চাঁদপুর। শনিবার ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৭ পৌষ ১৪২৩। ৩০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮
ckdf

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৬-সূরা শু’আরা


২২৭ আয়াত, ১১ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১৫৯। তোমার প্রতিপালক, তিনি তো পরাক্রমশালী পরম দয়ালু। 


১৬০। লূতের সম্প্রদায় রাসূলগণকে অস্বীকার করিয়াছেন।


১৬১। যখন উহাদের ভ্রাতা লূত উহাদিগকে বলিল, ‘তোমরা কি সাবধান হইবে না? 


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


একজন লোকের জ্ঞানের পরিধি তার অভিজ্ঞতা দ্বারা খন্ডায়িত করা যায় না। 


                                 -জনলক। 

যে সব ব্যক্তি নিন্দুক এবং যারা অপমানকারী, তাদের সর্বনাশ, অথাৎ তারা কষ্টদায়ক পরিণতি প্রাপ্ত হবে।       


ঐতিহ্যবাহী রূপসা জমিদার বাড়ি
শরীফুল ইসলাম
৩১ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুর শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদরের পাশে রূপসা বাজারের পশ্চিম দক্ষিণ কোনে নজর দিলেই চোখে পড়বে জমিদার প্রসাদ। পাশেই কারুকার্জ খচিত একটি মসজিদ। মসজিদের দক্ষিণ পাশে একটি কবরস্থান। এর প্রতিটি ফলকে লেখা রয়েছে চিরনিন্দ্রায় শায়িত ব্যক্তিদের সুকর্মের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা। পথ ধরে সামনে এগুলেই চোখে পড়বে ঘাঁট বাঁধানো দীঘি। তবে আগের সেই দীঘি এখন আর নেই। সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পথে রয়েছে জমিদার বাড়ির পুরো পরিবেশ। এছাড়া সামনে তাকালে নজরে পড়বে জমিদারবাড়ির ঐতিহ্য সেই কাছারি ঘর। প্রায় দু'শতাব্দির আগের কথা। আঠারো শতকের মাঝামাঝি সময়ে রূপসার জমিদারদের গোড়াপত্তন।



গ্রামের নাম রূপসা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সুদীর্ঘ ঐতিহ্যই এই রূপের অহংকার। যখন এই অঞ্চলের বেশিরভাগ জনপদগুলো উন্নত সভ্যতার আলো দেখেনি। চাঁদপুর জেলার সু-প্রাচীন জনপদ ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা গ্রাম তখনও স্নিগ্ধসমৃদ্ধ ছিলো। সমৃদ্ধশালী এই গ্রামটির গৌরবময় ইতিহাসের সাথে জড়িত আছে এ গ্রামরে ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি। ঊনিশ শতকের প্রথমভাবে মোহাম্মদ গাজী এই জমিদার বাড়ির পরিবারের মধ্যে পত্তন করেন। সাধারণভাবে জমিদার বলতে সাধরাণ মানুষের মনে যে জমিদারের প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠে সেই রকম জমিদার ছিলেন না আহমেদ গাজী। তিনি মানুষের পাশে সব সময় ন্যাস্ত ছিলেন। জনকল্যাণ কাজের জন্য তিনি কৃষকদের জমি ওয়াকফ করেছেন। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য তিনি আমূল কাজ করেছেন।



তারমধ্যে রূপসা আহম্মদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, রূপসা আহম্মদিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা, রূপসা স্কুল উল্লেখযোগ্য। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধর্মানুরাগী। ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসারে অকৃপণভাবে অনুদান দিতেন। রূপসার সু-প্রাচীন মসজিদ তিনিই প্রতিষ্ঠা করেন। এ ছাড়াও তার জীবদ্দশায় তিনি আরো অনেকগুলো মসজিদ প্রতিষ্ঠা করে গেছেন।



জমিদারবাড়ি ঘুরে দেখা যায়, বাড়ির অভ্যন্তরে আজো বসবাস করছে জমিদারদের কর্মচারী হিসেবে থাকা পাইক- পেয়াদা, সৈনিকদের প্রায় ৪০টি পরিবার। আবার তাদের অনেকেই সেখানে জায়গা কিনে বসতবাড়ি নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। নানা কারণে জমিদার বাড়ির অনেক সম্পত্তির মালিকও এখন তাদের প্রজা ও কর্মচারীরা।



পরম শ্রদ্ধার স্থান চাঁদপুরের রূপসা জমিদার বাড়ি। এখানে সেই জমিদারদের খাজনা আদায়ে অত্যাচার নির্যাতনের কোনো ভয়ঙ্কর স্মৃতি চিহ্ন নেই । তাইতো আজও সাধারণ মানুষের কাছে অনেক শ্রদ্ধা আর ভালবাসার স্থান হয়েছে রূপসা জমিদার বাড়ি।



চাঁদপুর জেলার মেঘনা নদীর উত্তর পাড়ের ঐতিহ্যবাহী রূপসা জমিদার বাড়ির কথা। জমিদারের জমিদারি না থাকলেও এতটুকু সম্মান আর শ্রদ্ধার কোনো ঘাটতি হয়নি প্রজা প্রিয় জমিদারদের প্রতি সাধারণ মানুষের। তাইতো এই এলাকার সাধারণ মানুষ আজো জমিদারদের পুণ্যময় কাজগুলোর প্রশংসা করতে ভুলেন না। জমিদারি প্রথা থাকাকালীন প্রজাদের খাজনার টাকায় ভোগ বিলাস না করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ অনেক কিছুই স্থাপন করে গেছেন জমিদাররা।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
২৫৮৩৯০
পুরোন সংখ্যা