চাঁদপুর। শুক্রবার ১৪ এপ্রিল ২০১৭। ১ বৈশাখ ১৪২৪। ১৬ রজব ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৭-সূরা নাম্ল 


৯৩ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৮৬। উহারা কি অনুধাবন করে না যে, আমি রাত্রি সৃষ্টি করিয়াছি উহাদের বিশ্রামের জন্য এবং দিবসকে করিয়াছি আলোকপ্রদ? ইহাতে মু’মিন সম্প্রদায়ের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে।  


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন

আমি দুর্ভাগ্যকে স্বাগত জানাই, কারণ দুর্ভোগের পরই সৌভাগ্য আসে।            -টমাস কিড। 


যে ব্যক্তি (অভাবগ্রস্ত না হয়ে) ভিক্ষা করে, কেয়ামতের দিন তার কপালে একটি প্রকাশ্য ঘা হবে ।  


ফটো গ্যালারি
মেয়েটি ফিরে আসবে
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান
১৪ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

বোশেখের প্রথম দিনে তার কোনো কাজ ছিলো না। বন্ধুহীন সে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে ছিলো পুরানো বটগাছটির ছায়ায়। সে ভাবছিলো, এমন বোশেখে তাদের দেখা হয়েছিলো পদ্মা পাড়ে। এক উৎসবে, মানুষে গিজগিজ করা মেলায়। হঠাৎ একজনকে দেখে ছেলেটি বলেছিলো, তুমি হীরাবতী না? মেয়েটার মুখে ততক্ষণে একঝলক কাশফুল হাসি। বলেছিলো, আর তুমি মেঘ, মেঘবালক! ছেলেটা বলেছিলো, ফেসবুকের পাতা ছেড়ে খসে পড়া তোমাকে দেখবো ভাবিনি। অদ্ভুত! মেয়েটি মাথা নেড়েছিলো। তারপর দুজনে গুটিগুটি পায়ে হেঁটে ঘুরে ফিরেছে মেলায়। কথার পিঠে কথায় দীর্ঘ হয়েছে খুঁনসুটি। ছেলেটা তারপর থেকে প্রায়ই বলতো, তুমি হচ্ছো হলদে পাখি। মন তোমার ভাসে মেঘে মেঘে। মেয়েটি বলতো, ধুর! তুমি বরং সুন্দর, জ্যোৎস্নার মতো, দিঘির শান্ত জলের মতো। অকারণেই তারা হাসতো। তারা গাইতো চিরচেনা কোনো গান, বেসুরা গলায়, ভিন্ন কোনো সুরে।

ছেলেটি কবি ছিলো না। মেয়েটিও না। তবু তারা দুজনে যখন হাঁটতো, ফুল ফোটাতো কথার_তখন মনে হতো_এতো কথা নয় কোনো। সবখানি তার কবিতা। ছেলেটি কথা দিয়েছিলো তারা একসাথে এক ছাদে বসে জ্যোছনা দেখবে। বৃষ্টির দিনে গুণবে বৃষ্টির ফোঁটা। মেয়েটি বলেছিলো, সে তার ছেলের নাম রাখবে 'হিম'। ছেলেটি বলেছিলো, তার মেয়ের নাম হবে মায়ের মতো। হিরণবালা। এভাবেই তখন উড়ে যায় কাঠালের দিন, হাসনাহেনার গন্ধ। ঝরে পড়ে কৃষ্ণচূড়ার ফুল। তারপর একদিন সময়ই পাল্টে দিলো সবটুকু...

বোশেখের দিনে ছেলেটি আজ বসে আছে পুরানো বটগাছের ছায়ায়। তার কোনো কাজ ছিলো না। তার সাথে হীরাবতী মেয়েটিও নেই। বোশেখি মেলার কোলাহলও এখানে নেই। গতবারের কিছুই আজ নেই। তবু ছেলেটির মনে হয় হীরাবতী আজ ফিরে আসবে। সে হাসবে। বলবে তাদের স্বপ্নের কথা। বলবে জ্যোছনা ও বৃষ্টির ফোঁটার কথা। তখন ছেলেটি মাথা নাড়বে। বলবে...

ছেলেটি এসব যখন ভাবছিলো তখন বোশেখি হাওয়া নাড়িয়ে দিয়ে গেল বটগাছের পাতাগুলো। গাছ থেকে খসে পড়লো শুকনো কিছু ডাল...দূরে কোথাও কাউকে আসতে দেখা গেলো না।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৫৯৭১৬
পুরোন সংখ্যা