চাঁদপুর। শনিবার ১৮ মার্চ ২০১৭। ৪ চৈত্র ১৪২৩। ১৮ জমাদিউস সানি ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের ধেররায় কাভার্ড ভ্যান ও সিএনজি স্কুটারের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১ নিহত আহত ৫, কাভার্ড ভ্যান ও সিএনজি স্কুটারকে আটক করেছে পুলিশ ॥ দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন রাত আটটার মধ্যে সম্পন্ন করা ও মণ্ডপপ্রাঙ্গণে মেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে্-- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল || || চাঁদপুর কৃমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের ধেররায় কাভার্ড ভ্যান ও সিএনজি স্কুটারের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১ নিহত আহত ৫, পুলিশ কাভার্য ভ্যান ও সিএনজি স্কুটারকে আটক করেছে ॥॥ দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন রাত আটটার মধ্যে সম্পন্ন করা ও মণ্ডপপ্রাঙ্গণে মেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে্-- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল || || চাঁদপুর কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের ধেররায় কাভার্ডভ্যান চাপায় একই পরিবারের ৬জনসহ মোট ৭ জন আহত হয়েছেন। কাভার্ড ভ্যান ও সিএনজি স্কুটারকে আটক করেছে পুলিশ ॥ দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন রাত আটটার মধ্যে সম্পন্ন করা ও মণ্ডপপ্রাঙ্গণে মেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে্-- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ||
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৭-সূরা নাম্ল 


৯৩ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৫১। অতএব দেখ, উহাদের চক্রান্তের পরিণাম কী হইয়াছে-আমি অবশ্যই উহাদিগকে ও উহাদের সম্প্রদায়ের সকলকে ধ্বংস করিয়াছি। 


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


যে ব্যক্তি সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিজস্ব সত্তাকে কাজে লাগায় না সে জীবনে উন্নতি করতে পারে না।   


                        -ডেভিড হিউম।


যে অন্ন হস্ত পরিচালনা দ্বারা উপার্জিত, তদপেক্ষা উৎকৃষ্ট অন্ন আর কেউ ভোজন করতে পারে না।   


 

মুক্তিযোদ্ধা ও আবুল হোসেনদের গল্প
আশিক বিন রহিম
১৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

আফজাল সাহেবের বয়স পয়ষট্টি পেরিয়ে গেছে। অথচ যৌবনের ছাপ এখনো মুখ থেকে সরেনি। শরীরের চামড়া কিছুটা নেতিয়ে পড়েছে। তবে রঙিন পোশাকের নিচে ঢাকা চামড়ার ভাঁজ বাইরে মানুষ খুব একটা দেখতে পারে না। স্ত্রী শেফালী বেগম এ নিয়ে স্বামীকে অনেক হিংসা করেন। ছোটবেলা থেকেই শেফালী বেগম কিছুটা রোগা কিছিমের নারী। মায়ের অনুরোধ রাখতেই অনেকটাই বেটে খালাতো বোনকে বিয়ে করতে বাধ্য হয় ৬ ফুট লম্বা আফজাল শেখ। হয়তো এই কারণেই সমাজিক কোনো অনুষ্ঠানে দু'জন একসাথে যেতেন না। এসব অনুষ্ঠনে ব্যবসায়ী পার্টনারদের সাথে বৌ দেখলে আফজাল সাহেব খুব আফসোস করতেন। তখন রাবেয়ার কথা খুব মনে পড়তো। গরিবের মেয়ে হলেও রাবেয়া খুব ফর্সা আর সুন্দরী ছিলো। তাইতো জীবনের এই বয়সে এসেও আফজাল সাহেব রাবেয়াকে মাঝে মাঝেই মনে করেন। বিনোদপুরের জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এই গ্রামে আফজাল শেখের আগমন। তবে এর আড়ালে মূলত আজ রাবেয়ার খোঁজ নিতেই বিনোদপুরের মাটিতে তিনি পা রাখছেন। এই গাঁয়ে মাটির সাথে তার আত্মার সম্পর্ক। একাত্তর সালে এই জেলায় মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। আফজালসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১শ' শিক্ষার্থী ভারতে সীমান্তবর্তী এলাকায় যুদ্ধের ট্রেনিং নিয়েছিলো। সেখান থেকে কমান্ডারের নির্দেশে তারা বিশজন মুক্তিযুদ্ধা বিনোদপুরে চলে আসে। অনেকেই তাকে প্রশ্ন করে স্বাধীনতা সাতচলি্লশ বছর পেরিয়ে গেলেও এই জেলায় আফজাল শেখ কেনো আসেনি। নৌকার মাঝি আবুল কাশেমও বিষয়টা জানার পরে প্রশ্নটা করে বসলো। মাঝি আবুল কাশেমের বয়ষ চলি্লশোর্ধো। এই বয়সের লোকের সাথে কথা বলার অনেকগুলো সুবিধা আছে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে, এই বয়সের মানুষকে সবকিছু খুলে বলতে হয় না। জীবন সম্পর্কে তাদের ভালো ধারণা থাকায় অল্প কথাতেই অনেক কিছু বুঝতে পারেন। কাশেমের প্রশ্নে জবাবে আফজাল সাহেব যখন একলাইনে বললেন, 'সময় হয়ে উঠে না'। তখন মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে আবুল বলে উঠলো, 'আপনারা হইলেন গিয়া শহরের মানুষ। বড়লোক, বড় কাম। আপনাগো কি আর গাঁও গেরাম ভালা লাগে? তাছাড়া ঘর আর কামের বাইরেও আপনেগো অনেক কাম থাহে। কত জায়গায় সময় দিতে অয়।' মাঝি আবুল কশেম এই গ্রামের মানুষ। এই কাজটা সে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। তার বাবা এই ঘাটেই নাও বাইতেন। যুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার নেয়ার সময় তিনি পাকসেনাদের চোখে ধরা খান। পাকবাহিনী তার বাবার দুই হাতের কব্জিতে গুলি করে নদীতে ফেলে দেয়। বেচারা আবুল কাশেমের পিতা সাঁতার জানলেও গুলি খাওয়া হাতে নদীর জলকে পরাজিত করতে পারেনি। তাই পরেরদিন দুবলা চরে লাশের খোঁজ মিলে। পাকবাহিনীর ভয়ে কেউ লাশ কবর দিতে সাহস পায়নি। অবশ্য ওই সময়ে অনেক লাশই খোলা আকাশের নিচে পঁচে মাটিতে মিশে গেছে। দেশ স্বাধীনের অনেক বছর পরে শমসের আলী নামে এক লোকের কাছে আবুল হোসেন তার বাবার মৃত্যুর কাহিনী শুনেছিলো। ওই সময় সে নাকি ঝোঁপের আড়ালে লুকিয়ে সব দেখেছে। পাকসেনাদের ছোঁড়া গুলি যখন আবুলের বাবার হাত ফুটো করে ঠাডা পড়ার মতো করে আওয়াজ তুলে; শমসের আলী তখন দৌড়ে পালিয়ে যায়। স্বাধীনতার পরে মুক্তিযোদ্ধারা সরকারের অনেক সুবিধা পেলেও যুদ্ধে এতিম হওয়া আবুল হোসেনরা মাঝিই থেকে যায়। এজন্য মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি তার অনেক অভিমান। সেই থেকে কোনো মুক্তিযোদ্ধা দেখলে আবুল হোসেন রাগে কথা বলে না। কারণ যাদের জন্য তার বাবা শহীদ হয়েছেন, তারা তাদের প্রাপ্য বুঝে নিলেও আবুল হোসেনদের কোনো খোঁজ রাখেনি। আফজাল শেখের সাথে কথা বলে সে জেনে গেছে ইনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আফজালের মুখেই সে শুনেছে আজ জেলা প্রশাসনের দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি স্বর্ণের ক্রেস্ট পেতে যাচ্ছেন। গ্রামের কুটুম বলে আবুল হোসেন অন্যসব মুক্তিযোদ্ধার চোখে আফজাল শেখকে দেখেনি। অতিথি নৌকায় পা রাখার পর থেকেই আবুল কথার খই ফোটাতে থাকে। আবুলের নানা ও দাদাবাড়ি পাশাপাশি। বিনোদপুর জেলা শত্রুমুক্ত হওয়া ঠিক ২০ দিন আগে তাদের বাড়িতে পাকবাহিনী প্রবেশ করেছিলো। তারপর আলবদর আনু মুন্সির সহযোগিতায় আবুলের নানা ও নানিকে গাছের সাথে বেঁধে গুলি করে মারা হয়। আবুলের মা অন্তঃসত্তা বলে তার মাফ মিললেও খালা রাবেয়াকে সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ১০ দিনের নির্যাতন শেষে তারা রাবেয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করে। কিশোরী রাবেয়া একাধিক নরপশুর অত্যাচার সইতে না পেরে এক সেনাসদ্যসের হাত কাঁমড়ে দিয়েছিলো। সাথে সাথে হায়নারদল রাবেয়ার বুকের উপর এলোপাথারি গুলি চালায়। এই কথাগুলো সে তার মা রহিমা বেগমের কাছ থেকে শুনেছে। আবুল হোসেনের মুখে রাবেয়ার পর রহিমার নাম শুনে আফজাল শেখ চমকে ওঠেন। তোমরা নানার নাম কি মুকবুল মাস্টার? তাদের বাড়ির কাছে খাঁ বাড়ি নামে একটি মসজিদ ছিলো? আবুলকে উদ্দেশ্য করে আচমকাই প্রশ্ন দুটি ছুঁড়ে দেয় আফজাল শেখ। হুম, তয় আপনে আমার নানার নাম কেমনে জানেন? আবুল পাল্টা প্রশ্ন করে। টপটপ করে দু'ফোটা জল খসে পরে যুদ্ধকালীন সময়ে বিএলএফ-এর সহকারী কমান্ডার আফজাল শেখের চোখ থেকে। রাবেয়া বেঁচে নেই! অথচ এই কিশোরী মেয়েটি টানা দশ দিন তাকে কতই না সেবাযত্ন করেছে। যুদ্ধের সময় রাবেয়াদের বাড়িতে মুক্তিযুদ্ধের অস্থায়ী ক্যাম্প ছিলো। কিশোরী রাবেয়া ও তার মা প্রতিদিন সাতাশজন মুক্তিবাহিনীর খাবার রান্না করতো। আচমকা ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত আফজালকে রাবেয়াই সেবা দিয়ে সুস্থ করে। মেয়েটির হরিণ চোখ আর মুক্তোর মতো হাসি দেখে গোপনে তার প্রেমে পড়ে যায় আফজাল শেখ। কিন্তু সময়টা তখন যুদ্ধের। চারিদিকে মুক্তির দামামা বাজছে। এমন সময় প্রণয়ের বাঁশিতে সুর তোলা একজন মুক্তিযোদ্ধার উচিত হবে না বলেই আঠারো বছরের তরুণ আফজাল মনের আকুতিকে ভাষায় রূপ দেননি। মুক্তিযোদ্ধাদের তখন অস্থায়ী ক্যাম্পগুলো ঘনঘন পরিবর্তন করা হতো। তাই দশদিন পরেই রাবেয়াদের বাড়ি ছেড়ে অন্য গ্রামে চলে যায় আফজাল শেখ ও তার দল। একটা সময় বিনোদপুর জেলা শত্রুমুক্ত হলে ক্লান্ত মুক্তিবাহিনীদের সাথে বাড়ি ফিরে আসে আফজাল। তারপর সংসার জীবনে পা রাখাসহ নানা কারণে বিনোদপুরে আর পা রাখা হয়ে উঠে না। খেয়া ঘাটের পাড়ের সাথে ধাক্কা লেগে দুলে ওঠে আবুল হোসেনের নৌকা। আফজাল শেখ ঘুনে ধরা পাটাতনে সাবধানে পা বাড়ায়। আবুলকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরে। তারপর কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমাকে মাফ করে দিস বাবা। আয় আজ আমার সংবর্ধনার ক্রেস্ট আমি তোর হাতে তুলে দিবো।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৩২৭৯৯
পুরোন সংখ্যা