্সিং বা মুক্তপেশা বা আরও বিস্তরভাবে বলতে গেলে অনলাইন প্রফেশন। অনেকগুলো অনলাইন প্রফেশনের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং একটি।



 



ফ্রিল্যান্সিং খাতে বাংলাদেশ বেশ ভালো অবস্থানে আছে, বিশ্বে বাংলাদেশের দক্ষ পেশাদারদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে শত কোটি টাকার। হিসেব মতে বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সার আছে ৫ লক্ষাধিক।



 



ফ্রিল্যান্সিং যেমন সম্ভাবনা, তেমনি এ নিয়ে আছে প্রচুর ভুল ধারণা, আবার ভুল ধারণাকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতারণার ফাঁদ। এসব নিয়েই আলোচনা হবে এই লেখাতে।



 



ফ্রিল্যান্সিং হলো কোনো প্রতিষ্ঠানে পার্মানেন্ট চুক্তিবদ্ধ না হয়ে বরং প্রজেক্ট বেসিসে কাজ করা। ফ্রিল্যান্সিং করে আসছে মানুষ শত বছর ধরে। যেমন একজন রিঙ্াওয়ালাও ফ্রিল্যান্সার, কারণ সে অন্যের রিঙ্া চালায়, ইচ্ছা হলে প্যাসেঞ্জার নেয়, না হলে নেয় না। তার ফ্রিডম আছে। ইদানিং ফটোগ্রাফাররাও ফ্রিল্যান্সার, কারণ তারা কোথাও ফটোগ্রাফার হিসেবে চাকুরি না করে বরং অনুষ্ঠান বেসিসে শুট করে আর পারিশ্রমিক নেয়।



 



সুতরাং ফ্রিল্যান্সিং কোনো কাজ নয়, কাজ করার ধরণ মাত্র।



 



অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং মানে হলো, যে কাজ ক্লায়েন্ট অনলাইনের মাধ্যমে আপনাকে দেবে, আপনি সে কাজে চুক্তিবদ্ধ হবেন, নিজের দক্ষতা দিয়ে কাজটা করবেন আর সেটা অনলাইনের মাধ্যমেই ক্লায়েন্টকে ডেলিভার করবেন, ক্লায়েন্ট অনলাইনের মাধ্যমেই আপনাকে পেমেন্ট করবে। এখানে অনলাইনে কাজ করেন নি, কাজ আপনার দক্ষতা দিয়েই করেছেন, শুধু মাধ্যমটা অনলাইন, যোগাযোগের মাধ্যম। যেমন : ফোনে কোনো কাজের ডিল হলে নিশ্চয় আপনি এটাকে ফোনে আয় করা বলেন না, তেমনি এটাও অনলাইনে ইনকাম নয়।



 



এখন একটা উদাহরণ দিয়ে বুঝাই ফ্রিল্যান্সার, ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সার, আউটসোর্সিং কি :



 



ধরুন, আপনি ভালো একাউন্টিং করেন। আমেরিকার এক ক্লায়েন্টের কোম্পানির ১৫ দিনের একাউন্ট অডিট করতে হবে। সে অনলাইনে একটা প্ল্যাটফর্মে অফার করলো। অনেকের মতো আপনিও অ্যাপ্লাই করলেন। আপনি কাজটা পেলেন। একটা এমাউন্ট পেমেন্টে চুক্তিবদ্ধ হলেন। কাজটা আপনি আপনার দক্ষতা দিয়ে সম্পন্ন করলেন, অনালাইনের মাধ্যমে আপনি সেটা ডেলিভার করলেন, ক্লায়েন্ট আপনাকে পেমেন্ট অনলাইনের মাধ্যমে দিলো।



 



তাহলে,



ফ্রিল্যান্স কাজ কে করলো? আপনি!



ফ্রিল্যান্সার কে? আপনি!



ফ্রিল্যান্সিং কে করলো? আপনি!



আউটসোর্স কে করলো? ক্লায়েন্ট!



আউটসোর্সার কে? ক্লায়েন্ট



আউটসোর্সিং কে করলো? ক্লায়েন্ট!



অর্থাৎ আপনি কখনই আউটসোর্সিং করছেন না। সেটা করছে ক্লায়েন্ট! কেউ যদি ক্লেইম করে সে আউটসোর্সিং শেখাবে, তাকে প্রতারক বলে গণ্য করুন। কারণ, সে নিজেই জানে না আউটসোর্সিং কি। সে প্রতারণা করছে। যেহেতু ফ্রিল্যান্সিং কোনো কাজ না, কেউ যদি ক্লেইম করে সে ফ্রিল্যান্সিং শেখাবে, সে ক্ষেত্রে সে-ও প্রতারক।



 



যে খাতই বেশ ভালো করছে, সে খাতের নাম ব্যবহার করে কিছু প্রতারক প্রতারণা করা শুরু করে।



 



তেমনি এখন বেশ জমজমাট আউটসোর্সিং-ফ্রিল্যান্সিংয়ের নামে ট্রেনিং প্রতারণা। বেশির ভাগ ট্রেনিং সেন্টার গুগল-ইউটিউব বা অন্যান্য ভালো মেন্টরের লেখা পড়ে-মুখস্থ করে সেটা শেখানোর জন্যে ট্রেনিং সেন্টার খুলে বসে।



 



একটু ভাবুন, আপনাকে সফল হওয়ার মেন্টরশিপ সে-ই দিতে পারবে, যে ওই কাজে নিজে সফল। কিন্তু যে নিজেই কাজ করেনা বা করে নি, সে কি করে আপনাকে ট্রেনিং দিতে পারবে?



 



আর যে দক্ষ, যে নিজে সফল, অনেক টাকা আয় করে, অনেক রেপুটেশন, সে কেন ট্রেনিং ব্যবসা করে ৫-১০ হাজার ইনকাম করতে আসবে? সে আরেকজনকে সফল করার মূল-মন্ত্র দিতে পারলে সে নিজে তো লাখ লাখ আয় করার কথা। তার এতো সময় কোথায়?



 



এসব ট্রেনিং সেন্টারের মালিক/ট্রেইনারদের ব্যাকগ্রাউন্ড খোঁজ নিলে দেখবেন, তারা নিজেরা অন্য ট্রেনিং সেন্টারে কোর্স করেছিলো, নিজেরা ওই কাজে দক্ষ হতে পারেনি, সফল হতে পারেনি। তো কি করবে? যা শিখেছে তা অন্যকে শিখিয়ে অনেক টাকা ইনকাম করা যায়, আর ট্রেনিং করার জন্যে অর্থলোভী মানুষের তো দেশে অভাব নেই।



 



আর খেয়াল করলে দেখবেন, এসব ট্রেনিং সেন্টারে ফ্রিল্যান্সিং বলে ঝঊঙ কে বুঝানো হয়। কিন্তু একজন এঙ্পার্ট এসিও প্রফেশনাল বলতে পারবেন এই ট্রেইনিং এ ঝঊঙ-এর ১০% ও শেখানো হয় না। কারণ ট্রেইনাররা ডাউনলোড করা কোর্স থেকে শেখায়, যা কিনা কয়েক বছর আগেই আউটডেটেড। আর এই খাতে প্রতিদিন নতুন আপডেট আসছে।



 



আবার সম্পূর্ণ ঝঊঙ-এর কাজ পুরো মার্কেটের কাজের ১% এর চেয়ে কম। তার মানে আরও ৯৯% কাজ আছে, যেগুলোতে বাংলাদেশি মানুষ নেই বললেই চলে।



 



একবার ভাবুন, ১% কাজ ধরলাম ১০ হাজার জব। কিন্তু অলিতে গলিতে ট্রেনিং সেন্টাররা ঝঊঙ-ই শেখায়। সে হিসাবে ঝঊঙ শেখা মানুষ লাখের উপরে। তার মানে এ খাতেও বেকারত্ব দেখা যাবে।



 



অন্যদিকে এন্ড্রয়েড ডেভেলপমেন্ট, গেইম ডেভেলপমেন্ট, থ্রিডি, অটোক্যাড, এনিমেশন, ডেটা সাইন্স এরকম কাজগুলোতে এদেশের খুব কমই স্কিল্ড আছে। এই খাতে কম্পিটিশনও কম। ডিমান্ডিং কাজগুলোর একটা স্টাডি কমেন্টে দিচ্ছি।



 



বলে রাখা ভালো, ফেসবুক গ্রুপ, বস্নগ, ইউটিউব এবং অনেক ক্ষেত্রে ফ্রি ট্রেনিং-এর মাধ্যমে অনেক সফল ব্যক্তিরাই ফ্রি-মেন্টরিং করছে বাংলাদেশে। ১০ গরহঁঃব ঝপযড়ড়ষ-এ অনেক বিষয়ে ফ্রি কোর্স আছে, যা শিখে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে বিশ্ব বাজারে কাজ করা যাবে।



 



আরেকদল আরও এক ধাপ এগিয়ে। তারা অবৈধ-সাইবারক্রাইমকে ফ্রিল্যান্সিং বলে চালিয়ে দেয়, আর এ সম্পর্কে জানে না এমন ছেলেমেয়েদের কাজ করায় তাদের প্রতিষ্ঠানে।



 



ঈঅচঞঈঐঅ এন্ট্রি, ফেসবুক ফেইক লাইক, পিটিসি (ঈষরপশংবহংব, ঃৎধভভরপসড়হংড়ড়হ), আর এখন নতুন যুক্ত হয়েছে ইবঃ৩৬৫।



 



এগুলো পিওর সাইবার ক্রাইম এবং অবৈধ। এগুলোর সাথে ফ্রিল্যান্সিং-এর কোনো যোগসূত্র নেই। বছর কয়েক আগে বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং-এর নামে এসব অবৈধ কাজ হচ্ছে বলে বিশ্বের নামকরা কয়েকটি সংবাদপত্রে প্রতিবেদনও আসে।



 



আচ্ছা, এতো নেগেটিভ দিক কেনো আলোচনা করা হলো?



 



আমার একটা বিশ্বাস হলো, মানুষ কোনো কাজে সফল না হতে পারার কারণ হলো তারা সঠিক পথে না গিয়ে ভুল পথে যায়। আপনি যদি তাদের ভুল পথ সম্পর্কে সাবধান করে দিতে পারেন, তারা কোনো না কোনোভাবে সঠিক পথে এগিয়ে যাবে।



এবার চলুন সঠিক পথ নিয়ে আলোচনা করা যাক্।



আগে যেমন বলেছি, ফ্রিল্যান্সিং মানে কোনো একটা ফিল্ডে দক্ষ হওয়া। যে কাজটা অনলাইনের মাধ্যমে অন্য দেশের ক্লায়েন্টরা অফার করে থাকে। কয়েকশ ক্যাটাগরির কাজ অনলাইনে আছে। আইটি, নন-আইটি, বিজনেস, ক্রিয়েটিভ, ইঞ্জিনিয়ারিং সব খাতের জন্যেই কাজ আছে।



 



ফ্রিল্যান্সিং সহজ কাজ নয়। তেমনি একজন সফল ফ্রিল্যান্সারের আয়ও কম নয়।



ফ্রিল্যান্সিং লাইফ সম্পর্কে বলতে গেলে বলা যায়, একজন সফল ফ্রিল্যান্সারের সফল হওয়ার পেছনের গল্প শুনলে আপনি তাকে 'লিজেন্ড' খেতাব দিবেন। কারণ, সফলতার পেছনের গল্প আনন্দের হয় না, অনেক স্ট্রাগল থাকে। রাতের পর রাত কোন কাজ শেখা, ইউটিউব টিউটোরিয়াল দেখা, বই পড়া, কাজগুলো প্র্যাক্টিস করা, ধৈর্য ধরে টাকার আশা না করে কাজে দক্ষ হওয়ার জন্যে মাসের পর মাস সময় দেয়া, এসব থাকে একজনের সফলতার পেছনে।



 



একটা উদাহরণ দেয়া যাক্।



আপনি ধরুন বিবিএ পড়েছেন। ফিন্যান্স নিয়ে। পড়াশোনা শেষ করতে সময় লাগে ২০ বছর। ২০ বছর পড়াশোনা করা আপনি একটা জবে ফ্রেশার হিসেবে অ্যাপ্লাই করেন, যার সেলারি ১৫ হাজারের মতো। অনেকবার রিজেক্ট হতে হয়, কারণ আরও শত-শত অ্যাপ্লাই করছে। শেষমেশ একটা জব পান। ১৫ হাজারের জব করার জন্যে ২০ বছর পড়াশোনা করলেন দু-বার না ভেবে। পড়াশোনা শেষ করে একটা লোকাল জবের জন্যে প্রতিযোগিতায় নামলেন একই শহরের অন্যদের সাথে, যারা কিনা আপনার লেভেলের পড়াশোনাই করেছে। এবার ভাবুন ফ্রিল্যান্সিং-এর কথা, আমেরিকার একটা কোম্পানি তাদের একটা জব আউটসোর্স করলো মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে। ২ সপ্তাহের প্রজেক্ট, ১ হাজার ডলার। অ্যাপ্লাই করলো কারা? সারাবিশ্বের ফ্রিল্যান্সারদের জন্যে ওপেন, (ছোট শহর নয়), বিশ্বের টপ প্রফেশনালরা অ্যাপ্লাই করলো, আপনিও করলেন। তার মানে? এবার আপনার প্রতিযোগিতার লেভেল কোথায়? এবার ভাবুন, এই লেভেলে প্রতিযোগিতার জন্যে আপনি শুধু ২ মাসের কোর্স করেই দক্ষ হতে পারবেন? অবাস্তব নয়? হ্যাঁ এটা সত্যি যে ফ্রিল্যান্সিং করে লাখ টাকা আয় করা যায়, সার্ভেতে দেখা যায়, এদেশে ২০%-এর বেশি ফ্রিল্যান্সার মাসে ২ লাখের ওপর আয় করে। কিন্তু তারা ২ মাসে কোর্স করে এত দূর আসেনি। তারা অন্তত এক বছর সময় নিয়ে টাকা আয়ের কথা না ভেবে শেখার ওপর জোর দিয়েছিলো!



 



যেখানে ১৫ হাজার টাকার জবের জন্যে ২০ বছর পড়াশোনা করলেন, মাসে কয়েক লাখ আয় করতে, বিশ্বের টপ-লেভেল প্রফেশনালদের সাথে প্রতিযোগিতায় নামতে ১-২ বছর সময় দিয়ে কাজ শিখবেন না?



 



 



কাদের জন্যে এই মুক্ত-পেশা?



 



* যাদের অতিরিক্ত লোভ নেই।



* যারা কাজ শেখার ধৈর্য রাখে।



* যারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করার মতো কমিউনিকেশন জানে।



* যারা শর্টকাটে টাকা আয় করতে চায় না।



* যাদের জীবনে কিছু করার প্রবল ইচ্ছে আছে।



* যারা সৎ পথে জীবিকা নির্বাহ করতে চায়।



* যাদের শেখার প্রবণতা আছে।



যারা এ পথে না আসলে ভালো করবেন :



* যারা কাজের চেয়ে টাকাকে মূল্যায়ন করেন।



* যারা সহজে আয়ের পথ খুঁজছেন।



* যারা চাকুরির বা অন্য পেশার পাশাপাশি সাইড ইনকাম হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং কে ভাবছেন।



* যারা মনে করছেন শেখা শুরুর ১৫ দিন, ১ মাসের মধ্যেই কারিকারি টাকা আয় করবেন।



* যারা ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিং সেন্টারের চটকদার বিজ্ঞাপন 'ঘরে বসে লাখ টাকা' দেখে এই পেশার জন্যে আগ্রহী হয়েছন।



* যারা ফ্রিল্যান্সিংকে খুব সহজ ভাবেন।



 



কীভাবে আসবেন এ পথে?



 



* আগে জানুন এ খাতে কোন্ কোন্ ফিল্ড আছে।



* তারপর ভেবে দেখুন, আপনার এখন যে ব্যাকগ্রাউন্ড, স্কিল এবং ইন্টারেস্ট; সেটার সাথে কোনো ফিল্ড মিলে যায়।



* বিভিন্ন ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসে ওই ফিল্ডগুলোর এখন পোস্ট করা জবগুলো ঘেঁটে দেখুন, বুঝার চেষ্টা করুন এ ধরণের কাজে কি কি স্কিল লাগে।



* ঠিক করার পর এবার চেষ্টা করুন কোথা থেকে শেখা যায়, অনলাইনেই শেখা যায় ধৈর্য থাকলে। এদেশে প্রথম সারির ফ্রিল্যান্সাররা নিজে নিজেই শিখে সফল।



* কারও কাছ থেকে পরামর্শ নেবেন এই সময়ে এসে, স্কিল্ড হওয়ার পর পরামর্শ নিন কীভাবে ফিল্ডে নামা যায়। প্রথমেই 'ভাই, ইনকাম করার সহজ পথ বলেন' বলে কাউকে ইরিটেট করবেন না।



* চেষ্টা করতে থাকেন, ফেইল করলে ভুলগুলো শুধরে আবার ট্রাই করেন। যে কাজে আপনাকে এঙ্প্টে করেনি, সে কাজ নিজেই করুন, সেম্পল প্রজেক্ট হিসেবে প্র্যাক্টিসও হবে, পোর্টফোলিও হবে।



* ধৈর্য ধরে নিজেকে আরও স্কিল্ড বানানোর জন্যে নতুন নতুন কিছু স্টাডি করুন।



 



 



কিছু ভুল ধারণা :



 



* ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং শেখা যায়!



* ৫ হাজার টাকা দিয়ে ২ মাস কোর্স করলেই হাজার টাকা আয় করা যায়!



* ট্রেইনিং সেন্টারে গেলেই সফল হওয়া যায়!



* ঈঅচঞঈঐঅ এন্ট্রি, ফেইক লাইক, পিটিসি, ইঊঞ৩৬৫ এগুলো ফ্রিল্যান্সিং!



* ফ্রিল্যান্সিং করা খুব সহজ, দিনে ২ ঘণ্টা সময় দিলেই হাজার টাকা!



* ফ্রিল্যান্সিং মানে ঝঊঙ.



* ফ্রিল্যান্সিং আইটি ব্যাকগ্রাউন্ডের জন্যে, বিজনেস, নন-আইটি বা ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ছেলে মেয়েদের জন্যে না।



* ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে আইটি ওরিয়েন্টেড ফিল্ডে কাজ করতে হবে।



 



কিছু অপ্রকাশিত তথ্য :



 



* দেশে ৬ লাখ মানুষ ফ্রিল্যান্সিং অথবা অনলাইন প্রফেশনাল।



* নাম-সর্বস্ব ট্রেনিং সেন্টারের সংখ্যা ১১০০০ +



 



* ট্রেনিংপ্রাপ্ত নাম-সর্বস্ব স্কিল্ড ছেলেমেয়ের সংখ্যা ২০ লাখের বেশি (এর অর্থ হল ১৪ লাখ বেকার, কারণ তারা সত্যিকার অর্থে স্কিল্ড না)।



 



* নন-আইটি, বিজনেস, ক্রিয়েটিভ, ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই ছাড়া) ব্যাকগ্রাউন্ডের জন্যে কাজের সংখ্যা মোট মার্কেটের ৫৩%।



* আইটি ব্যাকগ্রাউন্ডের বাইরের সবার ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে আইটির কাজ শিখতে হবে না, তাদের নিজেদের ব্যাকগ্রাউন্ডের কাজই আছে মার্কেটে অনেক।



 



কিছু পরামর্শ :



 



* ট্রেনিং সেন্টার থেকে দূরে থাকুন, নিজে শেখার চেষ্টা করুন।



* ট্রেনিং সেন্টারে যদি যেতেই হয়, তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড, ট্রেক রেকর্ড চেক করুন। প্রয়োজনে এই খাতে সফল কারও পরামর্শ নিন।



* অল্পদিনে অনেক টাকা আয় করার কথা যারা বলে তাদের থেকে দূরে থাকুন।



* পুরোদমে ফ্রিল্যান্সিং করবেন, তবে ৩ বছরের বেশি না। এরপর উদ্যোক্তা হবার চেষ্টা করবেন।



 



গুরুত্বপূর্ণ :



 



ফ্রিল্যান্সার হওয়ার জন্যে সবচেয়ে বড় যে গুণটা দরকার, তাহলো নিজ থেকে বুঝে নেয়ার ক্ষমতা, কাউকে জিজ্ঞাসা করার আগে নিজে সময় দিয়ে মাথা খাটিয়ে নেট ঘেঁটে শিখে নেয়ার চেষ্টা। কারণ যে আপনাকে পরামর্শ দিতে পারবে, অবশ্যই সে নিজে অনেক ব্যস্ত, তাকে ছোটোখাট সব বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে তাকে বিরক্ত করা ছাড়া কোনো কাজ হবে না। কিন্তু আপনি যদি নেট ঘেঁটে কিছু শেখার-জানার দক্ষতা রাখেন, আপনি যে কোনো ফিল্ড নিয়ে কাজ শুরু করে নিমিষেই সফল হতে পারবেন। এই গাইডলাইনের লেখক নিজে ৮ বছর ধরে ফ্রিল্যান্সিং জগতে আছে, কিন্তু মূল ধারায় ফ্রিল্যান্সিং করেছেন ৫ বছর, এরপর উদ্যোক্তা হয়েছেন। যে কোনো ফ্রিল্যান্সারই দক্ষতার সাথে ৩-৪ বছর ফ্রিল্যান্সিং করে ওই ফিল্ডেই নিজের কোম্পানি শুরু করতে পারে। সেই একই কাজ কোম্পানি হিসেবে বড় টিম নিয়ে করতে পারে।



 



লেখক ফ্রিল্যান্সিং ইন্ডাস্ট্রির একজন নিবিড় পর্যবেক্ষক এবং কমিউনিটি এক্টিভিস্ট, তাই গাইডলাইন হিসেবে ইন্ডাস্ট্রির সব ফিল্ড নিয়ে আলোচনা করতে পেরেছেন। এর অর্থ এই নয় যে, তিনি প্রত্যেক ফিল্ডে অভিজ্ঞ এবং দক্ষ। সব ফিল্ড নিয়ে অ্যাডভান্স লেভেলের পরামর্শ দেয়া কারও পক্ষে সম্ভব নয়, তাই এ ধরণের প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা এড়িয়ে যাওয়া উচিত।



 



সূত্র : টেনমিনিট স্কুল।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৭৬৫৯২
পুরোন সংখ্যা