চাঁদপুর। বুধবার ২৩ মে ২০১৮। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫। ৬ রমজান ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৮-সূরা ছোয়াদ

৮৮ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

০৪। তারা বিস্ময়বোধ করে যে, তাদেরই কাছে তাদের মধ্যে থেকে একজন সতর্ককারী আগমন মিথ্যাচারী যাদুকর।

০৫। সে কি বহু উপাস্যের পরিবর্তে এক উপাস্যের উপাসনা সাব্যস্ত করে দিয়েছে। নিশ্চয় এটা এক বিস্ময়কর ব্যাপার।   

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


বক্তৃতা ছোট হোক কিন্তু তার বক্তব্য সুস্পষ্ট এবং বোধগম্য হওয়া চাই।               


-স্টিন।


নীরবতাই শ্রেষ্ঠতম এবাদত। 


ফটো গ্যালারি
সারাইখানার সাতকাহন
তারিকুর রহমান খান
২৩ মে, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


স্মার্টফোন-কম্পিউটারের মতো যন্ত্র অনেকটা আপনজনের মতো। সব সময় সঙ্গে থাকে, দূরে গেলে অস্থিরতা বাড়ে। আর কোনো কারণে যদি সার্ভিস সেন্টারে পাঠানো হয়, তবে দুশ্চিন্তার কোনো অন্ত থাকে না। ঠিকঠাক মেরামত হচ্ছে কি না, মেরামতকারী দক্ষ কি না, আসল যন্ত্রাংশের বদলে নকল যন্ত্রাংশ জুড়ে দিলো কি না ইত্যাদি প্রশ্ন যাদের মনে ঘুরপাক খায়, লেখাটি তাঁদের জন্যেই।



 



এক ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা দিয়ে শুরু করা যাক্। মামুন হোসেন পেশায় চাকুরিজীবী। গুলিস্তানের একটি সারাইখানায় নষ্ট মোবাইল মেরামত করতে দেন। মেরামতকারী জানিয়েছিলেন, একদিন পরে নিতে হবে। পরের দিন গিয়ে সেই মেরামতকারীকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমন অভিযোগ একটি নয়। আরেকটি অভিযোগ শোনা যায়, মেরামত করতে দেওয়ার আগে যে খরচ বলা হয়, মেরামতের পর বেশি টাকা দাবি করে বসে অনেকে। আবার অনেকে জানিয়েছেন, ভালো যন্ত্রাংশ রেখে দিয়ে পুরোনো বা খারাপ যন্ত্রাংশ জুড়ে দেয়। আবার অনেক মেরামতকারী সময়মতো পণ্য ফেরৎ দেন না। একটির পর একটি যন্ত্রাংশে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার কথাও বলেছেন অনেক ব্যবহারকারী।



 



 



 



রাজধানীর বসুন্ধরা সিটির আইডিয়াল টেলিকমের মোবাইল প্রকৌশলী সৈয়দ নূরে আলম বলেন, সাধারণত মোবাইল ফোনের ব্যাটারিতে চার্জ থাকছে না, টাচ স্ক্রিন বা নেটওয়ার্কে সমস্যা, কথা আস্তে শোনা যাওয়া, এই সমস্যাগুলো বেশি পাওয়া যায়। পণ্যের সমস্যার ওপর নির্ভর করে কত সময় সার্ভিস সেন্টারে রাখতে হবে। সাধারণত এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যেই সমাধান দেয়া সম্ভব বলে জানান তিনি। তবে বড় সমস্যা হলে এক বা দুই দিনের জন্যে সার্ভিস সেন্টারে রাখতে হয়। সেক্ষেত্রে গ্রাহকের অনুমতি নিয়েই রাখা হয়।



 



নতুন বা ভালো যন্ত্রাংশ খুলে পুরোনো বা নষ্ট যন্ত্রাংশ দেয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে নূরে আলম বলেন, সবাই গ্রাহকের সন্তুষ্টি চায়। একজন ক্রেতা শুধু এক দিনের জন্যেই নয়। সারাজীবনের জন্যে ক্রেতাকে ধরে রাখাই আমাদের লক্ষ্য। কারণ, একজন দিয়ে দশজন ক্রেতা পাওয়া যায়। আইডিয়াল টেলিকমের সেই প্রকৌশলীর পরামর্শ হলো, বিক্রয়োত্তর সেবার মেয়াদ না থাকলে পরিচিত কারও কাছেই মেরামতের জন্যে দেয়া উচিত।



 



 



আগে তিতা পরে মিঠা :



বাংলা ভাষায় একটা প্রবাদ প্রচলিত রয়েছে 'আগে তিতা পরে মিঠা'। প্রযুক্তিপণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে এ কথা ক্রেতারা মেনে চললে ঝামেলা কমে যাবে অনেক গুণ। ডেল বাংলাদেশের মার্কেটিং ম্যানেজার প্রতাব সাহা বলেন, বিক্রয়োত্তর সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত ও ভালোভাবে জেনে প্রযুক্তিপণ্য কেনা উচিৎ। কত বছর, কী ধরনের সেবা, সেবার ধরন ইত্যাদি মৌলিক প্রশ্নগুলো জানা উচিত। এতে ক্রেতা-বিক্রেতার উভয়ের জন্যেই ভালো।



 



কোথায় মেরামত করাবেন :



 



বিক্রয়োত্তর সেবার জন্যে রাজধানীসহ বড় বড় শহরে রয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্ভিস সেন্টার। লেনোভো ল্যাপটপের বিক্রয় ব্যবস্থাপক রাসেদ কবির জানান, দেশে লেনোভোর চারটি সার্ভিস সেন্টার রয়েছে। অন্যদিকে সব বিভাগীয় শহরে এইচপির সার্ভিস সেন্টার আছে বলে জানিয়েছেন এইচপির বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার সালাউদ্দিন মোহাম্মাদ আদিল। তিনি বলেন, 'কেউ চাইলে সরাসরি আমাদের সার্ভিস সেন্টারে আসতে পারেন আবার যেখান থেকে পণ্যটি কিনেছেন, সেখানেও দিয়ে আসতে পারেন।'



 



শাওমি মোবাইলের প্রধান নির্বাহী দেওয়ান কানন জানান, রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং মল, মিরপুর ১০, উত্তরাসহ সারাদেশে শাওমির আটটি সার্ভিস সেন্টার রয়েছে।



 



সারাদেশে আসুসের মোট ১৪টি সার্ভিস সেন্টার রয়েছে। সিম্ফনি মোবাইল ফোনে ৮১টি কাস্টমার কেয়ার সেন্টার রয়েছে দেশজুড়ে। দেশব্যাপী হুয়াওয়ের মোট ১৬টি গ্রাহকসেবা কেন্দ্র এবং ৬৬টি কালেকশন পয়েন্ট রয়েছে। বাংলাদেশে অপ্পোর রয়েছে ১৫টি সার্ভিস সেন্টার এবং ৪টি সার্ভিস পয়েন্ট। তাদের সবচেয়ে বড় সার্ভিস সেন্টারটি অবস্থিত রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে। টেকনো মোবাইলে ফোনের বিক্রয়োত্তর সেবা দেয়ার জন্যে সারাদেশে ৪৫টি সার্ভিস সেন্টার এবং ৩৪টি কালেকশন পয়েন্ট তৈরি করা হয়েছে। ওয়ালটন ল্যাপটপের সেবা দেয়ার জন্যে রয়েছে ৭০টি সার্ভিস সেন্টার।



 



এছাড়া প্রাথমিক বিক্রয়োত্তর সেবা তাৎক্ষণিকভাবে ৩শ'টিরও বেশি ওয়ালটন প্লাজায় দেয়া হয়। সারা বাংলাদেশে শুধু মোবাইল ফোনের বিক্রয়োত্তর সেবার জন্যে আটটি আলাদা সার্ভিস সেন্টার রয়েছে ওয়ালটন মোবাইলের।



 



বিক্রয়োত্তর সেবার মেয়াদ :



 



ডেল বাংলাদেশের মার্কেটিং ম্যানেজার প্রতাপ সাহা জানান, পণ্যভেদে পাঁচ বছর পর্যন্ত ডেলের প্রযুক্তিপণ্যে বিক্রয়োত্তর সেবা দেয়া হয়। ডেলের পণ্যগুলো অথরাইজড ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যমে বিক্রয়োত্তর সেবা দেয়া হয়।



 



পণ্যের মান ও দামের ওপর নির্ভও পণ্যে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের বিক্রয়োত্তর সেবা দেয় এইচপি। আসুস বাংলাদেশের ডিজিটাল অ্যান্ড পাবলিকেশন ম্যানেজার নাফিজ ইমতিয়াজ বলেন, আসুসের পি সিরিজের ল্যাপটপের জন্যে তিন বছর, বি সিরিজের জন্যে পাঁচ বছরের বিক্রয়োত্তর সেবা দেয়া হয়। এছাড়া আসুসের অন্য সিরিজের ল্যাপটপগুলোতে দুই বছরের বিক্রয়োত্তর সেবা দেয়া হয়।



 



সিম্ফনি মোবাইল ফোনের ৯৭ থেকে ৯৯ শতাংশ ফোন তিন দিনের মধ্যে মেরামত করে দেয়া হয়। এছাড়া ৭০ শতাংশ মোবাইল ফোন সার্ভিসে দেয়ার দিনেই মেরামত করে দেয়া হয়। যে কোনো হুয়াওয়ে ব্র্যান্ড শপ বা অনুমোদিত মোবাইল আউটলেট থেকে নির্দিষ্ট ডিভাইস কেনার তারিখ থেকে সাত দিনের মধ্যে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা ওই সময়ের মধ্যেই গ্রাহকসেবা কেন্দ্র থেকে বদল করে নতুন পণ্য দেয়া হয়। ডিভাইস মেরামতের জন্যে গ্রাহকসেবা কেন্দ্রগুলো সাধারণত তিন কার্যদিবস (নির্দিষ্ট যন্ত্রাংশ স্টকে থাকা সাপেক্ষে) সময় নেয় এবং কালেকশন পয়েন্টগুলো সময় নেয় ৭-১০ কার্যদিবস।



 



ওয়ালটন ল্যাপটপের ক্ষেত্রে জেলা পর্যায়ে সার্ভিস সেন্টারে তিন দিনের মধ্যে সেবা দেয়া হয়। জটিল সমস্যায় ঢাকায় পাঠানো হয় এবং সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান করে গ্রাহকের হাতে পেঁৗছে দেয়া হয়। ল্যাপটপে দুই বছর এবং ডেস্কটপে তিন বছর বিনামূল্যের বিক্রয়োত্তর সেবা দেয়া হয়। কি-বোর্ড, মাউস, পেনড্রাইভে রয়েছে ছয় মাসের রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি।



 



ওয়ালটন মোবাইল ফোন বিপণন বিভাগের প্রধান আসিফুর রহমান খান বলেন, সফটওয়্যারগত সমস্যার ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সেবা দেয়া হয়। এছাড়া হার্ডওয়্যারগত সমস্যায় ৪৮ ঘণ্টা থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রেও রয়েছে ২৪ ঘণ্টার সার্বক্ষণিক কল সেন্টার। ১৬২৬৭ নম্বরে কল করে ওয়ালটন পণ্যের যে কোনো ক্রেতা এই সেবা নিতে পারেন।



 



সার্ভিস সেন্টারে পাঠানোর আগে করণীয় :



 



সার্ভিস সেন্টারে পাঠানোর আগে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটপের প্রয়োজনীয় ডেটা আলাদা কোথাও সংরক্ষণ করে রাখা উচিৎ। অনেক ব্যবহারকারীর মনে একটা ভয় থাকে, সঠিক যন্ত্রাংশগুলো পাবো কি না? এজন্যে পণ্যটি দেয়ার সময় যন্ত্রাংশের উল্লেখ করে রসিদ বুঝে নিতে হবে। কোনো পণ্যের বিক্রয়োত্তর সেবার মেয়াদ না থাকলে মেরামতের ফি ও যন্ত্রাংশের মূল্য পরিশোধ করতে হয়। তাই সার্ভিসিংয়ে সম্ভাব্য কত টাকা লাগতে পারে, সেটা সার্ভিসিংয়ে দেয়ার আগেই আলোচনা করে নিন। রায়ানস্ আইটি লিমিটেডের হার্ডওয়্যার প্রকৌশলী মেহেদি হাসান বলেন, 'সার্ভিসিংয়ে দেয়ার সময় পণ্যটি দেখে কত খরচ হতে পারে, তার একটা প্রাথমিক ধারণা ক্রেতাকে দিই। মেরামত করার সময় যদি আগে বলা টাকার পরিমাণের চেয়ে বেশি লাগে, তাহলে ক্রেতাকে ফোন দিয়ে বাড়তি খরচের কথা বলা হয়।'



 



অভিযোগ জানাতে পারেন :



 



সার্ভিস সেন্টারে পণ্য দেয়ার পর কোনো সমস্যা হলে আগে সেখানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে জানাতে হবে। তাতে সমাধান না হলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করতে পারবেন।



সূত্র : প্রথম আলো।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৭০৬২১
পুরোন সংখ্যা